একেলা প্রাণ পাখি!

“একেলা প্রাণ পাখি!” ➡️

প্রলয়ের দুরন্তপনার মাঝে,

ডানা ঝাপটিয়ে একেলা প্রাণ পাখি –

চোখের জলের ঝরায় বৃষ্টি, আর

মেঘের ঘূর্ণিতে ভেসে চলে এলোপাথাড়ি! 

তারই মাঝেও দেখে আলোর স্ফুরণ, 

দূর দিগন্তের কোল ছুঁয়ে;

চোখের জলের মুক্তো দানা নিমেষেই,

উন্মিলিত হয় –

আশার প্রদীপের অরূপ স্বরূপ নিয়ে!

একেলা প্রাণ পাখি, যখন মন উদাস!

একেলা প্রাণ পাখি, যখন মন উদাস!
ঝাপসা নীলের আবীরে যখন মন উদাস!

যখন খুঁজে পায় না এই মন তোমাকে!

যখন পুড়ে খাক চিত্ত অবিন্যস্ত আবেগে!

হৃদয়ের প্রান্তর যখন সিক্ত অফুরান!

তোমারই জন্যে শুধু বিরহী যখন প্রাণ!

তোমার কথা ভেবে যখন মন অনুরাগী!

যখন হৃদয় আকুলি শুধু তোমাকেই ডাকি!

যখন অশান্ত পৃথিবীতে অগ্নি স্ফুরণ!

অসম্ভবের স্পর্শেও যখন বিদগ্ধ তনুমন!

যখন মেঘহীন তড়পায় স্বচ্ছ আকাশ!

ঝাপসা নীলের আবীরে যখন মন উদাস!

যখন উত্তপ্ত প্রকৃতিতে দাবদাহ চারিধার!

পূর্ণিমার আলোতেও যখন শুধুই আঁধার!

বড় বেশী অভিমানে ছেয়ে যায় অন্তর!

অস্থিরতার রোষানলে দেখি নিমগ্ন চরাচর!

মানুষের মাঝে আমি মানুষ পাই না খুঁজে!

স্বর্ণালী সন্ধ্যাও তখন লুকায় মেঘলা সাজে!

অচেনা লাগে এই জগৎ সংসারের মোহ!

আকুল তিয়াসে প্রাণ চায় ছেড়ে যেতে দেহ!

অশান্ত অধীর এই হৃদয়ের ঘর!

ঘোর লাগা তীব্র অন্ধকারে, কিংবা 

প্রচন্ড আলোকচ্ছটার রংচটা বেঘোরে –

     আমি তোমাকেই ডাকি নিরন্তর! 

       তোমাকেই খুঁজে পেতে অন্তর মাঝে –

         আকুলিভূত প্রাণের বেদন আমার, 

              অশান্ত অধীর এই হৃদয়ের ঘর!

দুরাশার সমস্ত ব্যাকুলতা ভুলে গিয়ে,

     আকাশ পাতাল মর্ত্য ছাড়িয়ে,

       মাধ্যাকর্ষণের ভীষণ টান উপেক্ষা করে,

         ছুটে যাই আমি তোমারই জন্যে শুধু  –

              মহাকাল মহাকাশের কৃষ্ণ গহ্বর!

শুধু তোমাকেই খুঁজে পাবার বাসনায় –

     অন্তরের তৃষ্ণা ভেঙে পড়ে কান্নায়,

       হৃদ স্পন্দন লুটিয়ে ধূলায় তড়পায়,

         আর মন মন্দিরের স্বপ্ন আঁখি –

             ছলছল লোনা জলে উথলায়!

তোমারেই পাবার অন্তবিহীন আশায়,

     মন টেকে না এই পার্থিবতার মায়ায়, 

       কোনকিছুতেই প্রাণ, প্রাণ নাহি পায়,

         অদম্য যন্ত্রণার কাতরানি সয়ে প্রাণ –

              সময়ের ধ্বনিতে আপনারে ভুলায়!

দেখি, নির্জলা জ্যোৎস্না!

শান্ত নদীটির তীর ধরে আমি হেঁটে চলি একেলা!

সম্মোহনী নেশায় তাকিয়ে দেখি নদীর খেলা!

অতি নীরবে তিরতির করে বয়ে চলে তার ধারা!

গভীর জলের গহীন কুঠুরীতে রহস্যের ইশারা!

শান্ত নদীটি, তবুও এতো জল তার উথাল-পাথাল, 

বুকের ভেতরে আকুলিবিকুলি, নিরন্তর আকাল!

চেতনার রঙ  বিকশিত হোক, কিংবা  পাক স্থিতি,

খেলাঘরের মোহে আমার নিয়ন্ত্রক, শুধুই নিয়তি!

নদীর ঢেউয়ের পরতে পরতে আমি ডুবি আর ভাসি,

নিয়তির ইশারায় তবুও আমি বাঁচতে ভালোবাসি!

আমার নিয়তি আমার জন্য পরিপূর্ণতার আধার,

অরিত্রীর তরে রেখে যাই শুধু শুভকামনা বেশুমার!

কল্পনার রঙে সাজিয়ে তুলি আমি একরাশ ভাবনা,

পুঞ্জীভূত মেঘ মাড়িয়ে দেখি, নির্জলা জ্যোৎস্না! 

অন্তরের তৃষ্ণা যতোই পুড়াক আমি একান্তে নির্ভীক, 

ছুটে আসা উল্কাপিণ্ড দেখে হারাই না আমি দিক!

প্রাণের পিঞ্জরে আশার আলোতে নিয়তির উচ্ছ্বাসে,

শান্ত নদীটির তীর ধরে পৌঁছে যাবোই পথের শেষে!

হৃৎপিণ্ডের দ্যোতনা!

কেউ একজন প্রতিদিন

দিনের পর দিন

জোরপূর্বক

মাথার খুলিকে করে উন্মুখ

মাথার ভেতর থেকে 

চিকন টিউব দিয়ে 

পরীক্ষার জন্য রক্ত নেবার মতো

বের করে নিচ্ছে 

আমার সমস্ত রক্ত অবিরত!

শুধু আমার রক্ত নিয়েই নয় সে ক্ষান্ত!

আমারই চোখের সামনে

আমার অতি প্রিয়

ফুটফুটে, কিন্তু অচেনা এক বাচ্চারও!

তারই মাঝে, 

ছদ্মবেশী শত্রুর আগমন! 

চিনতে পেরে

তাকে শায়েস্তা করেছি যদিও!

কি সাংঘাতিক কথা, না!

এখনও অস্থির ভীষণ –

আমার হৃৎপিণ্ডের দ্যোতনা! 

অথচ আমরা দু’জনেই স্বপ্নের ভেতরে,

প্রতিদিন বেঁচে আছি,

স্বপ্নের সেই ভয়কে বুকে পুষে!

আজ ভোর রাতের আঁধারে, 

হঠাৎ করেই চমকে ভেঙে গেলো ঘুম!

ঘুম ভাঙার পরেও, 

ভীত সন্ত্রস্ত আমার প্রাণের ধ্বনি, 

নিজের কানেই বেজে চললো –

ধুকধুক ধুকধুক ধুকধুক, ধুম ধুম!

জীবনের এই দুর্বোধ্য প্রাসাদখানা!

জীবন সমুদ্রের মোহনায় দাঁড়িয়ে,

ফিরে তাকাই স্মৃতির নগরীতে;

পাওয়া না-পাওয়ার অলিগলিতে –

     প্রাণ হাতড়ে বেড়ায় নির্জন প্রাতে! 

   অন্তর মাঝে তোলপাড় করে প্রাণ!

পাই না খুঁজে স্বাভাবিকতার কলতান!

টিকে আছি যেন এই পৃথিবীর বুকে, 

     সম্বল কেবলই মাধ্যাকর্ষণের টান!

তোমাকে খুঁজেছি প্রাণের মেলায়!

মানুষই তো মানুষের নিবিড় স্পর্শ চায়!

জড়িয়েছি বারবার নীলের মায়ায়!

     ছটফটিয়ে কেঁদেছি পৃথিবীর ছায়ায়!

   অবারিত সবুজের বুকে ভালোবাসা!

প্রাণের আর্তিতে ছিলো না দুরাশা!

লুটিয়ে সর্বস্ব তবু্ও পুড়িয়েছি আশা!

     তোমার মাঝেই রেখেছি স্বপ্ন ভরসা!

উথাল-পাথাল জলের তরঙ্গে বোনা, 

জীবনের এই দুর্বোধ্য প্রাসাদখানা!

তারই মাঝে অনন্তর সুখ উন্মাদনা! 

     তবুও সুখপাখির সুখনীড় অচেনা!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali poems of famous Poets, click the link ➡️ https://kobita.banglakosh.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *