“শূণ্যতার ধরাতলে একখন্ড শূণ্যতা!”

শূণ্যতার ধরাতলে একখন্ড শূণ্যতা! ➡️

বুকের ভেতরটায় এক রাশ শূণ্যতার ধ্বনি শুনি! 

যখন তখন বেজে উঠে যেন অপূর্ণতায়!

আমি এদিক ওদিক চোখ মেলে দিয়ে স্বপ্ন বুনি!

দিন কেটে যায় শুধুই তোমারই প্রতীক্ষায়!

সুবিশাল শূণ্যতার ধরাতলে একখন্ড শূণ্যতা বুকে,

আমি খুঁজে ফিরি প্রেম অনন্ত আলোকে!

ডুকরে কেঁদে উঠি জীবনতরীর দোদুল্যমান পালে,

হারাই বারেবার মহাসমুদ্রের শূণ্যতার বাঁকে!

জীবন যখন অস্থিরতায় খুঁজে ফিরে আশার আলো, 

কৃপাধন্য প্রাণ তোমাতেই বিমুগ্ধ চেতনা ভরে!

উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়েও পাই –

তোমারই অশেষ দয়া, আমাকে মুক্ত করে!

অতি নীরবে চিৎকার করে আকাশ নীলে রাখি চোখ;

মনের ভেতরে থেকে তুমি বাজাও জয়ধ্বনি! 

সমস্ত আমার অস্থিরতার রোষানল ভেঙেচুরে তুমিই,

অতি সযতনে ঝরাও ঝরঝর বৃষ্টি রিনিঝিনি!

তবুও, শূণ্যতার ধরাতলে একখন্ড শূণ্যতা!

তোমার কাছে  কি আর চাইতে পারে, 

                         এই  অবিনাশী প্রাণ!

প্রাণের  মেলায় তোমারই জন্যে নিতি –

                        ব্যাকুল সুরেরই তান!

আমার কেবলই  পথ চেয়ে থাকা, আর

                         দ্রুততর  হৃদ স্পন্দন! 

প্রতিটি স্পন্দনের  প্রতিটি সূক্ষ্ম রেখায়,

          নিয়ে আছি তোমারই  আচ্ছাদন!

গগনবিদারী কক্ষচ্যুত নক্ষত্রের আড়ালে –

         জড়িয়ে আছি মাধ্যাকর্ষণের টানে!

এদিক ওদিক চারিধারের উৎকণ্ঠা নিয়ে,

           তাকিয়ে রই শুধু তোমারই পানে!

তুমি চাও বলেই আমি আজো যাই চেয়ে,

                   যখন যা কিছুরই প্রয়োজন! 

শূণ্যতার পূর্ণতাতেও, দিনের শেষে তবুও –

           বুঝতে পারি না, অস্থির কেন মন!

আমি তো কেবলই তোমাতে মুখর!

হিসেব নিকেশের যত দায়ভার, 

       সে তো তোমারই!

আমি তো বয়ে যাই –

পাপপূণ্যের এই জীবনতরী কেবলই!

সুন্দরের স্বরূপ অন্বেষণে মেতে,

পাড়ি দিয়ে যাই আমি অনন্ত প্রহর!

সমস্ত চেতনার রঙ ছড়িয়ে দিয়ে,

      মোহ মায়ায় জড়িয়ে, বাঁধি ঘর!

আমার মাঝেই তোমার প্রকাশ,

       আমি খুঁজি না অস্তরবির যন্ত্রণা! 

শূণ্যতার ধরাতলে একখন্ড শূণ্যতা! আমি খুঁজি না অস্তরবির যন্ত্রণা!

জ্যোৎস্নার অনন্ত ধারায় ভিজি আমি,

   পৃথিবীর বুকে করে যাই স্বর্গ রচনা!

তোমার জন্যেই আমার স্রোতধারা,

      নিরন্তর বহমান মহাসমুদ্রের পানে!

জোয়ার ভাটার এই ভীষণ কোলাহলে,

  তোমাকেই পাই, প্রাণ পাখির কুজনে!

অস্থির আমার মনের চঞ্চলতায়,

     রঙ্ধনুর সাত রঙে বিরাজো তুমিই!

     আমি তো কেবলই তোমাতে মুখর,

তোমারই কারণ, আমার সমস্ত আমি!

আমি’তে সাজিয়ে তোমারই রঙের স্ফুরণ!

ধর্মের ধ্বজা ধরে তবেই জীবনের সাধনা!

বিশ্বাসে মিলায় মুক্তি, সাধন হয় আরাধনা! 

অস্তিত্বের বিভাজনে আত্মা কলুষিত!

একের শক্তিতেই প্রাণ নিমেষেই বিকশিত!

দারিদ্রতার দৈন্যদশায় এলোমেলো মানব মন!

প্রাচুর্যের অহংবোধে পথভ্রষ্ট অকারণ! 

রোগব্যাধির কষ্ট যার, সেই যে ভুক্তভোগী! 

বার্ধক্যের জ্ঞান বুদ্ধি লোপে, সমস্তই ত্যাগী!

মৃত্যুর আলিঙ্গন অস্বীকার, নয় সৃষ্টির ভেদ!

দাজ্জালের অপশক্তি, হয় বিশ্বাসেই উচ্ছেদ!

কিয়ামতের বাস্তবতার সম্মুখীন যখন স’বে –

ক্ষমার মাঝেই জানি, সমর্পিত প্রাণগুলো র’বে!

সৃষ্টির যন্ত্রণা থাকে না সৃষ্ট সৌন্দর্যের প্রীতে!

স্রষ্টার বিশালতার প্রকাশ সৃষ্টির আরতিতে!

আমি’তে সাজিয়ে তোমারই রঙের স্ফুরণ,

আমার সমস্ত কিছুই – শুধুই তোমারই কারণ!

হৃদয় মন মস্তিষ্ক – সম্পূর্ণ অবনত!

পাড়ি দিয়ে যাবো ঠিক তোমারই কৃপায় –

দুস্তর পারাবার আর বন্ধুর পথ!

পৃথিবীর কণ্টকিত জঞ্জালের উন্মত্ততায়,

তোমাতেই ভরসা – আমার পূর্ণ শপথ!

দূর গগনতলে ঐ যে ঝঞ্জা মেঘের ঘনঘটায়,

চিত্ত আমার আনচান করে অবিরত,

তোমারই শক্তির ‘পরে পরিপূর্ণ আস্থায়,

আমার হৃদয় মন মস্তিষ্ক – সম্পূর্ণ অবনত!

সদা ভয়, সদা সংশয় আমার অস্তিত্ব জুড়ে, 

মোহ মায়ার জালে করে রাখে আচ্ছন্ন;

তবুও আমি জানি, মনে-প্রাণে মানি প্রভু –

তোমার কৃপার কাছে সবই যে অতি নগন্য!

আমি ভুল করে ভুল পথে ভুলেতে জড়িয়ে –

পাপ আর পূণ্যের হিসাব মিলাতে না পারি!

তোমার ক্ষমা আর দয়ার আলোতেই শুধু,

পার্থিবতার মোহ মায়ার সমস্ত যাবো ছাড়ি!

চির নত আমি অতি কৃতজ্ঞতা ভরে!

আমাকে নির্ভার করে রাখো তুমিই, মালিক!

তোমার দয়াতেই আমার চির মুক্তি!

করুণা তোমার সদা রয়েছে বলেই, আমি –

পার্থিবতার শৃঙ্খল মাঝেও পাই শক্তি!

তুমিই এক আর অবিনশ্বর, করো পরিত্রাণ 

এই জীবনের অজস্র মায়াজাল থেকে!

তোমারই অশেষ কৃপার ছায়াতলে আমায় –

রেখেছো বলেই, আজও চলি পরম সুখে!

তোমাতে সমর্পণের দেখিয়েছো দিশা, তাই

চির নত আমি অতি কৃতজ্ঞতা ভরে!

জীবনের পান্থশালার হৈচৈ শেষে আবারও, 

তোমারই রঙের ছোঁয়ায় আসবো ফিরে!

https://lucysjourney.com/

You may read meaningful Bengali poems of renowned Poets, click the link ➡️ https://kobita.banglakosh.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *