স্পর্শের মায়াজাল খুঁজে বেড়াই!

“স্পর্শের মায়াজাল খুঁজে বেড়াই!”

আদিত্য, কতোদিন আকাশ দেখি না, জানো?

তুমি ছাড়া কেমন করেই বা –

সুদূরের ঐ আকাশ পানে আমি তাকাই বলো? 

কতোটা কাল ধ্রুবতারার সাথে হয় না কথা!

সপ্তঋষি আর অরুন্ধতী কোথায় হারালো –

খোঁজ রাখি না আমি সেই কবে থেকে যেন!

কতো যুগ আর যুগের বেড়াজালে, 

তোমার সাথে, 

আদিত্য, তোমার সাথে আমার হয় না দেখা!

কেমন করে আমি তাকিয়ে দেখি বলো –

দিগন্তের অতি সূক্ষ্ম ঐ আলোক রেখা!

আমি কৃষ্ণ গহ্বরের অতলে হাতড়ে বেড়াই,

আমি ছায়াপথের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাই,

মহাশূন্যের সমস্ত গ্রহ নক্ষত্রের অন্তরালে –

আমি তোমার স্পর্শের মায়াজাল খুঁজে বেড়াই!

তবুও তোমার দেখা পাই না, আদিত্য!

তোমাকে ছাড়া আমি কেমন করে বলো –

অসীম শূণ্যতার বুকে আমার পদচিহ্ন এঁকে যাই!

স্পর্শের মায়াজাল খুঁজে বেড়াই!
অসীম শূণ্যতার বুকে আমার পদচিহ্ন এঁকে যাই!

মনের সমস্তটা জুড়ে আছো – স্পর্শের মায়াজাল খুঁজে বেড়াই!

মনের আপন কোণে যেদিন –

       রেখেছিলাম তোমাকেই,

সমস্ত পৃথিবীর আলোয়, 

       ভরে ছিলো আমার এই মন!

সেই আলোর মধ্যমনি হয়ে,

       ছিলে তুমিই রাঙিয়ে,

আমার প্রাণ পাখির –

       ভুবন মাতানো সব আয়োজন! 

মনের সমস্তটা জুড়ে আছো –

       তুমিই শুধু আজ, আর

মনের সেই আলোতেই পরিপূর্ণ, 

       আলোকিত সুন্দর পৃথিবী! 

তোমার আলোতেই সমুজ্জ্বল –

       আমার প্রাণ পাখি, তাই

তোমাতে জড়িয়েই আমি আমার,

       সমস্ত পৃথিবীর রূপ দেখি!

নেই পাশে, তবুও আছো মিশে!

হাজার বছরের ব্যবধানেও 

যখন দেখা হয় তোমার সাথে, 

মনে হয় যেন,  এই তো, 

খানিক আগেই –

তুমি ছিলে আমার পাশেই!

পাড়ি দিয়ে যাই লক্ষ যোজন পথ,

তোমাকেই পাই অকস্মাৎ! 

মনে হয় যেন, সাথেই তো ছিলে তুমি, 

ধরে আমার এই হাত!

শুধুই তোমার জন্যে,

তোমারই জন্যে শুধু আদিত্য, 

তোমার জন্যেই আমি পথ চেয়ে রই!

অথচ বুকের ভেতরে অবিরত,

তুমিই যে জুড়ে থাকো,

আমি অপরিসীম অভিমানেও –

তোমার চোখের পাতা ছুই!

অন্তবিহীন সারাবেলা আমি –

তোমাকে নিয়েই ভাবি!

তুমি নেই পাশে, তবুও আছো মিশে

নিয়ে আমারই হৃদয়ের চাবি!

ভালোবাসা তো এমনই, তাই না?

চোখের পলক ফেলতে পারি না,

   তোমার দিকে একটিবার তাকালে!

     তোমার ঐ দু’টো চোখের মায়ায়,

          ডুবে থাকি তল থেকে অতলে!

ভীষণ চঞ্চল তোমার চোখ দু’টো, 

   ছুটে চলে এদিক থেকে ওদিক! 

     আমি তীরের খোঁজে হাতড়াই শুধু,

          তুমি এসে তুলবে, নেই তার ঠিক!

আমি তাকিয়েই থাকি কেবলই –

   তোমারই নেশাঘোরে বন্দি এক প্রাণ! 

     সুন্দরের মাঝে অনিন্দ্য সুন্দর তুমি,

          কেমনে রুখি বলো দোলনচাঁপার ঘ্রাণ! 

ভালোবাসা তো এমনই, তাই না?

   বুঝতে সে পারে না চাঁদের ঝিলিক!

     তোমার চোখেই স্বর্গ-মর্ত্য বিলীন, 

         সেথা অনন্তের মায়ার খেলা চিকচিক!

প্রেমের নেশায় তবু্ রয়েছি সদা বিভোর!

এসো, দু’জনে মিলে আজ স্বপ্ন সাজাই!

তোমার চোখের না-বলা সেই ভাষার

               এতোটুকু স্পর্শ নিয়ে –

চলো, আমার  ভাবনার দিগন্তে  হারাই!

তোমার সঙ্গে আমার প্রাণের লুটোপুটি! 

কতোটা পথ দিয়েছি দু’জনে পাড়ি!

     কতোটা আবেগের উষ্ণতায় দু’জনে –

নিয়মের বেড়াজাল ছিঁড়ে গিয়েছি ছুটি! 

স্বপ্নের উড়ন্ত ভেলায় রাঙিয়েছি অন্তর!

উপেক্ষিয়া তীক্ষ্ণ চোখের ফলা,

পায়ে দলে গিয়েছি ভাঙা শামুকের খোল;

প্রেমের নেশায় তবু্ রয়েছি সদা বিভোর! 

আমার ব্যাকুলতা দেখেছি তোমার চোখে!

স্বপ্নের আয়নায় দু’জনে একসাথে,

     ছিটিয়েছি রঙিন আভা অশনিসংকেতে –

নির্জন প্রাতে, সাদাকালো স্বপ্নআবীর মেখে!

স্বপ্নগুলো তাড়িয়ে বেড়ায় আমাকেই নিত্য!

জানি, তোমারও প্রাণের বীণায় 

ঝংকৃত আমারই প্রাণের বিষন্নতা, তাই –

         বিহ্বলিত স্বপ্ন বিভোর তোমারও চিত্ত!

তোমাকেই, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি!

আমি তোমাকেই ভালোবাসি!

সবচে’ সব কিছুর চেয়ে –

তোমাকেই, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি!

সে কথা তোমার চাইতে বেশী, 

কে আর জানে বলো, আদিত্য?

তুমি আছো বলেই তো আমার,

হৃদয় জুড়ে পরিপূর্ণতার আলো!

আর তাই আমি ঠিক জানি –

আমার এই প্রাণের গভীরে,

তুমিই র’বে চিরদিন সমস্তটা জুড়ে!

কেড়ে নিতে পারবে না কেউই,

তোমাকে আমার প্রাণের বাঁধন ছিঁড়ে!

জানো তো, বড্ড কঠিন এই পার্থিবতা! 

তবু্ও অস্তিত্ব মাঝে তোমার বিচরণে,

আমি ভুলে থাকি নিদারুণ অসংলগ্নতা! 

তোমার এতোটুকু স্পর্শে জীবন আমার!

বুঝতে অপারগ আমি –

কোথাও আছে কিনা কলুষিত আঁধার! 

তোমার জন্যেই সকল তৃষ্ণা এই প্রাণে!

তবুও তৃপ্ততায় আমি অমলিন!

তোমাকে ভালোবেসেই রাত্রিদিন –

তৃষিত প্রাণে পাই প্রাণ, অন্তবিহীন! 

আমার কষ্টগুলোও তোমাতেই সঁপে, 

প্রাণের তরণী বেয়ে যাই জীবনের রূপে!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *