কী বিচিত্র আচরণ! ➡️
পঞ্চাশোর্ধ শরীরের কী বিচিত্র আচরণ!
শরীর বুঝিয়ে দিতে চায় ক্ষণে ক্ষণেই,
জীবনের ধারার সাথে আজ –
নির্লিপ্ত আমার জড়াজড়ি ,
আর তাই,
আমাকে জীবনের আর নেই প্রয়োজন!
কোষে কোষে বিদ্যুতের নির্মোহ সংযোগ!
মস্তিষ্কের নিউরনের কেন্দ্রে বিচ্ছিন্নতা,
হৃৎপিন্ডের ধুকপুকানিতে –
অবিরত তুমুল অস্থিরতা,
যখন তখন ঘনিয়ে আসে শ্রাবণের ধারা,
আমি চকিতেই বুঝি, ফিরে যাবার উদ্যোগ!
পঞ্চাশ পেরোলেই বুঝি বা সমাপ্ত জীবন!
স্বাভাবিকতার অন্তরালে প্রাণে ধীরতা,
দৃষ্টিসীমায় ছেয়ে থাকে –
এক রাশ শূণ্যতা,
আড়ালে চুপি চুপি চলে শরীরের ক্ষয় –
জীবনে কেবলই নিভে যাবার আশঙ্কা তখন!
যেতে হবে, চলে যাবো স’বে ছেড়ে বন্ধন!
জীবনের খেলাঘর পড়ে র’বে এমনই!
আমাকে কেউ আর –
খুঁজবে না কখনোই!
পৃথিবীর আলো ছেড়ে নিরুদ্দেশের পথে –
প্রাণপাখি অকস্মাৎ ছেড়ে যাবে মায়াকানন!
কিসের জন্যে এতো কিছু?
মনে হয় যেন,
কিসের জন্যে এতো কিছু?
এক জীবনের সবটুকু শেষ করে এসে,
এভাবেই যদি বেঁচে থাকতে হয়;
যদি আপনার মাঝে থেকেও –
অহর্নিশি জীবনকে বোঝা মনে হয়;
তবে কিসের জন্যে,
কিসের জন্যে এই মায়াকাননে –
তোমার জন্যে আমার কিংবা
আমার জন্যে তোমার পৃথিবী রঙ বদলায়?
অভিব্যক্তিহীন একটি অবয়ব আজ তার!
একদিন সেখানেই ছিল জীবন অপার!
আজ মুখপানে তাকালেই,
এলোমেলো ভীষণ লাগে সব!
কিই বা সাধ্য আছে তোমার আমার –
জীবনের এই রূপের মাঝে,
জীবনের রঙ আবারও
ছড়িয়ে দেবার!
ভাবছি জীবন,
অথচ কী ভীষণ নির্জীব প্রাণ!
সময়েরই তালে এই জীবন চলমান!
তুমি আমি কিংবা সে,
প্রতিটি প্রাণের স্পন্দন –
আর কিছু তো নয়, শুধুই
সুরের সাথে সুর মিলিয়ে
পেরিয়ে যাবার ক্ষণ!
জীবনের চীৎকার! কী বিচিত্র আচরণ!
আলো ঝলমলে দিনের গভীরে,
আমি লুকিয়ে থাকি কৃষ্ণ গহ্বরে!
রাত্রির আঁধার যখন ঘনায় চারিধার –
আমি তাকিয়ে দেখি বিশ্ব প্রলয়,
আমার হৃদয় জুড়ে অস্থির কম্পন,
আমি কান পেতে শুনি জীবনের চীৎকার!

তুমিও ঠিক আমারই মতো,
লুকিয়ে অজানায় তড়পাও অবিরত!
বিশ্ব লোকের অশ্রুসিক্ত চোখের তারায় –
তুমিও খুঁজে ফিরো মায়াকাননের ভাষা,
বুকের ভেতরে ছটফট করে প্রাণ পাখি,
নির্লিপ্ত দহনে পোড়াও তুমি অবিনাশী হুংকার!
আজ বেলাশেষের প্রান্তে আমি,
দেখেও দেখি না আপন পিয়াসী অশ্রুপাত!
সময় আমাকে নিয়ে চলে সুদূরের টানে!
আমি অবাক বিস্ময়ে নিমগ্ন আপনাতে,
আপনার রঙে আপনাকে সাজাতে, তবুও –
আপন সত্ত্বার খোঁজে সমস্ত জগৎ করি ছারখার!
জাপটে ধরে ভয়, কি জানি কি হয়!
জগতের স্বাভাবিক নিয়মেই –
ঘটবে যা কিছু এই নাট্যমঞ্চে!
এক অবিনশ্বরের ইশারার বাইরে,
কিছুই হবার সুযোগ নেই কোনো!
মনে প্রাণে জানি এবং মানি তা!
তবুও মাঝে মাঝেই –
জাপটে ধরে ভয়, কি জানি কি হয়!
প্রতিটি মুহুর্ত চলমান আমি-তুমি,
ছেড়ে যাবার এক অদম্য তাড়নায়!
কিন্তু চোখের সম্মুখে এই যে তাড়না,
তাকে আমি সয়ে যাই বলো –
কতটুকু শক্তি আর দুর্বোধ্য চেতনায়!
সত্যিই, এ যে সহজ মোটেও নয়!
জন্মের মাঝেই মৃত্যুর বীজ রোপিত!
এসেছি এই ভবে,
সবকিছু ছেড়ে ঠিক চলে যেতে হবে!
সে কথার ব্যত্যয় কখনোই না ঘটবে!
কিন্তু জীবনের কাছে মৃত্যুর,
এ কেমনতর আহাজারি!
আছি ঠিকই বেঁচে,
তবুও নেই জীবনের কাছে,
অনুভুতির ভাঁজে, রহস্যের ছড়াছড়ি!
তাই প্রায়শই প্রাণে জাগে ভয় –
কি জানি কখন কিই বা হয়!
শান্ত হও চিত্ত আমার!

হঠাৎ করেই ধুকপুকানি বেড়ে গেলো!
হৃৎপিণ্ডের ভেতরে –
অস্থিরতার দামামা যেন!
আমি বুঝে উঠতে পারছি না!
আবার, বুঝতে না পারারও –
কারণও নেই যে কোন!
তবে কি অতি মাত্রার অস্বাভাবিকতায়,
প্রাণ পাখি আজ সত্যিই ভীষণ ক্লান্ত?
উন্মুক্ত আকাশ, আর –
একটু খোলা বাতাসের জন্যে,
প্রাণপাখি কি আজ তবে উতলা অশান্ত?
কিন্তু স্বাভাবিকতা যে আমার জন্যে নয়!
জন্মান্তরের নেশায় আমি আচ্ছন্ন, তাই
পেরিয়ে যাবো জীবন খেলা,
বিনে পরাজয়!
তবে কেন আজ এই অস্থিরতা হৃদ স্পন্দনে?
কেন অহেতুক উন্মত্ততা প্রাণের কম্পনে?
শান্ত হও চিত্ত আমার,
নির্বাপিত হোক অস্থিরতা!
খেলাঘরের মায়ার ঘোরে প্রাণ,
চায় না মিছে সফলতা!
You may read beautiful Bengali Poems of the renowned Poets; click the link ➡️ https://kobita.banglakosh.com/
