“আবহমান প্রেমের নেশায়”

“আবহমান প্রেমের নেশায়”

ভীষণ রকমের আবেগপ্রবণ তোমার মন!

আর তাই, মনের ডাকেই ইচ্ছে মতো তুমি,

কাছে এসেও আবার দূরে দূরে চলে যাও,

দূরে গিয়েও আবার বুকেতে টেনে নিয়ে,

আবহমান প্রেমের নেশায় –

মনের গভীর গহীনে অদম্য তৃষ্ণা জাগাও!

ভীষণ ভালোবাসো তুমিও কারণে অকারণ!

আর তাই, ভালোবাসার অনলে পুড়ে নিজে,

যখন যেমন ইচ্ছে আমাকেও পোড়াও ভীষণ!

পুড়ে পুড়ে আমি জ্বলে উঠি চকিতেই, আর

ছটফটাই নিশি-দিন-ক্ষণ তৃষ্ণায় তোমারই!

প্রেমের ধারা আবহমান কাল থেকে এমনই –

প্রেমেরই অনলে পুড়ে দু’জনেই খাক, আর

আর জনারেও পুড়িয়ে, তবেই হয় নির্বাক!

অসম্ভবের তাড়নায় প্রেম ভেঙে করে চুরমার –

আঁধারের কালো আর, ভালোবাসে বেশুমার!

আবহমান প্রেমের নেশায়
Passion of Love!

“সময়ের ঘড়ি”

জীবনের সবটুকু আলো যেদিন নিভে যাবে,

সমস্ত অস্তিত্ব যেদিন বিলুপ্ত হয়ে মাটিতে মিশবে,

যেদিন আমি আর তোমার কথায় হাসবো না,

পথের ধারে দাঁড়িয়ে আর আকাশ দেখবো না,

তোমার ব্যথায় ছলছল চোখে ঝরবে না অশ্রু,

তোমার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখবো না ছায়াতরু,

একটি ডাকের জন্য যেদিন আর হবো না উতলা,

স্মৃতির পাতা ঘেটে খুঁজবো না আর বন্ধুদের মেলা,

নীরব অভিমানের দহনে পুড়বো না যেদিন আর,

স্বপ্ন আঁখি মেলে নিমগ্নতায় পাড়ি দিবো না পারাবার,

জ্যোৎস্নায় যেদিন সবুজ ঘাসের বুক ছুঁয়ে যাবো না,

যেদিন তোমায় আর অঝোরে বৃষ্টি ঝরাতে বলবো না,

আদিত্যের কিরণ কপালে আঁকবো না যেদিন আর,

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের দোলায় দুলবো না আবার,

নদী পাড়ের ছলাৎছলাৎ ধ্বনিতে কাঁপবে না অন্তর,

ডাহুক ডাহুকীর ভেসে চলায় যেদিন শুধুই মনন্তর,

দূর পাহাড়ের কোল ছুঁয়ে ঝর্ণার ব্যাকুলতা হবে বিলীন,

বিন্দু বিন্দু ভালোবাসার বিচ্ছুরণ আর হবে না যেদিন,

কে যেন তোমায় ডেকে ডেকে আর করবে না অস্থির,

কারো কথার ফুলঝুরিতে তুমি খুঁজবে না প্রাণের নীড়,

কারো সুখের নিবাসে যেদিন দিবো না আর পদধূলি,

যেদিন আমাকে হারিয়ে অজানার পটে রাঙাবো রঙতুলি,

পুড়ে যাওয়া ঘরের উঠোনে যেদিন কেবলই অন্ধকার,

যেদিন হয়তো থাকবে কেউ কেউ শবদেহ ঘিরে আমার,

সেই দিন –

সময়ের ঘড়ি থেমে যাবে, অস্ফুট কম্পনে সব হবে স্থির,

পৃথিবীর সব আলো নিভে যাবে, আঁধারে ঘনাবে আবীর;

আমি জানি না সেই অজানার আলোকিত রূপের ছটা,

শুধু ছেড়ে যাবো জানি, তুচ্ছ করে দিয়ে মেঘের ঘনঘটা!

“তোমারই নেশা – আবহমান প্রেমের নেশায়”

থাকি না আমার মাঝে আমি আর,

তোমারই নেশা পেয়ে বসে যখন তখন;

হৃদয়ের তারে টুং টাং সুর উঠে বেজে,

শুধু তোমারেই খুঁজি পাগলের মতোন!

শূণ্যতার আহ্বানে উন্মাতাল সুরের টানে –

হারিয়ে চেতনা আর দিকবিদিক জ্ঞান,

এদিক ওদিক চারিদিকে ছুটে চলি শুধুই,

খুঁজে ফিরি শিমুল আর পলাশের ঘ্রাণ!

পারিজাতের তৃষ্ণায় আঁখি হয় ছলছল,

ফিরি স্বর্গীয় অনুভুতির স্পর্শ নিয়ে হৃদয়ে;

জানি তোমারেই পেয়েছি হৃদয়ও মাঝারে,

তবুও উচাটন মন তোমারই তৃষ্ণা নিয়ে!

তুমিই যে আছো হৃদয়ের অথৈ অতলে,

তাই তো তুলো সুরেরই রিনিঝিনি ঝংকার;

উথাল-পাথাল ঢেউ আছড়ে পড়ে তাই,

আমারই এই হৃদয়ের গভীরে বারেবার!

“অবুঝ প্রেম!”

তুমি জানো না, তুমি মোটেও জানো না,

কতোটা উতলা আমার প্রাণ তোমারই জন্য!

তুমি বোঝো না, কিংবা বুঝেও বোঝো না,

কতোটা পুড়ে হৃদয় আমার জ্বলন্ত অঙ্গার!

তুমি কিছুই জানো না, দেখো না কিছুই!

আমার মাঝে তুমি রয়েছো প্রতিটি স্পন্দনে,

তবুও পারি না আমি কিছুতেই দেখাতে তোমায় –

কতোটা অস্থিরতার কম্পন এই হৃদয় জুড়ে,

রাত্রি দিন আমাকেই করে চলেছে ক্ষয়!

বোঝো না তুমি কিছুই তার, দেখেও দেখো না –

কী নিদারুণ অসহায় এই অন্তর আমারই,

কেবলই তোমারই ভাবনায়!

তুমি বোঝো না, তুমি একটুও বুঝতে চাও না!

আমার সকল কিছুর মাঝে তোমাকেই খুঁজি,

তোমাকেই নিয়ে এই প্রাণেরও মধ্যিখানে –

আমি সাজাই নিরন্তর, কতো যে রঙের বাহার,

শুধুমাত্র তোমারই স্পর্শের ব্যাকুল তৃষ্ণায়!

তুমি জানো না, কিংবা জেনেও জানতে চাও না!

আমি শুধুই একাকী অন্ধকারে পড়ে থাকি –

এই বুঝি তুমি ডেকে গেলে, সে আশায় জেগে!

আমি কেবলই নিজেরই অজান্তে তড়পাই,

তোমারই রঙের স্পর্শের একটুখানি সুধা নিতে!

তুমি তো তা বোঝো না, জানো না কিছুই,

শুধুই এড়িয়ে যাও আমায় নীরবে অবহেলে!

তবুও পথ চেয়ে রই জেগে, ভাবি এই বুঝি এলে!

“তোমারই জন্যে”

আমি তোমাকেই এনে দিতে চাই –

ঐ দূর দিগন্তের আলোর ঝিলিক!

রাজবেশে তুমি পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে,

দেখবে আলোয় ঝলমলে চারিদিক!

সৌম্য সুন্দর অবয়বের মাঝ থেকে,

তাকিয়ে তুমি মিটিমিটি হাসবে!

অতি দূর থেকে দেখবো আমি,

তোমার সেই দৃষ্টিতে আড়াল রেখে!

জনারণ্যে ভরে উঠবে আকাশ ছুঁয়ে মাটি;

ভীষণ এক ব্যস্ততায় আদিত্য স্বয়ং,

অন্তরীক্ষে করবে লুটোপুটি!

অপরিসীম মুগ্ধতায় অপলক মায়ায়,

বিশ্বলোকে ছড়াবে আলো, ঝর্ণার ধারায়!

সুন্দরের সেই অনন্ত ধারায় মিশে,

পৃথিবী উন্মাতাল র’বে ভালোবাসার নেশায়!

আর আমি, আমি তোমাকেই দেখবো শুধু!

আমার অস্তিত্ব আর সমস্ত চেতনায়,

কেবলই তোমারই শুভ কামনায়,

হৃদয় নিংড়ানো প্রাণের স্পর্শ পাবে, পাবে –

তোমারই জন্যে স্বপ্নআঁখি ছলছল জলে ভাসা,

এক গুচ্ছ দোলনচাঁপার পুষ্পার্ঘ্য!

“ভালোবাসা তো এমনই”

ভালোবাসার অনলে তোমাকেই পোড়াবো!

হৃদয়ের গভীরে তোমাকেই গেঁথে রাখবো!

প্রবল আকর্ষণে তোমাকেই বেঁধে,

মনেরই আয়নাতে শুধু তোমাকেই দেখবো!

আমি তোমাকেই ভালোবাসি।

স্বপ্নের উড়ন্ত ডানায় তোমাকে নিয়ে,

ভেসে বেড়াবো দু’জনে, দুরন্ত খেয়ায়!

শুধু তোমারই রঙের ছোঁয়া নিয়ে আমি,

হৃদয়ের ক্যানভাসে অমলিন ছবি আঁকবো!

অসম্ভবকে পাওয়ার আশে আমি –

স্বপ্নের ডানা মেলে দিগন্ত পেরিয়ে যেতে,

সুদূরপ্রসারী এক স্বপ্নের জ্বাল বুনবো!

তোমাকেই আমি ভালোবাসি!

তোমারই জন্য সকল বন্ধন ছিন্ন করে দিয়ে,

শুধু তোমাকেই আপন হিয়া মাঝে রাখবো!

সবুজ প্রান্তরের বিস্তীর্ণ পারাবারে আমি,

তোমাকেই, শুধু তোমাকেই জড়িয়ে থাকবো!

নীল আকাশের নীলিমার মায়ায় জড়িয়ে,

আমি তোমারই, শুধু তোমারই সুরে গাইবো!

ভালোবাসি আমি তোমাকেই!

প্রখর রৌদ্র তাপে তুমি ঝরাবে মুষলধারা,

বৃষ্টিস্নাত হয়ে আমি শুধু তোমাতেই হারাবো!

তোমার জন্য সমস্তটা উজাড় করে দিয়ে,

তোমাকেই, শুধু তোমাকেই ভালোবেসে যাবো!

ভালোবাসার অনলে পুড়ে অবশেষে দু’জনেই,

স্বর্গীয় সুধা ভরা প্রাণে, অনন্ত পথ পাড়ি দিবো!

ভালোবাসি আমি তোমাকেই, শুধু তোমাকেই!

https://lucysjourney.com/

You may read beautiful Bengali Poems by renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *