“হারিয়ে যাবার পালা!” ➡️
স্নিগ্ধতার আবরণে তুলতুলে নরম সকাল!
হৃদয় পুড়িয়ে তোমারই জন্যে বুনি –
অপেক্ষার জাল!
নীল আকাশের মায়ায় সাদা মেঘের ভেলা!
তোমাকে সাথে নিয়ে এবার,
হারিয়ে যাবার পালা!
পুলকিত রৌদ্রের মাঝে রূপালী আলোকচ্ছটা!
স্বপনের সমুদ্রে আমার –
শুধু তোমাতেই জীবন গাথা!
ব্যস্ত শহরের রাজপথ জুড়ে যান্ত্রিক আওয়াজ!!
মনের উঠোনে শুনি,
তোমারই অভিবাদনে কুচকাওয়াজ!
পাখির কলকাকলীতে চারপাশ মুগ্ধতায় আবিষ্ট!
তোমার আলিঙ্গনের উষ্ণতায় –
নির্মল প্রাণের স্পর্শ!
সমস্ত অস্তিত্বের আভরণে তুমি মিশে আছো তো?
হারিয়ে যাবার পালা! বিলিয়ে দেবার করি শপথ!

চলো যাই, চলো যাই সময়ের হাত ধরে,
চলো আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাই –
পৃথিবীর ‘পরে!
সময়ের হাত ধরে চলো,
পাড়ি দিই সময়ের পথ!
চলো প্রাণের আবেগ,
বিলিয়ে দেবার করি শপথ!
কি হবে পুষে রেখে আবেগের খেয়াল!
নি:সীম পারাবারে চলো –
ভাঙি আবেগের দেয়াল!
ফুরিয়ে যাবার আগে অনন্তের স্বপ্ন মায়া,
ছড়িয়ে দিই চলো,
আপনার রঙের ছোঁয়া!
চলো প্রাণের স্পর্শ দিয়ে প্রাণ রাঙিয়ে তুলি,
প্রাণে প্রাণে ভালোবাসার রঙিন পাপড়িগুলি!
চলো যাই চেনা নগরীর –
অজানা মানুষের ভীড়ে,
প্রাণে প্রাণে জড়িয়ে,
চলো দিই ভালোবাসা ভরে!
চলো বিমূর্ত চেতনার সমারোহে –
আপনারে লুটাই!
সত্যের পথে চলো প্রাণে প্রাণে স্বর্গ সাজাই!
অজানার হাতছানি!
আর কত অবাক করবে আমায়?
আর কত পুড়াবে বলো বিস্ময়ের চিতায়?
জীবনের এখন শুধুই ফিরে যাবার তাড়া,
ব্যাকুল হৃদয় তবু্ও উদ্বেগাকুল দিশেহারা!
আর করো না এই আমাকে অবাক!
সোনার তরীটি এবার তীর খুঁজে পাক!
তীরের মায়ায় জড়িয়ে রেখে দিও!
আর যে আমি অবাক হতে চাই না মোটেও!
আমি জানি, শূণ্য স্থান পূর্ণ হবেই!
কিন্তু শুরু থেকে শুরু করার সময় যে নেই!
তবুও কেন জানি অজানার হাতছানি!
হৃদয় পুড়িয়ে হৃদয় গহীনে জমে লোনা পানি!
চিরযুবা হৃদয় মাঝে দোলনচাঁপার ঘ্রাণ,
তুমি বিনে আর কিছুতেই ভরে না এই প্রাণ!
সারা রাত, সারাবেলা আমি রই পথ চেয়ে!
আসবে কি তুমি আর স্বপ্নের তরী বেয়ে?
ধুপ করেই যাবো চলে!
চলে যাবো ধুপ করে অনেক দূরে!
কোথায় যাবো?
অনন্ত অসীমের পাড়ে!
খুঁজে কেউ তখন পাবে না আমারে!
চলে যেতেই হয়, সবাইকেই!
সবাইই চলে যায়, জানি না কোথায়!
মাথা কুটে তবু্ও জীবনের উদাসীনতায়,
ব্যাকুল আবেগে তবু্ও প্রাণ কেঁদে যায়!
সূর্য, চাঁদ আর ধ্রুবতারার আকর্ষণে,
প্রাণ তবুও তড়পায় সময়ের টানে!
আমিও চলে যাবো, অকস্মাৎ!
জীবনের গানে আর আসবে না প্রভাত!
ধুকপুকানি কখনো বা অতি দ্রুততায়,
আমিহীন পৃথিবীর বার্তা দিয়ে যায়!
অমোঘ বিধানের এই তো বারতা!
আমি নেই কোথাও, চারিধারে শূণ্যতা!
হ্যাঁ, ধুপ করেই যাবো চলে!
নীরবে, অতি নীরবেই –
দিগন্ত ছোঁয়া নীল আকাশ, আর
অবারিত সবুজের স্নিগ্ধ মায়া ফেলে!
প্রাণপাখির মুহুর্তের তড়পানি!
খাঁচায় বন্দি পাখিগুলোর তনুমন –
উচ্ছ্বাসে দুরন্ত সাবলীল,
আপনাতেই মগন অনুক্ষণ!
ঠিক তেমনই নিশ্চয়ই এই প্রাণপাখির গুঞ্জন!
ওদের ভাষা বুঝতে পারি না আমি!
শুধু আপনাতেই অনুভবে পাই –
প্রাণপাখির মুহুর্তের তড়পানি!
সকাল থেকে সন্ধ্যা, রাত্রি থেকে ভোর,
পাখিগুলোর কিচিরমিচির মেলা –
বিনা কোন বিরতি চলছে নিরন্তর!
আমার প্রাণের পিঞ্জরেও তেমনই নিশ্চয়ই,
অবিরাম বৃষ্টির রিমঝিম বর্ষনে –
প্রাণপাখির স্পন্দন,
টিকটিক করছে নিয়তই!
জগদ্বিধাতার অপরূপ সৃষ্টি আমরা সবাইই!
পার্থক্য শুধুমাত্র একটাই –
আমার জন্ম মানুষের রূপে, আর
মানুষের হাতে পাখিদের লাটাই!
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের খেতাবে ভূষিত মানুষের মেধা!
আমার আমি’তে সাজিয়ে ডালা,
পান করি ভালোবাসার পেয়ালায়,
সৃষ্টি মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে যাই অবারিত প্রেমসুধা!
সৃষ্টির ব্যাপকতায়…
পাখি ডাকছে, আপন ভাষায় কথা কইছে!
বুঝিবার সাধ্য আমার নাই!
সুবিশাল প্রাণীকুল আপনার রঙে –
অরিত্রীর সুধা পানে মাতিয়ে রেখেছে সবটাই!
কী ভীষণ রকমের বৈচিত্র্যের সমাহার,
আমি কেবলই বিস্ময়াভিভূত প্রাণে হাতড়াই!
সৃষ্টির ব্যাপকতায় চোখ মেলে দেখি,
অন্তরের মাঝে কূল কিনারা খুঁজে নাহি পাই!
করুণার বারিধারা এলো ঐ ভোরের শীতলতায়!
রিমঝিম বর্ষনে এলোমেলো বাতাসের দাপট!
অঝোর ধারায় এসে নিমেষেই একাকার,
আমি শুধু চেয়ে দেখি মেলে অবাক দু’চোখ!
গ্রীষ্মের দাবদাহ মুহুর্তেই বর্ষার মেঘে সিক্ত;
প্রাণের অগোচরে শান্তির প্রচুরতা!
ভিজে বাতাসে ধ্বনিত বজ্রের হুংকারে তবুও,
প্রাণে প্রাণে বেজে উঠে ভাঙনের বারতা!
তুমি আছো, তোমারই পরিকল্পনার সংযোগে!
আমি কেবলই শূণ্য, মহাকালের ঘূর্ণিপাকে!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link ➡️ https://www.bangla-kobita.com/
