“সবটাই কি ছিলো জানা?”
- সবটাই তো তোমার ঠিকই ছিলো জানা!
তাই না?
কিছুই তো তার ছিলো না অজানা!
এমনই এক সময়ের স্রোতে ভাসিয়ে তরী,
অজানা ছিলো না জীবন দিতে হবে পাড়ি!
- সত্যিই কি জানা ছিলো এতোকিছু?
বুঝতে অপারগ তবুও,
অস্থিরতা নিতি তাই হানা দেয় পিছু!
মাথার ভেতরে এক রাশ নিয়ে অভিমান –
প্রাণ তড়পায়, চারিদিকে সব খা খা বিরান!
- তুমিই তো নিয়েছিলে বেছে মরুভূমি!
তৃষ্ণা মিটাবার জল নেই সেথা –
উদার আকাশ শুধুই যায় কপোল চুমি!
- বেছে নেবার সাধ্য কি ছিলো কভু আমার?
আমি যে জন্মেছি নিয়ে –
কেবলই সেই তার, পরিপূর্ণ রঙেরই আধার!
- জীবনের এই রঙ্গমঞ্চের সাজানো বাহারে –
জীবনের মানে নয় যে সহজ অতি,
তুমি মানো কিংবা নাই বা মানো তারে!
শুধু মনে রেখো –
পরম শক্তির মাঝে তোমার এই সমর্পণ,
জীবনের প্রাপ্তি, উপেক্ষিয়া সব কিছুরে।
সবটাই কি ছিলো জানা? ভাবনার জালে হারাতে চাই না আর!
ভাবনার জালে মন হারাতে চায় না আর;
আকাশে চাঁদ আর জীবনে থাকুক –
শুধু তোমারই জন্যে, অনুভূতি বেশুমার।
যতোটুকু প্রেম এই হৃদয় জুড়ে পোড়ায়,
ততোটুকুই থাকুক সমস্ত জুড়ে –
তোমার স্পর্শেরই স্পন্দনটুকু ছুঁয়ে থাকায়।
ঝিলমিল আলো, টলটলে জলের মতো,
জীবনের বাকী দিনগুলোতেও তুমি –
থাকো চুপিসারে, এই হৃদয়াঙ্গনে অবিরত!
মেঘের ভেলায় চড়ে ভেসে চলি দূরে বহুদূরে;
অক্টোপাসের ঝাপটায় তুমি তবুও,
জড়িয়ে রেখেছো আমায়, অতি প্রেমময় সুরে।
ধ্রুবতারা তাকিয়ে আছে স্থির অপলক দৃষ্টি;
তুমিই তো জানো, রাত্রিশেষের ভোরে –
তোমাকে ভেবেই ভুলে থাকি দুঃস্বপ্নের ভীতি।
জনমের ঋণ শুধিতে পথের মায়ায় তড়পাই:
তবুও ভাবনার জাল আর নয় বিধি,
তোমার শরণে শুধু দিও আমায় এতোটুকু ঠাঁই।
বাঁধা পড়ে রই জীবন মরুতে।
বেরিয়ে এসেছি জীবন থেকে;
অথচ তবুও জীবনেরই আছি ভেতরে!
সময়ের সমস্ত আয়োজনে ক্ষণে ক্ষণেই তাই,
প্রাণপাখি অজান্তেই ধুকপুক করে মরে।
আমি বুঝতে পারি না কখনো বা,
কখনো বা আবার বুঝতে পারি সমস্তটাই;
জীবনের খেলাঘরে অস্থিরতার জালে,
জীবন নিয়ে কেবলই অকুলপাথারে লুটাই।
তোমাদের জন্যে প্রাণ কাঁদে আমারও,
বারেবারে তোমাদেরই মাঝে চাই ফিরে যেতে;
মায়ার বাঁধন তাড়িয়ে ফিরে চেতনার রঙে –
তবু্ও বাঁধা পড়ে রই আমি, জীবন মরুতে।
ক্ষমা করে দিও আমায় জানি অপরাধ শত,
হয়তো বা জীবন আর দিবে না অবকাশ!
মুহুর্তের এই নাতিদীর্ঘ সময়ের তালে মিশে –
আমি জানি না আর দেখবো কি নীলাকাশ!
জেগে আছি সুতীব্র কোলাহলের বিভীষিকায়।
আমার মাঝে আমারই এই থাকা,
মাঝে মাঝেই যেন –
ঝরা পাতার সখ্যতায়,
মাটির আলিঙ্গনে যাচ্ছে জড়িয়ে।
কি যেন এক –
অজানা নীরবতার শীতলতায়,
আমার অস্তিত্বের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ,
ঝরা পালকের ব্যথায় –
দুমড়ে মুচড়ে আঁৎকে উঠছে ককিয়ে।
রাত্রির শেষে ভোর হয়ে এলো প্রায়।
জেগে আছি আমি –
অন্ধকারের
সুতীব্র কোলাহলের বিভীষিকায়।
প্রাণের স্পন্দন
নিরানন্দ ছন্দে তার,
মুহুর্তেই মিশে যেতে পারে অজানায়।
কি এক ভয় যেন,
হঠাৎই জাপটে ধরেছে অশান্ত আমায়।

সময়ের সাথে সংস্পর্শ আমার!
হারিয়ে যাবার নেশায় আমি আসিনি পৃথিবীতে
পালিয়ে বেঁচে থাকাটাও আমার কর্ম নয়
সুবাতাস প্রশ্বাসে নিই আমি প্রতিটি ধমনীতে
তবেই এই জীবন আমার সার্থক সমৃদ্ধ হয়।
মানব আচরণের দিকগুলোতে শংকিত নয় প্রাণ
কেবল কিছুটা কষ্টের প্রলেপ দিয়ে যায় মেখে
তবুও নির্দ্বিধায় উপেক্ষা করে যাই সবটুকু তার
কিই বা হবে মনের মাঝে সংঘর্ষের ছবি রেখে।
জীবন সমুদ্রের প্রচন্ডতার ধারা অব্যাহত যেখানে
নীরবতা-নির্জনতা নিয়ে টিকে থাকাটাই শ্রেয়
নিয়তির বিধান অকাট্য দলিল যায় না খন্ডানো
সময়ের সাথে সংস্পর্শ আমার পরম বিধেয়।
আকাশ-পাতাল ভাবনার অতলে চলে জীবনতরী
স্বপ্নবাজের স্বপ্নগুলো উড়ে বেড়ায় অজানায়
হারিয়ে আমি যাইনি কোথাও জীবন নিয়ে ফিরি
আদিত্যের আলোর শিখায় একটু বাঁচার আশায়।
কি জানি কি সে ফিরে পেতে চায়!
স্বপনের দুয়ার খুলে –
ঘরের বাইরে কি গিয়েছো কখনো?
কখনো কি দুলেছো সেই দোলায়
যেথা রঙের বাহার সাজানো!
প্রজ্জ্বলিত শিখায় পুড়ে,
কৈশোরের সেই দুরন্তপনায় –
চোখের জলে হয়েছে কি কখনো,
ছবি আঁকার স্বপ্ন ছারখার,
প্রজাপতির ডানায়!
অঝোর বর্ষণে ভিজোনি কি তুমি,
ঝাউবনের উদ্দীপ্ত শাখা তলে?
ভীষণ অভিমানে –
কান্না কি লুকিয়ে ছিলে,
সুখ বিলাসিতার অনুরাগী ছলে?
জ্যোৎস্নায় রাতের মায়ায়
দেখোনি কি তাকিয়ে অতি উৎসাহে
পূবাকাশের ঐ চাঁদ?
খুঁজোনি কি ঊষালগ্নের মায়াবী ক্ষণে,
আদিত্যের উষ্ণতায় রাঙা –
আলো ঝলমলে প্রভাত!
অভিমানী মন –
তাকিয়ে ঐ দূরের নীলিমায়,
খুঁজে ফিরে ঝরে পড়া অশ্রুবিন্দু,
কি জানি কি সে ফিরে পেতে চায়!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali Poems by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com
