“আমিই প্রেম!” ➡️
হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি শিরায় শিরায় –
আমি বয়ে চলি প্রেম, আমিই প্রেম!
মস্তিষ্কের নিউরনের কোষে কোষে নিতি,
প্রেমের স্বকীয়তায় আমি নির্জলা প্রেম!
অনাদিকালের প্রেমের তরীটি অবিরত
তোমারই প্রেমের কাঙাল, চলি বেয়ে!
তোমাতে অফুরান ভালোবাসাটুকু রেখে,
ছুটে যাই আমি, আগামী দিনের প্রত্যয়ে!
সৃষ্টির আদিতে আমি প্রোথিত যুগল হৃদয়ে –
আমার সমস্ত জুড়ে অনন্ত প্রেমানুরাগ!
জীবনের চলমান ধারায় আমি প্রবাহিত –
নিঃসংকোচে ধারণ করি দীপ্ত অনুরাগ!
সময়ের সাথে আপোষের বিনিময়ে আমি
হৃদয় ছাড়িয়ে হৃদয়ে, প্রণয়ের সুর সাধি;
আমি প্রেম, সৃষ্টির যন্ত্রণাতে আমার বাস,
পার্থিব ডামাডোলে আমি সুখের ঘর বাঁধি!
আমি হৃদয় পুড়িয়ে হৃদয়কে করি উদাস!
ধর্ম বর্ণ ভাষা কোন কিছুতেই আমি টলি না!
যুগে যুগে আমি আপনার রঙের ছোঁয়াতে,
অনন্তর স্বপ্ন আবাসন করি রচনা!

আমিই প্রেম! মনের ভেতরে অস্ফুট কান্না!
যখন তোমাকে দেখি,
আরো বেশী দেখতে মন চায়!
আর এই যে –
কতো কাল দেখি না তোমায়!
মনের ভেতরে ঘুণ পোকা,
অবিরাম যেন কুড়ে কুড়ে খায়!
আচ্ছা বলো তো –
তোমারও কি এমনটি হয়?
আমাকে এক পলক দেখার ইচ্ছে,
তোমারও কি মনের মাঝে –
রাত্রিদিনের ভেলায় চড়ে,
মহাজাগতিক গতিসীমা এড়িয়ে,
তোমারও কি আমার কাছে
ছুটে যাবার তাড়নায়,
সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিতে,
মন কি আপনমনে আমার কথা কয়?

জানো, সবকিছুই আপনাতে মগ্ন!
কেবল তোমার জন্য –
মনের ভেতরে অস্ফুট কান্না
কিছুতেই তারে রুধিতে পারি না!
তাই, মন আমার যখন তখন
ঘূর্ণি হাওয়ার দুর্বিপাকের ফেরে,
খুঁজে ফিরে তোমারই ঐ মুখ;
প্রাণটি ভরে প্রাণের দহনে –
বৃষ্টি স্নাত স্বস্তি পাবার তরে!
ভরিয়ে দাও তো এবার প্রেম অনুরাগে!
কত করে যে চাইছি প্রাণের তাগিদে!
পাচ্ছি কোথায় বলো তোমারে!
সমস্ত প্রাণের মাঝে অস্থিরতার বিষে,
শেষ হয়ে গেলাম যে পুড়ে পুড়ে!
কত পথ, কত প্রান্তর, কত পাহাড় আর
কত পর্বতমালা যাবো পেরিয়ে!
মস্তিষ্কের কোষে কোষে বিদ্যুতের চমকে,
হাঁসফাঁস করছি যে ঝলসে গিয়ে!
আর কত সয়ে যাবো বলো প্রতীক্ষা প্রহর –
একেলা আমি এই গহীন অরণ্যে?
প্রাণের ভেতরে ছটফটায় যে প্রাণ পাখি,
দেখা তো দাও, পারি না তুমি বিনে!
সুদীর্ঘ পথের মায়ায় জড়িয়ে আর কত,
রাত্রির অমানিশা মাঝে র’বো জেগে!
জীবন ফুরিয়ে গেলো তোমারই পথ চেয়ে,
ভরিয়ে দাও তো এবার প্রেম অনুরাগে!
একটি বার শুধু, যদি তুমি বলতে –
একটি বার শুধু, যদি তুমি বলতে –
তোমার প্রাণও তড়পায় আমারই মতো!
যদি হৃদয়ের আকাশ খুলে শুধু দেখাতে –
সেখানেও জমে আছে কত অজানা ক্ষত!
আমি বইয়ে দিতাম নদীর ধারা,
হিমালয়ের চূড়া থেকে পাহাড়ী ঝর্না;
নিমেষেই তুমি হয়ে যেতে ক্লান্তিহারা,
ক্ষত যত হয়ে যেতো নদীর বুকে মুক্তো দানা!
তুমি শুধু নীরবে বয়েই গেলে একাকী,
অজানা ব্যথায় আমাকেও পোড়ালে অবিরত!
পাশে থেকেও যেন দু’জনে ভিন গ্রহবাসী,
প্রাণের পিঞ্জরে প্রাণ পাখি একেলাই ব্যথিত!
প্রকাশিতে পারি না কেউই প্রাণের যন্ত্রণা,
অথচ জীবন খেলায় একে অপরের দোসর;
মানব জন্মের বুঝি বা এমনই দ্যোতনা –
সবটুকু দিয়েও খানিক রয়ে যায় প্রাণের ভেতর!
জগৎ সংসারের বন্ধনের সুতো – প্রেম, আমিই!

আমি বারেবারে খেলাঘরে আসি ফিরে!
আমি চলে যাই দূর থেকে আরো দূরে, বহুদূরে!
আমার ফিরে আসা – অক্লান্ত, অমলিন!
আমি বুকের পাঁজরে বেঁধে নিয়েছি সর্প বিন!
ক্লান্তিতে নুয়ে পড়ে আবারও উঠে দাঁড়াই,
কষ্টগুলো বিন্দু বিন্দু করে মনের গহীনে লুকাই!
আমি তাকিয়ে দেখি না মেঘের ঘনঘটার সম্ভার,
আমার চোখের মনিতে দীপ্ত আলোর সমাহার!
শূণ্যতার অসীমে প্রাণমন আমার সুবিস্তৃত!
মিশে যাই আমি অকাতরে সমস্ত অস্তিত্ব সমেত!
ফিরে আসা আমার নির্ভাবনার আঁকড়ে তাই,
বিলীন হয়েও বারেবারে, প্রেমময় স্বর্গ সাজাই!
ফিরে আমাকে আসতেই হয় সৃষ্টির প্রেমসুধায়,
আমি বিনে ধরিত্রীর মায়া বিচূর্ণ গ্রহনের ছায়!
জগৎ সংসারের বন্ধনের সুতো – প্রেম, আমিই,
আমি আসবোই ফিরে বারেবারে তাই, চিরদিনই!
You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, click the link ➡️ kobita.banglakosh.com
