“সিক্ত অশ্রুজলে!”

“সিক্ত অশ্রুজলে!”

সিক্ত অশ্রুজলে!

জীবন সে তো সুরের ঝংকার, যেথায়

কষ্টগুলো বিনে সুতোয় গাঁথে মালা!

সুখের পাখি ঐ দূর আকাশের নীলে,

দুঃখ ভুলে জীবন ছেড়ে করে খেলা!

তোমায় ভেবে নাও ভাসিয়ে দিই দূরে –

মনের মাঝে দ্রুত কম্পনে উঠি দুলে;

নদীর জলের উথাল-পাতাল স্পন্দনে,

কষ্টগুলো মাতিয়ে তুলে সিক্ত অশ্রুজলে!

আমার মাঝেই তোমার হৃদয় পুড়ে খাক,

সুখের পাখি তড়পায় শুধু বিরহ অনলে;

একটুখানি প্রাণের স্পর্শ পাবারও তরে –

এই হৃদয় আমার ঝলসে মরে দাবানলে!

জীবন তবুও জীবনের অনন্তে রয় মিশে,

আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে শূণ্যতার মাঝে;

দুঃখ-সুখের আকুলিবিকুলি হৃদয়ে নিয়ে,

সময়ের তালে ভেসে, চলা তার নিরুদ্দেশে! (সিক্ত অশ্রুজলে!)

সিক্ত অশ্রুজলে!
সিক্ত অশ্রুজলে!

“অন্তরের তৃষ্ণা” (সিক্ত অশ্রুজলে!)

আনমনে একাকী উদাসীন নির্জনতা,

দেখি না কিছুই স্মরণের জানালায়;

যা কিছু আমার ছিলো না কখনোই,

মনে হয় যেন ফেলে এসেছি নিরালায়!

মাঝরাতে ঘুম ঘোরে খুঁজে ফিরে মন –

আঁধারের মাঝে যারে স্বপনেতে দেখে;

তবুও নির্ঘুম রাত দিয়ে যায় ফাঁকি,

মনের অগোচরে যায় স্পর্শটুকু রেখে!

দিনের আলোতে আবারও তার লাগি,

এদিক ওদিক ছুটি দিশেহারা প্রাণে,

ছিলো না কখনোই যে এই আমারই –

সে কি আর ধরা দেবে আমারই টানে!

অন্তরের তৃষ্ণা তাই অন্তরেই দিই রেখে –

ভুলে থাকি সময়ের সাথে আপনমনে;

তবুও কখনো বা একাকী অন্ধকার ক্ষণে,

কেঁপে উঠে দুর্বল প্রাণ, ব্যথা শিহরণে!

“দেবে কি তৃষ্ণার জল?”

আমাকে একটু তৃষ্ণার জল দেবে কি?

বুকের পাঁজরে, হৃদয় গভীরে –

শুধুই অনন্ত তৃষ্ণার জ্বালা!

দেবে কি এতোটুকু তৃষ্ণা মেটানোর জল?

রাত্রি কিংবা দিনে, বর্ষায় কিংবা ফাগুনে,

প্রাণের মাঝে পাই না খুঁজে প্রাণ!

ছটফটিয়ে নিতি, ভীষণ কালো অন্ধকারে,

তৃষ্ণা নিবারণের তরে খুঁজে ফিরি জল!

দেবে কি বলো, দেবে কি আমায় এনে –

খুব বেশী কিন্তু নয়, এতোটুকু মাত্র,

এতোটুকুই শুধু, তৃষ্ণা মেটানোর তরে জল?

অথৈ জলের প্লাবনে চলেছি ভেসে নিয়তই!

ডুবি আর ভাসি, ভাসি আর ডুবি –

আকাশের হাতছানি আর অতলের টানে,

পৃথিবীর মাঝে যেন জলের তরঙ্গ কেবলই!

জলের আধিক্যে হাবুডুবু খেয়েও এই প্রাণ,

তৃষ্ণার জলের তিয়াসে শুধুই কাঁদে অফুরাণ!

দেবে কি এনে বলো,

দেবে কি আমায় এতোটুকু তৃষ্ণার জল?

মস্তিষ্কের নিউরনে উত্তপ্ত শঙ্কিত হাহাকার!

হৃদয়ের অলিগলিতে সর্বত্রই,

ঝড়ো তান্ডব আর অবিরাম শিলা বর্ষণে,

ক্ষুব্ধ আহাজারি আর করুণ আর্তচিৎকার!

শুধুমাত্র এতোটুকু তৃষ্ণার জল পেলে –

হয়তো বা প্রশান্ত মন নিয়ে,

মহাবিশ্বের মহা প্রলয়ের অতলে যেতেও,

ভীত সন্ত্রস্ত হবে না এই প্রাণটি আমার!

দেবে কি আমায় এনে বলো,

দেবে কি আমায় এতোটুকু মাত্র তৃষ্ণার জল!

“খেয়ালের প্রতিমা!”

ভাবতেই পারো আমাকে তুমি,

যা মন চায় তোমার, ঠিক তাই!

ভাবতেই পারো, আমার সাম্রাজ্যে –

সবটাই শুধু আমি একেলাই!

ভাবনায় দুরন্ত ডানায় উড়ে গিয়ে,

তুমি খুঁজতেই পারো খেয়ালে –

আমার মাঝে তোমারই আকাশ,

হারাতে চাইতে পারো অনন্ত নীলে!

জীবন ছুটে চলে জীবনের খেলাঘরে,

সাথে থাকে অন্তবিহীন সুপ্ত বারতা;

একটি মনের অস্ফুট দহনের জ্বালা,

পুড়িয়ে খাক করে তারই জীবন খাতা!

আর তাই, তোমার ভাবনা তোমারই –

সেখানে আমি শুধুই খেয়ালের প্রতিমা!

আমাকে বুঝবে তুমি তবেই কেবলই –

শূণ্য হৃদয়ে যখন পাবে অফুরন্ত নীলিমা! !

একই সত্ত্বার পূর্ণ রূপের ধারক হয়েও,

তুমি-আমি থাকি লক্ষ যোজন দূরে;

আমার আকাশে আমিই উড়ি একাকী,

সঙ্গী হয়ে তুমি কভু শূণ্যতা না দাও ভরে!

“জীবন্মৃত”

না, ভালোবাসার কমতি আমার,

ছিলো না কখনোই!

কখনোই ভাবিনি –

জীবন চলছে তোমাকে ছাড়া!

প্রতি পদে পদে মনে হয়েছে,

পাশেই আছো তুমি –

তাই নিজের মাঝে কখনো আমি,

হইনি দিশেহারা!

আজও আছে আমার অন্তঃপুরে –

ঠিক তেমনি ভালোবাসা!

প্রাণের অগোচরে ব্যথিত প্রাণে,

আজও তোমারই আশা!

প্রাণের ভেতরে জেগে আছে নিতি –

তৃষ্ণার অন্তহীন প্রকোপ,

এতোটুকুও তার আজও কমেনি,

সেই দুরন্ত পিয়াসা!

ফিরে আসবার পথ নেই আজ আর,

আমি জানি!

জীবন তরঙ্গের ক্ষিপ্ত দোলায়,

ছিটকে গিয়েছি বহুদূর আমি-তুমি!

ধূলায় লুটিয়ে সর্বস্ব হারিয়েও যদি,

ফিরে আসে কভু পথ,

অবাক পৃথিবীতে অবাক বিস্ময়ে,

তাকিয়ে র’বো এই আমি!

তাই আজ আর ভাবি না –

জড়াবো আলিঙ্গনের মায়ায়, কিংবা

দুঃখ সুখের উল্লাসে মেতে মত্ত আবেগে,

কেড়ে আনবো রাঙা সূর্য!

পার্থিবতার উন্মত্ত দাবানলে আজ

জীবনেরই বোঝাপড়া, তাই

ভালোবাসার সাথে জীবনকে মিশিয়ে,

আমি হই না অধৈর্য্য!

“আমি যোদ্ধা”

লড়ে যাচ্ছি দীর্ঘ এই মানব জনম,

জন্মক্ষণ থেকে অদ্যাবধি!

ক্লান্ত শ্রান্ত বিধ্বস্ত পর্যুদস্ত আমি আজ,

যেন অগ্নি বর্ষনে পুড়ে খাক নিরবধি!

মাতৃজঠরে থেকে শুরু করেছিলাম –

নিয়তির অতি সূক্ষ্ম বিভাজনের সাথে!

আমি এক যোদ্ধা তাই, এক নির্ভীক যোদ্ধা –

প্রতিটি স্পন্দনে আর অসম্ভব যন্ত্রণাতে!

আমার লড়ে চলার পথ অন্তবিহীন,

আমার ভেসে চলার মাঝে শুধুই দীর্ঘসূত্রিতা!

জীবনের অন্তে – হয়তো কিংবা হয়তো বা না,

যুদ্ধের অবসানে পাবো অনিমেষ দৃঢ়তা;

কিংবা আরেক যুদ্ধের ময়দানে আমার,

যন্ত্রণার কাতরানি সয়ে সয়ে হবে পথচলা;

কিংবা এমনও হতে পারে – পূর্ণ আবেশে,

পেয়ে যাবো আমি অপার্থিবতার পুষ্পডালা!

আমি ভীত নই এই লড়ে যাবার খেলা,

কিংবা যুদ্ধের বিপুল দামামাতে;

আমি শঙ্কিত নই পার্থিবতার শৃঙ্খল, অথবা

যুদ্ধবাজির কাঠিন্য আর বেপরোয়াতে;

শুধু তোমারই কৃপাধন্য প্রাণে যদি,

তোমারই রঙের ছোঁয়া নিয়ে ভেসে যাই;

প্রতিটি জনমের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তোমার স্পর্শ থাকে,

আর কিছুতেই প্রাণের কোনো ভয় নাই!

“স্বপনের জালে”

স্বপনের প্রাণবন্ত দুয়ার খুলে চেয়ে থাকি –

অন্ধকারে আচ্ছন্ন ঘোরে,

খুঁজে ফিরে মন, কারে যেন অনুক্ষণ,

বুঝি বা যে আছে প্রাণের গভীরে!

স্বপন মাঝে তবুও পাই না তার দেখা,

প্রাণের গভীরেও সে যে খেলে লুকোচুরি;

ঝড়ো বাতাস শিস দিয়ে চলে যায়,

বৃথাই আমি শুধু, স্বপনের জাল বুনি!

বিক্ষিপ্ত প্রাণের দুঃসহ নিস্তব্ধতার মাঝে,

চাপা কান্নার অশ্রু অনল পড়ে ঝরে;

তবুও আমি স্বপন জড়ানো আঁখি মেলে,

পথ চেয়ে থাকি, রাত্রি পেরিয়ে নিশিভোরে!

ভীষণ ঝড়ের তান্ডব লীলার প্রচন্ড গতি –

উড়িয়ে নিয়ে যায় স্বপন বিভোরতা;

আঁখি মেলে ছলছল উথলিয়ে জলে,

প্রাণ তবুও খুঁজে ফিরে, প্রাণে প্রাণে মত্ততা!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful poems by renowned poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *