ফেরার পথে ➡️
হঠাৎ করেই ভেতরটা ধ্বক করে উঠলো!
মস্তিষ্কের নিউরনে যদি কিছু –
উলোটপালোট হয়,
শরীরের কোষে কোষে যদি –
এলোমেলো আলোড়নের বিচ্ছুরণ ঘটে,
যদি সময়ের শিখা ধুপ করে –
শিউরে উঠবার আগেই,
নিভে যাবার জন্যে তড়পায়,
ছন্নছাড়া এই জীবনকে কে আগলে রাখবে?

সংসারের মায়া ছেড়ে,
প্রাণের টানে,
কেউ কি এই আমায় প্রাণের স্পর্শ দিবে?
আবারও বুকের ভেতরটায় অস্থির প্রাণপাখি,
ছটফটিয়ে নিদারুণ ত্রাসে,
ডেকে উঠলো নাম ধরে যেন তারই-
সমস্ত শৃঙ্খল ভেঙে যার আশ্রয়ে নির্দ্বিধায়,
একদিন বিলীন হবে সকল লেনাদেনা;
কিছু বুঝে উঠবার আগেই প্রাণ,
গুনগুনিয়ে গাইবে পরম মুক্তির গান,
ছন্নছাড়া জীবনের করে চির অবসান,
আলোতে মিলিয়ে যাবে আঁধারের কলতান!
আর আমি, মায়াকাননের মায়া যাবো ছেড়ে,
চির নিদ্রায় হবে এই অস্তিত্বের অন্তর্ধান।
স্পর্শের মায়াজাল কেবলই মরিচীকা,
মায়ায় জড়িয়ে থাকার নির্নিমেষ আয়োজনে!
জীবনের খেলাঘরে তারই আঁকা পটে,
তোমার-আমার প্রাপ্তি শুধুই বিসর্জনে।
ফেরার পথে ➡️ “খেলাঘরের মায়া”
মাথার ভেতর কি যে চলছে, সেই জানে!
আর জানেন, নিরাকার পরমাত্মা!
সকল শক্তির আধার তিনিই,
তিনিই যে একমাত্র জগদ্বিধাতা!
হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানিতে রাত্রিদিন,
কিসের চলছে আয়োজন –
সত্যিই কি সে জানে, নাকি
তা-ও কেবলই সেই সৃষ্টির কারণ!
শরীরের বিলীয়মান কোষে কোষে,
মুহুর্তের প্রান্তে কিসের প্রতিধ্বনি –
বুঝতে বুঝি বা অপারগ তার প্রাণ,
খেলাঘরের মায়া আর কতো যাবে টানি!
“চির মুক্তির পথে”
স্বপ্নের সমুদ্র তীরে ভিড়িয়ে দিয়ে তরী –
আশার আলোতে চলো জাগি বিভাবরী!
অন্তর ব্যাপিয়া যতো তৃষ্ণার জ্বালা –
অকপটে পুড়িয়ে, খুলি মনের জানালা!
সময়ের সাথে ভাব তরঙ্গে চলো মাতি,
অনিমেষ মুগ্ধতায় দিয়ে প্রাণের আরতি!

সুর আর ছন্দে পার্থিবতার শৃঙ্খল ভেঙে,
প্রাণের বিকাশ ঘটুক রঙের বিচ্ছুরণে!
প্রতীক্ষার আলোড়নের কম্পন গিয়ে ভুলে,
আলিঙ্গনের পরশ লাগুক হৃদয়ের কুলে!
খেলাঘরের দীনতা যতো পড়ুক ঝরে,
তোমার-আমার প্রেমেরই প্রলেপ পড়ে!
তোমাতে-আমাতে রেখে প্রাণেরই স্পর্শ –
চির মুক্তির পথে চলো আজি, লুটাই সর্বস্ব!
You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets by clicking here ➡️ https://www.bangla-kobita.com/

