“প্রেমাতাল”

“প্রেমাতাল” “প্রেমাতাল”

বিরহ জ্বালা আর প্রেম সুধার –

আরেক নামই বুঝি বা কাব্য!

কাব্যের মাঝে দুইয়ের বাস,

প্রেম বিনে বিরহের কষ্ট কেন নেবো!

বিরহকে দাফন করে দিয়ে,

প্রেমের তরী ভাসে না!

তোমার-আমার প্রেমের আগুনে –

বিশ্বলোকের অন্তরও পুড়ে না!

প্রেমিকজনের হৃদয় চিড়ে,

সপ্তডিঙায় প্রেমের কাব্য রচে –

মাঝ দরিয়ায় জ্যোৎস্নার সুধা পানে,

তুমুল স্রোতের কম্পন গায়ে মেখে!

তারার মিটিমিটি আলোর শিহরণে –

নাচে হৃদয় বৃন্তে দু’টি হিয়া থরথর;

রাত্রির অনিমেষ মুগ্ধতা ছড়িয়ে –

প্রেমালোকে হাসে বিশ্ব চরাচর!

প্রেমিকজনা বিরাজে এই অন্তরে –

প্রেমের নেশায় ডুবে উন্মত্তা মাতাল;

প্রেমের তরী ভাসমান নিত্যই,

বিরহের কাতরতায় অন্তর নাজেহাল!

আকাশ মর্ত্য ভূলোক দ্যূলোক কাঁপিয়ে,

অবিভেদ্য সময়ের কলতান;

প্রেমের কাব্য রচে যাই, আমি প্রেমাতাল,

দিকে দিকে শুধু প্রেমেরই জয়গান!

প্রেমাতাল

Young couple taking a spring walk in the forest in the Netherlands, with fresh green leaves and lots of warm sunshine

“প্রেমাতাল – অন্তরে তুমি”

পৃথিবীতে রঙ্গশালায় আমি,

জানতে চাই না তোমার খবর;

তুমিই যে রয়েছো,

আমার এই মনের ভেতর!

সহস্র আলোকবর্ষ দূরে,

যদিও বা থাকো তুমি;

দূরত্বের পুরোটাই জেনো,

মনের আলোয় রাঙা মনোভুমি!

পৃথিবীর কি সাধ্য বলো –

তোমাকে এনে দিবে কাছে!

প্রাণ পাখি রাত্রিদিন,

রয়েছে যে তোমার আগেপিছে!

ছায়াপথের পরিক্রমাও যদি,

তোমার দুরত্ব হয়,

জেনে রেখো, এই মনের ভেতর –

সে যে কোন দুরত্বই নয়!

তোমার জন্য পেরিয়ে যেতে পারি,

নিকষ কালো আঁধার;

রঙধনুর তুলিতে এঁকে দিতে পারি,

নীলে রঞ্জিত বাহার!

দুরাশার আধি দিতে পারি করে,

ছিন্ন বিচ্ছিন্ন নিমেষেই!

সূর্যালোকে অবগাহন করি –

শুধুমাত্র তোমারই ভাবনাতেই!

“বিবাগী মন”

ধুপ করে জ্বলে উঠো তুমি!

আমি কিছু বুঝে উঠবার আগেই,

হৃদয় পিঞ্জরে অনুভবে পাই,

পুঞ্জীভূত ব্যথার ঢেউ – উন্মত্তা দোলা!

দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলি মুহুর্তেই!

সমস্ত শিরা উপশিরা রক্ত কণিকায়,

ছড়িয়ে পড়ে এক অসম্ভব গুঞ্জন;

নিউরনের কোষে কোষে দুলে উঠে,

ঘুমন্ত আঁখি – ছলছল নীরে ঝাপসা উতলা!

মহাপ্রলয়ের মহাশূণ্যে ডানা ঝাপটিয়ে,

নীড়হারা ছোট্ট এক পাখির –

ছটফটিয়ে নিদারুণ বাস্তবতায় দীর্ঘশ্বাস,

নীড়ের খোঁজে অস্থির মন ভোলা!

আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারি না!

আমি কেবল নিজেকেই ভুলাই –

যার ফিরে আসবার কথা নেই কোন,

যার প্রাণে অবহেলা বিরাজে আমার জন্য,

তবুও তো রেখেছি তার জন্য হৃদয় খোলা!

তারপরও একটু সময় লাগে হতে স্থির,

প্রাণের আবেগে অভিমান জেগে উঠে!

পার্থিবতার শৃঙ্খলে আবারও হারাই দিশা,

মনের ভেতরে তার ছিঁড়ে অবিরাম –

একাকী আমার বিরাগী মন পাগলা!

“স্বপ্নবিলাসী মন”

মন ভালো রাখার খেলায় মেতেছি আমি,

তুমিও সেই খেলাতেই মগন!

তোমার আমার এই মনের বাহার নিয়ে,

কি হবে কার কে জানে কি কখন!

তবুও স্বপ্নের ভেলায় উড়ে চলেছি দু’জন –

মনকে নিয়ে দিগন্তের পাড়ে, যখন তখন!

স্বপ্নগুলো মাখিয়ে নিয়ে দু’চোখের পাতায়,

মনের জানালা খুলে দিয়ে ক্ষণ –

সময়ের সাথে আপোষের তালে ভেসে যাই,

স্বপ্নের কথা শুধু রয়ে যায় গোপন!

জীবন যেন পথের মায়ায় নিরবধি পথচলা –

স্বপ্নময়, স্বপ্নবিলাসী তবু স্বপ্নবিহীন বোধন!

তুমি কথার মায়াতে – স্বপ্ন এঁকে দিয়ে যাও,

স্বপ্নের মৌনতায় আমি অচেতন!

মন ভালো রাখার দুর্দান্ত অনিমেষ ঘোরে,

ছুটে চলে অদমনীয় উচ্ছ্বসিত মন!

স্বপ্ন রঙিন আভা ছড়িয়ে দিয়ে যাই নির্জনে,

মন পাখি তড়পায় তবু, খুঁজে না পায় স্বজন!

“ভাবনাবিহীন কষ্ট”

ভাবনার অতলে সাজিয়ে রাখি তোমায়,

চেতনার মাঝে তুমি রয়েছো সদাই!

হৃদয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে দেখি –

কি যেন কিসের ভুলে তুমি পাশে নাই!

তুমি আমাকে এড়িয়ে চলো, বেশ তো!

তোমার যেমনটি ভালো লাগে, লাগুক না!

আমিও চুপ করে থাকি, কি বলো?

তাতে তোমার যদি ভালো হয়, হোক না!

হয়তো আমি দিতে পারিনি প্রাণের পরশ,

কথার মালায় জড়াতে পারিনি সময়!

পার্থিবতার শৃঙ্খল ভেঙে পারিনি যেতে –

রাঙাতে পারিনি মন এলোমেলো হাওয়ায়!

কিই বা এসে যায় তোমার এই না থাকায় –

পাশেতে আমারই নিবিড় বন্ধনের আবেশে!

জীবনের খেলাঘরে আর ক’দিনই বা র’বো,

না হয় এই কষ্টটুকু নিয়েই যাবো অবশেষে!

“তবুও আসে ভোর”

আমাকে বুঝি বা তুমি ভুলেই গিয়েছো!

মনে আর পড়েই না তোমার আমাকে!

রাত্রির অন্ধকারে কিংবা ভোরের মায়ায়,

তবুও আমি বারবার খুঁজি তোমাকেই!

কখনো বা কিছু সম্পর্কের নাম হয় না,

তবুও তা জুড়ে থাকে প্রাণের সমস্তটাই!

তপ্ত বিকেলে কিংবা বৃষ্টি মুখর ভোরে,

তোমার জন্যেই এদিক ওদিক তাকাই!

তোমার স্পষ্ট নীরবতার ভাষা বুঝেই,

অবহেলার আঘাত টুকু যাচ্ছি অবহেলে;

বুকের ভেতরে তবুও কষ্ট গুলো এসে –

তছনছ করে প্রাণ, আমায় নিয়ে খেলে!

প্রাণ নিজের তালে ছটফট করতে থাকে;

কিসের জন্য, আমি তো জানি সে কথা!

তবুও প্রাণের আবেগ পারি না রুধিতে,

তড়পাই একেলাই আমি মনে নিয়ে ব্যথা!

জীবন জুড়ে থাকা তুমুল অশনি সংকেতে,

ধুকে ধুকে ভেসে যাই অজানায় নিরন্তর!

ঝড়ো তান্ডবের দুর্দান্ত প্রকোপ শেষ হলে,

কালো মেঘের বুক চিঁড়ে তবুও আসে ভোর!

https://lucysjourney.com/

You may read beautiful Bengali poems of the renowned poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *