মেঘের সাথে বৃষ্টির প্রেম

“মেঘের সাথে বৃষ্টির প্রেম”

মেঘের সাথে বৃষ্টির প্রেম –

       সেই জন্ম লগ্ন থেকেই! 

বৃষ্টির হৃদয় জুড়ে –

মেঘের নির্নিমেষ অবস্থান!  

ঝড়ের বিচ্ছিন্ন দাপটে কদাচিৎ 

       মেঘের ঘনঘটা!  

মাটির বুকে সিক্ত আভরণে –

তবুও বৃষ্টির স্পর্শ অফুরান!

কখনো বা বৃষ্টি মেলে দিয়ে তার, 

স্বপ্নের রঙিন ডানা –

ছুঁয়ে আসে নীল আকাশের 

       মেঘলা সীমানা!

কখনো আবার মিশে যায় –

মাটির তপ্ত বুকে;

হৃদয় নিংড়িয়ে রাত্রি দিন ভোর, 

       দুঃখ ভুলায়, তুমুল সুখে!

জমাটবদ্ধ মেঘের ভেলায় চড়ে,

       বৃষ্টির বর্ষনের উৎকন্ঠা;

প্রেমের নেশায় মাতিয়ে চরাচর, 

প্রেয়সী অজানায় বাঁধে ঘর!

আকাশের নীল চুপিসারে এসে,

       দিগন্তে লুটায় তার স্বপন;

প্রিয়ার চোখের ভাষা বিদ্ধ করে, 

       হানে ঝড়ো তান্ডব অনুক্ষণ!

মেঘের সাথে বৃষ্টির প্রেম
মাটির বুকে সিক্ত আভরণে –

মেঘের সাথে বৃষ্টির প্রেম: চাই বৃষ্টি মুখর উষ্ণতা!

নাহ, ঝড়ের সাথে নেই কোন –

               আপোষ বা সমঝোতা আমার;

দুর্দান্ত তান্ডবে, 

       ভেঙেচুরে দিয়ে যায় সে যে, 

               সুবিন্যস্ত পরিপাটি সংসার!

আমি বৃষ্টি চাই অবিরত, 

               ব্যাকুল তৃষিত হৃদয়ের ছায়ে!

মেঘ মালার 

       দুর্বিনীত কান্নার স্রোতে, 

               পৃথিবীর একুল অকুল যদিও ভাসে!

ঝড়ের রাত্রিতে কালো আধিতে, 

               কম্পিত প্রাণে বেপরোয়া অস্থিরতা;

বৃষ্টি স্নাত মৃত্তিকার 

       উষ্ণ বুকের তলে,

               জেগে উঠে ঘুমন্ত প্রাণের বারতা!

ঝড়ো তান্ডব নয়, চাই শুধু বৃষ্টি মুখর উষ্ণতা!

এসো বৃষ্টি, এসো!

বৃষ্টির প্রাণান্তর প্রতীক্ষা আমার!

মনে হয় যেন, 

যুগের বেড়াজালে সেই ক’বে,

সেই ক’বে যেন, 

ক’ফোটা স্পর্শ মিলে ছিলো তার!

সেই স্পর্শে ছিলো রঙের ছোঁয়া! 

সুশীতল তার অঝোর বর্ষনে,

পৃথিবীর বুকে জেগে ছিলো মায়া!

তারপর, পেরিয়ে গেলো কত কাল!

পেরিয়ে গেলো অকারণেই,

সূর্য গ্রহনের ক্ষণে অস্ফুট মহাকাল!

আর সেই থেকে, সেই থেকেই –

কী ভীষণ দহনের যন্ত্রণায় কাতর!

কী ভীষণ অভিমানের বুদবুদ 

জমা হয়ে, 

বুকের ভেতরে চেপে আছে পাথর!

কিন্তু বৃষ্টির নেই তবুও দেখা!

এভাবেই কি প্রাণ তবে –

বুকে নিয়ে পাথর কাঁদবো একা?

এসো বৃষ্টি, এসো!

ঘুচিয়ে দাও প্রাণের সমস্ত তৃষ্ণা! 

বুকের ভেতরে আবার জাগাও প্রেম!

তুমি বিহনে এই নির্জনতায়,

তৃষিতা প্রাণের আড়ালে –

অশ্রুসজল আঁখি, 

নিরুপায় আকুল প্রাণ, রিক্ত অবিরাম!

মেঘের সাথে বৃষ্টির প্রেম! এসো বৃষ্টি, এসো!
বুকের ভেতরে আবার জাগাও প্রেম!

বুঝি বা, সবচেয়ে সুন্দর এই সময়!

ভোরের আলোর অপেক্ষায় পৃথিবী! 

আকাশ পটে আঁকবে বলে –

            ভালোবাসার প্রাণবন্ত ছবি! 

ঝিরিঝিরি পবনের গন্ধে মাতোয়ারা,

কলুষিত আঁধার তাই –

             নিমেষেই বিলীন, দিশেহারা! 

বুঝি বা, সবচেয়ে সুন্দর এই সময় –

যখন ধীরে ধীরে, 

            জেগে উঠে সমস্ত চরাচর,

অস্তিত্বের আভরণে জাগে প্রাণ –

রাঙিয়ে মায়ালোকের সুবিশাল ধরা, 

আর জেগে উঠে উল্লাসে,

             আলোক পিয়াসী প্রাণীকুল!

পৃথিবী তাই আকুলিভূত চিত্তে তারই,

গুনে চলে অপেক্ষার দুর্দান্ত প্রহর;

রাত্রির নিকষ কালো আঁধার পেরিয়ে, 

আসবে কখন ঊষায় রাঙা ভোর!!!

আমার প্রাণ কেন সদা চঞ্চল?

সুন্দরের অবগাহনে –

     আমি রাঙাই আমার অন্তর!

চাঁদের মায়াবী জ্যোৎস্নায়, 

আমার চিত্তে জাগে ভোর!

আমি অদম্য তৃষ্ণা বুকে নিয়ে, 

          ফিরি সমস্ত চরাচর! 

তোমাদের পানে যখনই তাকাই, 

প্রাণে ভরে উঠে মায়ার ঘোর!

আমি কিসের নেশায় উজ্জীবিত? 

     আমার প্রাণ কেন সদা চঞ্চল? 

প্রেমানুরাগের সমস্ত দিয়েও –

সমুদ্রের বুকে খুঁজে ফিরি কেন জল?

ভালোবাসা দিয়ে ভালোবেসে যাই,

         পূর্ণ তবুও আমার হৃদয় অতল!

তবুও কেন আমি জীবনের নেশায়,

জীবন মাঝে থেকেও করি কোলাহল?

মেঘের সাথে বৃষ্টির প্রেম!
         পূর্ণ তবুও আমার হৃদয় অতল!
সবটাই অনন্ত-অসীমে বিলীন!

প্রাণের পিঞ্জরে উথলায় দুরন্ত ঢেউ –

            জীবন নদীর জোয়ার ভাটায়!

     অস্থিরতার অক্লান্ত দাবানলে, 

          প্রাণপাখি অবিরাম তড়পায়!

দুলে উঠে মনে, অজানা আক্রোশে –

           মন মদিরার উন্মত্ত গর্জন!

     মনের আরশীতে তবুও, 

          দেয় না ধরা আপনার মন!

চৈত্রের দাবদাহে মাটি ফেটে চৌচির, 

          আকাশের তপ্ত বুকে খরা!

     সময়ের ঘড়ি চলে দ্রুত বেগে,

          তুমি-আমি সময়েতে হারা!

আলো ঝলমলে পৃথিবীর খেলাঘরে, 

          নেমে আসে আঁধার একদিন!

     এতো ডাকাডাকি এতো মাখামাখি –

          সবটাই অনন্ত-অসীমে বিলীন!

https://lucysjourney.com/

You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *