“আশায় দীপ্ত প্রদীপ”
নিষ্ঠুর সময়ের যাতাকলে পিষ্ট এই জীবন,
সময়ের তরী তবুও বইছে নিরবচ্ছিন্ন;
কষ্টের তীব্রতায় পুড়ে ছারখার সারা অস্তিত্ব,
অন্তরের দহন তবু্ও পোড়াচ্ছে বিনা বিঘ্ন!
প্রেমের নেশায় মাতাল প্রাণে জাগে ঘুমন্ত মন,
জীবন নেশার ফাঁদে তবু নিষ্প্রভ প্রেম;
ছলচাতুরীতে জড়ানো জালের প্রতিটি প্যাঁচে,
জীবনের খেলাঘর, শূণ্যতার বুকে ধ্যান!
অশনি সংকেত শুনি রাত্রির প্রহরের মধ্যভাগে,
ঘুম ভেঙে চকিতেই খুঁজে ফিরি রবির আলো;
অমানিশার অন্ধকারে ছেয়ে সারা বিশ্ব চরাচরে,
যেদিকেই তাকাই দেখি সব দুরাশার কালো!
তুমি আছো বলে সাথে আমি আজো সাধি গান,
রাত্রির আঁধার কেটে খুঁজে ফিরি দীপমালা;
সময়ের অস্থিরতা ভেদ করে ছিঁড়ে ফেলি বন্ধন,
হৃদয়ের সমস্ত জুড়ে রাখি তব সুরের দোলা!
“মনালাপ”
তেমন করে আর ডাকি না তোমায়!
কেন ডাকি না, জানো?
মনে হয়, তুমি খুব বিরক্ত হও!
যদিও জানি,
আমার উপর তুমি বিরক্ত হতেই পারো না;
না, ঠিক বললাম না,
কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্ত হও বৈকি!
তাই, তোমাকে ডাকতে গেলেই,
মন খানিকটা বাঁধ সাধে!
ভাবছো, ডাকিই না,
তবে বাঁধ সাধে কেমন করে!
হ্যাঁ, ডাকিই না তো, কিন্তু
তোমাকে যে এই প্রাণ বারবার ছুঁয়ে যায়;
আর সেই সব ক্ষণেই যখনই ডাকবো ভাবি,
মন আজকাল দৃঢ়ভাবে বাঁধ সাধে!
আর আমিও নিজেকে সংযত রাখি!
আর যাই হোক,
তোমাকে অন্তত বিরক্ত করতে চাই না!
তবে আমাকে তুমি, যখন মন চায়,
ডাকতে যেন ভুলো না!
আমি যে সেই একটি ডাকের অপেক্ষায়,
প্রতিটি মুহুর্ত প্রতিটি স্পন্দনে প্রতিটি ক্ষণ –
জানোই তো সে কথা তুমি!

“স্ব-সংলাপ: আশায় দীপ্ত প্রদীপ”
তোমার কি মনে হয়? আমি পারবো না?
হিহিহি, একদম ঠিক। আমি সত্যিই পারি না।
তোমাকে ছাড়া আমি কিছুই পারি না!
কেন এতোটা এড়িয়ে চলো আমাকে?
কিছুই যে নেই আমার, সে কারণেই! তাই না?
ঠিক বলিনি? তাহলে কি কারণ তুমিই বলো?
বলতে চাও না?
বেশ, তবে আমিই বলি – জড়িয়ে যাবে বলে নিশ্চয়ই!
হিহিহি, আমি জানি সেটাই কারণ!
এড়িয়ে চলে যদি তোমার মন স্থির থাকে, বেশ তো!
কি বললে, তবুও অস্থিরতা ছাড়ে না তোমাকে!
কি করে ছাড়বে বলো?
জীবন মানেই তো অস্থিরতার সমাহার!
জীবনের দুর্বোধ্যতায় স্থির থাকতে মানুষ পারে না, পারে না!!!
“তোমাতেই প্রাণ মম”
ভালোবেসে মম হৃদয়েরও মন্দিরে,
আমি রেখেছি কেবলই তোমারে!
আমারও প্রাণের বাঁশীতে শুধুই নাথ,
সুর ঝংকারে তব সুমধুর নামের সুরে!
তুমি দেখো সবই তার, জানো সবটাই,
আমার ভালোবাসায় আছো তুমি!
তোমারই সৃষ্টির প্রতিটি স্পন্দনেতে,
অজানা বন্ধনে মিশে আছি আমি!
একতারারও একটি তারের খেলায়,
গান গেয়ে যাও তুমি একাকী আপন সুরে;
ঠিকই তারে আমি খুঁজে নিয়ে প্রাণে,
অতি সন্তর্পণে শুনে যাই, মনপ্রাণ ভরে!
আমার সকলই তোমারই কারণ বিরাজে,
তোমাতেই থাকি সদা আপনি অনন্তর;
হাসি কান্নার মাঝেও খুঁজে ফিরি তোমায়,
মনের মাঝে রেখে তোমারেই নিরন্তর!
“নরকাগ্নি”
পুড়ে খাক হয়ে গেলো সব!
পায়ের গোড়ালি থেকে মস্তিষ্ক অবধি,
মস্তিষ্কের নিউরন থেকে
পায়ের গোড়ালির টেন্ডন অবধি,
সব, সবকিছু পুড়ে হয়ে গেলো খাক!
তোমারই বিনে আমার হৃদয়ের গহীনে,
জ্বলন্ত অনলের দাউদাউ শিখা,
পুড়িয়ে অবিরাম করে দিলো ছারখার!
নিজেকে মনে হচ্ছে এক মু’ঠো ছাই!
কিন্তু এ যেন ছাই থেকে –
আবারও মাংসপিণ্ড,
আবারও হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, আর
মস্তিষ্কে নিউরনে আবারও কম্পন,
অবিরাম পুড়ে পুড়ে জ্বলন্ত অঙ্গার!
নরকের অনল কি তবে এমনই হবে?
হৃদয় আর মাথার ভেতর সদা জাগ্রত;
দেহাবশেষ বলে কিছু নেই!
আর অক্ষত দেহ এখানে,
অথচ গলিত উদগীরণ!
পোড়নের আঁচে ধুকপুকানি আর
ক্রমাগত স্রোতের কম্পন মাথার নিউরনে!
উফফ! কী ভীষণ অগ্নি দহনের রেশ!
শুধু তুমি, একবার দিলে প্রাণের স্পর্শ,
নিমেষেই আবার –
স্বর্গীয় সুধায় রূপ পাবে সমস্ত ছাই ভস্ম!
“ক্লান্তিতে হই সর্বহারা!”
কেউ যদি অনায়াসে মনের ঘরে তুলে ঝড়,
ঝড়ের তান্ডবে ভেঙে দিয়ে যায় –
সমগ্র বিশ্ব চরাচর!
যদি জীবনের স্রোতে ভেসে মনের বীণায়,
দুরাশার আধি বজ্র বেগে এসে –
মনের দু’কূল ভাসায়!
যদি তুমি আমার ডাকে না দাও আর সাড়া;
সেই নীরবতার করাঘাতে যদি আমি –
ক্লান্তিতে হই সর্বহারা!
তোমার মনের মাঝে যদি আমায় নাহি পাও!
অস্তাচলের ক্ষণেও যদি তুমি –
প্রভাতের পুলকিত রঙে লুটাও!
যদি আমার শূণ্যতায় তোমার সব লাগে ফাঁকা!
যদি জানতে একটিবার শুধু তুমি,
তুমি বিনে আমি কতোটা একা!
তোমার মনে যদি এঁকে দিতাম আশার আলো;
যদি সেই আলোতে তুমি নিভাতে পারতে,
জীবনের দুর্বোধ্যতার সমস্ত কালো!
কি জানি কি হতো – কিই বা বুঝি আমি তার!
শুধু জীবন কারাগারে মন তড়পায় বারেবার!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali poems written by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/
