“সাতরঙা ছটা হয়েছে ফিঁকে!”
টান পাই না আর কোন কিছুতেই আমি!
জীবন যেন এক – জীবন্মৃত উপাখ্যান!
তোমাদের মাঝেই যদিও আছি ঠিকই,
তবু্ও জীবন শুধু সুতো ছিড়ে দেয় টান!
এই যে তোমাদের হাসি খেলা, কিংবা
প্রাণে প্রাণ জুড়ে দিয়ে প্রাণের মেলা,
কোন কিছুতেই আমি আজ পাই না যে,
খুঁজে পাই না আমার সেই দুরন্ত বেলা!
জীবনের রঙ যেন গোধুলী ধুসর আজ!
রঙ্ধনুর সাতরঙা ছটা হয়েছে ফিঁকে!
প্রাণের পিঞ্জরে পাখি নীরবে নিরালায়,
সময়ের পথ চেয়ে একেলা রাত জাগে!
ভাবনার অতলে সাজিয়ে প্রাণের দুরত্ব,
দূর থেকে দূরে চলে যাচ্ছি আমি আপনি!
সময়ের ঘড়ি ধরে সময়েরই আয়োজনে –
পার্থিবতার শৃঙ্খল ভেঙে হতে অনন্তে ঋণী!
সাতরঙা ছটা হয়েছে ফিঁকে! তবুও রয় প্রশান্ত ভীষণ!

হৃদয়ের অতলে আর চোখ মেলে দেখি না!
মস্তিষ্কের নিউরনে নিতি কীটের আনাগোনা!
জীবন আজ যেন এক অগ্নিদগ্ধ কাঠ খড়ি!
পুড়ে ছাই তবুও তার চলতে হবে মুঠো ভরি!
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় ঘুমবিহীন চেতনায়!
খুঁজি না তোমাকে আমি আর স্বপ্নের মায়ায়!
ধ্রুবতারা লুকিয়েছে কৃষ্ণগহ্বরের গভীরে!
সপ্তঋষিকে দেখি শুধু রূপকথার গল্প ঘোরে!
রিমঝিম বর্ষনের সুরেলা নিবেদনে প্রাণ মন –
ছটফট করে উঠে, তবুও রয় প্রশান্ত ভীষণ!
সমুদ্রের উর্মিমালা ডেকে যায় ‘আয় আয়’,
হৃদয় গহীনে প্রাণপাখি চুপিসারে গান গায়!
জীবনের প্রয়োজনে নেই জীবনের আয়োজন!
সুদূরের আহ্বান টানে আজ জীবন এখন!
যার গন্তব্য তার তার!
এই শোনো,
হ্যাঁ তোমাকেই বলছি,ব্যতিব্যস্ত প্রাণ!
একটু থামো তো!
পেছন থেকে টেনে ধরবার সুযোগ কেন দিবে?
নিজে থেকেই থেমে দাঁড়াও!
টেনে ধরতে দিলেই, তুমি পিছিয়ে গেলে,
পিছিয়ে গেলে অনেকটাই, এই জীবন থেকে!
আর তাই, একটুখানি থামো, তারপর,
তারপর একটু ধীরে, একটুখানি ধীরগতিতে,
ধীরে ধীরে আবারও চলতে শুরু করো!
অতি দ্রুততায়, সংঘর্ষের সম্ভাবনা থেকে যায়!
দ্রুততার সাথে কখনো বা মৌলিকত্ব হারায়!
তার চেয়ে ধীরে এগিয়ে যাও –
সংঘর্ষ বিহীন, আপনার রঙে আপনি বিলীন,
নিরাপদ দুরত্বের আড়াল রেখে!
না, কাউকে পেছন ফেলেই বা কেন যেতে হবে!
অন্য কারো গন্তব্যের সাথে তোমার গন্তব্যের,
নেই কোনো বিরোধ, যার গন্তব্য তার তার!
নির্দ্বিধায় তুমি পেরিয়ে যাও সমুদ্র-নদী-পাহাড়!
তোমার গন্তব্যকে লক্ষ্য করে যেতে থাকো;
শুধু গতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে, ধীরে ধীরগতিতে!
তাহলেই ঠিক পৌছে যাবে সেখানে, যেখানে –
তোমার সাচ্ছন্দ্য সন্তুষ্টির যা কিছু, সব পাবে!
তোমাতেই সঁপেছি সর্বস্ব আমার!
তোমার শক্তির কাছে অতীব তুচ্ছ আমি!
তোমার বিশালতায় বারবার যাই থামি!
অসীম অন্তহীন ক্ষমতার কাছে তোমার –
কিছুই তো নেই হারাবার আমার!
আমাকে ভয় দিও না, দয়া করে আর!
তোমাতেই সঁপেছি সর্বস্ব আমার!
ভয়ে তো এমনিতেই আমি কাতর!
সুনীল দিগন্তের পাড়ে অশ্রু ঝরঝর!
তুমি তো জানোই, স্বামী –
তোমার ভালোবাসার কাঙাল শুধু আমি;
যতোই পাই, আরো পেতে তড়পাই,
তোমাতে মিশে গিয়ে পৃথ্বীতে লুটাই!
জীবন নদীর অকুল পাথারে ভেসে,
পথের মায়ায় ছিন্ন বিচ্ছিন্ন তিয়াসে –
ছটফটিয়ে করছি হাহাকার,
পঙ্কিলতায় ডুবে আছি, আঁধার চারিধার!
পার্থিবতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ প্রাণে,
হৃদয়ে তোমারে স্বরি, তবু ভুলে থাকি গানে!
তুমিই তো এক, জানো তার সবটাই!
তোমার কৃপাধন্য প্রাণের পাখিটিরে –
জড়িয়ে রাখো বিধি, বুকে রাখো ধরে!
মাখিয়ে রাখো আবেশে – মুগ্ধ ভালোবাসার;
তুমি চাইলে কে তা রুখে, সাধ্য বলো কার!
কখনো বা সেই তুমিই অচেনা!
অরণ্যের আঁধারে মনে হয় শক্তির ক্ষয়!
তোমার জন্যেই এসেছি ভবে,
তবুও তোমাতেই প্রতিনিয়ত সংশয়!
অজানা আবেগে আপ্লুত হৃদয়ের কান্না!
তোমার কাছেই ফিরে যাবো জানি,
অথচ কখনো বা সেই তুমিই অচেনা!
সারা নিশি জেগে শুধুই ভোরের প্রতীক্ষা!
সুদিনের হাতছানিতে কেটে যায় বেলা,
স্বপ্নগুলো রয় কেবলই আঁখি পল্লবে লেখা!
সময়ের তরে বড় বেশী কাঙাল এই প্রাণ!
জীবনের যা কিছু প্রাপ্তি আর লয়,
সবই যে এই সময়েরই মহাদান!
উচাটন প্রাণমন যখন আচ্ছন্ন ভাবনায় –
সময়ই তখন ভাঙা তরীটিরে,
অতি সযতনে ভিরায় কিনারায়!
অস্তিত্ব সংকটে লুটিয়ে অসহায় নির্জনে,
কেবল সময়েরই ধ্বজা ধরে –
উঠে দাঁড়াবার শক্তির বীজ যেতে হয় বুনে!
জীবন তবু্ও খুঁজে ফিরে জীবনের পসরা!
ভেতরে চলছে অসম্ভব তোলপাড়!
যেন মহাকাশ জুড়ে লক্ষকোটি নক্ষত্রমালা,
এদিক ওদিক চূর্ণবিচূর্ণ করে –
তুমুল আলোড়নে চারিদিক অন্ধকার।
মস্তিষ্কের নিউরনে অবিন্যস্ত ভাবনার ধারা!
যতোই এড়িয়ে যেতে চাই, কিংবা
নীরবতার বরফে যতোই করি শীতল,
বারেবারে চিত্ত আমার ভাবনাতেই হারা!
দুর্গম মরু প্রান্তরের মায়াজাল অধরা!
ঝড়ো তান্ডবের আশংকা নিয়ে বুকে, আর
স্বপ্নবাজির উৎকন্ঠিত প্রাণে বেঁচে –
জীবন তবু্ও খুঁজে ফিরে জীবনের পসরা!
কতোটা পথের খেলায় করবো বিচরণ!
খেলাঘরের চিরাচরিত ভূষণ ছেড়ে,
অবর্ণণীয় উদ্ভ্রান্ত দুর্নিবার স্রোতের টানে –
আর কতো এই প্রাণে বইবো কম্পন!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali Poems by renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com
