প্রকৃতি মাঝে ➡️
গাছের সবুজ পাতা জীর্ণ হলদে হয়ে যায়!
সব ফুলই ঝরে পড়ে সময়ের পূর্ণতায়!
রাতভর ঝড়ের তান্ডবলীলার পরে,
ঝড় থেমে গিয়ে আসে সোনালী সকাল!
সারা দিনের অফুরন্ত কিরণ,
দিনশেষে নিরংকুশ আঁধারে মিলিয়ে যায়!
অঝোর বর্ষনের পর প্রখর রৌদ্র, আর
উত্তপ্ত মৃত্তিকার বুকে হাসে বৃষ্টিস্নাত পুষ্পরেণু!
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মের ব্যত্যয় সচরাচর হয় না!
প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে,
আপন রূপের ছটায় প্রকৃতিকে সাজিয়ে রাখে!
তুমি আর আমি সেই প্রকৃতির অফুরান ঐশ্বর্যের –
ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র এক অংশ মাত্র!
আর তাই, অতি বিনয়ের সাথে মাথা নত করে,
প্রকৃতির হাসি খেলার পশরা সাজাই!

“প্রতীক্ষার প্রহরে” ➡️ প্রকৃতি মাঝে
সেই যে সেদিন বলে গেলে তুমি –
বকুল ফুলের মালা হাতে নিয়ে,
আসবে আবারও ফিরে!
আসবে সকল বন্ধন হেলায় তুচ্ছ করে,
শুধু আমাকেই জড়িয়ে ধরবে বলে!
কই, এলে না তো আজও তুমি!
বকুলের সুবাসিত সুঘ্রাণের তৃষ্ণায়,
আজও এই মন পাখি –
পথ চেয়ে থাকে একাকী নিরালায়,
কেবলই তোমারই প্রতীক্ষায়!
আচ্ছা, কেন এলে না বলো তো?
আমি তো জানি,
পৃথিবীর সুবাতাসে দিব্যি আছো তুমি!
বেশভূষাও আজও তেমনি তোমারই!
পরিপাটি জীবনের মাঝে,
তোমার মেলামেশা আজও অমলিন!
চোখের পলক পড়ে না ধরিত্রীর –
তোমার চরণ রাঙা আলোয় যখন,
মাতিয়ে চলো রুদ্র মনোভূমি!
তাহলে, কেন এলে না আজও তুমি?
আমার যে কি ভীষণ কষ্ট হচ্ছে –
তুমি জানো তো সবটাই!
চমকে উঠি আমি যখন তখন চকিতেই!
এই বুঝি এলে ভেবে,
চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি তুমি নেই!
আমি জানি, ঠিক জানি তুমি আসবে!
আমি যে তোমারই প্রতীক্ষারত;
আর তাই, তুমি আসবে,
আসবেই তুমি জানি, বকুলমালা হাতে !

“ভাবুক বন্ধুটির খোঁজে!”
ভাবুক বন্ধু তুমি একটাই আমার, আর তাই
বড্ড বেশীই ভাব দেখাও তুমি যাচ্ছেতাই!
আর দেখাবেই বা না কেন!
ভাব দেখানোর মাপকাঠিতে যে উত্তীর্ণ!
ভাব সাগরে পেয়েছো যে সম্পূর্ণ অধিকার,
নিজের মাঝেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখবার!
বলে যাবার আর কিই বা ছিলো!
থাকতেই বা কতটুকু যোগ ছিলো, তাই না?
তবে, না বলেই যদি চলে যাবে এতোটা দূরে,
সময়ের কথাগুলো বলো তো কেন -,
মাঝে মাঝেই পোড়ায় আমাকেই,
অসময়ের ফেড়ে!
সেদিনের এক টুকরো মাতাল হাওয়ার পরশ,
আজও কেন আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়!
আজও কেন মনের অতল গহীন সীমানায়,
অশ্রুসিক্ত আঁখি ছলছল জলে উথলায়!
মিশে আছি পৃথিবীর বিক্ষিপ্ত কারাগারে,
তন্নতন্ন করে তবুও প্রাণ কারে খুঁজে ফিরে;
কেউ না জানুক,
তুমি তো জানো তার সবটাই, প্রাণের গভীরে!
রাত্রির আঁধার নির্বিঘ্নে পেরিয়ে যাই ঘুমঘোরে,
দিন গিয়ে ফুরায় আবারও রাত্রির আঁধারে;
তারই মাঝে প্রাণপাখি নির্লিপ্ত মনের দ্বারে,
বারেবার ডেকে ফিরে –
কেবলই একটি নাম ধরে; আর কিছু নয়, শুধু
একটুখানি প্রাণের স্পর্শ পেতে চায় ফিরে!
“ব্যাকুল সত্ত্বা”
না, ওইদিকে নয়, এইদিকে দেখো!
হ্যাঁ, ঠিক এইদিকেই!
তোমার দু’চোখের মাঝের দূরত্বে,
সামনের আয়নার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে,
এইদিকে দেখো, ঠিক এই দিকে!
কিছু দেখতে পাচ্ছো কি? পাচ্ছো না!
আবারও তাকাও, দু’চোখ মেলে দিয়ে!
তোমার বুকের ঠিক মাঝখানটাতে,
হ্যাঁ, ঠিক মাঝখানে, যেখানে শুধুই শূণ্যতা,
শূণ্যতার আড়ালেও সুবিশাল শূণ্যতা;
ঠিক সেখানেই দেখো,
দেখো, অনিমেষ মুগ্ধ স্তব্ধতায়!
দেখতে কি পাচ্ছো এখন? এখনও না!
বেশ, আবারও দেখো তবে, চোখ দু’টো বুজে!
আবারও সুবিন্যস্ত হও নিজেরই মাঝে!
নির্মল নিবিড় প্রশ্বাসে হও অবনত!
ছুঁড়ে ফেলো পার্থিবতার শৃঙ্খল যতো!
তারপর, তারপর তাকাও হৃদয় গভীরে –
অস্ফুট ক্রন্দনের অস্থির দুরাশার বাইরে!
এবার বলো প্রাণ খুলে, বলো নির্দ্বিধায় –
কি আছে সেখানে অতৃপ্ত বাসনায়!
হ্যাঁ বলো, পাচ্ছো কি এখন দেখতে –
হৃদয়ের অগোচরে হৃদয়েরই ভেতরেতে!
তোমার সম্পূর্ণ অস্তিত্ব জুড়ে থাকা,
তোমারই অস্তিত্বের আভরণে ফাঁকা;
হ্যাঁ, সেখানেই আছে উন্মত্ত উন্মাদনায়,
শুধুই ‘তুমি’ আর নির্নিমেষ আরাধনায় –
ব্যাকুল সত্ত্বা, কাঁপিয়ে এই ধরিত্রীর খেলাঘর,
আর বিপুল আয়োজনে মাতিয়ে সমস্ত চরাচর!

“দোলনচাঁপার সুঘ্রাণে”
জানো আদিত্য, অনেক দিন ধরেই,
ফুলের বাগান করি না!
আজকাল সময়গুলো কেমন যেন উদাসীন,
আর জীবনের বোঝা নিয়েই ব্যতিব্যস্ত!
এরই মাঝে হঠাৎ করেই,
বুঝি বা মনের গভীরে তোমাকে ভেবেই –
একটি দোলনচাঁপার গাছ লাগাবো ভাবছি!
আচ্ছা, কি যেন রঙ দোলনচাঁপার!
সবুজ পাতার মাঝে সাদা রঙে প্রস্ফুটিত,
যেন আনন্দ অনুরাগের সমাহার, তাই না?
তোমার অনেক প্রিয়, আমি তো জানি!
জানালার পাশটাতেই লাগাবো, কেমন?
তুমি কিন্তু দোলনচাঁপার গাছে প্রতিদিন,
ভোরের তীর্যক আলোর মায়া দিবে, আর
প্রতিটি সন্ধ্যার জাগরণে দিবে –
এক রাশ স্নিগ্ধ বিদায়ী উত্তাপের প্রখরতা!
তোমারই বিভোরতায় মুহুর্তের পরতে পরতে,
গাছটি বেড়ে উঠবে সময়ের অনাবিল স্রোতে!
র’বে অসংখ্য অজস্র মন মাতানো ফুলের –
সুঘ্রাণে ভরপুর দোলনচাঁপার মায়াবী মুগ্ধতা!
সন্ধ্যার হিমেল বাতাসের সাথে ভেসে,
দোলনচাঁপার মিষ্টি মধুর সুঘ্রাণে,
মাতাল হাওয়ার –
ঝিরিঝিরি পরশ বুলিয়ে দিয়ে যাবে!
শোনো, শুধুমাত্র তোমারই জন্য কিন্তু আদিত্য!
আদিত্য, তুমি খুশী হবে তো?
তোমারই খুশীর জোয়ার বইয়ে দিতেই –
দোলনচাঁপাকে জাগিয়ে দিবো এই মাটিতেই!
তোমার জন্য না হয় এইটুকুই করে,
মুক্তির পথে যাবো পৃথিবীর আলো ছেড়ে!
তুমি শুধু দোলনচাঁপার সুবাসিত সুঘ্রাণে –
মত্ত আর বিভোর থেকো আদিত্য!
ভালো থেকো! ভালো থেকো তুমি, আদিত্য!
“অপারগতা”
সময়ের আঘাতে তীব্র বিষাদ নিয়ে মনে,
একদিন বলেছিলাম তোমাকেই –
ঘুরতে নিয়ে যাবে আমাকে, দূর বহুদূরে?
এক কথায় বলে দিলে, সময় নেই!
তারপরে কি আমার আর কিছু বলা সাজে!
নাহ, দুঃখ করি না তাতে, আমি জানি যে –
নিশ্চয়ই ছিলো মনের মাঝে তোমার,
দহনের রেশে কোন আঁধারের ছায়া, আর
সেই ক্ষোভেই হয়তো তুমি,
ভালোবেসে আমায় দিলে অবজ্ঞা উপহার!
হ্যাঁ, সে রকম হতেই পারে, মানুষ তো!
ঠিক তাই, মানুষ তো, আর তাই
মনের আড়ালে বয়ে নিয়ে চলতে হয়,
বলতে না পারা জীবনের অনেক কথাই!
আমি ডাকলেই তোমার দিতে হবে সাড়া –
কখনোই আমি তেমন করে ভাবতে পারি না!
তোমার ডাকের অপেক্ষায় থাকাটাই বুঝি বা,
পণ করে নিয়েছে এই প্রাণের ইশারা!
তারপরেও, বুকের ভেতরে কোথায় যেনো,
একটু একটু কষ্টের দামামা বাজে!
নিজেকে ভুলিয়ে রেখে ভুলে থাকি সবই;
কিন্তু তোমাকে, পারি না, মোটেও পারি না!
You may read beautiful Bengali poems of renowned poets, click the link ➡️ https://www.bangla-kobita.com

