“রাত্রির প্রহর” = “রাত্রির প্রহর”
রাত্রির প্রহর এখন অনিমেষ গভীর!
বাইরে নিশছিদ্র অন্ধকার!
ডাকছি তোমাকেই আমি প্রভু!
জীবন খেলায় প্রতি পদে তুমি দেখালে –
কতো যে বৈচিত্র্য আর বাহার;
জীবনের মহাসমুদ্র থেকে উদ্ধার,
আমি পেলাম না যে আজও তবু!
আর কতোদূর বলো যাবো!
আর কতোটা পথ পেরিয়ে অবশেষে –
আমি শুধু তোমাতেই মিশে র’বো!
ক্লান্ত ভীষণ এই অন্তর তুমিই জানো;
পার্থিবতার শৃঙ্খল যদিও ক্ষণিকের!
প্রাণের মাঝে যে অস্থিরতা নিতি –
তারে আমি যে পারি না আর বহিতে!
জীবন যেন কেবলই অন্ধকারাচ্ছন্ন!
সময়ের স্রোতে আর কতোদূর ভাসাবে!
কতোটা পথের তীর্যক আলোতে বলো,
এই ক্ষুদ্র আমাকেই তুমি পোড়াবে!
রাত্রি শেষে ভোরের আলোতে ভয়!
দিনের তাপে এই অন্তর পুড়ে যে ক্ষয়!
তোমার মায়াজালে জড়িয়ে আমারেই,
ভব দরিয়ায় জ্যোৎস্না দেখালে!
মুগ্ধতায় অপলক বারেবার এই অন্তর –
রূপের আধার মাঝে মজেছে নিরন্তর!
আজ শুধু যাচে নিষ্কৃতি পৃথিবীর ‘পর!
“অচলায়তনে জীবন”
ধীরে ধীরে, অতি ধীরে শুষে নিয়ে যাচ্ছো –
অগণিত নিরেট মানুষের তাজা রক্ত!
কিন্তু আর কতো, আর কতো?
আর কতোটুকু শুষে নিলে বলো,
মিটবে তোমাদের প্রাণের ক্ষুধা?
আর কতোটুকু আগুনে পুড়িয়ে প্রাণ,
রাঙাবে তোমাদের স্বপ্নালু চোখের জীবন সুধা?
আর কতো বলো, আর কতো?
দৃষ্টি নন্দন উন্নয়নের ধ্বজা দৃশ্যমান,
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিদ্যমান!
অর্থ আর প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ গুটিকয়েক,
আমজনতার প্রাণ অসহায়, বোবা বিবেক!
নীরব অত্যাচারের নেই প্রতিবাদ,
জীবন যুদ্ধের প্রতি বাকে, মিছে ফাঁদ!
তবুও তোমাদের নেই কোন অপরাধবোধ –
কী ভীষণ অহংকারে নিচ্ছো, জীবনের শোধ!
তোমাদের স্বপ্ন আঁখিও জলে ডুবে ছলছল –
সে শুধু নিছক মায়াকান্না, নেই তাতে অশ্রুজল!
দেখেও দেখো না তোমরা ভাবনার সজল আর্তি,
প্রতিশোধের আগুনে পুড়িয়ে, ভাঙো প্রীতি!
ক্ষুব্ধ আমার সুপ্ত চেতনা আজ এই ধরাধামে,
প্রাণের বীণায় তোমাদেরও যদি চেতনা আসে নেমে!
মহামারীর চেয়েও ভয়ংকর তোমাদের অন্তর,
মানুষের রক্তে কান্নার স্রোতে উদ্বেলিত চরাচর!
আর কতোটা নির্মমতার দেখাবে বলো রূপ!
কতোটা ঘৃণার দায়ভার নিয়ে জ্বালবে ধুপ!
মানুষের ভীড়ে খাচ্ছো জীবন কুড়ে কুড়ে,
তবুও কী ভীষণ উন্মাদনা তোমাদের স্বপ্ন জুড়ে!
শেষ বলেও কিছু আছে তো সময়ের দোলায়,
ক্ষান্ত আর ক’বে হবে বলো, এই জীবন খেলায়!
“অর্থহীন প্রলাপ -রাত্রির প্রহর”
দুর্নিবার স্রোতের কম্পন টের পাই –
তোমাকে ভাবলেই!
সমস্ত শিরা, উপশিরা, রক্ত কণিকা,
আর মস্তিষ্কের নিউরন ছাপিয়ে,
তুমিই জেগে উঠো –
আমার সমস্ত অস্তিত্ব কাঁপিয়ে!
কেবল তোমার মাঝেই আমি –
ক্ষুদ্র আমার, সমস্তটা খুঁজে পাই!
অস্থিরতার ভীষণ দহনের জ্বালায়,
তোমাকে ভাবলেই –
অস্তিত্বের আভরণে জাগে শিহরণ!
আমি জীবন নাটকের খেলাঘর ছেড়ে,
পালিয়ে বাঁচার নেশায় উদগ্রীব হই!
তুমি ছেড়ে যাও চলে, আমি আসি ফিরে!
আমি বারবার ফিরে আসি!
তুমি বারবার যাও চলে!
জীবন নিয়ে একি ছেলেখেলা!
আমি পথ চেয়ে থেকেও হই না ক্লান্ত!
তুমি নীরবতায় হও না ক্ষান্ত!
সরল সমীকরণ মেলানোর চেষ্টায় –
কৃষ্ণ গহ্বরের অতলেরও তলে,
আমি মনের গভীরে ডুবে যাই!
নির্ভেজাল সম্পর্কের টানাপোড়েনে –
লুকোচুরির পশরা নিয়ে,
বেঁচে থাকে প্রাণ মরিচীকার আশায়!!!
“জীবনের খেলা”
ক্লান্তির অবসন্ন বিষাদে শুধু আমি নই,
জানি তুমিও জর্জরিত!
সময়ের অনন্তর গোধুলী সাঝে,
শুধু আমারই নয়,
জানি, তোমারও প্রাণ পাখি তড়পায়!
এ যে জীবনের খেলা!
তোমাকে আমাকে আর তাকেও –
তীব্র এই বোঝার ভারে নুয়ে যেতে হয়!
নুয়ে যেতে যেতে কখনো বা,
অনাবিল স্রোতের কম্পন গায়ে মেখেও,
হাসি-খেলাচ্ছলে জীবন মাঝিকে,
দুর্নিবার আবেগে বুকে টেনে নিতে হয়!
রাত্রির আঁধার ঘিরে ঘন কালো মেঘমালা!
তার ঠিক মাঝখানে, আমি –
আমি, অতি ক্ষুদ্র তুচ্ছ দুর্বল এক প্রাণ!
বজ্র বিদ্যুৎ আর গর্জনের চমকে,
কেঁপে কেঁপে উঠি বারবার, চকিতেই!
হ্যাঁ আমি, আমার একক সত্ত্বা!
জন্মের সেই অনাদি মুহুর্ত থেকেই,
একাকীত্বের নিস্প্রভ অনলে পুড়ে ছারখার!
তবুও কী ভীষণ নিরবিচ্ছিন্ন আবেগে,
প্রাণ পাখি হাসে, গায়, অশ্রুও ঝরায়!
সেই আমি’তেই দিন রজনী –
তোমার এবং তারও,
একেলা পথের একেলা লড়াইয়ের গল্পগাঁথা!
জীবনের খেলা বৈ কিছু নয়!
সমগ্র মহাবিশ্বের সম্মিলনে এক!
একের শতধা বিভাজনে এক একটি আমি!
জীবন খেলায় সেই আমি’তেই সমস্ত ভাবনা!
আমি’কে মাড়িয়েই আবার সমস্তের চেতনা!
“ভবলীলার কারণ”
খুব ব্যস্ত রাখছো আজকাল আমাকে!
ফুরসত দিচ্ছো না মোটেও!
তোমার সুক্ষ্ম পরিকল্পনার মাঝে,
আমি ঠিক দেখতে পাই –
দেখতে পাই তোমার সরল সমীকরণ!
আমাকে দিব্যি বাঁচিয়ে রাখছো,
তোমার ভবলীলারই বিচিত্র কারণ!
আমি চোখ মেলে দেখি না বিশ্ব চরাচর;
আমার অন্তর ভেদিয়া,
তোমারই রঙের ছোঁয়া পাই যে নিরন্তর!
প্রস্ফুটিত প্রকৃতির কোলে আমার বাস;
আকাশ আলোক মেঘলোক ভেদিয়া,
হৃদ স্পন্দনে নিয়তই তোমার আভাস!
আমি লুটিয়ে ধূলায় কখনো বা তড়পাই;
মানবজন্মের নিগূঢ় ইশারাতে যদিও,
প্রাণ জানে, তুমি আছো আমাতেই সদাই!
কখনো বা উদ্যত, ভেঙে করি সব চুরমার;
প্রাণেরও আড়ালে প্রাণের গভীরে, জানি
সবই যে কেবলই তোমার সৃষ্টির কারবার!
তৃষ্ণার আধিতে নিতি ছেয়ে থাকে প্রাণমন;
আশার আঁখি ছলছল উথলায়, জানে
তোমার স্পর্শ দিয়েই জীবন চলছে সর্বক্ষণ!
জীবন কাব্যের মাঝে যতো সুধারস তোমার,
পান করে যাই অনন্তর অবলীলায়!
ভেঙে চুরে তুমিই তারে করো খান খান,
আবার বাঁচিয়েও রাখো অস্তরবির বেলায়!
“তোমার জন্যেই”
যতোটুকু প্রাণের নেশা আমার তোমারই জন্যে,
দিন রাত্রি তাড়িয়ে ফিরে আমায় হয়ে যে হন্যে –
আমি ভুলে থাকি জীবনের সমস্ত ঠিক ততোটাই,
ঠিক ততোটাই আবেগতাড়িত প্রাণে পুড়ি নির্জনে!
তুমি দেখো কি দেখো না, আমি জানি না সে কথা,
আমি আমারই যন্ত্রণার কাতরানি সয়ে, পাই পূর্ণতা!
আমি বেঁচে থাকার নাগপাশে রাত্রি দিন ছটফটিয়ে,
তোমারই নেশা ঘোরে আকণ্ঠ অগ্নিবাণে নিন্দিতা!
তোমারই সুখের লাগি আমি মাড়িয়ে যাই চরাচর,
আমি নিয়মের বেড়াজাল পেরিয়ে আপন করি পর!
আমারই পথের ‘পরে নামুক যতোই রোদ বৃষ্টি ঝড় –
তোমাকেই স্বাচ্ছন্দ্য দিতে মাতিয়ে রাখি খেলাঘর!
তোমারই তরে নেশা ঘোরে আমার নেই কোন অন্ত,
স্পর্শে তোমারই থাকি অবিরাম আমি, হই না ক্ষান্ত!
আমি দুর্বিনীত ত্রাসের রাজত্বে একান্তে করি বাস,
তোমারই ভাবনায় এই প্রাণ রয় অন্তবিহীন অশান্ত!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali poems by renowned poet, click the link www.bangla-kobita.com

