“জীবন-ভাবনা”

জীবন-ভাবনা

পৃথিবীর জঞ্জাল গোছানোর ব্যস্ততায় –

কেটে যায় সারা বেলা;

রাত্রিদিনের বাস্তবতা, কিংবা 

স্বপনের ঘোরেও, একই খেলা।

জীবনের নেই তো অবকাশ –

ভাববে সে জীবন নিয়ে;

অনন্তর সুখচ্ছবি আঁকে কদাচিৎ 

কেবলই তার হৃদয় পুড়িয়ে।

জীবন খাতার প্রতিটি পাতা পূর্ণ

রাশি রাশি দেনায়;

অংক কষেও মিলে না হিসাব, 

কে নেবে তার দায়!

খুঁজে ফিরি 

তৃষিতা হৃদিসরোবর ভরবার তরে জল;

চৈত্রের দাবদাহে 

সে জল শুকিয়ে বিরান শতদল।

অস্থির মস্তিষ্কের নিউরনে খেলে

অবিরত বিদ্যুতের ঝলক;

কৃপানিধির অশেষ মহিমায়, 

সেখানেও অহর্নিশ স্বস্তির পুলক।

আর কিসেরই বা জীবন-ভাবনা আমার!

এই তো বেশ, কৃপাধন্য প্রাণের আধার!

জীবন ভাবনা
অনন্তর সুখচ্ছবি আঁকে কদাচিৎ…

“জীবন-ভাবনা – অবিন্যস্ত আত্মদহনে”

ঘুমে যেন নুয়ে পড়ছে আজ চোখের দু’টি পাতা,

বুঝি বা তেপান্তরে হারিয়ে যাবার এসেছে বারতা!

অথচ জেগে আছি কী ভীষণ অভিমানে,

ঘুমিয়েছে জীবনের খেলা, অবিন্যস্ত আত্মদহনে।

“আশার দীপশিখা”

আবারও লেখালেখি হয়ে উঠছে না, 

যেমনটি আমার লেখবার কথা!

অন্ধকারের সুতীব্র চীৎকার যেন,

কুড়ে কুড়ে খায় সমস্ত নীরবতা! 

তবুও এরই মাঝেই বসবাস!

জীবনের আজকের এই জুড়ে থাকা!

নিয়তির কাছে বন্দী চেতনার –

এমনটাই বুঝি বা ভাগ্যের লেখা।

মাঝে মাঝে নীরবে ভাঙচুর করে, 

নিজেতেই আসি ফিরে;

সময়ের সাথে আপোষের দৃঢ়তায়,

জেগে আছি আঁধারকে ঘিরে।

আলোর দীপশিখা হয়তো একদিন,

মিলিয়ে দিবে সকল আঁধার;

সেই আশার একটুখানি আলো নিয়ে,

বয়ে চলেছি এতোটুকু জীবন আমার।

“অচেনায় বসবাস”

অচেনা লাগে ভীষণ, ভীষণ অচেনা!

জীবনের ধরণ আজকাল বুঝতে পারি না! 

অচেনা পথের বাঁকে দাঁড়িয়েছি এসে,

বুঝতে পারার অবকাশ গেছে অজানায় মিশে!

নিশ্চয়ই এমনটাই হবার ছিলো কথা –

পথের পুরোটাই যে কন্টকে জড়িয়ে গাথা!

পথের মোড়ে মোড়ে কেবলই অন্ধকার, 

কেনই বা পাবো কোথাও স্পর্শ মমতার!

মাঝে মাঝেই খুঁজে ফিরি এতোটুকু জল;

তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের অতলে রয় আঁখি ছলছল। 

জীবনের মানে নিয়ে ভাবনার গভীরে,

প্রাণপাখি জানে ঠিক যাবো সেথা ফিরে।

যতোটুকু পাই, সেই তো প্রত্যাশার অধিক;

তবু্ও প্রাণপাখির তড়পানিতে তটস্থ দিগ্বিদিক।

দুরাশার আড়ালেও আজও আশা নিয়ে আছি:

জগদ্বিধাতার কাছে সদা প্রাণের আশ্রয় যাচি।

“জীবনের ধারা”

যখন ছোট ছিলাম, জীবন বুঝিনি।

জীবন খাতার পাতা উল্টে দেখিনি।

জীবন ছিলো তখন,

বয়ে চলা স্রোতস্বিনী নদীর মতন।

কৈশোরে পা দিলাম যখন,, 

চকিতেই কষ্ট স্পর্শ করে যেতো ভীষণ।

তারই মাঝে সহসাই,

তোমাতে বিভোরতার ইশারা পাই।

যৌবনে এসে, 

ফুল আর নদীর মায়ায় –

কেটে যেতো বৈচিত্র্যময় দিন, 

আর রাত্রির ক্ষণগুলো চাঁদের ছায়ায়।

তারপর থেকে –

পথচারী জীবনের বিভীষিকায়,

অস্থিরতার অনল আমাকেই পোড়ায়।

এখন আমার মাঝে জীবনের মিশ্রণ;

সব একসাথে –

শৈশব কৈশোর আর উন্মত্তা যৌবন।

এখন আমি আবারও জীবন বুঝি না।

জীবনের পরতে আর জীবন দেখি না।

এখন কেবলই ফিরে যাবার তাড়া,

মুহুর্তের মায়াজালে তাই রাখি না পাহারা।

“তবুও জীবনের কলতান!”

সময়ের সাথে পাশ কেটে চলছে জীবন। 

জীবনের জন্যে জীবনের সমস্ত আয়োজন। 

তোমার সাথে আমার সম্পর্কের মায়াজাল – 

ছিন্ন বিচ্ছিন্ন আজ, 

               তাই মিলাতে পারি না তাল। 

ঘোলাটে এই অবিন্যস্ত অস্তিত্বের মাঝে, 

খুঁজি না ধ্রুবতারা আর সন্ধ্যার সাঝে। 

একেলা প্রাণের একেলাই আনাগোনা, 

অস্থিরতার রেশ তাই আজও তো গেলো না।

পথের মায়ায় তবু্ও কাটে সারাবেলা।

তবুও তোমারই ভাবনায় এই প্রাণের মেলা।

আকাশনীল তেমন করে যদিও ডাকে না,

চাঁদের আলোয় তবু্ও মনে –

               এক রাশ উদাসীনতা বোনা।

ছুটে যায় মন, ছুটে যায় সমস্ত আমার,

হারিয়ে যেতে অজানায়, বারবার শতবার!

অথচ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে পার্থিব জটিলতায় –

মাঝে মাঝেই ক্ষুব্ধ ভীষণ প্রাণ, স্বস্তি না পায়!

জীবন তবুও প্রাণে প্রাণে গায় জীবনেরই গান!

নীলের আভায় সবুজের পটে আঁকা কলতান।

https://www.lucysjourney.com

You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *