“শুধু ভেসেই চলেছি অন্তবিহীন!”
ডেকেছিলো, পাহাড়ী রূপালী ঝর্ণাধারা,
আমি যেতে পারিনি!
উত্তাল সমুদ্রের ব্যাকুল তরঙ্গের সাথেও,
মিলাতে পারিনি আঁখি!
গহীন অরণ্যের সবুজাভ নদীটির তীরে,
নুয়ে পড়েছিলো যে গাছটি –
তার সাথেও, কাটাতে পারিনি ক্ষণ!
দিগন্তের ওপাড়ে আকাশ নীলের সেই,
ক্ষীণ রূপালী আলোকচ্ছটা দেখেও –
আমি ফিরিয়ে নিয়েছি আমার মন!
আমি শুধু ভেসেই চলেছি অন্তবিহীন,
জীবন নদীর শত আকাঙখার বুকে!
আমার বুকের পাঁজরে ধরেছি –
আগুনের বহ্নি শিখা দুর্বিনীত শোকে!
মেঘের ঘনঘটায় আমি রয়েছি অবিচল;
বৃষ্টিস্নাত অন্তর জুড়ে বিরাজে রঙধনু!
তোমার কাছেই রেখে দিয়েছি –
যা কিছু আমার,
সমেত নিস্কন্টক পুষ্পরেণু!
তুমি বুকে ধরে রাখবেই আমায়, জানি!
এতেই আমি নিজেকে ধন্য মানি!

জীবন এক অচেনা অনুভব!
এমন সময়ও আসে –
জীবনের সাঝবেলাতে,
জীবন শুধুই এক শূণ্য,
আমি আর নেই আমাতে!
কিছুই আমার নেই আর করবার,
নেই আমাকে জুড়ে কোনো,
বন্ধনের কারবার!
নেই জীবনের বিচিত্র মেলায়
আশার ঝলমলে আলো,
চারিধারে কেবলই দৃশ্যমান –
গুমোট কালো!
কারো লাগি নেই প্রাণ পিঞ্জরে –
অদম্য তৃষ্ণা,
প্রাণের মাঝে বাজে না আর
প্রাণেরই বীণা!
সমস্ত চেতনায় কেবলই –
ছেড়ে যাবার দুরন্ত তাড়া,
কেবলই উদ্যত প্রাণ,
অজানার ডাকে দিতে সাড়া!
প্রতীক্ষা কেবলই ফিরে যাবার তরে,
জীবন এক অচেনা অনুভব,
অপেক্ষারত নতশিরে!
মনেরই অজান্তে, শুধু ভেসেই চলেছি অন্তবিহীন!
ভাবনার আড়ালে প্রায়শই আমি আজও,
তোমার কথা ভেবে,
আনমনা হয়ে যাই –
আপন মনেরই অজান্তে!
পাখির কুজনে রাঙা ভোরের মায়ায় –
মনে পড়ে তোমাকেই;
মনের আকাশে আমি ছুটে যাই,
দূর থেকে অতি দূর দিগন্তে!
প্রজ্জ্বলিত শিখা হৃৎপিন্ডের প্রতি স্পন্দনে –
তাড়িয়ে ফিরে আমাকেই;
আমি জ্বলে জ্বলে শেষে,
ধুপ করে নিভে যাই!
আশার আলোতে তবুও প্রাণের তরীটি বেয়ে,
সময়ের নিরন্তর আশীর্বাদে তুষ্ট চিত্তে –
জীবনের রঙ দিয়ে,
এলোমেলো আমি জীবন সাজাই!
আদিত্য, তোমাকে কি করে মনে না করি বলো?
তুমুল আবেগের উষ্ণতা দিয়ে,
তুমিই যে আমায় দিয়েছিলে,
এক রাশ রঙধনু রঙিন পরিপূর্ণতা!
পৃথিবীর সমস্ত আলো নিভে যাবার ক্ষণেও তাই,
ক্লান্ত আমার মনের আধারে,
হয়তো বা পাবো –
তোমার এক আকাশ অসীম শূণ্যতা!
প্রিয় আমার! আমার প্রাণেরই প্রিয়!
প্রিয় আমার! আমার প্রাণেরই প্রিয়!
অতি সুন্দর পৃথিবীর
অগোছালো সংসারে –
দুস্তর মরু প্রান্তর আর অরণ্য পেরিয়ে,
আর কতোদূর পথ তুমি যাবে ছাড়িয়ে!
অশ্রুসিক্ত তোমার হৃদয়ের অতলে,
কান্নার যে ঢেউয়ে
সমুদ্র করে খেলা,
গভীর সে জলের উন্মত্তা খেয়ালের বশে,
ভাসবে তুমি, আর কতো তপ্ত নিশ্বাঃসে!
প্রিয় মুখের মায়া জড়ানো হাসির মাঝেই,
খুঁজে ফিরে প্রাণ, অবিরাম –
আদিগন্ত নির্মল সুখচ্ছবি;
প্রিয় মুখের ব্যথাতুর অনুভূতির স্পর্শ,
ভেঙেচুরে দিয়ে আমাকেও যে করে বিমর্ষ!
প্রিয়, তুমি যে আমার প্রাণের কোজাগরী,
রাত্রি জাগা আঁখি পাতে
প্রাপ্তির বর্ণিল খুশী;
বিরহের মালা গেথে অকুল পাথারে আমি,
পার্থিবতার বন্ধন বিনেই শুধুই ভালোবাসি!
ভীষণ অভিমানের বুদবুদে, যাই ভালোবাসা এঁকে!
অকৃত্রিম ভালোবাসায় ভরে উঠে,
অবসন্ন মন!
প্রাণের অতলে নিমেষেই –
বেড়ে যায় প্রাণ পাখির কুহু কুজন!
আমি নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকি,
আকাশ নীলে!
শূণ্যতার বুকে জড়িয়ে বুঝি বা,
ভালোবাসার শিখা ধুপ করে জ্বলে!
নিরন্তর আমি হাতড়ে বেড়াই,
জলের গভীরে!
জলের নীরব ভাষার অস্ফুট দহনে –
ভালোবাসা যেন শব্দ সাজায় অশ্রু নীরে!
আমি আমার সমস্ত লুটিয়ে দিই,
পৃথিবীর বুকে!
ভীষণ অভিমানের বুদবুদে আমি,
দিগন্তের ওপাড়ে যাই ভালোবাসা এঁকে!
প্রাণের শেকড়ে তুমিই যে মায়া!
তুমি আমার মাঝেই নিয়ত বহমান –
রাত্রি আর দিনের পরিপূর্ণ মায়ায়!
আমি তোমাকেই খুঁজে ফিরি তবু্ও,
আমার নিরন্তর উদাসীনতায়!
তুমি আছো জানি এই আমার মাঝে,
আমারও অধিক বেশী ছেয়ে!
তবুও তোমার ভাবনাতেই আমার প্রাণ-
আকুলিভূত সদাই, তৃষিত হৃদয়ে!
আমি তোমার জন্যে ছিন্ন করি বন্ধন,
তোমাতেই জুড়ে থাকার বাসনায়!
অথচ প্রাণের শেকড়ে তুমিই যে মায়া,
চলমান আমি জন্মান্তরের নেশায়!
আঁখি ছলছল উথলিয়ে জলে ভেসেও,
জানি তুমিই আমার অস্তিত্ব করো ধারণ!
বারবার আমি হারিয়ে গিয়েও তাই –
ফিরে ফিরে আসি শুধু তোমারই কারণ!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com
