ছন্দ সাজাই ভালোবাসার খামে!

“ছন্দ সাজাই ভালোবাসার খামে!”

অস্তরবির সন্ধ্যাতারায় তোমার মুখটি ভাসে!

ঊষারবির কিরণ মেখে –

            মায়ায় ভরা, সেই মুখটিই হাসে!

আমি দু’চোখ মেলে হৃদয়ের দ্বার খুলে, শুধাই –

তুমি আমার জন্যেই কি, 

            সুবিস্তীর্ণ এই ধরামাঝে আসো নাই?

রাতের আকাশে মিটিমিটি ঝিলিকেও তুমি,

রৌদ্রের দাবদাহে, 

            তোমারই প্রেমে পুড়ে খাক আমি!

আমি স্বপন ভুলে পার্থিবতার শৃঙ্খল যাই ভেঙে;

আপন পিয়াসী হৃদয় ব্যাকুল –

            কবিতার ছন্দ সাজাই ভালোবাসার খামে!

নীলের আবীর ছুঁয়ে আমি দু’চোখে কাজল আঁকি!

অতল সমুদ্রের জল, 

            দু’চোখের গভীরে লুকিয়ে রাখি!

তুমি আসবেই, মিটাতে আমার প্রাণেরই আকুলতা –

আমি সবুজ প্রান্তরের মায়াজালে,

            বুনে যাই আকুতি, আর মনের যত কথা!

কবিতার ছন্দ সাজাই ভালোবাসার খামে!
কবিতার ছন্দ সাজাই ভালোবাসার খামে!

প্রেমের নেশায় ছন্দ সাজাই ভালোবাসার খামে!

একটুখানি  স্পর্শই  তো  শুধু  কাম্য!

            তাতেও এতোটাই মনোক্ষুণ্ণ! 

সমস্তটা তো এই প্রাণ চায়নি কখনো! 

তবুও  আজ  আমি, এতোটাই নগন্য! 

         প্রেমের নেশায় ডুবে আছে প্রাণ!

প্রেমময় প্রাণ তাই সাজায় কবিতা গান!

প্রেম সুধা  ঢেলে দিয়ে করে  প্রেম স্নান!

তবুও প্রেম যেন শুধুই পাখির কলতান!

তোমারই জন্যে প্রস্ফুটিত দোলনচাঁপা! 

শুধু তোমার জন্যেই হৃদয়ে কান্না চাপা!

হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন তোমার নামে সঁপা!

      তোমার জন্যেই প্রাণের কাব্য ছাপা! 

কর্ণকুহরে পাহাড়ের নৈশব্দে আমি ধন্য! 

আমার হৃদয় অতল প্রেম সুধা রসে পূর্ণ!

          ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে হই চূর্ণ!

অস্তিত্ব জুড়ে তবু, তুমিতেই আমি নিমগ্ন!

আমারও বুকের পিঞ্জরে কষ্ট বাজে!

যখন বুঝতে পারি, আমি নই, 

কিন্তু কেউ অন্য একজন –

     আজ তোমার মাঝে বিরাজে!

যখন দেখতে পাই, আমি নই,

কেউ অন্য একজনকে নিয়ে তুমি –

     পৃথিবীর হাসি খেলায় আছো বেশ!

সত্যি বলছি, হ্যাঁ একটু কষ্ট হয় বৈকি!

নিজেকে খুব এলোমেলো লাগে!

নিজেকে তখন, 

কাঁচের টুকরোর মতো দুমড়ে মুচড়ে, 

     চুরমার করে দিতে ইচ্ছে হয়!

সত্যি বলছি, যখন দেখি, আমি নই,

তুমি অন্য একজনকে নিয়ে বেশ আছো,

আমাকে হয়তো বেমালুম ভুলেই আছো!

একটু নয়, সত্যি বলছি, 

     বুকের ভেতরটা পুরোপুরি শূণ্য লাগে!

পৃথিবীতে বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা মরে যায়!

নিজেকে খুব বেশী ক্ষুদ্র মনে হয়, 

মনে হয়, বুঝি বা তোমার –

     যোগ্য হতে কখনো পারিনি আমি!

সত্যি বলছি, ভীষণ অভিমানের দহনে,

বুকের ভেতরটা তখন –

বন্দি খাঁচায় পাখির মতোন,

     নিদারুণ আবেগে ছটফটিয়ে উঠে!

তখন বুঝতে পারি, আমিও সত্যিই মানুষ! 

বুঝতে পারি, জন্মগত কারণেই,

     শুধুমাত্র তোমার জন্যে, 

     আমারও বুকের পিঞ্জরে কষ্ট বাজে!

সৃষ্টি মাঝে এই তো জীবনের ধারা!

আজও প্রাণ পাখি প্রাণেরই তাগিদে,

কেবল তোমারই পথ চায়!

শূণ্যতার আহ্বান শুনবার তরে –

প্রাণ পাখির হিয়া মাঝে আজও, 

তোমারই চোখের ঝিলিক তড়পায়!

জগৎ সংসার ঠিকই চলে তার তালে;

আমিও আছি বেশ, 

কৃপানিধির অশেষ কৃপার ছায়া তলে! 

তবুও প্রাণ পাখি জন্মের শোধ নিতে,

বুকের গহীনে পাথরচাপা ভিতে,

অস্থিরতার রোষানলে –

আগ্নেয়গিরির অশান্ত লাভাসম উথলায়!

জীবনের খেয়া দুলে অথৈ জলের প্লাবনে! 

তুমি-আমি ভাসমান সমান তালে! 

তোমারে রঙের স্পর্শে আমি উঠি দুলে,

আমার অস্থিরতায় তোমারও প্রাণ জ্বলে, 

আমি পথ চেয়ে তড়পাই,

তোমার প্রাণের বীণা ঝংকারে তাই! 

সৃষ্টি মাঝে এই তো জীবনের ধারা!

এক প্রাণ, এক আবেশ –

তবুও ভেসে চলি অন্তবিহীন যাত্রায়,

প্রাণ পাখির বুকে নিয়ে বিচিত্রমুখী ইশারা!

হারিয়ে যেতে দিও না আমাকে!

হারিয়ে যেতে দিও না আমাকে!

একবার হারিয়ে গেলে,

কোথায় আর আমায় তুমি –

                    খুঁজে পাবে বলো?

তাই, দিও না হারিয়ে যেতে কখনোই!

বুকের পাঁজরে জাপটে ধরে রেখো;

যেন হারিয়ে যাবার দুঃসাহসও না পাই!

জানো, আজকাল মনে হয় প্রায়শই –

বুঝি বা আমি হারিয়েই গিয়েছি,

                    অনন্তের সুগভীর মায়ায়!

মনে হয়, বুঝি বা ফিরবো না আমি আর,

                    শত ডাকাডাকিতেও তোমার!

মনে হয় যেন, ঠিক আমি হারিয়ে যাইনি,

তুমিই বুঝি বা এক রাশ অবহেলায় –

ঠেলে দিয়েছো আমাকেই,

          দূর থেকে আরো দূরে,

                    ধরে রাখতে পারোনি মমতায়!

তারই মাঝে, কখনো বা আবার ভাবি –

                    আমি তো আছিই,

আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে তোমারই কাছাকাছি!

আমাকে অবহেলা দেবার, 

                    কি সাধ্য আছে তোমার!

আমি যে আপনাতেই সর্বস্ব শুধুই তোমার!

আর, তাই তো বলি, দিও না হারিয়ে যেতে!

এমন করে কে আর বলো –

          বাসবে তোমায় এতো ভালো, 

                    বেঁধে বিনে সুতোর প্রীতে!

হৃদয় নদী বহে কুলকুল!

সেদিনও ছিলো ঠিক এমনই একটি দিন,

তোমার কাছে আমার ছিলো –

         ভালোবাসার অফুরন্ত ঋন!

অসম্ভব ভালোবাসায় ছিলে তুমি জড়িয়ে,

সমস্ত প্রাণ জুড়ে আমার, 

         তোমার আভা ছিলো ছড়িয়ে!

চোখ বুজে থাকলেও ছিলে শুধুই তুমিই!

আমার হৃদয়ের পিঞ্জরে ছিলাম –

         তোমারই আবেশে মশগুল আমি!

আজও দিনশেষে আমি মেলি দু’টি চোখ!

মেঘের ভেলায় ভেসে যায় –

          আমার হৃদয়ের না-বলা যত শোক!

তুমিই বিরাজো শুধু আজও এই অন্তরে!

একাকী জীবন যদিও আমার,

       তোমাকেই পাই, হৃদয় প্রকোষ্ঠ জুড়ে!

প্রেমের নেশায় আজও আমি তেমনি ব্যাকুল!

স্পর্শবিহীন স্পর্শ নিয়েও তাই,

      তোমার স্পর্শে হৃদয় নদী বহে কুলকুল!

https://lucysjourney.com/

You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *