জীবন এক অচেনা পান্থশালা!

“জীবন এক অচেনা পান্থশালা!”

পৃথিবীর আলো রাঙিয়ে ছিলো সে!

চলেও গেলো আঁধারে ঢেকে দিয়ে সব!

জীবন যেন এক অচেনা পান্থশালা, 

এই আছি এই নেই – প্রাণপাখি নীরব।

আমি আছি আজও রুধিতে দীর্ঘশ্বাস, 

খুঁজে ফিরি তারই মাঝে আনন্দরাশি!

সময়ের ধ্বনিতে উথলায় অশ্রুধারা –

মনের কুঠুরীতে প্রিয় হারানোর ফাঁসী!

চলে যায়, চলে যেতে হয় তবু বিনা শর্তে!

রয়ে যায় শুধু কিছু স্মৃতির মালা! 

অজানার স্রোতে ভেসে চলা এই জীবনে,

সবই যে কেবলই নিয়তির অমোঘ খেলা।

জীবন এক অচেনা পান্থশালা! অনন্তের পাড়ে ছুটে যাই!

সত্তুরটি দিবা-যামিনীর নদী পেরিয়ে এলাম!

প্রতিটি নদীর পরেই –

গহীন অরণ্যের সবুজ দিগন্তের হাতছানি!

সত্যি কি সেগুলো নদীই ছিলো, নাকি 

মস্তিষ্কের নিউরনে –

দুর্দান্ত মহাজাগতিক অবিন্যস্ত উর্মিমালা! 

প্রাণের পিঞ্জরে কী ভীষণ দহনের যন্ত্রণা! 

তবুও অতি নীরবে অনন্তের মায়ায় জড়িয়ে,

ফিরে এসেছি বালুকাবেলায় অক্ষত আমি,

কৃতজ্ঞ চিত্ত নিয়ে –

পেতে একরাশ আকুলিভূত জীবন দোলা!

সময়ের স্রোতের সংস্পর্শে আমি নির্বাক অতি!

ভাষা নেই কোনো, 

যেন অসীমের অশেষ প্রীতি!

খেলাঘরের মোহজালে জীবন ঘিরে থাকা, 

অনন্তের পাড়ে ছুটে যাই তবু্ও –

এই আমি একা, কেবলই একা!

আমিই যেন সমস্তের মাঝে থাকি নিতি মিশে,

সম্মুখ পানে দৃষ্টি মেলি খুঁজি করুণা আশীষে!

জীবন এক অচেনা পান্থশালা!
অনন্তের পাড়ে ছুটে যাই!

কী ভীষণ সমর্পনের নেশা।

তোমারই অস্তিত্বের অংশ আমি।

তুমি আছো বলেই – 

আমার প্রাণেতে অফুরান আলো।

তোমাতে মিশে থাকি বলেই –

অজস্র ধুম্রজালের মাঝেও আমি,

পেরিয়ে যাই নিকষ আঁধার কালো।

তুমিই আমার প্রাণের উন্মাদনা।

তোমার অশেষ কৃপার মাঝে,

নিরন্তর গড়ে তুলি আপন ভুবন।

পরাক্রম তোমার রূপের ঝলক দেখে,

নিমেষে সাজাই ধরামাঝে আমি –

অন্ধকার ভেদি এক নির্মলা জীবন। 

কতোটুকু আর পারি প্রকাশিতে!

তোমার দিদার নিয়ে –

অবলীলায় কী ভীষণ সমর্পনের নেশা।

পথের খেলা শেষ করে জানি,

তোমারই ছায়ে একদিন –

অনিমেষ মুগ্ধতায় ফুরাবে সব তৃষা।

তবু্ও প্রাণের অগোচরে কান্নার ঢেউ!

দীর্ঘ কিছু দিন আর রাতের আঁধারে ডুবে আছি!

সময়ের হাত ধরে আছি কিন্তু বেশ!

তবু্ও প্রাণের অগোচরে কান্নার যে ঢেউ দুলে,

তা যেন বিঁধছে এই বুকে অনিমেষ! 

তোমার সিদ্ধান্তে আমি বিলীন প্রতিনিয়ত! 

তোমার মাঝেই আমার সমস্ত অস্তিত্বের সমর্পণ! 

কষ্টের তীব্রতাও পারি না উপেক্ষিতে,

জীবনের দুর্বোধ্যতাই যেন পরিপূর্ণ জীবন! 

অস্থিরতার অনলে অনন্তর পুড়ে পুড়ে খাক!

প্রাণের পিঞ্জর জানে, সবই তোমার আয়োজন! 

মেঘের ঘনঘটা ঘুচিয়ে দিয়ে জানি একদিন –

ঝরাবে অঝোর বৃষ্টি, অস্থিরতা তুমিই করবে হরণ!

তবুও পারি না, ভীষণ যন্ত্রণায় কাতর দুর্বল প্রাণ –

আকুল তিয়াসে যাচি শুধু তোমারই করুণা!

অকুল পাথারে আমি যে দিশেহারা মালিক,

উদ্ধার করো দিয়ে তোমারই রঙের বিমূর্ত মূর্ছনা! 

জীবন ফিরে পাই না বিশ্বলোকে!

আমাকে আর ডেকো না খেলাঘরে!

আমি ছুড়ে ফেলেছি জীবনের পেয়ালা!

দুঃখ সুখের ফুলঝুরির মায়ায় আমি আর –

পুড়িয়ে হৃদয়কে করতে চাই না কালা!

দেখতে পাই অনেক কিছুই,

আবার দেখি না সবটুকু এই চোখে;

বুঝতে পারি জীবনের রঙ, 

তবু্ও জীবন ফিরে পাই না বিশ্বলোকে!

পেরিয়ে এসেছি পথের মায়া,

ঘরের মায়ায় জ্বালতে পারিনি আলো;

ফুরিয়ে এসেছে জীবনের খেলা,

বুঝি বা কেটেছে আঁধারের তীব্র কালো!

সময়ের সাথে মিলে যাবার তরে,

প্রাণমন আজ আকুলিত রাত্রিদিন;

অসম্ভবের তাড়নায় হৃদয় উজাড়ি –

শুধিতে উদগ্রীব, সারা জীবনের ঋণ!

রুধিতে পারি না প্রাণের আবেগ,

মস্তিষ্ক মাঝে উথলায় অশ্রুধারা;

প্রাণপাখি আজ ছটফটিয়ে কেবলই,

ছেড়ে যেতে চায় এই প্রাণেরই কারা!

জীবন আজ কেবলই এক গোলকধাঁধা!

কালের গর্ভে প্রাণ আজ হয়েছে বিলীন! 

আমাকে খুঁজে কেউ আর পাবে না!

জীবনের খেলাঘর মাঝে আমি আর নেই,

তোমাদের হাসি খেলায় আর ডেকো না!

ভাবনায় কখনো আসেনি জীবনের এই রূপ!

জীবন আজ কেবলই এক গোলকধাঁধা! 

অথৈ নির্জনতার স্ফুরণ আমার পৃথিবীতে,

অস্তিত্বের লড়াইয়ে আমি আজ পড়েছি বাঁধা!

সময়ের বুকে সমর্পিতা প্রাণে অশ্রুপাত! 

সময়ের মাঝেই তাই আমার সমস্ত নিবেদন!

পেরিয়ে যেতে চাই এই কঠিন পুলসিরাত! 

আর কিছুতেই আমার আজ নেই যে ক্ষরণ!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *