তোমারই জন্যে নিরন্তর উন্মুখ!

“তোমারই জন্যে নিরন্তর উন্মুখ!” ➡️

তটিনীর জলধারায় বিস্তৃত আমার সুখ!

অম্বরের নীলাভ তরঙ্গে বোনা কান্না!

আমি তোমারই জন্যে নিরন্তর উন্মুখ,

বারিধির লোনা জলে সিক্ত অশ্রুত গহনা!

তটিনীর জলধারায় বিস্তৃত আমার সুখ!

বৃষ্টি স্নাত হৃদয়ে বহমান প্রেমানুরাগে –

উত্তাল উর্মিমালার স্রোতে সতত পুলক!

তুমি আছো অস্তিত্বের আভরণের রাগে,

অতি বরিষণেও চিত্তে, নাচে সূর্যালোক!

উন্মত্ত সমীরণের স্পর্শে মনে লাগে দোলা,

বিহঙ্গের ডানায় খেলে প্রজাপতি ভাবনা!

স্বপ্নগুলো তোমার তরেই মেলে আঁখি, 

নিস্পন্দ দৃষ্টিতে দেখে স্বাপ্নিক দূর অজানা!

বসুমতীর প্রান্তরব্যাপী সবুজের ইন্দ্রজাল! 

প্রাণের বীণায় রুদ্র রূপী সুর তুলে জীবন!

তোমার প্রতীক্ষার প্রহর গোনার ফাঁদে, 

হৃদ স্পন্দনে ঢেউ তুলে কুণ্ঠিত অন্ত:করণ!

তোমারই জন্যে নিরন্তর উন্মুখ! তিলে তিলে বোনা ক্ষণ!

শুধুমাত্র তোমাকে ভেবেই, আদিত্য, 

দু:সময়ের কল্পনাকে,

আমি করতে পারি উপেক্ষা!

শত জনমের স্বপ্নের সিড়ি বেয়ে,

শুধুমাত্র তোমার জন্যেই আমি –

করে আছি অপেক্ষা!

আমার অপেক্ষার অষ্টপ্রহর যেন, 

তিলে তিলে বোনা ক্ষণ!

আমার উদ্ধত ব্যাকুলতায় তবুও,

কেবল তোমার ভাবনাতেই –

অধীর, চঞ্চল আর উচাটন মন!

আমার কল্পলোকে আছো তুমি! 

স্বপ্নরাজ্যের তুমিই রাজাধিরাজ! 

আমার ইন্দ্রিয়ের লৌকিকতা মাঝে,

তোমার তাই নেই কোনো কাজ!

আমার ভাবনা মাঝেই থেকো!

তোমাকে সেখানে পেয়েই আমি খুশী!

জীবনের চোরাবালিতে,

তুমিই তো এক –

যাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি।

তোমার জন্যেই মনটা কেমন করছে!

তোমার জন্যে মনটা কেমন যেন করছে!

কেমন আছো তুমি, আদিত্য?

তোমার সেই পোষা বিলিতি কুকুর দু’টো,

আগের মতোই কি –

আজও তোমাকে দেখলেই দৌড়ে আসে?

তোমার বারান্দায় টবে লাগানো দোলনচাঁপা,

আজও কি তেমনই সৌরভ ছড়ায়?

আর, তোমার সেই সন্ধ্যা মালতী!

তোমার আঙিনার দেয়াল বেয়ে কি,

তার ইচ্ছে স্বাধীন ভুবনে,

সকাল-সন্ধ্যা রঙের পসরা সাজায়?

জানি না কেন, মনটা কেমন যেন করছে! 

তোমার জন্যে আদিত্য, 

মনটা কেমন করছে তোমার জন্যেই !

তোমার পৃথিবীতে তুমি ভালোই আছো জানি!

যদিও সেই ভালো থাকার –

ব্যবচ্ছেদ আমি কখনোই করিনি!

তুমি কেমন ভালো থাকতে পারো,

আমার চেয়ে বেশী আর কেই বা জানবে বলো!

না, কোন হাসির কথা বলিনি কিন্তু!

তোমার ভেতরেও যে নিদারুণ অস্থিরতার অনল,

তুমি যতোই তাকে চেপে রাখতে চাও,

তার রেশ কিন্তু অনুভবে আমিও পেয়েছি!

তবুও, তোমার আত্মপ্রত্যয়ে একীভূত হয়েছি!

আদিত্য, তোমার জন্যে মনটা কেমন যেন করছে!

দোলনচাঁপার অস্তিত্ব আমার!

তোমারই জন্যে নিরন্তর উন্মুখ!

দোলনচাঁপার অস্তিত্ব আমার! 

একদিন, স্বপ্ন বিভোর ছিলাম আমিও!

স্বপ্ন আঁখি ছলছল উথলিয়ে, 

স্থিরতার প্রলেপ মেখে –

বেচে থাকার স্বপ্ন দেখি আমি আজও! 

শুধু সময়ের এতোটুকু হেরফের!

এ শুধু তফাৎ – শুরু আর শেষের!

সেদিনের আমি’তে স্বপ্ন ছিলো রঙিন!

সেদিন আমি বৃন্তে ছিলাম ফুটে!

আর আজ! 

আজ শুধুই ঝরে পড়ার দিন!

          স্বপ্নগুলো শুধুই রঙবিহীন!

আজ কেবলই ফিরে যাবার উন্মাদনা! 

আজকের আমি, অস্থির অধীর –

গুছিয়ে ফেলতে জীবনের লেনাদেনা!

পথের খোঁজে আমি তড়পাই পথের ‘পরে,

পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে, পথই আমারে! 

অশ্রুসজল আঁখিতে নেই অশ্রুজল,

প্রাণ পাখি কান্নায় তবুও করে টলমল!

তবু্ও জীবন, আমাকে নিয়েই খেলে;

কখনো বা ভুলায় পার্থিবতায়, 

কখনো আবার একাকীত্বে দেয় ঠেলে!

ঝড়ো বাতাসের ছিটেফোঁটাতেই –

প্রাণ আজ ভীষণ ক্লান্ত! 

অস্তরবির নেশায় ডুবে, 

          তবেই হবো বুঝি বা চির শান্ত!

মাঝে মাঝেই হারাই দিশা!

পিঞ্জরের পাখি যখন কুজনে মাতে ভীষণ, 

জানো আদিত্য, 

          মাঝে মাঝেই হারাই দিশা!

শূণ্যতার মাঝে হারিয়ে যেতে যখন উতলা মন,

একূল অকূল পাই না খুঁজে, শুধুই অমানিশা! 

সবুজের বুকে যখন এক রাশ আলিঙ্গন –

হাতড়ে বেড়াই সমুদ্রতলে, 

               মনে জাগে আকণ্ঠ তিয়াসা!

নীলিমার কোলে সঁপে দিই সমস্ত আয়োজন! 

তবুও জীবনের খেলায় 

                    জীবন ছাড়ে না আশা!

ধরিত্রীর মায়া ছেড়ে যেতে, জানি নেই সময়!

আদিত্য, তখন কি –

          হারিয়ে যাবে তুমিও আবার?

দেহের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে যাচ্ছে ক্ষয়!

শুধুই কি এক জীবনের জন্য এতো কারবার? 

গোধূলির শান্ত বিকেলে কিংবা ভোর হয় হয় –

প্রাণের বীণায় কি বাজবে না,

               বেদনা বিধুর সুর হারাবার? 

ছেড়ে চলেই যাবো জানি মায়াকানন নিশ্চয়!

এক জীবনেও হতে পারলাম, 

                    কোথায় আমি আর তোমার?

প্রাণ যে এখনো অবিরাম তড়পায়!

পৃথিবীতে আলোয় আলোয় –

শুধুই পূর্ণতা!

তোমার চোখে দেখতে পেতাম যদি...

তোমার চোখে দেখতে পেতাম যদি,

আমারই জন্যে শুধু অনিমেষ মুগ্ধতা! 

অন্ধকারের অমানিশা মাঝেও, 

লুটিয়ে পড়ে ঝরঝর জ্যোৎস্না!

প্রাণের স্পর্শ ছাড়া হৃদয় আমার,

তোমার কাছে যে আর কিছু চায় না!

সেদিন নির্দ্বিধায় টেনে নিলে বুকে,

জড়িয়ে প্রাণের উষ্ণতায়!

আলো ঝলমলে পৃথিবীর খেলাঘরে, 

প্রাণ যে এখনো অবিরাম তড়পায়!

মনের ভেতরে শুয়া চান পাখি,

আকুল তিয়াসে কেদে কেদে ফিরে;

পূর্ণ তিথীর জ্যোৎস্নালোকে জানি,

অশ্রুজল একদিন সব যাবেই ঝরে!

তুমি যে আমার সমগ্রের মাঝে বিস্তৃত!

আমি নাকি ভুলে গিয়েছি তোমাকে?

নিজেরেই শুধাই – 

তাই কি হয় কখনোই? 

আমার অস্তিত্বের মাঝে –

যে তোমারই অনন্তর বসবাস,

সেই তোমাকে ভুলে যাওয়া,

নয় কি কেবলই আমারই সর্বনাশ? 

তুমি যে আমার সমগ্রের মাঝে বিস্তৃত!

তুমি যে আমার সমগ্রের মাঝে বিস্তৃত!

তোমার স্বপ্নের ইন্দ্রজালে আমি –

প্রতিটি নি:শ্বাসে-প্রশ্বাসে সদা ব্যাপৃত! 

তোমাকে কেমন করে থাকি ভুলে?

আমার রক্ত কণিকায় তুমি যে,

মিশে একাকার হয়েছো তিলে তিলে! 

মস্তিষ্কের নিউরনের কোষে কোষে, 

তোমার হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি –

প্রতিধ্বনিত হয়, 

আমার জানা-অজানা ক্ষণের অবকাশে!

তোমাকে ভুলে থাকা প্রশ্নের অতীত!

খেলাঘরের মোহে আমি যে –

তোমাতেই সঁপেছি, প্রাণ আর প্রীত!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful & meaningful Bengali poems of renowned Poets, click the link ➡️ https://kobita.banglakosh.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *