“ভালোবাসার পূর্ণতায় কেঁদেছি।” ➡️
তুমি নিশ্চিত গর্ভধারিণী।
আমি কিন্তু গর্ভে ধারণ করিনি।
অনুভুতির আড়ালেও থাকে অনুভূতি,
গর্ভে ধারণের অনুভূতি আমি খুঁজিনি।
আমি শুধু জড়িয়ে থেকেছি মায়ায়।
আমি অন্তবিহীন ভালোবেসেছি।
খুঁজতে যাইনি আমি শেকড় ,
ভালোবাসার পূর্ণতায় কেঁদেছি।
তুমি নিদারুণ জ্বালা সয়েছো –
তিলে তিলে অনুভবে স্পর্শের মায়ায়।
আমি হৃদয়ের প্রকোষ্ঠে পুড়েছি,
তোমার কষ্টের তীব্রতার সহমর্মিতায়।
আমার বিনম্র শ্রদ্ধাভাজন তুমি চিরকাল,
শ্রদ্ধায় আকুলিভূত আমি।
তোমার অস্তিত্বের অস্তিত্ব মাঝে সৃষ্টি।
সৃষ্টিতেই আমার বসবাস দিবাযামী।
বয়ে চলি আবেগের উষ্ণতা! ভালোবাসার পূর্ণতায় কেঁদেছি।
আমি তেলবাজ নই কখনোই!
ছিলাম না কখনো আমি –
বিদ্রোহের অনলে ঝলসানো লৌহ মানব!
আমি নিতান্তই সাধারণ!
নেহায়েত মেরুদণ্ডবিহীন আমজনতা!
আমার বুকের ভেতরে ছটফটায় তবুও,
ঘুনেধরা সমাজের অনিয়ম, যত্তোসব!
প্রতারণা করতে জানিনি কখনোই!
ভাবনার জালে কোনদিনই,
ছিলো না মানুষ ঠকানোর কলাকৌশল!
অতি নিরীহ প্রাণ আমি এক!
হৃদয়ে বয়ে চলি আবেগের উষ্ণতা!
জীবনের খেলাঘরে তারপরেও অতি নীরবে,
পূর্ণতা পেলো মানুষরূপী অমানুষের ছল!
বুঝে উঠতে পারলাম কিছুই তারপরও!
উজাড় করে দিয়েই চলেছি,
যা কিছুই ছিলো আমার সোনার তরী ভরে!
জীবনের কি তবে এমনই ধারা!
আমিই এক হলাম জগতের পাগলপারা!
দেনা-পাওনার হিসাবের দায় যা কিছু,
সবই রইলো কেবল আমারই ‘পরে!
হৃদয়ের বিকারগ্রস্ততায় কি চরিত্র শোভন?
কত সহজেই তাকে চরিত্রহীন বলে দিলে তুমি?
চরিত্রের মানে বোঝো তো?
শুধু কি শরীর ছুয়ে গেলেই ঘটে চরিত্রহানি?
হৃদয়ের বিকারগ্রস্ততায় কি চরিত্র শোভন?
একটি পুরুষ কিংবা নারী –
ভালোবাসার কাঙাল হয় কখন?
তা নিয়ে কি কখনো করেছো মন উন্মোচন?
সৃষ্টি বৈচিত্র্যের কী ভীষণ ধারা উপধারা!
আজীবন পাশে থেকেও তাকে দেখাতে পারোনি,
তোমারই রঙের ছোঁয়ায় উজ্জ্বল ধ্রুবতারা!
তার হৃদয়ও কি নয় প্রাণবন্ত সবুজ ঘাস?
ধ্রুবতারার আকর্ষণে সেও কি হয় না উদাস?
পূর্ণিমার চাঁদের কিরণ কি পোড়ায় না তাকেও?
তোমার ঘরের আলোর ঝলক সে পায় না তবু্ও!
চরিত্রহীন বলো না কেউ তাকে আর!
বুক ভরা তার অসীম ভালোবাসার সম্ভার!
ভালোবাসায় তার নেই কোনো ক্লান্তি;
শুধু ভালোবাসতেই জানে সে, বুঝে না নিয়তি!
জীবনের কাছে তার নেই চাওয়া পাওয়া;
ভালোবাসার আরশিতে সে দেখে আপনাকে,
জীবন জুড়ে বইয়ে নিতে ফাগুনের হাওয়া!
পরোয়া করি না আমি সূর্যের উত্তাপ!

লাথি মেরে উড়িয়ে দিবো সবকিছু!
তোমাদের উদারতায় আমি ক্লান্ত!
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে গুড়িয়ে দিবো ধরা!
তারপরেই হবো আমি চির শান্ত!
ভালোবাসার মূল্য দিতেও জানো না!
কিসের এতো অহংকারে মগন!
কি আর বুঝবে তোমরা –
জন্মেছো বুঝি বা পশুর চেয়েও অধম!
পরোয়া করি না আমি সূর্যের উত্তাপ!
সমুদ্রের জলে হয় না তৃষ্ণা নিবারণ!
মাটির বুকেই আমার সমস্ত প্রেম!
আকাশের নীলিমায় আমার পদচারণ!
হৃদয়ের পিঞ্জরে দিয়েছিলাম ঠাই,
ভরলো না বুঝি বা মন তাতে!
বেশ তো, এখন থেকে রোষানলে জ্বলো!
আমার পৃথিবী র’বে নিরঞ্জনে মেতে!
অনর্থক আচরণে নিজেকেই পোড়ালাম!
তেমন কিছুই তো চাইতে আসেনি ওরা?
হাজার খানেক কিংবা শ’ পাচেক টাকাই তো!
কার কাছেই বা চাইবে একটু সাহায্য?
সবাইই তো জীবনের বেড়াজালে বিক্ষিপ্ত!
অথচ কী ভীষণ খারাপ ব্যবহার করলাম!
ওদেরকে এভাবে আমি বকে দিলাম!
কিন্তু এই মানুষ তো আমি নই কখনোই!
অথচ আজকাল, এমনটাই হচ্ছে প্রায়শই!
অনর্থক আচরণে নিজেকেই পোড়ালাম!
ওদেরকে না জানি কি নিদারুণ কষ্ট দিলাম!
সংকীর্ণতাতে তুমি হবে কেন ক্ষয়!
বিষোদগার করো না, কেননা
তাতে কলুষিত হবে আপন হৃদয়!
দুরাশার আধিতে ভয় পেয়ো না,
তোমার অস্তিত্ব জানে না পরাজয়!
তোমার জন্যে প্রশস্ত পথের মায়া,
সংকীর্ণতাতে তুমি হবে কেন ক্ষয়!
চোখে তোমার রঙ্ধনুর রঙের ছোঁয়া,
মেঘের ঘনঘটা ঘুচিয়ে দিবে প্রলয়!
সুবিশাল নীল আকাশের নীলিমায়,
তুমি মেলে দাও আপনার মুক্ত ডানা!
পৃথিবীর হৃদয়ের উর্বরতায় নির্দ্বিধায়,
প্রেমময় তুমি জাগিয়ে তুলো অজানা!
মহা সমুদ্রের উদ্বেলিত মস্তিষ্কের কোষে,
বিন্দু বিন্দু দানা থেকে করো প্রাণ চাষ!
বিক্ষুব্ধ আগ্নেয়গিরির অশান্ত রোষে,
অগ্নিলাভার শিখায় বুনো সিক্ত বাতাস!
তোমার মননে বিরাজে অসীম প্রাচুর্য,
সময়ের বিশেষত্ব নিয়ে এসেছো তুমি!
ঐন্দ্রজালিক মমতায় জড়িয়ে পরস্পর,
এসো প্রাণে প্রাণে গড়ি এই পৃথ্বীভূমি!
You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link ➡️ http://www.bangla-kobita.com
