“অরিত্রী একাকী ছটফটায়!”
ঘুমের সাথে দেখা মেলে না!
ঘুম যেন চন্দ্রালোকের –
শুভ্র ঘোড়ায় চড়ে বেড়ানো,
এক সুদর্শন রাজকুমার!
অরিত্রীর স্পর্শে তার কিই বা দায়!
চন্দ্রপৃষ্ঠেই তার অবাধ বিচরণ!
অথচ অরিত্রী তাকে নির্ঘুম রাতে,
একটু কাছে পেতে তড়পায়!
অরিত্রীর সেই তড়পানো,
কিছুতেই গিয়ে পৌঁছায় না –
ঘুমের চন্দ্রালোকের মায়ায়!
অরিত্রী একাকী ছটফটায়!
ঘুমের তাতে কিই বা আসে যায়!
ঘুম নেমে আসে অনন্তলোকের –
অজস্র মায়াবিনীর আঁখি পাতে!
কেবল আসে না,
অরিত্রীর আঁখি দু’টি ঘুমে জড়াতে!
অরিত্রী একাকী ছটফটায় – কেবল তোমারই ভাবনায়!
চার দেয়ালের ক্ষীণ উন্মাদনার মাঝেও –
সকাল কিংবা সন্ধ্যার সাঁঝে,
বদ্ধ ঘরের অতি একান্ত নিরালায়,
পেরিয়ে যেতে পারি আমি –
সুদীর্ঘ একটি জীবন,
কেবল, কেবল তোমারই ভাবনায়!
অস্থিরতার বীজ কখনো বা যদিও,
উচাটন মনের গহীন কোণে –
আঁকে উদার নীলাকাশের পদচিহ্ন;
শেকড় শুদ্ধ উপড়ে ফেলতে পারি তা!
নির্জনতার ভাষাতেই আমি –
তোমাতেই হাসি, শুধু তোমারই জন্য!
প্রেমের পেয়ালা আমি সমস্ত জুড়ে প্রেম!
ভাবনার সমুদ্রে তোমায় খুঁজে পাই,
প্রতি নিঃশ্বাসে পাই তোমারই কলতান!
নির্ঘুম রাতে একান্ত প্রহরের অন্ধকারেও –
কথা বলে যাই তোমার সাথেই,
তোমারই সুরে কখনো বা গেয়ে উঠি গান।
সময়ের কাছেই সবটুকুর সম্পূর্ণ কারবার!
পরিকল্পনার কিছুই কিন্তু আমার হাতে নেই!
নেই তার কিছুই তোমার হাতেও!
আমার হৃদয়ের অতলে যে উন্মাদনার বীজ,
জানি তার কিছুটা আছে তোমার মাঝেও!
সময়ের কাছেই সবটুকুর সম্পূর্ণ কারবার,
তুমি-আমি সেথায় তার অতি ক্ষুদ্র একক!
নির্ভাবনায় তাই পেরিয়ে যাই দিন, দীর্ঘ রাত –
সময়ই মিলিয়ে দিবে ঠিক, বেলা যাই হোক!
পৃথিবীর বুকে কার কি পড়েছে দায় কোথায়,
তুমি-আমি তবু্ও চেয়ে থাকি মুক্তির আশে!
কষ্টগুলো যদিও মাঝে মাঝেই দীর্ঘশ্বাস হয়ে –
অস্থিরতার অনলে পোড়ায়, তুমি নেই পাশে!
ভাবনার সমুদ্রে মনের একান্ত প্রকাশ!

যাযাবরের এক জীবন যেন পেয়ে গেলাম!
সময়ের পথ ধরে রাত্রি-দিনের অবকাশ!
নেই শঙ্খচিলের ডানা, নেই পিছুটান;
কেবল ভাবনার সমুদ্রে মনের একান্ত প্রকাশ!
সুতো ছেড়া ঘুড়ি উড়ি অন্তহীন নীলাকাশে!
পৃথিবীর সমস্তটাই আমার ঘরের ঠিকানা!
জীবনের ধারাপাতে বিস্ময় আমি এক –
জীবনের মানে বুঝি, তবুও জীবন খুঁজি না!
চলতে চলতে চলমান প্রাণ থেমে যাবে ঠিক,
সময়ের ইশারা যবে প্রাণেতে পাঠাবে বারতা!
সকল ভাবনার হবে চির অবসান সেথায়,
নীরব হয়ে যাবে চকিতেই প্রাঞ্জল উচ্ছ্বলতা!
কেউ কি মনে রাখবে এই বন্ধনহীন আঁখিজল?
কিই বা কারণ আছে তার মেলে না উত্তর!
তবুও নিজের কাছেই বারেবার নিজেরে শুধাই –
পৃথিবীর বুকে এই প্রাণ কি সকলেরই পর?
থাকি তাই স্বপ্নআঁখি বুজি!
বারান্দায় বসেছিলাম রাত্রির মধ্য প্রহরে!
চাঁদের মায়া লুকিয়ে ছিলো দালানের আড়ালে!
ঝিরিঝিরি বাতাসে দুলছিলো টবের সবুজ পাতা!
জীবনের এই ক্ষণটিতে যখন আমি ভীষণ একা –
ইথারে ভেসে এলো কিছু কথার মালা,
মুহুর্তেই সরে গেলো সমস্ত একাকীত্বের জ্বালা!
এর চেয়ে বেশী কিছু কি চেয়েছে কখনো প্রাণ?
বিনে প্রত্যাশিত প্রাণের স্পর্শের এতোটুকু দান!
লোকালয় ছেয়ে আছে হাজারো মানুষের ভীড়ে!
তুমিই প্রাণের স্পন্দন, আমার এই অস্তিত্ব জুড়ে!
আমার এই পথচলা আর পথ পানে চেয়ে থাকা –
শুধু তোমারই জন্যে হৃদয়ের ক্যানভাসে ছবি আঁকা!
স্বপ্নের মায়াজালে আজও তোমাকেই খুঁজি!
তোমাকে পাবোই জানি, থাকি তাই স্বপ্নআঁখি বুজি!
প্রাণের স্পন্দনে বহে সুবাতাস!
সূর্যালোকিত একটি সকাল!
নির্ঘুম রাত পেরিয়ে –
জেগে আছে তার প্রাণ!
ঝিরিঝিরি বাতাসে কোকিলের কুহুকণ্ঠ,
বেঁচে থাকার আশা নিয়ে যেন,
জীবনের গান!
আকাশ জুড়ে যদিও ভাসমান মেঘমালা,
দিয়ে যায় –
বৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস;
সূর্যোদয়ের মায়ায় জড়ানো সকালের ডাকে,
সরে যায় ভয়,
প্রাণের স্পন্দনে বহে সুবাতাস!
সূর্যালোকিত সকাল আর
বৈশাখী ঝড় –
পৃথিবীর বুকে পাশাপাশি চলমান খেয়াতরী;
আসা-যাওয়ার পথে মুখোমুখি র’বে,
জীবনের জন্য জীবন তবুও –
গাইবে প্রাণ ভরি!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali Poems by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com
