ছন্নছাড়া এক অতৃপ্ত অভিমান!
“ছন্নছাড়া এক অতৃপ্ত অভিমান!” ➡️
জীবন নদীতে তীরের স্পর্শ পায় ক’জনা?
স্পর্শের মায়াজালে হয় কতোটুকু জানা?
কতোটুকু জলের নিরবিচ্ছিন্ন গতিতে,
অন্তর মোহাচ্ছন্ন রয় জীবনের নদীতে!
তোমার কাছেই ভিড়িয়ে ছিলাম স্বপ্ন তরী!
ভাঙা তোমার তীরে –
স্বপ্নগুলো আমার দিলাম উজাড়ি!
ভীষণ অভিমানেও আমার ভাসমান জীবন!
ভাঙাগড়ার খেলায় –
তোমার অবিন্যস্ত ভুবন!
নদী, সে তো নিরবধি বহমান এক ধারা!
তীর, সেখানে যে শুধুই ভাঙনের তাড়া!
আপনার তালে আপনি বয়ে চলে নদী!
ভাঙনের খেলাতেও থামে না জীবন অবধি!
তুমি, এক তুমিই পার্থিবতার বিমুগ্ধ বাসনা!
আমি, আমাতেই নিমগ্ন নিয়ে –
আমার উন্মত্ত উন্মাদনা!
তোমাতে বিরাজে জীবনের আকুল আহ্বান!
আর আমি, কালের গর্ভে বিলুপ্ত –
ছন্নছাড়া এক অতৃপ্ত অভিমান!

স্বপন পিয়াসী, ছন্নছাড়া এক অতৃপ্ত অভিমান!
এলোমেলো স্বপনের প্যাঁচানো জালে –
নুয়ে পড়েছে মাধবীলতা!
স্বপ্নগুলো তবু্ও ভীষণ আবেগে ঊর্ধ্বমুখী!
প্রকৃতির অত্যাচারে –
অগোছালো দুর্বল লতাগুল্ম!
বারবার তবুও তাড়িয়ে জাগে স্বপ্ন আঁখি!
তুমি তো জানো না, স্বপন পিয়াসী –
এই হৃদয় মন্দিরের যন্ত্রণা!
ভেঙে চুরমার, তবুও অটল বিশ্বাসে সুদৃঢ়!
অশান্ত ধরিত্রীর ধ্বংস নিয়েও বুকে,
কী ভীষণ রকমের শান্ত সুস্থির;
আর, স্বপ্নগুলোও উচ্ছলতায় দীপ্ত প্রগাঢ়!
স্বপ্নবাজ জীবনের দুরন্তপনা পেরিয়ে,
ঠিক পৌছে যাবো অনন্তের পাড়ে!
খুঁজে তো আর পাবে না জীবনের উল্লাসে!
অশ্রুজলে ভেসে সেধেছি শতবার,
তাকাওনি তুমি একটিবারও ফিরে!
বুঝেছি জীবন পোড়ায়, এমনই উপহাসে!
তোমাতেই জড়িয়ে আছে আমার –
অবারিত সময়ের স্বপ্নীল সুখস্বপ্ন!
আমার মাঝে আমার ক্লান্তি আমার উচ্ছ্বাস!
তবুও আমি সদাই ব্যাকুল চিত্তে,
নির্ভাবনার ঘোরে থাকি নিমগ্ন!
তোমাকে নিয়ে তবু্ও রচি পথচলার ইতিহাস!
রুদ্র রূপের অকস্মাৎ ভয়ংকর প্রকাশ!
বয়ে গেলো ঝড়ো বাতাস আমার পৃথিবীতে!
দমকা হাওয়ার তোড়ে,
ক্ষণিকের নীরব আবেগে!
ছুঁয়ে গেলো, আবার চলেও গেলো!
ভাঙনের দুর্দান্ত ইশারায়, অথচ ভাঙন না হলো!
প্রকৃতির রুদ্র রূপের অকস্মাৎ ভয়ংকর প্রকাশ!
শুধু বয়ে চলে গেলো ঝলকেই,
বিনা কোন উড়ন্ত ত্রাস!
হয়ে যেতো সব লণ্ডভণ্ড চুরমার নিমেষে!
অথচ যেন দয়া করে গেলো, না আঘাতে না বিষে!
প্রশান্তির স্পর্শ বুকে ঝরছে ঝিরিঝিরি বারিধারা!
অথচ বর্ষার ছিটেফোঁটা নেই,
প্রাণ পাখি কেবলই অধরা!
বৃষ্টি স্নাত বিকেলের সুঘ্রাণ চারিধারে!
তবুও বৃষ্টি ভেজা আকাশ হাসে দিগন্তের ঐ পাড়ে!
কখনো নির্মম, কখনো বা উদারতার স্বচ্ছ প্রতীক!
প্রকৃতির এই যাচ্ছেতাই রূপে,
সবই চলছে নির্ভুল, সঠিক!
দু’চোখের গভীরে রূপসাগরের ঢেউ খেলে!
জীবন তড়পায় তবু উন্মাতাল প্রকৃতির খেয়ালে!
পেরে উঠি না, মাঝে মাঝেই!
পেরে উঠি না, হ্যাঁ মাঝে মাঝেই –
আর পেরে উঠি না!
খুব বেশী বেড়ে যায় প্রাণের স্পন্দন!
যা কিছু আছে চোখের সামনে,
কিংবা যা কিছু আছে আড়ালে –
টুকরো টুকরো খান খান, আর
ভেঙে চুরমার করে দিতে উদ্যত হয় মন!
অস্তিত্বের বর্ণ কেবল সময়েরই প্রয়োজন!
সময়, হ্যাঁ সময়েরই সব আয়োজন!
সেখানে আমি যে অতি নির্লিপ্ত এক মায়া!
অঝোরে বিসর্জন দিয়ে যাই, হয়ে ছায়া!
আমার অস্থিরতায় সময়ের ঘড়ি চলে!
সময়েরই তালে আমার স্পন্দন –
বয়ে চলে নিরন্তর, সময়ের সাথে খেলে!
অথচ আমি, অস্থির অধীর তড়পাই!
আপনার সাদা-কালো রঙে –
আপনারে ভুলাতে, আপনারেই সাজাই!
তবুও, পেরে উঠি না, মাঝে মাঝেই!
মাঝে মাঝেই দেখি – আমি আমাতেই নেই!
আর তখন, বড় বেশী বেহিসেবী আচরণ!
প্রাণ পিঞ্জরে চলে তুমুল আলোড়ন!
তবু্ও তুমিই হানা দাও এসে এই মনে!
আমার থাকা না-থাকার খেয়ালীপনার,
যতটুকু জুড়ে তুমি থাকো –
আমার চেতনার নির্যাসটুকু হৃদে ভরে,
ততটুকুই তুলে তুমি রাখো!
আদিত্য, তুমি কিন্তু কোথাও নেই আর!
ভুলে গিয়েছি আমি সমস্ত লেনাদেনা!
যতটুকু মিশে ছিলে তুমি একান্তে –
আজ বুঝি বা তা হয়েছে অচেনা!
হৃদয়ের অতলে আজ মরুর ক্যাকটাস!
দোলনচাঁপার সুঘ্রাণ সুদূর পরাহত!
প্রতীক্ষার প্রহর গোনা সবুজ প্রান্তরে –
জমেছে আজ শ্যাওলা, আগাছার ক্ষত!
ঘোরের মাঝে এখনো আছি আমি যদিও,
লুটিয়ে শূণ্যতার অবগাহনে!
নির্জনতার আবেশে খুঁজি না তো তোমায়,
তবু্ও তুমিই হানা দাও এসে এই মনে!
ক’বে হবো আমি নির্ভার?
ভেতরটায় এতো বেশী ধুকপুকানি যখন তখন!
পারি না নিতে আর এই জীবনের আয়োজন!
আমারই জন্যে কি শুধু এই অবিন্যস্ত সংসার?
কতো আর বয়ে যাবো, ক’বে হবো আমি নির্ভার?
খেলাঘরে এসেছি তোমারই রঙের ছোঁয়া পেতে,
তবুও যে তড়পাই ভীষণ রাত্রি দিন আর প্রভাতে!
ছেড়ে যাবার দুর্দান্ত আবেগে আছি ছেয়ে নিরন্তর!
দয়া তো করো, আর তো পারি না যুঝিতে এ ঝড়!
তোমারই নাম জপি নিতি, সঁপেছি তোমাতেই সব!
জগৎ সংসারে আর যে পাই না, প্রাণের বৈভব!
অশ্রুজলে সাধি তোমারে, কৃপা করে নাও তুলে!
ক্ষমা করো আমায়, সোনার তরীটি ভিড়াও কূলে!
You may read beautiful Bengali poems by renowned Poets, click the link ➡️ https://kobita.banglakosh.com/
