“তুমিই তো আছো!”

“তুমিই তো আছো!”

তুমিই তো আছো অনুক্ষণ সাথে আমারই!

নির্ঘুম রাতের এই নিস্তব্ধ প্রহরে,

কিংবা ব্যস্ত জীবনের বিক্ষুব্ধ হৃদয়ের অনলে,

আমি যে তোমাকেই পাই পাশে!

তোমারই অনুভবে হৃদয় পুড়িয়ে করি ছাই!

তোমারই অগ্নি স্পর্শে এই হৃদয় জুড়াই!

তুমি আছো বলেই আজও রাত জেগে আমি,

কথার মালায় বিদগ্ধ হৃদয়ে আগুন জ্বালাই!

তোমারই ক্ষণিক স্পর্শ লাগি তড়পাই!

আর নিমেষেই, তোমারই মাঝে আমার –

সমস্ত চেতনার অবগাহনে আমি,

বিক্ষুব্ধ হৃদয়ের আজন্ম তৃষ্ণা মিটাই!

“তুমিই তো আছো! তাই তোমাতেই হারায়”

প্রাণের অতলে অশান্ত জিজ্ঞাসা তার কাছে –

কেন সৃজিলে আমারে?

মস্তিষ্কের নিউরনে অব্যক্ত কান্না আমার –

কেন জীবনের খেলাঘরে

তবু্ও প্রাণ ধুকে ধুকে মরে?

হৃদয়ের গহীন কুঠুরীতে ক্লান্তি অবসাদ –

কেন এই অস্থিরতা আমায় খায় কুড়ে কুড়ে?

সময়ের তালে ভেসে যাই নীলিমায়!

প্রাণের স্পর্শে জড়িয়ে থাকি তোমাতেই!

মস্তিষ্কের রিনিঝিনি নিয়ত আমারেই কাঁদায়!

হৃদয়ের বীণা ঝংকার তুলে বারে বারে,

তোমারই ছায়া হয়ে তোমাতেই হারায়!!!

তুমিই তো আছো!
“গোলকধাঁধার জীবন”

“গোলকধাঁধার জীবন”

জীবন এক গোলকধাঁধা!

মানুষের মন এক জটিল চক্র জাল!

গোলকধাঁধা আর

চক্র জালের বেড়াজালে –

‘আমি’র অস্তিত্ব অহর্নিশি ক্লান্তিতে আচ্ছন্ন!

‘আমি’ কেবলই ঘুরপাক খেয়ে,

মনের অশান্ত খরস্রোতা নদীতে –

এপার ওপার করে ‘আমি’কে পিষে মারে!

‘আমি’কে ছাড়তে পারে না,

আর ‘তুমি’তে ‘আমি’কে পায় না!

তবুও ‘আমি’ ‘তুমি’কেই খুঁজে ফিরে,

যদি ‘তুমি’র মাঝে মিলে যায় –

‘আমি’র এতোটুকুও!

কিন্তু গোলকধাঁধা আর চক্র জালের –

জটিল এই ভেদ, অতিক্রম করার সাধ্য,

এই পৃথিবীতে কারই বা আছে!!!

“কষ্টের মালা”

না থাক, চাই না কিছুই আমার আর!

কষ্টটুকু যখন দিয়েই চলেছো,

আর কি-ই বা

চাইবার থাকে আমার বলো!

কিছুই চাই না আমার!

আমি কষ্টকে নিয়েই বেশ আছি!

তোমার দেওয়া এই কষ্টের মালা জড়িয়ে,

ঠিক চলে যাবো একদিন, দূরে বহুদূরে,

খুঁজে আর পাবে না আমায়!

হয়তো খুঁজবেও না!

আর ভুল করে যদি খুঁজতে মন চায়,

তবুও পাবে না আমায় কোত্থাও!

এতোটা কষ্ট দিতে পারলে তুমি!!

আমাকেই!!

একটুও বাঁধলো না মনের কোণে?

নীলার ভাবনা জুড়ে –

কষ্টের মালা ছড়িয়ে যায়!

নীলা গুটিয়ে ফেলে নিজেকে!

সকল মায়ার বন্ধনের প্রতি –

ভীষণ অভিমানের দহনে পুড়ে নীলা!

তাই সে পা বাড়ায় অজানার পথে,

মুক্তির পথে,

আর নির্ভাবনার পথে!

মুক্তি কি সত্যি মিলবে কখনো তার?

“মুক্তির আকাঙ্খা”

খেলাঘরের এই ভীষণ দুর্বোধ্যতায়,

কিছুতেই প্রাণ আর পেরে উঠছে না!

বাড়ির উঠোন জুড়ে –

অপরিসীম প্রাণের মেলা যদিও,

উন্মাদনার নেশায় দিনমান বিভোর –

অবিশ্রান্ত আশপাশের খেলা যদিও;

অতি ইচ্ছার সংকট কাটিয়ে দিব্যি,

চলমান এই জীবন ধারাও;

তবু্ও এই প্রাণ,

আর কিছুতেই পেরে উঠছে না!

ভীষণ ক্লান্তি আর নির্মোহ অবসাদে –

ছেয়ে আছে তনু মন;

যেদিকেই তাকায় প্রাণ, দেখে কেবলই,

অবহেলিত নিষ্পেষিত জীবন;

আবার জীবনের অফুরাব মেলায়,

স্বপ্ন আঁখি নেশায় মগন!

কিসের জন্য কি আশায় এই খেলাঘর –

বুঝতে প্রাণ যে আর পারে না!

শুধু এটুকুই জানে এই প্রাণ –

জীবন খেলায় সে পেরে উঠছে না!

কিছুতেই প্রাণ আর পেরে উঠছে না!

প্রাণের এখন মুক্তি চাই –

জীবনের দুর্বোধ্যতায় দুর্বল প্রাণ –

আজ ভীষণ অসহায়!

অপেক্ষা শুধু তাই মুক্তির আকাঙ্খায়!

“মন ভালো নেই”

মন ভালো নেই, সেই রাত্রি থেকেই!

মনের অগোচরে –

ব্যথিত মনে তাই অশ্রু ঝরে!

ভালো নেই মন এতোটুকুও, কেবল

দুরাশার আধিতে –

কান্নার বন্যায় উথলিয়ে পড়ে!

সময়ের নাগপাশে জড়িয়ে আছে মন –

আষ্টেপৃষ্টে,

মনের ভেতরে নিয়ে অবিরাম ক্ষরণ!

মন ভালো নেই,

মনকে মানাই বলো কেমন করে!

অস্থির মনে অনবরত বুলেট-বৃষ্টি ঝরিয়ে,

ছিন্নভিন্ন মনের প্ল্যাটফর্ম –

সময়ের সাথে চলেছে টানা যুদ্ধ করে!

মনকে আমি আর মানাই কেমন করে!

মোটেও ভালো নেই মনের সংসার আজিকে,

দিতে চায় সবকিছু তাই –

লণ্ডভণ্ড একাকার তছনছ করে!

ভালো নেই মন, শুধু

মনের গভীরে বেজে চলেছে –

বুকফাটা কান্নার সুতীব্র অনুরনন!

মন ভালো নেই, সেই রাত্রি থেকেই!

ভীষণ যন্ত্রণার কাতরানি বয়ে নিয়ে তবু্ও,

মনের পথচলা –

শান্ত ধীর স্থির অবিচল গতিতে চলমান!

আর লুকিয়ে তৃষ্ণার জ্বালা অস্ফুট স্বরে!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali poems written by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *