“মাথা পেতে নিলাম তোমার হুকুম!”
তুমি বললে, ভালো কাজের উপদেশ দিতে!
বললে, মন্দ কাজ থেকে বারণ করতে!
বলে দিলে, এতেই আমার মুক্তি!
তুমি বলে দিলে, এর ব্যত্যয় হলে,
আমার ডাকে তুমি দিবে না আর সাড়া, বরং
চরম আঘাতে শাস্তি পেতে হবে আমারই!
বেশ তো, মাথা পেতে নিলাম তোমার হুকুম!
নিলাম কেন বলছি, এর বাইরে তো –
এই জীবনে অন্য কিছু ভাবেনি এই অন্তর!
জীবনের পরতে পরতে কেবলই দেখেছি,
অনিমেষ মুগ্ধতায় যা কিছু ভালো, আর
দেখেছি শুধুই তোমারই রঙে রাঙা ভোর!
সবটাতেই তুমি ছিলে মিশে, আর আছোও!
তবুও জীবন সমুদ্রের উত্তাল স্রোতের তোড়ে,
আমি যে উথাল পাথাল ভেসে চলেছি আজও!
যে জীবনের মাঝে তুমিই আমার কারণ,
সেখানে আমি আর কিসেরই বা করি বরণ!
জীবন মাঝে মুক্তির সুধা সেই তো আমার গান!
তোমার মাঝে বিলীন হয়ে পুড়ুক তবে প্রাণ!
মাথা পেতে নিলাম তোমার হুকুম! আর কিছুই দেখতে পাই না!

চারিদিকে শুধুই মানুষের পদধ্বনি শুনি!
শুধুই মানুষ আর মানুষ, শুধুই মানুষ!
মানুষের পাশে মানুষ, মানুষের সামনে মানুষ,
পেছনে মানুষ!
মননে মানুষ, মানুষের স্বপনে মানুষ!
মানুষের ভালোবাসায় মানুষ!
মানুষের বিশ্বাসে মানুষ!
অসংখ্য মানুষের ভীড়ে আমি যে –
মানুষ আর মানুষের স্বপ্নের বিস্ফোরণ ছাড়া,
আর কিছুই দেখতে পাই না!
মানুষের সাথে মানুষের সখ্যতা ছাড়া,
পরস্পরের কাছে পূর্ণতা ছাড়া,
মানুষের জন্যে মানুষের প্রেমানুরাগ ছাড়া,
একের কারণে অপরের মায়া ছাড়া,
মানুষের মধ্যে মানুষের মানবিক বোধ ছাড়া,
মানুষে মানুষে নিরংকুশ জড়াজড়ি ছাড়া,
আর কি-ই বা আছে মানুষের প্রাণ হরা!
তবু্ও জীবন গুলো আজ কেবলই ক্লান্ত!
ক্লান্তির ভীষণ দহনে, স্বপ্ন গুলোও উদ্ভ্রান্ত!
তাহলে, চারিদিকের পদধ্বনি কি ভুলের মহড়া?
মানুষের মাঝে মানুষ গুলো কি দেবে না সাড়া?
ধরিত্রীর বুকে সবই মিশে যাবে!
বুঝতে পারি যখন তখন শরীরের ভাঁজে,
বিপুল তাড়নায় অসম আচরন বিরাজে!
বয়সের ইশারা যেনো টোকা দিয়ে যায়!
নির্ভাবনার আঁচল ধরে আমি, চুপ থাকি ঠায়!
বুঝেও বুঝতে না পারার ভান করে থাকি!
সুখের অসুখ ভেবে জাপটে ধরে রাখি!
নিজের কাছেও ভান করি অনায়াসে!
কখনো আবার যাই প্রকৃতির স্রোতে ভেসে!
লুকিয়ে আপনার রঙ আপনার ছায়ায়,
আমি পথ চেয়ে রই সময়েরই প্রতীক্ষায়!
ক্ষয়ে যায় সবই একদিন যা কিছুই এই ভবে,
নিয়ম এমনই, ধরিত্রীর বুকে সবই মিশে যাবে!
কান্নাহাসির রহস্য নিয়ে যাপিত জীবন!
মেয়েটির মুখ আর হাসবে না সামনে এসে!
মিষ্টি কথার ফুলঝুরিও ছড়াবে না!
সে যে চলে গিয়েছে তেপান্তরের ওপাড়ে,
এপাড়ের খেলাঘরে আর আসবে না!
মা’য়ের বুক উজাড় করে নিয়তির পরিহাস,
এমনও যে হতে পারে কে তা জানতো!
সময়ের ইশারা বুঝতে পারে, সাধ্য কার –
জীবনের দুর্বোধ্যতা ঘিরেই, এ জীবন তো!
তবুও কান্নাহাসির রহস্য নিয়ে যাপিত জীবন,
কষ্টটুকু বয়ে নিয়েই মন মাঝির পারাপার;
প্রার্থনাতে ক্ষমা চেয়ে ওপাড়ের মিলন আশে,
মা’য়ের প্রাণে বেঁচে থাকার শক্তি বেশুমার!
তোমারই তো শক্তির পরম প্রকাশ!
অসম্ভব সৌন্দর্যের পশরা মাঝে, কি কারণ,
অতি ক্ষুদ্র এই আমার অবাধ বিচরণ?
তোমার সৃষ্টি মাঝে তোমারই রঙের ছোঁয়ায়,
তুমিই তো রাঙিয়েছো, দিয়ে সমস্ত আভরণ!
আমার বিচরণে যদি কম্পিত পৃথ্বীধর,
তাতে তোমারই তো শক্তির পরম প্রকাশ!
যদি লণ্ডভণ্ড হয়ে উঠে ঘুমন্ত বিশ্ব চরাচর,
সে তো তোমারই পরাক্রমশালী মন্ত্রের আভাস!
ডুকরে কেন তবে কেঁদে উঠে আমার প্রাণ,
যখন তোমারই আলোকবর্তিকা হয়ে উচ্ছ্বসিত!
কেন পার্থিবতার রোষানলে তড়পাই আমি,
যখন তুমিই করো আমার অন্তরাত্মা বিকশিত!
খেলাঘর ভরে দিয়ে অনন্ত প্রহরের যোগসাজশে,
সমগ্র দেখছো তুমি আপনার রঙ জুড়ে!
ক্লান্তিতে নিমগ্ন আমি সেথা জীবন নিয়ে,
জীবনের সুধা মেখে যাবো কালের গর্ভে ফিরে!
নিছক মায়ার খেলা!
খুব সহজেই ওরা বুঝতে পারে আমাকে!
ওদের এই বুঝতে পারার অভিব্যক্তিতে,
সত্যি, কি যে বলবো, ভেবে পাই না!
আমি নিজেও বুঝি বা –
অতোটা বুঝতে পারি না নিজেকে!
ভাবতেই গেলেই, কান্না পায়, নাকি হাসি –
সেই ভাবনাতেও আমি ফিরে ফিরে আসি!
মাঝে মাঝেই তাই, খুব এলোমেলো লাগে!
মাথার ভেতরে যেন ঘুন পোকা কুড়ে খায়!
আর আমি, নিজের অজান্তেই,
খুঁজে ফিরি নিজেকে সময়ের অনুরাগে!
আচ্ছা বলো তো,
এই যে নেই আমি কোথাও, কিংবা এই যে –
এতোটুকু স্পর্শ পেতে ডুকরে কেঁদেছি,
নিজের কাছেও নিজেকে বেঘোরে ভুলিয়েছি,
তন্নতন্ন করেও খুঁজে পাইনে প্রাণের স্পন্দন,
যতোটুকু মায়ার জালে জড়িয়েছি,
সেখানেও খুঁজে পাইনে সহমর্মিতার বন্ধন!
অথচ, কী ভীষণ আবেগের উষ্ণতা!
কী ভীষণ অভিমানের বুদবুদ আর উন্মাদনা!
কী ভীষণ ভালোবাসার নেশায় মগ্নতা!
সত্যি, বিচিত্র জীবনের বিচিত্র আচরণ!
আমি কার, কে আমার, নিছক মায়ার খেলা!
খেলার ছলেই তুমি-আমি, ভাসিয়েছি ভেলা!!!
You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com
