“নেই কেউ কারো সাথে!”

নেই কেউ কারো সাথে! ➡️

রাতের পৃথিবী থমকে থাকে না আজ আর!

ক্লান্তিবিহীন উন্মাদনা –

                  তার সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে!

তারাভরা আকাশ পানে চেয়ে দেখি না আর,

হারিয়েছি কোথায় যেন –

                  অনুভবের সুতোটি ছিড়ে!

প্রাণ পাখির কুজন আজ বন্দী আপনাতেই!

সুর আর তালের ঝংকারে, 

                  নেই আজ আর সেই অমৃত!

ভীষণ আবেগে আর করি না জ্যোৎস্না স্নান,

চাঁদের হাটে তোমার-আমার,

                  সবটুকুই আজ ভীষণ অপরিচিত!

বুঝি বা সময়েরই আয়োজন, এমনই নিয়ম!

অতি নীরবে বুঝি বা, 

                  এভাবেই হয় থেমে যেতে পথে!

রাতজাগা প্যাঁচা আর ডাকে না মধ্যরাতে,

নির্ঘুম তাই কাটে যে দুপুর, 

                  তুমি-আমি নেই কেউ কারো সাথে!

নেই কেউ কারো সাথে! still life goes on!

নেই কেউ কারো সাথে, তবু্ও কেটে যাচ্ছে বেশ!

জীবন কিন্তু কেটে যাচ্ছে বেশ!

জীবনের বিচিত্র ধারার রঙ –

    আলো-আঁধারের মাঝেও বেশ প্রাঞ্জল! 

ঠিক যেন তোমার সাথে আমার, 

    ভালোবাসার আজও –

    কী ভীষণ প্রাণবন্ত কোলাহল!

অথচ, তুমিও ঠিক জানো, 

আর আমিও, 

     বুঝতে পারি খুব সহজেই –

     আমাদের জীবন ধারা ভীষণ ভাবে,

পথ বেছে নিয়েছে যে যার মতো,

     গন্তব্যের দিশা যেন উল্টো ধারাতেই!

তবুও দেখো না, 

     জীবন কিন্তু তবু্ও কেটে যাচ্ছে বেশ!

কারো জন্যই কারো নেই কিঞ্চিৎ টান!

তোমার পৃথিবীতে তুমিই কান্ডারী, আর

আমার পৃথিবী – সে তো, 

     তোমারই রঙের ছোঁয়ায় বলিয়ান!

আর তাই, 

জীবন নিয়ে ভাবনার কিছু নাই!

     জীবন সে তো দুর্দান্ত ঝড়ো মেঘ;

নীলের আবীরে ক্ষণিকের তান্ডব শেষে, 

বর্ষন মুখর পৃথ্বী জুড়ে –

     প্রেমময় আর যত্নশীল তার আবেগ!

দিতে কি পেরেছি তারই পেয়ালায়!

তালে তাল মিলিয়ে, 

          জীবন চলে তারই ধারায়;

তুমি-আমি এক অতি ক্ষুদ্র নিমিত্ত সেথা হায়!

অফুরান বোধ, 

          মনের অতলে সাজিয়ে অবিরাম, 

জীবন খেলায় ব্যতিব্যস্ত স’বে জপি তার নাম!

রাতের আঁধারে মুখ বুজে তবুও 

          ভাবি একাকী নিরালায় –

কৃপাধন্য সুধা দিতে কি পেরেছি তারই পেয়ালায়!

প্রাণের অগোচরে কদাচিৎ, 

          গর্বিত চিত্তে মানি –

আমার সকল পূজার অর্ঘ্য শুধু তারই তরে জানি!

সুরের ঝংকার তুলে, 

          কেটে যায় তাল লয়, 

জীবন ফুরিয়েও আপনার গীতে আপনি কথা কয়!

কাঁপে যে অন্তর!

শূণ্যতার আহ্বানে কাঁপে যে অন্তর!

আবার শূণ্যতারই লাগি 

     প্রাণেরই টানে, 

       লুটিয়ে ধূলায় –

তন্নতন্ন করি, সমগ্র বিশ্ব চরাচর!

ব্যাকুল হৃদয়ে ছটফট করে প্রাণ!

ছেড়ে যেতে চাই, 

     তবু্ও জড়িয়ে ধরে –

       আকুলিভূত প্রাণেরই ‘পরে,

অন্তবিহীন সারাবেলা করি আনচান!

তোমার রঙের ছোঁয়া নিয়ে সদা থাকি!

চোখেরই পলকে 

     বারবার তবুও, 

       অন্ধকারের তীব্রতা বুকে –

দুঃসহ অনলে পুড়ে, তড়পায় প্রাণপাখি!

মানবের জনম দিয়েছো তুমি আমারে!

মানবের বেশে 

     ক্ষণে ক্ষণে তবু্ও, 

       তোমার সৃষ্টির যন্ত্রণা নিয়ে –

অসংলগ্নতার পটে প্রাণ, ধুকে ধুকে মরে!

ফিরবো না আমি সেদিন আর!
নেই কেউ কারো সাথে! reflection of not looking back...

যেদিন সমস্ত মায়া ছাড়িয়ে যাবো আমি!

মিশে যাবো – 

       মৃত্তিকার বুকে অকপটে!

খেলাঘরের নেশা ছেড়ে যেদিন আমারই,

স্থান হবে কেবলই, 

        হয়তো তোমার হৃদয়ের পটে!

যেদিন দূরের আকাশের ঐ ধ্রুবতারায় –

খুঁজে ফিরে আমাকেই, 

        অশ্রুজলে তুমি ভাসবে!

যেদিন এতোটুকু প্রাণের স্পর্শ দিতে তুমি,

তন্নতন্ন করে, আদিত্য,

        এই আমাকেই শুধু খুঁজবে!

আদিত্য, ফিরবো না আমি সেদিন আর,

ফিরবো না কোথাও,

        শত সহস্র ডাকেও তোমার!

অজানার লোকে এই অতৃপ্ত প্রাণের তরী,

পাড়ি দিবে বলে,

        ছেড়ে যাবে মোহমায়ার পারাবার!

জীবনের এই মোড়ে, জীবন যে এমনই –

সাঙ্গ করে যেতে হয়, 

        যা কিছু আপনার!

ফিরে আসার সব কথা ধূলায় মিশে গিয়ে,

আকুলিভূত প্রাণ পাখি –

        তড়পায় না, কখনোই আর!

https://lucysjourney.com/

You may read a lot of beautiful Bengali Poems of renowned Poets, click the link ➡️ http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *