“অশান্ত অধীর নির্ঝরিণী”

“অশান্ত অধীর নির্ঝরিণী”

অশান্ত অধীর এই মনের গভীরে,

তোমারই রূপের সুর নিতি বাজে!

রিক্ত শূণ্য এই হৃদয়ের ঘরখানি,

তোমারই রঙের ছোঁয়ায় সাজে!

হৃদয়ের অলিগলি সর্বত্র জুড়ে,

তোমারই রঙের অফুরন্ত ছটা!

অস্থিরতার আগুনে পুড়ে পুড়েও,

তোমাতেই বিলীন আমার সমস্তটা!

আমি ভেসে চলি মেঘলা আকাশে,

ডানা ঝাপটিয়ে মাড়িয়ে মেঘমালা!

আমি দুর্নিবার আবেগে ক্লান্তি লুটিয়ে –

ভুলিয়ে রাখি অশান্ত মনেরই জ্বালা!

তোমাকেই খুঁজে শূণ্যতার মাঝে,

প্রাণ ফিরে ফিরে পায় প্রাণের দোলা!

মাটির স্পর্শে, নীল আকাশের নীলে,

জগৎ সংসার আমার শুধুই হেলাখেলা! (“অশান্ত অধীর নির্ঝরিণী”)

“প্রেমের স্বর্গ রচনা”

বেশ তো, সেই তো ভালো –

নীরবতার আঘাতে মিছেই যদি হানো,

আর তাতে যদি তোমার প্রাণে –

সুখের বাতাসের উন্মাদনা জানো;

তোমার যেমন খুশী তেমনি করেই,

অন্ধ নেশায় ডুবিয়ে আমায় মারো!

মরে মরেও আমি জেগে উঠবো আবার;

আঘাতের পর আঘাতের মাঝেও –

শঙ্খচিলের ক্লান্ত ডানায় ভাসবো নীলে,

জনমে জনমে আমি আসবো ফিরে,

বুক পেতে সয়ে নিবো নীরবে –

তোমার অস্ফুট ভাষা, নীরবতার!

আমি প্রেমের নেশায় মাতাল প্রাণে,

ভালোবাসার অনলে শুধু তোমাকেই,

শুধু তোমাকেই পুড়াবো বারবার!

তোমার সুখের উল্লাসে মেতে আমিও,

পুড়ে খাক জ্বলন্ত অঙ্গার হয়েও,

অফুরান আবেগে, হাসবো বেশুমার!

প্রেমের সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের দোলায়,

এভাবেই বুঝি বা প্রেম, কাঁদে নিরালায়!

তবুও প্রেমের নেই কোন সীমানা –

একের অনন্ত সুখের লাগি,

আর জনে ছেড়ে দেয় সমস্ত বাসনা;

একেই বুঝি বা বলে – প্রেমের স্বর্গ রচনা!

“নীলাকাশের ডাকে – অশান্ত অধীর নির্ঝরিণী”

খুব করে মন চাইছিলো, দেখবো নীলাকাশ!

ঘরের ছাদকে ছুটি দিয়ে বললাম –

“তুমি ঘরের আকাশ হয়ে থেকো, আমি চললাম”।

দরজা জানালাকে বলে গেলাম –

“খিল দিয়ে রেখে, তারপর প্রাণের আবেগে,

ইচ্ছেমতো সাজাও যা কিছু আছে, আপনার রঙে।

এক জোড়া বাজিগর ছিলো খাঁচার ভেতরে,

তাদেরকেও দিলাম ছেড়ে এই বলে যে –

“নির্ভাবলায় দোলায় দুলে ছুঁয়ে আসো আকাশ!”

আর ঐ যে, অবহেলায় ঘরের কোণে গীটার,

ধুলোবালি ঝেড়ে দিয়ে বললাম তাকে –

“ভরিয়ে রেখো ঘরখানা তুমি, সুরের মূর্ছনাতে”!

পেছন থেকে টিকটিক দ্যোতনায় ডাকলো পিছু –

দেওয়ালে ঝুলানো, সময়ের ধারক ঘড়িখানা!

আমি থমকে গিয়ে শুধালাম তাকে –

“ফিরাতে কেন তুমি চাইছো আমাকে”?

নির্বিকার তার চাহনী, উত্তর দেবার নেই ব্যাকুলতা!

শুধু চোখের ভাষায় দেখালো সময়ের অপ্রতুলতা।

আমি মানতে চাইলাম না সময়ের পেরেশানি,

আমার মাঝে তখনো নীলাকাশের তীব্র হাতছানি!

আমি তাই দৌড়ে বের হয়ে গেলাম,

নীলাকাশের রঙে নাইবো বলে ঘর ছেড়ে দিলাম!

কিন্তু একি! আকাশ জুড়ে এ কিসের অন্ধকার?

মেঘের গর্জনে বিদ্যুতের চমকে,

সারা আকাশ ছেয়ে কেবলই মেঘদূতের হাহাকার!

থমকে গিয়ে আমি আবারও দাঁড়ালাম!

পিছন ফিরে যাবো, নাকি হবো মুখোমুখি?

ভাবনার দুরন্তপনায় খানিক চারিদিকে তাকিয়ে দেখি!

মনের বন্ধন শক্ত করে নিলাম সমস্ত চেতনার ঐশ্বর্য,

মুখোমুখি হবার চেতনায় মন-প্রাণ সকলই উদ্দীপ্ত!

মনের আশাকে দিলাম – নির্ভয় নীলাকাশের ডাক;

মেঘ সরে যাবেই, ঝড়ের তান্ডবও হবে বিলীন,

দিগন্ত উন্মোচিত করে ফুটবে শূণ্যতা অমলিন;

অপ্রতুল সময়ের সমস্ত নৈরাশা অবজ্ঞা করে আমি,

চললাম, নীলাকাশের ডাকে রাঙাতে মনোভুমি!

অশান্ত অধীর নির্ঝরিণী
অপ্রতুল সময়ের সমস্ত নৈরাশা অবজ্ঞা করে আমি –

“নিশাচর ভাবনা”

ঘুম নেই দু’চোখের পাতায়, বিনা কারণেই!

এপাশ ওপাশ করে ভোরের প্রান্তে, নিমেষেই!

স্বপ্ন আঁখি তড়পায় অন্ধকারের তীব্রতায়!

ঘুমহীন প্রলাপে সময়ের তালে ভেসে যায়!

ভাবনার জানালায় দুলে ঘ্রাণহীন মাধবীলতা!

ক্লান্তিতে জড়িয়ে তৃষ্ণার্ত প্রাণে জাগে ব্যথ্য!

উদ্বেলিত ভালোবাসার অনলে পুড়ে অন্তর!

খাঁ খা বিরান মরুভূমিতে শুধু ধূসর বালুচর!

কিছুতেই তবু পাই না সাড়া প্রাণের আহ্বানে;

রাত্রির নিস্তব্ধতায় মোড়া তীক্ষ্ণ আঁধার তা জানে!

অনন্তকালের আবর্তে ঘুরপাক খেয়ে ফিরি;

আমি এক নিশাচর পাখি ডানা ঝাপটিয়ে মরি!

মনের গভীরে শুধু ডেকে যায় রাতজাগা প্যাঁচা,

অস্থির নীরবতার ভাষায়, খুন হয় সমস্ত ইচ্ছা!

সে কি আশীর্বাদ নাকি সময়ের দুরন্ত তান্ডব?

আমি শুধু দেখে যাই নিয়ে এ প্রাণেরই অনুভব!

“রক্তহীন ক্ষরণ”

কখনও বা সর্বস্ব লুটিয়ে দিয়েও উজাড় করে,

কষ্টগুলো বুক পেতে নিতে হয় অবারিত প্রাণে;

উপেক্ষার আগুনে পুড়িয়ে হৃদয়ের গহীন মন্দির –

আবারও লুটাই সর্বস্ব, হৃদয়েরই ভীষণ টানে!

শুনতে কি পাও তুমি সমুদ্রের জলরাশির কান্না?

তোমায় আমি খুঁজে বেড়াই প্রিয়, সন্ধ্যা সাঝে!

আকুলিভূত মনে শুধু তোমারই রঙের বীজ বুনা!

ডাকি তোমায় ব্যাকুল তৃষ্ণায় নিতি হৃদয় মাঝে!

সময়ের ডিঙি বেয়ে এসেছি পথের মায়া ছাড়িয়ে!

জীবনের খেলা অনেকটা পেরিয়ে, আজ ক্লান্ত!

প্রাণের স্পর্শহীনতা ক্ষণে ক্ষণেই তবু হানে আঘাত,

মায়ার পৃথিবীতে জড়িয়ে, প্রাণ হয়ে উঠে অশান্ত!

অনন্যসাধারণ এই জীবন তোমারই রঙে রাঙিয়ে,

তৃপ্তির লোনা জলে ভাসে অনন্ত নীলের আবীরে!

দেখতে কি পাও তুমি নীল আকাশের অন্তহীনতা?

তোমাকেই ভাবি দিন আর রাত্রি এই হৃদয় গভীরে!

“দুনিয়াদারির ভাবনায়”

তোমাদের বলতে শুনেছি বহুবার –

আনন্দ লুটে নাও থাকতে জীবন;

একবার চলে গেলে ওপারে,

ফিরে আর আসবে না এই মধুক্ষণ!

জীবনের এই উন্মত্ততায় ভেসেও,

আমি যে জেনেছি, এ জীবন কিছু নয়;

ক’দিনের মিছে অবকাশ যাপন মাত্র,

জীবনের সকলই হবে নিমেষেই লয়!

তবুও এই জীবন কেন জীবনের গল্পে,

উন্মাদনায় বিভোর রাত্রি দিনের মঞ্চে!

জীবন ফুরালেই তো আসবে সুদিন,

প্রাণভরে নিবো সুবাতাস প্রাণ তরঙ্গে!

চারদিনের জন্য আনন্দ লুটে নিয়ে কি,

হারাবো অমরত্বের আকুল আহ্বান?

জীবনের খেলাঘরে তবু্ও আছি মেতে,

সময়ের ডাক যেন শুধুই ধূলিঝড়ে ম্লান!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali poems by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *