“পার্থিবতার শৃঙ্খলে মুক্তি”
একটি মানুষের রূপে –
অবস্থান, সময় এবং পাত্রভেদে –
আচরণের বিচিত্রতা থাকে;
আর সেই বৈচিত্র্যময় আচরণ,
কখনোই মানুষটিকে
তার আসন থেকে সরায় না!
বরং পুত্রের কাছে পিতা,
বোনের কাছে ভাই কিংবা
স্বামীর কাছে স্ত্রী, বন্ধু’র কাছে বন্ধু –
সর্বক্ষেত্রেই স্ব স্ব রূপের যথার্থতা,
মানুষটিকে তার অবস্থানে
আরো সুদৃঢ় করে।
আমি আমার মাঝে যেমন
সেই বিভিন্নমুখী রূপের ঝলক দেখি,
ঠিক তেমনি, তোমার মাঝেও,
সুস্পষ্টভাবেই তা দেখতে পাই।
মানুষের আচরণের সততা
যেমন মুগ্ধ করে,
আচরণের পেছনের দুরভিসন্ধিতা
তেমনি আহত করে।
মনোভাবের ইতিবাচক প্রভাবে
যেমন প্রশান্তি মিলে,
নেতিবাচক প্রভাবে তেমনি
ক্লান্তি আর অস্থিরতায়
প্রাণ ছটফট করে।
পার্থিবতার শৃঙ্খলে –
তোমাতেই আমার মুক্তি আর
আমাতেই তোমার।
আর সেই মুক্তি
আমি তখনই তোমাকে দিতে পারি,
আমার থেকে যখন
ইচ্ছাকৃতভাবে কারো মন বা জীবনে,
ভাঙ্গনের ঢেউ খেলে যাবে না।
আর তুমিও ঠিক সেভাবেই পারো,
এনে দিতে আমার মুক্তি।

“ইচ্ছের অন্তরালেও, পার্থিবতার শৃঙ্খলে মুক্তি”
ইচ্ছে হলেই যদি সবকিছু,
ভেঙে চুরমার করে ফেলা যেতো,
ইচ্ছে হলেই যদি,
আকাশের নীলে ভেসে যাওয়া যেতো;
হয়তো এক নিমেষেই,
পাল্টে দিতাম অন্ধকারের ঘোর,
এক পলকেই ভেসে যেতাম,
দূর থেকে আরো দূর, বহুদূর!
জীবনের অপূর্ণতা গুলো,
একটু বেশীই ভাবিয়ে তুলে প্রাণ!
সময়ের সাথে সেগুলো যেন,
আরও বেশী প্রকোপতায়,
জীবনের সুতো ধরে দিয়ে যায় টান!
শুধু ইচ্ছে দিয়ে যায় না তা ঠেকানো,
জীবন থেকে খুশীর জোয়ার তাই,
ভাটার টানে ভুলে যায় সব গান!
ইচ্ছে হলেও মরে যায় সব ইচ্ছেগুলো!
ইচ্ছের অন্তরালেও অশ্রু অনলে,
পুড়ে পুড়ে খাক হয়ে,
সবকিছু হয়ে যায় এলোমেলো!
জীবন তরী তছনছ করে দিয়ে চলে,
জীবন নদীর পাড়ে ভাঙ্গনের খেলা;
ইচ্ছে মতো গড়া মাকড়সার জাল বুনে,
ভাঙ্গনের খেলাতেই পার হয়ে যায় বেলা!
“অনুরাগ”
আমি চাইনি যেতে ঐ কোলাহলে;
তুমি মানো কিংবা নাই মানো,
আমার সকল নিয়ে
আমি বসে ছিলাম,
শুধু তোমাকেই জড়িয়ে র’বো বলে!
আমার কষ্টে দুরুদুরু এই অন্তরে,
শুধু তোমারই,
তোমারই ছবি আমি এঁকেছিলাম;
তুমি তা একটিবারও দেখলেও না,
আমায় গেলে নিতান্ত অবহেলে!
আমার সকল কিছুর মাঝেই আমি,
প্রাণের স্পর্শে অনুভবে,
বেঁধেছিলাম প্রাণ;
তুমি সেই স্পর্শটুকুও ভীষণ হেলায়,
মিশিয়ে ধূলায়, বিলীন করে দিলে!
আমি আর চাই না কোনো মায়া;
মায়ার বন্ধন তাই,
নিমেষেই ছিঁড়ে দিয়ে যাই;
হতচ্ছাড়া এই জীবনের খেয়া নিয়ে,
ডুববো এবার মহা প্রলয়ের অতলে!
“নিঃসঙ্গতায় একটি মানুষ”
নিঃসঙ্গ একটি মানুষের জন্য –
এক জীবনের
এই অতি ছোট্ট খেলাঘর –
এক অনন্ত মহা সমুদ্র!
প্রাণান্ত ঝাপাঝাপি করেও,
কিছুতেই পাড়ে ভিরতে পারে না!
কেবলই অনন্ত আকাশ,
আর উন্মাতাল ঢেউয়ের দাপাদাপিতে,
ডুবে আর ভাসে, ভাসে আর ডুবে;
যেন অস্তগামী সূর্যের,
উদয়ের পথে –
পিছু ফিরে যাবার একাগ্র প্রয়াস!
একটি মানুষের একটি জীবন,
বড় বেশী ক্লান্তিকর আর
অন্ধকারের আচ্ছন্নতায় ঘিরে থাকে!
খুঁজে ফিরে কেবলই একটু ভরসা,
একটু নিভু নিভু আলোর রেখা,
দুঃসহ যন্ত্রণার কাতরানি থেকে
একটুখানি মুক্তির তরে, কিন্তু
মুক্তি আর মিলে না জীবনের ভোরে!
জীবন খেলার অন্তে এসে তবেই,
তবেই মিলে মুক্তির বারতা!
একটি মানুষ, এক জীবনের খেলা শেষে,
তবেই পায় মুক্তি, কাটে নিঃসঙ্গতা!
“আমার অন্তর্ধানেই তো আমার যাত্রা!”
চিন্তা করতে পারো –
আমি লড়ে চলেছি জীবন খেলায় অবিরাম,
পাশে নেই কেউ, শুধুই শূণ্যতা; অথচ
আমি ছেড়ে গেলে এই মানব জনম, আর
সময়ের তালে ভেসে চলা ব্যাপক আয়োজন,
এই মানুষগুলোই এসে হবে একসাথে,
আমারই জন্যে অশ্রু ঝরাবে!! কেন? কেন?
ভাবনার জাল খুলে দেখলাম –
আসলে, আমার অন্তর্ধানেই তো আমার যাত্রা!
মহাবিশ্বের মহা শক্তিধরের মহা শপথের পথে,
সেই ক্ষণেই তো আমার হবে পূর্ণতায় রূপান্তর!
সেই ক্ষণেই তো আমার রূপের ঝলক চমকাবে!
তাই, চির বিদায়ের সেই চির অম্লান মুহুর্তে –
আমি ধন্য হবো তোমাদের পরম ভালোবাসায়!
এসো তোমরা সেই ক্ষণে জানাতে বিদায়, এসো!
“রহস্যের ভেদে উদ্ভাসিত”
অর্ধ শতকের এই মোড়ে এসেও যখন –
প্রেমের তৃষ্ণা জাগে শূণ্য অন্তরে,
ভেবে অস্থির অধীর হয়ে আকাশ দেখি,
প্রাণ ভরে হাসি খেলে এই অধরে!
ভাবনার সমুদ্রে ঢেউয়ের উন্মত্ত দোলায়,
নিজেকেই পুড়িয়ে চলি নিরন্তর;
আশা নিরাশার এই জীবনের খেলাঘরে,
রহস্যের ভেদে মেতে রই অনন্তর!
তোমাতে জড়িয়ে রেখে আমার এই হৃদয়,
আমি গেয়ে চলি অনুরাগের গান;
বুঝতে অপারগ আমি জীবনের দুর্বোধ্যতা,
তাই বারেবারে ছেড়ে যাই প্রাণ!
আমার আঁধার রাত্রি ফুরাবে যখন অবেলায়,
হয়তো তুমি দেখাবে রাঙা সূর্যোদয়;
হয়তো সময়ের খেলায় পাবে না আর আমায়,
চোখ বুজে আমি করবো জীবন জয়!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali poems by renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com
