“বিরহ কাব্য”

“বিরহ কাব্য”

এক সাথে পাড়ি দিয়েছি দু’জনে অনেকটা পথ,

পৃথিবীর মায়ায় দু’জনে মিলে করেছি শপথ!

সাথে থাকার বাসনায় রাঙিয়ে দিগন্ত রেখা,

দুর্নিবার আকর্ষণে অগ্রাহ্য করেছি কুহেলিকা!

শিমুল বনের পাতা ঝরা পথে তোমার সাথে,

হাসি আর খেলায় জড়িয়ে ছিলাম সন্ধ্যা প্রাতে!

মেঘনার কোলে ভাসিয়ে ডিঙি রোদেলা দুপুরে,

উজানের স্রোতে ভেসেছি দু’জন আকাশ নীলে!

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছুঁয়েছিলাম সন্ধ্যাতারা,

প্রেমের নেশায় ডুবে উন্মাতাল আত্মহারা!

সাগর সঙ্গমে খুঁজে বেড়িয়েছি জীবনের গান,

দুর্বার স্রোতের কম্পন মেখে, সিক্ত করে প্রাণ!

অবিশ্রান্ত পথচলার উন্মাদনায় ছিলাম মেতে –

ভালোবাসায় মুখরিত প্রাণের নিরবিচ্ছিন্ন আবেগে!

জীবন খেলার অসহনীয় যন্ত্রণার ডামাডোলেও,

তোমার মাঝেই পেয়েছিলাম খুঁজে স্বস্তি আবারও!

তারপরেও পরিশেষে, গিয়েছি থেমে মাঝ পথেই –

সম্পর্কের মায়াজাল ছিড়ে, ভুলেছি শপথ নিমেষেই!

তবুও মনের অগোচরে হৃদয়ের গহীন বীণায়,

খুঁজে ফিরি পরস্পরে জীবনের এই ভীষণ অবেলায়! (বিরহ কাব্য)

বিরহ কাব্য!
উজানের স্রোতে ভেসেছি দু’জন আকাশ নীলে!

“তোমারই বন্দনায়”

তোমাকেই খুঁজে ফিরি আমি নিশি থেকে ভোর!

আলো-আঁধার পেরিয়ে আমি ছুটে চলি নিরন্তর!

চেতনার মাঝে জ্বালিয়ে নিভু নিভু প্রদীপ শিখা,

হৃদয় পুড়িয়ে আমি তুলে আনি জ্বলন্ত লিপিকা!

তোমারই রঙের ছোঁয়া পেতে ভোর থেকে রাত্রি,

নিজেকে মাতিয়ে রাখি অপলক দিশাহীন যাত্রী!

অন্তরের তৃষ্ণা নিবারণের জল ফিরি খুঁজে,

গোধুলীর মায়ার সুগভীর আলোর ভাঁজে ভাঁজে!

সূর্যালোকে অবগাহনে চেতনা আমি লুটিয়ে ধূলায়,

অশ্রুজলে ভাসি বারেবারে রক্তাক্ত হৃদে অবলীলায়!

খুঁজে ফিরি তোমাকেই তবুও অন্তহীন সেঁধে;

তুমিই আছো এক, অনন্তর আমাকে রাখবে বেঁধে!

অন্ধকারের অমানিশায় ব্যাকুল, হারিয়ে চরাচরে,

মস্তিষ্কের নিউরনে আমি তোমাকেই পাই ফিরে ফিরে!

হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানির আকুলিভূত বন্দনায় –

জগৎ সংসার ভুলে বারবার তোমাতেই সঁপে যাই!

“”বিরহ কাব্য: অনুকাব্য – ১”

সময়ের ক্লান্ত ছিন্ন ধ্বজা ধরে,

পথের ‘পরে নিবিষ্ট থাকে প্রাণ!

সময়ের তালে ভেসে ভেসে চলি –

সময়ই তবু্ও, সময়ের গায় গান!

ভোর হয়ে এলো পৃথিবী জুড়ে,

মনের আঙিনায় তোমারই মায়া!

আযানের ধ্বনিতে জাগে চরাচর,

সমস্ত জুড়ে দেখি তোমারই ছায়া!

বৃষ্টি মুখর এই অপরাহ্নের ক্ষণে,

মেঘের ঘনঘটায় বজ্রধ্বনির মেলা!

তোমার কথা পড়ছে ভীষণ মনে,

সাজাই আমার জীবনতরীর খেলা!

নেমেছে আঁধার সন্ধ্যার আকাশে,

মেঘমালা ছেয়ে আছে যত্রতত্র!

মঙ্গলের নিমিত্তে প্রাণের আহাজারি,

বৃষ্টির জলে ভিজে নাইবে এই চিত্ত!

রাত্রি দ্বিপ্রহরের একাকীত্বের বেদনা,

ভুলে গিয়ে খুঁজি শূণ্যতায় পূর্ণতা!

মেঘ কেটে গিয়ে জ্যোৎস্নার রাতে,

রঙের স্পর্শে তোমার, হারায় জড়তা!

“ধন্যবাদ, হে পুরুষ”

ওহে পুরুষ!

সবখানেই শুধু ভর্ৎসনা করো নারীকে!

যেনো পৃথিবীর সমস্ত জটিলতা আর

অশান্তির কেন্দ্রবিন্দু – শুধু নারীই!

নারীকে বুঝতে নাকি কভু পারো না!

অতি সাধারণ নারী এক, অথচ

তারই মাঝে নাকি সকল প্যাঁচের রচনা!

যুগে যুগে পুরুষের সকল কিছুতে,

নারীকে দিয়েছো বঞ্চনা – কান্না ও হাসিতে।

কাজ সেরে বাড়ি ফিরে সামান্য কথায়,

খুঁজে ফিরো স্ত্রীর কটুক্তি!

তরকারীতে নুন কম হলো, কিংবা

একটু বেশী ঝালে মুখ গেলো পুড়ে –

তাতেও ঘরের নারীকেই করো দোষী!

ওহে পুরুষ!

প্রকাশের পেয়েছো একচ্ছত্র অধিকার,

তাই নারীকেই দিয়ে গেলে কুৎসা অপার!

নারীও নির্বোধ, সয়ে যাচ্ছে আজ অবধি –

পুরুষের কলংকের ভারও অবলীলায়,

নিশ্চুপ নিঃশব্দে নীরব অভিমানে, নিরবধি!

এবার ক্ষান্ত হও হে পুরুষ!

আর করো না এমন বৈষম্যের বাহাদুরী!

তোমাকেই বা কতটা বুঝতে পেরেছে নারী!

তাই বলে তো নারীর জীবন খেলায়,

তোমাকে ফেলেনি ছুঁড়ে, কখনো হেলায়!

তোমার জন্যে নারীর আন্তরিক ভালোবাসা!

তবুও তুমি তাকেই ঢেকে দাও দুরাশায়!

চার দেয়ালের বন্ধ ঘরের ছায়ায়,

নারী বেঁচে থাকে শুধু তোমারই মায়ায়!

ছেড়ে দিয়ে তার সমস্ত কৈশোর আপনজনা,

তোমাতেই সঁপে সে যে করতে চায় স্বর্গ রচনা!

ওহে পুরুষ!

নারীকে মিছে আর করো না কলঙ্কিত!

আপন সত্ত্বা মাঝে শুধু জড়িয়ে তারে থাকো!

তোমার মাঝে খুঁজে সে যে অফুরান জীবন,

তুমিও তারই মাঝে তোমাকে সঁপে হও মগন!

ওহে পুরুষ!

পারবে তো তুমি নিশ্চয়ই নারীকে দিতে,

তার যথাযোগ্য মর্যাদায় সম্মান!

নিমেষেই কেটে যাবে দেখো –

যতোই আঁধার ঘিরে নামুক, ঝঞ্জা তুফান!

তোমারই মাঝে নিজেকে খুঁজে পাবে নারী,

কৃতজ্ঞ চিত্তে নিমেষেই তার ভুবন উঠবে ভরি!

এর চেয়ে বেশী কিছু কি কখনো চেয়েছে নারী?

“দ্যুতি”

ইদানিং খুব সহজেই, মাথা এলোমেলো লাগে!

তোমারই রঙের ছোঁয়ায় প্রভাবিত বুঝি বা!

খুব বেশী অস্থিরতার অনলে জড়াই আবেগে!

ভাবনায় তোমাকেই খুঁজে ফিরি হয়তো বা!

মাঝে মাঝেই জ্বলে উঠি দেশলাইর কাঠি যেন!

অথচ জানি মনে প্রাণে – তুমিই তো বিরাজো!

অসম্ভবের নেশায় ডুবে থাকি আপনারে ভুলে!

পরক্ষণেই, তোমাতেই রাঙাই – বেভুলা এ চিত্ত!

জীবন মরণ সবটাই – শুধু যে তোমাতেই মগ্ন নিতি!

আমি আর কতটুকুই বা পারি তারে রুধিতে!

সময়ের খেলায় ভেসে চলি দুর্বিনীত ত্রাসের মোহে!

অস্তিত্ব আমার – কেবল তোমারেই সাধিতে!

আমি জ্বলে উঠি দীপশিখা সম, নিভে যাবো বলেই!

তুমিই তো আছো এক আমাকে নিয়ে সাজাও পৃথ্বী!

ক্ষেপা আমার এই সমস্ত চেতনার দুরন্তপনার ঘোরে –

তোমারই স্পর্শের ঝর্ণাধারা, অবারিত প্রাপ্তির দ্যুতি!

“কষ্টাচ্ছন্নতা”

হরেক রকমের কষ্টাচ্ছন্নতা ঘিরে থাকে এই জীবন –

তোমাকে আমাকে টেনে নিয়ে, অবেলায় অনুক্ষণ!

এই যে তুমি বিরহ অনলে – পুড়ে খাক অবিরাম,

ভুলে আছো জীবন ঘিরে তোমার, কতশত অবদান!

তোমার পৃথিবীতে অবাক বিস্ময়ে মুখরিত চারিদিক;

পৃথিবী আমার বলয় চ্যুত হয়ে, ছুটে ধায় দিকবিদিক!

কেটে গেলো সুবিশাল কাল, নিয়ে দাপটের বদনাম;

জীবনের দুর্বোধ্যতায় বৃদ্ধ বাবার, তবু নিত্য অভিমান!

ক্লান্ত মায়ের প্রাণের পিঞ্জরে – ছটফটায় প্রাণ পাখি;

জীবনের রঙে রাঙিয়ে নীলিমা, জীবন তবু্ও ফাঁকি!

পঞ্চাশোর্ধ নারীর শরীরের – স্ববিরোধী সুপ্ত আচরণ;

পুরুষ তবু খুঁজে ফিরে দেহ, মিটাতে দেহের প্রয়োজন!

কষ্টের তীব্রতায় ভুলে যাই কেউ, জীবন নিয়ে খেলা;

কেউ আবার ভাসাই নিজেকে, অন্তবিহীন সারাবেলা!

এতোকিছু নিয়েও জীবনের খেলা, সূর্যালোকেও ম্লান,

কষ্টগুলো ডুবে থাকে প্রাণে, অগোচরে জাগাতে প্রাণ!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

2 thoughts on ““বিরহ কাব্য””

  1. SABBIR AHMED BABU

    দারুণ….ভালো লাগলো সব কবিতা গুলো। অনেক শুভকামনা।

    1. অনেক ধন্যবাদ তোমাকে, বাবু। তোমরা পড়ে যখন কিছু বলো, সত্যি, প্রাণ ভরে যায়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *