“উন্মাতাল সুরে অবিভেদ্য সত্য!”

“উন্মাতাল সুরে অবিভেদ্য সত্য!”

মানুষ হয়ে জন্মেছি এই পার্থিবতায় –

নেই তাই ডানা আকাশে উড়ে যেতে!

নীলের আবীর মেখে সমস্ত চেতনায়,

ভাবনায় ভেসে চলি দিনে আর রাতে!

মানব জন্মের নিগূঢ় ইশারা ঘিরে রয় –

অবিরত অসম্ভবের তাড়নায় নুয়ে থাকা!

সবুজ প্রকৃতির কোলে নিঃসীম আবেশে,

হৃদয় পুড়িয়ে প্রেমেরই জলে ছবি আঁকা!

মনুষ্যত্বের বীজ বুনে প্রাণেরই অগোচরে,

ভুলে থাকে প্রাণ সময়ের উন্মত্ত আহ্বান!

আকুলিবিকুলি হৃদয়ের গহীন কুঠুরীতে,

তবুও বেজে চলে নিয়ত মনুষ্যত্বের গান!

মানুষ নামের এই জীবনের খেলাঘরে –

তুমি-আমি এক-একটি বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব;

তোমার-আমার চেতনার গভীরে যদিও,

উন্মাতাল সুরে বাজে অবিভেদ্য সত্য!

উন্মাতাল সুরে অবিভেদ্য সত্য!
মানব জন্মের নিগূঢ় ইশারা ঘিরে রয় –

“অস্থির চিত্ত -উন্মাতাল সুরে অবিভেদ্য সত্য”

নদীতে কি আজকাল জাগে না আর চর!

সমুদ্রের বুকে কি নেই উন্মত্তা জলের কোলাহল!

নির্জলা সুধাংশু কি ভাসে না আর জ্যোৎস্নায়!

জীবনের অঙ্গনে প্রাণ কি কেবলই তড়পায়!

জলের অথৈ গভীরে ডুবে প্রাণ খুঁজে ফিরে চর!

মুক্তির আকাঙ্খায় মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সামলায় ঝড়!

অনেক আশার আঁখি ছলছল উথলিয়ে জলে,

পৃথিবীর কারাগারে নিরন্তর দুরাশার মেঘে দুলে!

মনের দুরন্ত পাগলপারা নির্নিমেষ কোলাহলে,

সময়ের ঘড়ি চলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের তালে!

দূর থেকে বহুদূরে মনের পালতোলা তরী বেয়ে –

ভেসে আসে জীবন, যদিও চেতনা আঁধারে ছেয়ে!

আমি চেয়ে থাকি দিগন্তের ঐ দূর অজানার পানে,

কি জানি কিসের খোঁজে নিরন্তর শূণ্যতার আহ্বানে!

প্রাণের অথৈ গভীরে বেজে চলে ছিন্ন বন্ধনের মায়া,

পৃথিবীর খেলাঘরে আমি যদিও কেবলই এক ছায়া!

“তুমিই সত্য”

আমার মাঝে নিত্যই একেলাই থাকি আমি,

আর আমারই মাঝে আছো নিরাকার তুমি!

আমি জগৎ ভুলে গিয়ে তোমাতেই বিভোর,

বহমান জন্মের ধারায় সদা তোমাতেই আমি!

গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে কিংবা বৈশাখী ঝড়ে,

তুমুল আলোড়নে কম্পিত আমার এই চিত্ত!

তবু্ও জীবন খেলায় জড়িয়ে অতি স্বাভাবিক,

কৃপাধন্য প্রাণে তোমারই নেশায় আমি উদ্দীপ্ত!

অন্ধকার রাত্রিতে মেঘদূতের ভীষণ গর্জনে,

চমকি চমকি কাপে থরথর নির্জনে মন মন্দির!

কম্পিত প্রাণে তবুও জেগে উঠি ক্ষণে ক্ষণেই;

তোমারেই হেরিতে একটিবার, মন হয় যে অধীর!

তোমার শক্তির অনন্য প্রকাশে আমার চেতনা;

আমি ফিরে ফিরে দেখি লুটিয়ে আমার অস্তিত্ব!

বারেবার আমি অদেখা তোমারেই দেখে যাই –

তুচ্ছ করে পার্থিব সকল, শুধু এক তুমিই সত্য!

“ইচ্ছেগুলো”

ইচ্ছেগুলোকে দিয়ে নিত্য বিসর্জন,

প্রাধান্য পায় যখন এই তুচ্ছ জীবন;

যখন আমি নিতান্তই এক শূণ্য,

কিছুতেই ইচ্ছেগুলো হয় না আর পূর্ণ;

ভীষণ অভিমানের দহনের বুদবুদে,

হৃদয় পুড়িয়ে মারে অস্থির বিভেদে;

পাশে নেই কোনো আপন স্বজন,

জীবন কেবলই এক বিক্ষুব্ধ প্রয়োজন;

অন্তর জুড়ে থাকে শুধুই অন্তর্জ্বালা,

জীবন নদীতে চলে তীর ভাঙার খেলা;

কি দিবে বলো তুমি নাম তার?

চারিদিকে ঢাকে কেবলই আঁধার!

সময়ের সাথে আপোষেরই তালে,

সময় ঘিরে শুধুই, সময়ই যায় খেলে!

আমি যে তখন নিরীহ প্রাণ মাত্র,

জীবনে নেই এতোটুকুও বৈচিত্র্য!

রাত্রি জেগে ফেলি শুষ্ক আঁখি জল,

দিনের আলোতে দুর্বোধ্য কোলাহল!

উদাসী প্রাণে বিক্ষিপ্ত আকুলতা,

ছাড়তে পারি না জীবনের বিহ্বলতা!

ইচ্ছেগুলো তবুও মস্তিষ্কের নিউরনে,

দুর্দান্ত ঝলকে চমকায় রিক্ত এই মনে!

“অসহায় শরীর”

শরীরটা ভালো যাচ্ছে না মোটেও!

বুঝতে পারছি না ঠিক –

সে কি বয়সের পরিণতিতে ধাবমান,

নাকি জীবনের দুর্বোধ্যতায় ক্লান্ত!

তবে যেটাই হোক না কেন,

সময়ের ইশারায় প্রতিটি হৃদ স্পন্দনে,

ক্ষয়ে যাবার ভীষণ তাড়না যেন!

দেখেছি মা’কে লড়ে যেতে একাকী,

দুর্দান্ত সাতটি বছর;

দেখছি বাবা’কে, কী ভীষণ অসহায়!

তার দুরন্ত প্রাণে আজ শরীরের ক্ষয়!

দেখেছি আরও আপন কতজনা,

লড়ে চলেছে এই শরীর যেন অচেনা!

শরীরের ভেতরের প্রতিটি কোষে,

জীবনের উদ্বেলিত শৃঙ্খল রয় মিশে!

সৃষ্টির বৈচিত্র্য এখানেই যায় থেমে,

নিরংকুশ ভাবনার অতলে, ধরাধামে!

ভয়ে কাঁপে প্রাণের বিক্ষিপ্ত উন্মাদনা –

ছেড়ে যেতে দ্বিধা নেই কোন, শুধু

শরীরের ভার যদি বয়ে নিতে হয়,

জানি না কিসের নেশায় মত্ত চেতনা!

সত্যিই, ভালো নেই মোটেও এই প্রাণ!

কি জানি ক’দিন আর বাকী –

ছেড়ে যেতে পৃথিবীর মায়ার উদ্যান!

“স্বপ্নপিয়াসী এক অন্তর!”

জীবন খেলায় যখন উত্তপ্ত লাভার উদগীরণ,

তোমাকেই পাই প্রাণের অনন্ত প্রহরে!

সকল উন্মাদনার নেশা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে,

নেশামগ্ন মন তোমাতেই আসে ফিরে!

চেয়েছিলাম উষ্ণতার অনুভবে জীবনের রঙ!

রঙের ছোঁয়ায় দীপ্ত চিত্ত, উষ্ণতা আর নেই!

তোমাকেই জড়িয়ে ধরে খুঁজেছিলাম জীবন!

জীবন ঠিকই আছে, জীবনে তুমি শুধু নেই!

অন্তর মাঝে অনন্তর – স্বপ্নপিয়াসী এক অন্তর!

অথচ স্বপ্নগুলো দুরাশার আধিতে ভরপুর!

বেঁচে থাকার এই দুরন্ত পাগল জীবন খেলায়,

স্বপ্নের নেশা ঘোরে বিক্ষত জীবন চরাচর!

ঝড়ের আগমনী অনুরননে বিক্ষিপ্ত হৃদয় দুলে!

সময়ের নেশা ঘোরে জীবনের মাঝে ধাই!

অফুরন্ত রূপের আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে খেলাঘরে,

পুলকিত মনে বারেবার তোমাতেই লুটাই!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali poems by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

2 thoughts on ““উন্মাতাল সুরে অবিভেদ্য সত্য!””

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *