জীবন নদীর উথাল পাথাল ঢেউ!

জীবন নদীর উথাল পাথাল ঢেউ;

যে জানে সে নিজেই জানে –

                    আর জানে না কেউ!

বারেক তোমায় ডুবিয়ে দিয়ে জলে,

পরক্ষণে এক নিমেষেই –

জলের বুকে ভাসিয়ে সে দেয় তুলে!

দুলিয়ে নিয়ে খানিক ডোবায়,

             পাড়ের আশায় আবার ভাসায়,

আবার ডোবায়, আবার ভাসায়,

আবার ভাসায়, আবার ডোবায় –

এই তো নদীর আপন কুলের ধারা;

তুমি-আমি সেই ধারাতেই,

             আপন রঙে সদা পাগলপারা!

জীবন নদীর উথাল পাথাল ঢেউ!
Lost in Thought!

আজ ঘুমাবো তুমুল নেশায়!

ঘুম পাচ্ছে ভীষণ আজ!

সমস্ত মানব কুলের জড়োকৃত সব ঘুম –

আজ জড়ো হয়েছে বুঝি বা একসাথে,

              আমার দু’টি চোখের পাতায়!

জড়িয়ে আসছে অস্তিত্বের দীপ!

মস্তিষ্কের ভেতরে প্রজ্জ্বলিত বাতিঘরে,

হাতছানি দিয়ে তবু ডেকে যায় স্বপ্নগুলো –

               আমার ঘুম বিভোর চেতনায়!

     আমি আজ ঘুমাবো তুমুল নেশায়!

রাত্রিজাগা চোখের গভীরে অতি চুপিসারে, 

ঘুমের আভরনের দোলনচাঁপা জড়িয়ে, 

               ছড়িয়ে দিবো প্রেম স্বপ্নাচ্ছন্নতায়!

     ভীষণ ঘুম পাচ্ছে আজ আমার!

শিয়রে দাঁড়িয়ে বুঝি বা ঘুমপাড়ানি পরী,

আদরের আলিঙ্গনে বেঁধেছে আমারে, তাই

               যাবো আমি আজ ঘুম গভীরতায়!

জীবন নদীর উথাল পাথাল ঢেউ – নিরন্তর এঁকে যাই যাচ্ছেতাই!

পুলসিরাত পার হচ্ছি –

                               কী ভীষণ সহজেই!

সংযম আর সাধনার প্রহরগুলো ডিঙিয়ে, 

নির্দ্বিধায় গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলেছি –

সময়েরই কল্পিত হাত ধরে, 

                           এক অবিনশ্বরের পানে!

অনেক রঙের সমারোহে, 

                              বিচিত্র এই জীবন! 

তারই মাঝে, নিরন্তর এঁকে যাই যাচ্ছেতাই! 

নিরাকারের কৃপাধন্য প্রাণের অগোচরে –

সময়ের তালে ভেসে ভেসে তবুও, 

                             তারই রঙের ছোঁয়া পাই!

দুর্ভাবনার ডুবিয়ে দিয়ে তরী,

                           আমি তারই ভরসায় বাঁচি!

সমস্ত প্রাণের আপামর চেতনার ঘোরে আমি,

খেলাঘরের মোহ জালের ভীড়েও –

                          কৃপানিধির কৃপা সদা যাচি!

সময়ের দুর্বিনীত হাত ধরে চলো যাই!

চলো যাই, 

বিক্ষুব্ধ প্রান্তরের মায়াজাল মাড়িয়ে, 

ঝড়ো বাতাসের দুর্দান্ত প্রতাপ ছাড়িয়ে,

দুর্গম গিরিপথ, আর 

অরণ্যের বিকট আঁধার পেরিয়ে –

     চলো যাই!

থেমে আর থাকবো না কেউ কোথাও!

সঙ্গী এখন কেবলই সময়!

সময়ের দুর্বিনীত হাত ধরে তাই, 

     চলো যাই!

পিছে আর ফিরে তাকাবার ফুরসৎ নাই!

সময়ের সাথে মিটিয়ে সমস্ত লেনাদেনা, 

হিসেবের খাতায় যখন –

                    নেই কোনো দেনা,

খেলাঘরের সকল বন্ধন নিমেষে ছিঁড়ে –

     চলো যাই, চলো যাই!

এসেছিলাম এই পৃথিবীর মেলায়, 

ফিরে যাবার শপথ করেই সবাই, 

     চলো যাই!

এখানে থাকবার আর সময় মোটেও নাই!

যেতে হবে এখুনি,

ছিন্ন করে খেয়াপারের সব তরণী!!

     চলো যাই! চলো যাই!!!

মহা মায়ার সনে এক অপূর্ব মিলন!

মৃত্যু থেকে পালাতে পারে না জীবন!

সময়ের তরী বেয়ে ঠিক পৌঁছে যেতে হয়,

          যার যার নির্ধারিত ক্ষণে!

মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবী রহস্যের দুয়ার ঠেলে,

পার্থিবতার শৃঙ্খল পিছনে ফেলে,

জীবনের গন্তব্য যেন শুধুই –

এক চির প্রতিক্ষীত বিচ্ছেদ, নাকি 

          মহা মায়ার সনে এক অপূর্ব মিলন!

পথ পানে চেয়ে আছি আমিও নিরন্তর –

এই বুঝি বেজে উঠলো সময়ের ধ্বনি! 

এই বুঝি সাঙ্গ করে দিয়ে জীবনের খেলা,

মৃত্যুর আলিঙ্গনে দিলাম সঁপে –

          জীবন ছাড়িয়ে জীবন গাঁথা,

বুঝি বা পেতে আরো অমূল্য জীবনখানি!

মৃত্যু, সে তো জীবনের চাইতেও সত্য;

          ফিরে আসবার নেই পথ,

নেই খোলা জানালায় উন্মাতাল সমীরণ! 

চলে যাওয়া মানে, চলেই যাওয়া,

পাষাণের বুকে চেপে অবিরাম রক্ত ক্ষরণ!

https://lucysjourney.com/category/lucys-photography/

You may read beautiful Bengali Poems of the renowned Poets, click the link https://kobita.banglakosh.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *