“মায়াজাল”

“মায়াজাল” = “মায়াজাল”

লক্ষ যোজন সময়ের তারের একতারা,

টুংটাং ধ্বনি তুলে নির্বিঘ্নে বেজে চলে!

এই আছি, এই নেই – তবুও তোমারই তরে,

হৃদ স্পন্দন বাজে অবিরাম ছন্দের তালে!

খুব কাছাকাছি তোমাতেই জুড়ে থাকা –

তবুও সময়ের ভেলায় ছায়াপথের দুরত্ব!

মস্তিষ্কের নিউরনে জমে থাকা বুদবুদে,

শুধু তুমিই, ছেড়ে দিয়ে সময়েরই আবর্ত!

প্রতিটি মুহুর্ত যেন এক একটি জীবন –

সময়ের সুতোয় গাঁথা মুক্তোর মালা;

প্রতিটি জীবনে শুধু তোমারই আলোড়ন,

তোমারই আবেশে মগ্ন ভাবনার খেলা!

মহাসাগরীয় ঢেউয়ের পরতে পরতেও,

দুর্নিবার সময় খেলে সুতীব্র দোলায় –

ফেনা রাশির উত্তাল স্রোতের কম্পনে,

অন্তর ছাপিয়ে তোমারই তুমুল নেশায়!

দুই চোখের দুরত্বে লক্ষ যোজন ফাঁকি –

সময়কে ছাড়িয়ে সময়েরই ঈপ্সিত পথে!

ক্ষণিকের জালে জড়িয়ে অপলক দৃষ্টি,

তোমারেই পাই হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানিতে! “মায়াজাল” = “মায়াজাল”

“নিষ্পিষ্ট – মায়াজাল”

ভাবনার সুগভীর অতলে,

কেবলই তোমারই রঙের ছোঁয়া!

কিছু ভাবতে গেলেই আর কিছু নয়,

দিব্যি তুমিই এসে নীরবে –

সব তছনছ করে দিয়ে যাও!

বুকের ভেতরটায় সব এলোমেলো করে,

লোনা জলের ঝিলিক দিয়ে রাঙিয়ে –

জানি না তুমি কিসের সুধা পাও!

আচ্ছা তুমিই বলো, এটা কিছু হলো?

যে তুমি আমার নও কখনোই,

তারই ভাবনায় কেন আমার চেতনা,

ডুবে থাকবে অহর্নিশি?

যে তোমার পৃথিবীতে আমি কিছু নই,

সেই তোমাতেই কেন আমি রইবো মিশি?

কিছুতেই কিছু বুঝে পাই না আমি!

আমার অস্তিত্ব জুড়ে কেবলই তুমি!

শংখনীল কারাগারের কনডেম সেলে,

নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে পাই তোমাকেই!

অথচ অনিরুদ্ধ এই জীবন খেলা মাঝে,

তন্নতন্ন করে খুঁজেও,

জীবন খেয়াতে দেখি তুমি নেই!

কিছুতেই পারি না ছেড়ে থাকতে তোমায়!

আমার সমস্তটা জুড়ে রাত্রি দিন তবুও,

নিবিড় আচ্ছন্নতায় জড়িয়ে থাকো আমায়!

মায়াজাল

Absolute Illusion

“অভিমান”

আমার দিকে তাকিও না তুমি আর!

দেখতে চাই না আমি আর ওই পোড়া চোখ!

ভূলুণ্ঠিত আজ সমস্ত অস্তিত্ব আমার –

অকারণেই অশ্রুসিক্ত, নিয়ে বুক ভরা শোক!

থাকো তুমি মেতে তোমার পৃথিবীর মোহে,

চললাম আমি ফিরে আমার ঠিকানায়!

জীবনের কাছে না হয় রইলাম নিশাচর,

তড়পাবো রাত্রি দিন অন্তবিহীন যন্ত্রণায়!

গোধুলীর সেই আকুলিভূত দোলনচাঁপা,

হারিয়েছে আজ তার সুবাসিত প্রস্ফুটিত ঘ্রাণ –

তোমাকেই পেয়ে যে অবেলার অস্তরাগে,

প্রাণের সুধায় জড়িয়ে ছিলো তার প্রাণ!

তাকিয়ে দেখো না তুমি আর এই আমাকে,

যার লাগি নেই তোমার এতোটুকু অভিমান!

দুরাশার আধি ছেয়ে আছে মনের গভীরে,

তুমি থাকো নিয়ে তোমার জীবনের গান!

তুমি থাকো তোমার পৃথিবীতে, আমি চললাম!

“পাগল মন”

প্রাণের টানটুকুও কখনো বা পর্যাপ্ত নয়,

সাথে পার্থিবতার আয়োজনটুকুও লাগে!

অথচ তোমার জন্যে আমার হৃদয়ের যন্ত্রণায় –

দুর্নিবার স্রোতের কম্পনও জাগে!

জানো, আজ খানিক ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হলো!

না, আবেগাপ্লুত হয়নি আমার প্রাণ!

শুধু জীবনের মোহজালের আচ্ছন্নতায় –

হৃদ স্পন্দনে কখনো বা জাগে অভিমান!

আজকাল অল্পতেই ভেতরটা ডুকরে উঠে!

কারণ তো আমার রয়েছেই জানা!

তবে সেই কারণের অকারণ দহন জ্বালায় –

জানো, মাঝে মাঝেই আমি পেরে উঠি না!

সত্যিই, মানুষের রূপের ঝলকে চমকে যাই!

সেই রূপের আধারে সঁপে দিই প্রাণ!

অথচ নির্ঝরিণীর মাঝের হিম শীতল প্রস্রবণে,

কখনো বা নিজেতেই নিজে হয়ে যাই ম্লান!

ভাবনার অতলে হারিয়ে যাই না আমি আর,

শুধু একটুখানি কষ্টের স্পর্শের লাগে দোলা!

সমস্ত চেতনা লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে সেই ক্ষণে –

তবুও প্রাণের মাঝে তোমাতেই মনভোলা!

“রঙের ছোঁয়া”

আমার একদিকে যখন সমুদ্র ডাকে,

অন্যদিকে ডাকো তুমি;

আকাশ নীলের আবীর ছড়ায়,

তোমারই বিভোরতায় থাকি আমি!

রাত্রির মায়ায় জেগে কাটাই ভোর,

আকাশ কুসুম স্বপনের অগোচরে;

অস্তিত্ব আমার লুটে নিয়ে যাও তুমি,

শ্রাবণের বৃষ্টি ধারায় চুপিসারে!

কান পেতে শুনি তোমারই আকুলতা,

ভেসে আসে দূর পাহাড়ের চূড়া ভেঙে;

দুমড়ে মুচড়ে গুঙিয়ে কাঁদে প্রাণ পাখি,

তোমারই আকুলিভূত প্রাণেরই সঙ্গে!

সাতটি রঙের রঙ মিলিয়ে রঙ্ধনু –

দিগন্তে ছুয়ে যায় নির্ভাবনার ইঙ্গিতে;

তোমার মাঝে আমার মিশে থাকায় –

রঙের ছোঁয়ায় পূর্ণতা পাই মনেতে!

“সুহৃদ বন্ধু”

যখন আমার সকল খেলা সাঙ্গ হবে –

কাদামাটির সনে,

যখন আমি হাসবো না আর প্রাণটি খুলে –

তোমাদের এই ভুবনে,

যখন আমার হৃদয় বীণার একটি তারে –

ঝরবে না আর কান্না হাসির ঝিলিক;

জানি তখন, আমায় মনে –

রইবে না আর কারো,

আমার কথা ভেবে গাইবে না কেউ গান,

কথার মালায় জড়িয়ে রইবে না অভিমান!

আজ পার্থিবতার রোষানলের উত্তাপ –

প্রাণ পাখির প্রাণের বীণায়,

কান্না হয়ে মুক্তো দানায় ঝরে;

তারেও যদি নাই বা দিলে প্রাণের স্পর্শটুকু,

বেশ তো, তাতেই ফুটুক হাজার গোলাপ!

তোমাদের তরে –

জীবন খেলার পশরা মাঝে থাকুক,

আকাশ ভরা অন্তবিহীন সুখের প্রলাপ!

নাই বা রইলাম আমি মনের কোণে কারো,

যখন আমি নেই দুনিয়ায়!

যখন আমার ক্লান্ত ভুবন ঘুমন্ত অজানায়!

নাই বা কেউ ডাকলে তারে তখন –

জীবনের প্রাণবন্ত ভাবনায়!

শুধুই থাকুক, তোমাদের জন্য –

অকৃত্রিম আমার ভালোবাসা গুলো,

আমার সমস্ত চেতনার দুরন্তপনায়!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali poems written by renowned poets, click the link bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *