“আবারও ফিরে আসা যদি যেতো” ➡️
আবারও ফিরে আসা যদি যেতো –
সময়ের দরিয়ায়!
যদি অশান্ত জলরাশির বুকে ভাসতো ডিঙি,
প্রশান্তির নির্মল ছায়ায়!
আমি যদি পারতাম ঘুরিয়ে দিতে,
সমস্ত অসামঞ্জস্যতার চাকা!
যদি মায়াকাননের দুর্বোধ্যতার ঘড়ি,
নিমেষেই করে ফেলতাম সংখ্যাবিহীন ফাঁকা!
আমি একেলা লড়ে যাই – পার্থিব ভাবনায়!
আমি জানি, কৃপাধন্য আমার প্রাণ!

লড়াইয়ের ভীষণ যাতাকলেও আমি পেয়েছি,
কৃতজ্ঞচিত্তে কৃপানিধির অসামান্য দান!
নির্বিঘ্নে বয়ে চলি আমি সুবিশাল বোঝা,
সোনার তরীটি নিয়ে অকূল পাথারে!
মানবিক অস্থিরতায় তড়পাই কখনো বা,
প্রাণ তবুও নয় আচ্ছাদিত, বিকট আঁধারে!
কিন্তু মাঝে মাঝে তবুও বড় বেশী উচাটন মন,
ভেঙে চুরমার করে দিতে ইচ্ছে জাগে;
আর বেহিসেবী দুরন্তপনায় –
মনে হয়, তছনছ করে দিয়ে পালাই বিরাগে!
আবারও ফিরে আসা যদি যেতো: কভিড ১৯ ভাইরাস!
মহামারীর প্রাদুর্ভাবের সেই দুর্দান্ত বছর!
কতো শংকা, কতো ভয় আর
কতোই না বুক ফাঁটা কান্নায় অশ্রু ঝরঝর!
চারিদিকে মৃত্যুর অবিরাম আহাজারি!
ওষুধ পথ্য আর অক্সিজেনের কবলে,
সমস্ত পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু উঠেছিলো নড়ি!
নিয়ন আলোয় প্রতিধ্বনিত –
কভিড ১৯ ভাইরাস!
এই বুঝি কেউ ছেড়ে গেলো প্রাণের খাঁচা,
ছেড়ে গেলো পৃথিবীর অতি সুন্দর আবাস!
শুধু আঁকড়ে থাকা তখন জীবনের পণ!
নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও –
বুক পেতে নিতে ভয়, মৃত্যুর আলিঙ্গন!
অথচ আমার জীবন জুড়ে তখন –
শান্তির প্রচুরতা!
জীবনের দুর্বোধ্যতার চিহ্ন বিলীন, আর
আকাশে বাতাসে প্রাণের অফুরান স্থিরতা!
জীবনের মোড় ছিলো ভাবনা বিহীন!
নীল আকাশের ইন্দ্রজাল পাড়ি দিয়ে,
আমার পথচলার খেয়াল ছিলো স্বপ্ন রঙিন!
কখনো বা থাকে আঁধারেও আলো!
কখনো আবার আলোর মাঝে একাকার –
আঁধারের নিরংকুশ কালো!
মাঝে মাঝেই তাই মনেরই অগোচরে –
ফিরে পেতে চাই কভিড-১৯, যেন
অস্থিরতা ভুলে থাকি জীবনের খেলাঘরে!
কিছু মানুষ নিমেষেই জুড়ে থাকে অন্তর!
কিছু মানুষ থাকে হৃদয়ের বৃত্তের ভিতর,
আপন না হয়েও রয় মায়ার বন্ধনে মুখর!
দেখা না হলেও থাকে চোখের ভিতর!
প্রেম না দিলেও রয় আলোকিত বাতিঘর!
কিছু মানুষ নিমেষেই জুড়ে থাকে অন্তর!
প্রাণের স্পর্শে সদা ভরে রাখে খেলাঘর!
প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে দিয়ে উঁকি,
জীবনের দুর্বোধ্যতা মাঝে করে আঁকিবুঁকি!
কিছু মানুষ সম্ভাবনার খুলে দেয় দ্বার!
আলোর বন্যায় ঘুচিয়ে দেয় সকল আঁধার!
কিছু মানুষ ঠিক তেমনই আপনজনা –
অস্তিত্ব থেকে যাদের বিচ্ছিন্ন করা যায় না!
কিছু মানুষ রয়ে যায় হয়ে কিছুর দীপশিখা,
কিছু মানুষের জন্যেই অন্তরীণ দিগন্তরেখা!
ভালোবেসে যাই শুধুই, ফিরে দেখিনে!
মানুষগুলো ভালোবাসার বড় কাঙাল প্রাণে,
ছটফটায় নির্জীব মানুষও ভালোবাসা বিনে!
তুমি কি জানো, ভালোবাসার যথার্থ মানে?
নিশ্চয়ই জানো, না জানার কারণ দেখিনে!
আমি নিজেই কি জানি, যদিও তাও বুঝিনে!
তবুও ভালোবেসে যাই শুধুই, ফিরে দেখিনে!
মাঝে মাঝেই তলিয়ে গিয়ে অন্তহীন গহীনে,
নিজের অপারগতাও তখন বুঝতে পারিনে!
জানো, খুব অস্থির ক্ষণে তুমিই আসো মনে!
আর আজকাল তো স্থিরতা খুঁজেই পাইনে!
জীবন যেন এক গোলকধাঁধা জটিল বন্ধনে!
কিছুতেই আমি নিষ্কৃতির পথের দিশা পাইনে!
ভালোবাসা তো কেবলই এক ছন্দ জীবনে!
জড়িয়ে রাখে অধীর প্রাণ, উত্থান ও পতনে!
আমিও কাঙাল তাই আর সব মানুষেরই মতো,
এতোটুকু ভালোবাসার স্পর্শ খুঁজে ফিরি সর্বত্র!
কিসের লাগি এই খেলাঘরের উন্মাদনা!
তুমি যখনই সময়ের সাথে মিলাবে তাল,
তোমাকে ছেড়ে যাবে পার্থিবতার জঞ্জাল!
খেলাঘরের বন্ধনে যতোই র’বে মেতে –
শৃঙ্খলে জড়াবে ততোই, নিশীথে ও প্রাতে!
কিসের লাগি এই খেলাঘরের উন্মাদনা!
চাওয়া-পাওয়ার এই চারদিনের ভাবনা!
কিসের আয়োজনে মাতোয়ারা অকারণ!
কিসের নেশায় ভুলেছো, আসবেই মরণ!
আমার প্রাণের সমস্ত তৃষ্ণার অন্তরালে –
সময়ের বুকে সমর্পণের নেশামগ্নতা দুলে!
তারই মাঝে পার্থিবতার শৃঙ্খলও কদাচিৎ,
আমাকেও পোড়ায় দিয়ে বন্ধনের মায়াগীত!
মানব জনমের এই তো রীতিপ্রথা অনুসৃত,
ভুলায় সময়, তোমাকে-আমাকে অবিরত!
আপন পিয়াসী হৃদয় পুড়িয়ে মায়াকান্নায় –
অকুলপাথারে নিরন্তর ডুবায় আর ভাসায়!
তবুও থমকে আছি একেলা আমি!
ঝড়ো তান্ডব নেই কোথাও!
নেই পাগলা বাতাসের দাপাদাপি!
ভীষণ শান্ত লোকালয়!
শাখায় পুষ্পরেণু, গাইছে সুরেলা পাখি!
অফিস আদালত চলছে ঠিক!
মসজিদ মন্দির গীর্জায় যথারীতি প্রার্থনা!
রাজপথে মাঝে মাঝে ক্লান্ত মিছিল!
থেমে নেই সংসার মাঝে খুনসুটি,
মান-অভিমানে দুঃখ-সুখের আনাগোনা!
তবুও থমকে আছি একেলা আমি!
থমকে আছে আমার জীবন নদী!
অস্ফুট বিদ্রোহের জ্বালা নিয়ে প্রাণে,
থমকে থাকা নদীও চলছে নিরবধি!
অসম্ভবের মায়া ছাড়তে পারি না,
সম্ভাবনার দরোজা পাই না খুঁজে;
ব্যাকুল হৃদয়ে মাথা কুটে করি অশ্রুপাত!
আর মনের অতলে স্বপ্ন সাজাই –
প্রবল বর্ষনে একদিন ঠিক যাবো ভিজে!
You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link ➡️ https://kobita.banglakosh.com/
