একটুখানি চোখের দেখা

“একটুখানি চোখের দেখা”

অনেকদিন দেখা হয় না তোমার সাথে,

হ্যাঁ একটুখানি চোখের দেখা!

মনের মাঝে তো ছেয়ে আছো সারাক্ষণ,

তাই বুঝি না নিজেকে একা!

মাঝে মাঝে যদি হয় চোখের দেখা,

জীবন অনেকটাই সহজবোধ্য হয়;

আর কিছু নয়,

প্রাণের মাঝে শীতল এক হাওয়া বয়!

আমার অনুভব তোমাতেও তো বহমান –

আমি ঠিক বুঝতে পারি!

আর তাই, অন্তর চিড়ে কখনো বা,

চোখের দেখার ইচ্ছে তোমার মনেও হয়!

অপেক্ষিয়া থাকি একটিমাত্র ডাকের,

তোমার একটিমাত্র ডাকে মনে হয় যেন –

লুটিয়ে দিতে পারি আমার যা কিছু,

আমার যা কিছু আছে, তার সবটাই!

শুধু একবার যদি তুমি ডাকো আমাকে,

সকল দুর্দশা উপেক্ষা করে,

ঠিক আমি পৌছে যাবো তোমারই দ্বারে!

একটুখানি চোখের দেখায় হৃদয় মাঝে –

প্রাণ পেয়ে যায় অনন্ত প্রহরের,

অনিমেষ অফুরন্ত রূপের মুগ্ধতায় পূর্ণতা!

একটুখানি চোখের দেখা – বিনা তারের সেতারা

তোমারই মনের প্রাণে-ছলছল পুলকে –

আমি আছি, আমি জানি!

মুহুর্তের আঙিনায় তুমি আমাকেই ভাবো,

আমি সে কথাও জানি!

প্রাণের স্পর্শে তোমাকেই –

জড়িয়ে আছি রাত্রিদিন, তুমি জানো!

তোমার অন্তর মাঝে আমারই রঙের ছোঁয়া,

সে কথাও তুমি জানো!

শুধু জীবনের ভিন্নমুখী বিভেদের জালে,

তুমি-আমি আড়ষ্ট, সেই তো!

প্রেমেরই কারিগরের তবুও, পূর্ণ কৃপাধন্য –

দু’জনেই তো!

জলের অথৈ গভীরে নিঃশ্বাসে আছো তুমি;

অন্ধকারে – প্রশ্বাসে হও জীবন!

ঠিক তেমনি করেই তোমারই প্রাণে,

অপার্থিব স্পর্শ আমার, রাঙায় তোমার ভুবন!

তোমার পদধ্বনিতে পাই আলিঙ্গনের উষ্ণতা,

যেখানেই থাকুক আমার চেতনা!

একটুখানি হাস্যোজ্জ্বলতায় তোমারই,

আমি ভুলে যাই পার্থিবতার সকল বেদনা!

জীবন যেন এক বিনা তারের সেতারা,

তুমি-আমি বাজাই হৃদয়তন্ত্রে;

সকল কিছুর মাঝেই খুঁজে পাই পরস্পরে,

থাকি না কেন অতি দূর অজানার প্রান্তে!

শাশ্বত সময়ের টানে

ঘুম ভেঙে যদি দেখো আমি নেই,

ভেবে নিও –

তেপান্তরের মায়ায় আমি গিয়েছি জড়িয়ে!

ফেলো না তখন কিন্তু নয়নেরও জল,

শুধু খুঁজে নিয়ে এসো আমায় –

তোমারই রঙের ছোঁয়া দিয়ে ভরিয়ে!

জানি না কখন হারিয়ে যাবো সব ছেড়ে,

পৃথিবীর মায়ায় আর আসবো না ফিরে!

শাশ্বত সময় আর অনন্তের পাড়ের অভিমুখে,

আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে –

জানি না অকস্মাৎ কোন সে ক্ষণ,

চির মিলনের পথে আমায় জড়াবে খেলাচ্ছলে!

অপেক্ষার দ্বারে ঘুরি আর ফিরি একাকী,

সময়ের তালে কেবলই নামের মালা জপি!

জানি, সে যে তোমারই সাথে মিলনের তরে,

পার্থিবতার বন্ধনের সাথে বিরহ ছেদ;

তবুও অজানার পানে যাবার ভাবনায়,

প্রাণপাগলা ক্ষণে ক্ষণেই তার নিজেরই অজান্তে,

মস্তিষ্কের সাথে অন্তরের হানে, অর্থহীন প্রভেদ!

স্বগতোক্তি

আমার ঘরে ভীষণ আঁধার, ভয়ে আমি বধির!

আলোর খোঁজে দিশেহারা, প্রাণ যে আমার অস্থির!

ছুটছি আমি এদিক ওদিক, ঝড়ো মাতাল প্রাণে,

হোঁচট খেয়ে পড়ছি তবুও, চলছি অতি সন্তর্পনে!

আঁধারের গভীরে ডুবে থেকে নিজেরেই শুধাই –

কিসের নেশার ঘোরে আমাকেই আঁধারেতে পাই?

ছুটে চলা নিরবধি, তবুও থেমে আছি ঠিক সেখানে,

পথ হারাবার সীমানা, পথ আগলে আছে যেখানে!

আঁধারের মাঝে আলোর এই লুকোচুরি খেলাতে,

কতকাল র’বো নিশি জেগে, নিজেকে লুটিয়ে প্রাতে!

দুস্তর দুরন্ত পাগল মন, আঁধারে আজ ক্লান্ত ভীষণ,

আলোর ঝলকে চমকে উঠি চকিতেই তাই অনুক্ষণ!

আশীর্বাদের স্পর্শ
একটুখানি চোখের দেখা!
তোমাকে নিয়েই আমি শুধু ভাবতে থাকি!

সময়ের ভাবনায় তলিয়ে যায় পার্থিব মন!

সময়ের তালে ভেসেও হাবুডুবু খায় যখন তখন!

দুঃসময়কে গালি দিয়ে নির্দ্বিধায়,

ক্ষুব্ধ মনের জ্বালা প্রশমিত করতে চায়!

এটাই স্বাভাবিক, আর এটাই জীবনের ধারা!

তবে, সময় নিত্যই চলে সময়ের খেয়ালে,

নেই সময়ের কোনো ক্লান্তি;

নেই সময়ের দুঃসময়জনিত ভাবনা;

সময় কেবলই সময়কে নিয়েই করে খেলা,

সময়ে যা হবার, তাতেই সময়ের চলাফেরা!

কদাচিৎ ভাবনার অতলে, জাগে উদ্ভ্রান্ত মনে –

এই তো শেষ, এই তো মুক্তির ঝর্ণাধারা!

এর থেকে মুক্তিতেই বুঝি বা,

জীবন চক্রের অস্ফুট বেদনা হবে হারা!

কিন্তু সেই শেষের চেয়েও কঠিন কিছু যে –

ওঁৎ পেতে আছে সম্মুখ দুয়ারে,

সেই শেষের চেয়েও আরো সূক্ষ্ম জটিলতায় –

ঠিক ঝর্ণামুখেই নিশ্চিত প্রতীক্ষায়,

আরো অধিক নির্মমতার বেড়াজালে –

আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখার দুর্বোধ্য বাসনায়;

কিংবা জীবনের এই ছোট্ট খেলাঘরের নেশায় –

বারেবার জর্জরিত করে ফেলবে দুর্ভাবনায়;

হ্যাঁ, এমনই তো জীবন – দেখেছে এই প্রাণে!

এমনই তো হয়ে আসছে –

জীবনের পরতে পরতে, পাতা আর ফুলের ঘ্রাণে!

তবে, তারই মাঝে সময়,

সময়ের দুর্বোধ্য বেড়াজালের ওপারেও যায় –

নির্বিঘ্নে, আর অতি কোনো কষ্টের জ্বালা বিনে!

হ্যাঁ, ওঁৎ পেতে থাকে ঠিকই একের পর এক –

জ্বলন্ত অগ্নি কাষ্ঠের ভীষণ রকমের দহন, কিংবা

অন্ধকারে আচ্ছন্ন অতি ক্ষীণ পথের ‘পরে,

পাশ কাটিয়ে পেরিয়ে যেতে শ্বাপদের পাল –

দুর্বিনীত ত্রাসে চাবুকপেটা হরিণশাবকের মতো,

কিংবা জীর্ণ পথের কণ্টকাকীর্ণতায়,

নিঃশব্দে যেতে হয় হেঁটে, দুরুদুরু কম্পমান বুকে;

আর বারেবারেই –

অক্ষত প্রাণ পায় অদৃশ্য আশীর্বাদের তীব্র স্পর্শ!

বারেবারেই, প্রাণের আড়ালে প্রাণ খুঁজে পায়,

হারিয়ে যাওয়া সময়ের বেলাভূমিতেই তার সর্বস্ব!

যন্ত্রণার কাতরানি সয়ে দেখেছি অসম্ভবের রূপ,

সেই রূপের আঁধারে শিউরেও উঠেছি বহুবার!

ঠিক তেমনি করেই, আশীর্বাদের নমনীয়তায় –

নিজেকে পেয়েছি আঁচড়বিহীন, শঙ্কাবিহীন আর

ময়ুরের অতি মোলায়েম স্নিগ্ধ পালকে ছাওয়া!

সবটুকুর মাঝেই প্রাণ পেয়েছে সুস্পষ্ট ভাবনায় –

এক অবিনশ্বরের অন্তবিহীন রঙের স্নিগ্ধ ছোঁয়া!

তুমিই, সমস্তটা জুড়ে

তোমাকে নিয়েই আমি শুধু ভাবতে থাকি!

আমার চিন্তা চেতনা মস্তিষ্ক আর

হৃদয়ের প্রতিটি কণা –

কেবল তোমাকেই, তোমাকে নিয়েই ব্যস্ত!

ঘুরি ফিরি যখন যেখানে যাই,

হাসি কাঁদি কিংবা লুটিয়ে ধূলায় তড়পাই,

তপ্ত দুপুরে কিংবা শীতল সমীরণে,

জ্যোৎস্নায় ভেসে কিংবা সমুদ্র মন্থনে,

ভাবনার বুদবুদ যখন আকাশ ছুঁয়ে ঝরে,

অস্থিরতার নাগপাশে প্রাণ ছটফটিয়ে মরে,

জীবনের যন্ত্রণাতে সামলে নিতে প্রাণ,

একটুখানি আলোর খোঁজে যখন ভুলি সব গান –

প্রাণ মন সর্বস্ব করে দিয়ে চূর্ণ বিচূর্ণ,

খুঁজে ফিরি তোমাকেই, খুঁজি আমারই জন্য!

আর তুমি! তুমি ফিরেও তাকাও না একটিবার!

তোমার যে সময়ই নেই আমাকে নিয়ে ভাববার!

তোমার রয়েছে অফুরন্ত রূপের ঝলক,

আমি যে দীনহীন – হারিয়েছে যার দিবালোক;

একাকী বয়ে চলি জীবনের জঞ্জাল,

চারিদিকে সমুদ্র সফেন, এক আমিই কাঙাল!

আমি দুরাশার আশা করি না কখনো,

তবু্ও জীবন খেলায় বারবার জানি না কেন –

মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়ে প্রাণ, প্রায়শই করে হাসফাস,

কষ্টের জ্বালা বুকে নিয়ে করি বাস, আর দীর্ঘশ্বাস!

আর তারই মাঝে আমার হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দনে –

জানা অজানা, সহজ দুর্বোধ্য কিংবা

আকাশ ভেঙে অঝোরে বৃষ্টিধারার ক্ষণ অথবা

দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় যখন,

হ্যাঁ, তুমিই, শুধু তুমিই থাকো আমার সমস্তটা জুড়ে –

আমার সমস্ত অস্তিত্বের সম্পূর্ণটা জুড়ে!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *