“খরস্রোতা কম্পনে আমি তড়পাই!”

“খরস্রোতা কম্পনে আমি তড়পাই!”

অশান্ত পৃথিবীর অস্থিরতার অনলে,

খরস্রোতা কম্পনে আমি তড়পাই!

আমার মাঝে আমি খুঁজে ফিরি প্রাণ,

অথচ প্রাণের মাঝে প্রাণ আর নাই!

জীবনের খেলাঘরে দুর্বোধ্য অনলে –

পুড়ে খাক প্রাণ তবুও চলে তার ধারা;

সময়ের চেতনায় মন-প্রাণ সকলই,

আকণ্ঠ তৃষ্ণায় নির্নিমেষ পাগলপারা!

প্রাণের অগোচরে কেঁদে ফিরে প্রাণ –

একটুখানি আলোর খোঁজে অসহায়;

বিকট কালো মেঘের ঘনঘটা ছাপিয়ে,

আলোর দিশা হয়ে, বিজলী চমকায়!

শুধুই খুঁজে ফেরা, শুধুই পথ চলা –

পথের মায়ায় জড়িয়ে রেখে চেতনা;

কিছুই বুঝি না, আবার সকলই বুঝি,

নিষ্প্রাণ মস্তিষ্ক জুড়ে তোমারই আরাধনা!

“মেঘাচ্ছন্নতা”

ইচ্ছের বুন্দিয়াগুলোকে সত্যি যদি পারতাম,

নিমেষেই পিষে গুড়িয়ে দিতে!

কী ভীষণ অভিমানের বুদবুদ উপচে পড়ে,

হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের আরশিতে!

আমি শুধু দমকা হাওয়ার তোড়ে ভেসে চলি –

জীবন নামের এই মহাস্রোতে;

আমার নড়বড়ে অস্তিত্ব নিয়ে পারে না তবুও,

ঝড়ের তান্ডব তার পশরা সাজাতে!

অপলক আমার চোখের পাতায় –

ক্লান্তির অবিশ্রান্ত ছোঁয়া দুরাশার আধিতে!

সময়ের তালে উন্মত্তা সুরের নিরলস ঝংকারে,

অশ্রুসিক্ততা অস্থির অধীর এই চিত্তে!

চুরমার করে দিতে উদ্যত এই প্রাণের খেয়ায় –

ঢেউয়ের দোলা ভাঙ্গনের খেলাতে!

সময় যেন মেঘমালার বুক চিঁড়ে বিক্ষিপ্ত বর্ষনে,

প্রাণের উন্মাদনায় ঝরে পৃথ্বী কাঁপাতে!

খরস্রোতা কম্পনে আমি তড়পাই!
তোমারই কৃপায় অনবদ্য রঙের ছোঁয়া!

“সময় ঘড়ি – খরস্রোতা কম্পনে আমি তড়পাই!”

সেই দিনগুলো চলে গিয়েছে দূরে, বহু দূরে –

দূর অজানার কোনো এক নিঃসীম পাড়ে!

নাহ, ফিরে আর আসবে না সেই সকল দিন,

মায়ায় জড়ানো সেই প্রাণ, ভাবনাবিহীন!

সবুজের আলিঙ্গনে মেতে আলোর দিশারী,

করবে না আর কোনদিন অসম্ভবের ফেরি!

চলে গিয়েছে সেই নানান রঙের দিনগুলো,

জীবনের খেলাঘর আজ বড় বেশী এলোমেলো!

হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি যদিও সেই দিনের ঘোরে –

উথলিয়ে জলে ডুবে আর ভাসে একাকী প্রহরে;

আসবে না, আসবে না তবুও সেই দিনের মেলা,

জীবনের পাত্র আজ পূর্ণ, নিয়ে মস্তিষ্কের হেলা!

আজ কেবলই শাশ্বত সময়ের ঘড়ির দ্যোতনা,

ভাবনার অতলে টিকটিক ধ্বনি, জীবন অচেনা!

বুকের ভেতরে অবিরাম স্পন্দনে অজানা ভয়;

তবুও নিশ্চুপ নীরব, আড়াল করতে পরাজয়!

জানে না এই প্রাণ পাখি কতদূর পথ আর বাকী,

কিসের নেশায় আজ সেই দিনের সমস্তটাই ফাঁকি!

আজ শুধু চেয়ে থাকা অন্তবিহীন যাত্রা পথের,

কখন জানি নিভে যায় দীপ, প্রাণহীন চোখের!

সেই দিন আর এই দিন – কিছুই র’বে না তারপর,

ঠিকানা হবে সকলেরই, সময়ের একান্ত গহ্বর!

“অস্থির চিত্ত মাঝে তোমাকেই পাই!”

জীবনের খেলাঘরে আমি বড় একা –

দুর্বোধ্যতার অনলে জীবন পুড়ে ছাই!

সময়ের ভাবনায় হারিয়ে কখনো বা,

অস্থির চিত্ত মাঝে তোমাকেই পাই!

অজানা খেয়ালে মিশে আছি জীবনে,

পালিয়ে বেড়াই তবু এই জীবন থেকে;

যতোই পালাই, জাপটে ধরে ততোই,

জীবন কেবলই জীবনের রঙ যায় এঁকে!

ভেঙে পড়ি সহসাই অবিশ্রান্ত ক্লান্তিতে,

চোখ বুজে খুঁজে ফিরি এতোটুকু স্বস্তি;

জীবন ফুরিয়ে যায় দুরাশার অন্ধকারে,

বুক ফেটে কান্নার ঝড় তুলে, ঝরে বৃষ্টি!

অজানা ক্ষণে অচেনা মায়ার বেড়াজালে,

তোমারই কৃপায় অনবদ্য রঙের ছোঁয়া;

জীবন আমাকে ডাকে ভীষণ কোলাহলে,

একাকীত্ব ভুলে আমি সাজাই স্বপ্ন মায়া!

“করুণা যাচি”

কষ্ট গুলো কেমন যেন, কে জানে –

চোখ দিয়ে ঝরছে পানি আপনমনে!

বিড়বিড় করে একেলা ক্ষণে,

ডাকছি শুধুই তোমায় প্রভু, রাত্রি দিনে!

তুমিই সরিয়ে নাও দুরাশার অন্ধকার,

ভরিয়ে রাখো দিয়ে শক্তি বেশুমার!

প্রাণকে করে রাখো অফুরন্ত রূপের আধার,

উত্তাল জীবন নদী করবে বলে পাড়।

জীবনের দুর্ভাবনায় আমি অত্যন্ত ক্লান্ত –

ভরসা তোমাতেই সদা, তবুও অশান্ত!

সে যে তোমারই ভালোবাসার রূপের অন্ত,

বিশ্বাসে আমার সে কথা, নিরন্তর দুর্দান্ত!

হাপিয়ে উঠে ঘুমন্ত মস্তিষ্কের নিউরনে,

তড়পাই জীবন খেলায় জড়িয়ে অকারণে!

কৃপাধন্য আমি বুঝতে পারি মনে প্রাণে –

আমি কিছু নই, তোমারই করুণা বিনে!

“পাগলের প্রলাপ!”

জানো, এতো কিছু নিয়ে আর পারি না!

ভেতরটা সারাক্ষণ হাঁসফাঁস করে!

ভীষণ অস্থিরতায় জমে উঠে কান্নার ঝড়!

হাতড়ে বেড়াই এদিক ওদিক চারিদিকে –

এক টুকরো স্বস্তির আশা নিয়ে বুকে!

জীবন এক উদ্ভট জটিলতায় জর্জরিত –

সেই কতো সপ্তাহ, মাস আর বছর ধরে!

কতোগুলো দিন আর রাত্রির অন্ধকারে,

ছটফটিয়ে প্রাণ, হয়েছি উদ্ভ্রান্ত!

আজও তড়পাই দুরাশার আধির ছায়াতে!

সত্যিই, আমি পারি না আর যে!

খুব কান্না পায়, গলার ভেতরটা জমে যায়!

আর সবার জীবন কতটা স্বস্তিময়, জানি না!

তারা কেমন করে পারে, আমি তাও বুঝি না!

কিন্তু বিশ্বাস করো, পারি না আর, পারি না!

জীবন নামের এই খেলাঘর –

বুঝি বা আমার জন্যে ছিলো না কখনোই!

আর তাই তো, সেই জন্ম লগ্ন থেকেই আমি –

আজ এই গোধুলীর রক্তিম মায়াতে মিশেও,

কী ভীষণ রকমের অসহায় আর একেলা!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali poems by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *