“অনন্ত প্রেম”

অনন্ত প্রেম Love is all around

অনন্ত প্রেম ➡️

প্রেমের অতল সমুদ্রে আমি হারাই বারেবার!

ভালোবাসি আমি প্রাণ ভরে,

বুকে জড়িয়ে ধরি পরম মমতায়,

বিশ্বাসে মিশিয়ে দিই সমস্ত চেতনার রঙ!

আর প্রেম –

দুরন্তপনায় আমায় কাছে টেনে নিয়ে,

নিমেষেই হারিয়ে যায় কৃষ্ণ গহ্বরের অতলে!

খুঁজে আমি আর পাই না তারে, কোনো ছলে!

অনন্ত প্রেম Waiting for Love

অনন্ত প্রেম ➡️

আমারও তো দস্যিপনার নেই কোনো অভাব,

বুকের পাঁজরে লুকিয়ে রাখি,

সময়ের অতলে চোখে কাজল মাখি,

রঙধনুর রঙে আবারও সমুদ্রে ভিড়াই তরী!

আর প্রেম সে তো আলেয়া,

যতোই আমাকে নিয়ে করুক হেলাফেলা,

আমার প্রেমাসক্ত প্রাণে জাগবেই প্রেমের নেশা,

প্রেমের সমুদ্রে আমিও বারেবার হারাবো দিশা!

অনন্ত প্রেম Love is in the Air

অনন্ত প্রেম ➡️

জনমের সাধ নিয়ে প্রেম আসে ফিরে ফিরে, তাই

ভালোবাসি প্রাণের আবেগে,

হৃদয় মেলে দিয়ে অন্তবিহীন কুয়াশায়,

আর তোমারই রঙের ছোঁয়ায় হৃদয় রাঙাই!

প্রেমের আগুনে পুড়ে পুড়ে জ্বলন্ত অঙ্গার হয়েও,

প্রেম বিনা জনমের সাধ মিটে না;

হৃদয়ের গহীন গভীরতা মাঝে তাই রাত্রিদিন,

প্রেমেরই অনন্ত শিখা প্রজ্জ্বলিত নিতি ক্লান্তিবিহীন!

“প্রাণের বন্ধন – অনন্ত প্রেম”

তুমি মিশে থাকো আমার নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে,

যেখানেই থাকুক পড়ে এই নিথর দেহ;

আলিঙ্গনে তোমারই জড়িয়ে থাকে এই প্রাণ,

তুমি বিনে সেই কথা জানে না আর কেহ!

তোমাকেই ভালোবেসে আমি পুড়িয়ে অন্তর,

থাকি তোমারই প্রতীক্ষায় জেগে নিশিভোর;

আসবেই জানি, ভালোবাসার প্রলেপ মেখে –

জুড়িয়ে দিবে তুমি সমস্ত চেতনার ঘোর!

আমার সকল পার্থিব খেলার পশরার মাঝে,

আষ্টেপৃষ্টে আছো আমাতেই জড়িয়ে তুমি;

তোমারই রঙের ছোঁয়া দিয়ে অহরহ তাই তো –

নিজেকে সাজিয়ে তুলি দুরন্তপনায় আমি!

আকাশ নীলের মুগ্ধতায়, আর মেঘের ঘনঘটায়,

দেখি আমি কেবলই তোমারই মুখচ্ছবি;

তোমাতেই জড়িয়ে আমি জগৎ সংসার পেরিয়ে,

অনন্তের আবর্তে একদিন লুটাবো সবই!

“নিশীথের ধ্বনি”

নিশীথের অন্ধকারে ডেকে উঠলো রাতজাগা প্যাঁচা,

কি যেন বুঝি বা মনে পড়ে গেলো তার!

তার ভুতুরে ধ্বনিতে কেঁপে উঠলো চরাচর, আর

আমার গভীর নিদ্রামগ্ন আঁখি চমকে তাকালো চারিধার!

সুনসান নীরবতার ভাষা বুঝতে নিথর পড়ে রইলাম!

কয়েক মুহুর্ত মনে হলো যুগান্তরের আয়োজন ক্ষণ!

স্বপন জড়ানো প্রাণে জেগে উঠলো নিস্তব্ধ আলোড়ন!

রাতজাগা প্যাঁচার ভয়ংকর ধ্বনি ভুলে গেলাম!

হারিয়ে গেলাম মাঝরাতের একেলা আমার মাঝে!

সমস্ত অতীত সাদা কালো স্বপ্নের মতো ভেসে উঠলো!

অন্ধকার রাত্রির আভরণে সাদা মেঘের ভেলায় স্বপ্নগুচ্ছ!

সেই অতীতের মধ্যমনি তোমার অবয়ব –

ধীর স্থির অবিচল সৌম্য সুন্দর একটিমাত্র তুমিই!

আমার সামনে যেন পিছনে ফেলে আসা রূপালী দিন!

ঘোর লাগা জীবনের মুহুর্তের দীপ জ্বালিয়ে,

নিজের মাঝে সমস্ত অতীতের আবর্তে ডুবে গেলাম!

আজ নিরালায় একাকী বসে ভাবনার জাল বুনে যাই –

ভাবনায় আছো শুধু তুমিই, শুধু জীবন খেলায় তুমি নাই!

“তোমার জন্যে সবুজ গোলাপ!”

ভাবছিলাম, তোমাকে একটা গোলাপ দেবো;

কিন্তু লাল নাকি হলুদ, কিছুতেই মেলাতে পারছি না!

আচ্ছা, একটি নীল গোলাপ দিলে কেমন হয়?

লাল কিংবা হলুদের দ্বন্দ্বে না থেকে,

তোমার জন্য বরং নীল গোলাপই রইলো!

কিন্তু নীল তো কষ্ট আর বিষাদের রঙ, তাই না?

তোমার সঙ্গে কি আমার তাহলে কষ্টের সম্পর্ক?

না না, তা কেন হবে?

আমার ভাবনার একচ্ছত্র আধিপত্য যে তোমারই!

সেই তুমি তো কষ্টের গাঁটবাধা হতে পারো না!

বরং তোমার মুখটা ভাবলেই,

অদ্ভুত এক শিহরণ হয় আমার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে!

ভীষণ রকমের অগোছালো জীবনের ভাঁজে,

তুমিই আমার একটি মাত্র অরূপ রতন!

আচ্ছা, সবুজ রঙের গোলাপ কি আছে পৃথিবীতে?

ঠিক মনে করতে পারছি যে!

তাহলে, তোমার জন্যে সবুজ রঙের গোলাপ নিতাম!

সবুজ প্রান্তর তো দুঃখ কষ্টের ঊর্ধ্বে, জানো তো?

স্বর্গীয় অনুভুতির রঙ সবুজ, সবুজের আলিঙ্গন!

কিন্তু জানা নেই যে, সবুজ গোলাপ পাবো কিনা!

তাতেই বা কি,

তোমার জন্যে না হয় ফোটাবো একটি সবুজ গোলাপ!

এইটুকুও যদি না পারি, কিই বা করলাম এ জীবনে!

“প্রশান্ত হৃদয়”

এই ছোট্ট জীবনখেলা কতো দীর্ঘ মনে হয়!

প্রতিটি স্পন্দনই যেন উলোট পালোট, আর

যেন এক একটি মুহুর্ত তার ওজনের ভারে,

প্রাণের ভেতরে তুলকালাম তান্ডব চালায়!

শরীরের ভেতরে অস্থিরতায় চঞ্চল হৃদয়,

আর হৃদয়ের প্রতি কম্পনে জীবন বোঝা,

জীবন মরুতে তৃষিত প্রাণের অপূর্ণতা বয়ে,

তোমারই সাথে আমার, নৈকট্য শুধু বাড়ায়!

অস্থায়ী জীবনের দুর্বোধ্যতায় যদিও ক্লান্ত,

তবুও জানি, তোমাতেই সকল প্রশান্তি মনে!

তাই, প্রাণে মনে ভীষণ দাবানলের দহনেও,

ফিরে ফিরে আবারও আসি তোমারই টানে!

আমার সকল ক্লান্তি নিমেষেই করো তুমি হরণ,

তোমারই ছায়ায় আমার অস্তিত্বের সদা বাস;

পার্থিবতার দুঃসহ যন্ত্রণা করে দিয়ে অগ্রাহ্য,

অপেক্ষিয়া থাকি তোমারই, পাই যে সুবাতাস!

পার্থিবতার শৃঙ্খলে বিদীর্ণ এই প্রাণের মাঝে –

বারেবারে আমি শুধু তোমাকেই ডেকে যাই!

ভীত সন্ত্রস্ত নই মোটেও আমি এই পার্থিবানলে;

তোমাতে হারাবার আশা, তাই মনে নিয়ে ধাই!

নিস্তব্ধ অস্থির অধীর চিত্ত মাঝে, জীবন পথে –

করুণ বেহালার সুরের মূর্ছনা যদিও প্রাণে,

যদিও জীবনের ডাকে অহরহ ছুটে যেতে হয়,

অনন্তের সিঁড়ি খুঁজি তবুও হৃদয়ের কোণে!

ভেঙে যাক সময়ের যতো কোলাহল তবুও,

ডুবে যাক তরী আকাশ গঙ্গা ভেদ করে;

তোমারই রঙের ছোঁয়া নিয়ে এই ধরামাঝে,

জীবন পারাবারে আমি সুরের তালে হারাই!

“প্রাণের আবাদ”

অতি সহজেই ভাবতে পারো তুমি –

আমার ভাবনা জুড়ে কেবলই আমি!

ভাবতে পারো, আমাকে ছাড়া বুঝি বা,

জীবন খেলায় আর কিছুই নই আমি!

তবু্ও, শুধু জেনে রাখো –

সেই ভাবনার জীর্ণ ডালপালা নিয়েই,

আমার পথের মায়ার সকল অলিগলি;

আমার জীবনের আলোতে ডুবিয়ে,

আমি অন্ধকারের তীব্রতায় হোলি খেলি!

এক জনমের এই পৃথিবীর মাঝে,

যা কিছু আমার উদাসীনতা, কিংবা

স্বপ্ন বিভোর কামনা-বাসনায়,

যতোটুকু আমার ক্লান্ত প্রাণের ছোঁয়া –

সবকিছুতেই জড়িয়ে আছে অনায়াসে,

নিরঙ্কুশ ভাবনার অতলে জমে থাকা –

বিন্দু বিন্দু শিশিরের টুপটাপ ফোঁটা!

আমি তাই কখনোই শুধু আমি নই;

আমার ব্যাপ্তি তোমাতেও, আর

এই অবিচ্ছেদ্য পথচলার শেষ অবধি!

আমি মাড়িয়ে চলি সকল অসম্ভবের নেশা,

দুর্নিবার তাই আমার আকর্ষনের পিপাসা!

প্রাণের বন্ধনে আমি মুক্তির পাই স্বাদ,

বিচ্ছেদের ঢেউয়ের আঘাতেও –

আমি নির্বিকার, করি না তুচ্ছ প্রতিবাদ!

আমি শুধু আমি নই, আমি প্রাণের আবাদ!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

অনন্ত প্রেম Eternal Love

You may read beautiful heart-touching Bengali poems of renowned Bengali poets here ➡️ https://www.bangla-kobita.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *