প্রাণের নেশায় ভিজবো একেলাই!

“প্রাণের নেশায় ভিজবো একেলাই!”

আমাকে  সাথে  নিয়েই  চিরচেনা আমি,

পাড়ি দিবো নির্বিঘ্নে –

                অনন্ত পথের গভীর জলাধার!

নিজের মাঝেই নিজেকে রাখবো জড়িয়ে,

      ভয় নেই, ঘিরে থাকুক যতোই আঁধার! 

আমি র’বো আমার সাথে অজানার পথে –

                                যতোদূর আমি যাই!

মুষলধারে  জ্যোৎস্নালোকের  তীব্র বর্ষনে, 

           প্রাণের নেশায় ভিজবো একেলাই!

তুমি তো শুধুই অলীক কল্পনার বেড়াজাল, 

               তুমি বলে নেই কিছু, শুধুই মায়া!

কল্পনার ডানা মেলে দিয়ে তাই, 

               উড়ে বেড়াবো আমি –

               যেখানে আমিই আমার প্রচ্ছায়া!

তুমি’র  নেশায়  খেলাঘরে  ডুবেছি  অনেক,

                  এবার আমি’তেই খুঁজবো সুখ!

সমগ্র  সৃষ্টির  যন্ত্রণা  নিয়ে  একাকী  চিত্তে,

তুমি’তে  আমি  আর খুঁজবো না বিশ্বলোক!

মিছেই ফিরেছি হন্যে হয়ে,

জঞ্জালে ভরা এই মায়াকাননে –

         বুকে তুলে নিতে, আদিত্য, তোমাকে!

অথচ এই তুমি, যার অস্তিত্বই শুধু মায়া –

প্রাণের স্পর্শ কি মিলে তার, 

                  যতোই  তড়পাই আমি নিভৃতে!

প্রাণের নেশায় ভিজবো একেলাই!
Life goes on!

তোমার অস্তিত্ব কিসে?

তোমার অস্তিত্ব কিসে?

শরীর নাকি আত্মার মাঝে আছে মিশে!

নশ্বর শরীর বলে যাকে জানো,

সেই কি সবকিছুর আধার?

নাকি অবিনশ্বর আত্মায় পাও তুমি,

জীবনের মানে খুঁজে;

প্রাপ্তির দ্যুতিতে নাশো জীবনের আঁধার!

তোমাকে তার প্রয়োজন বেশুমার!

সেই তুমি কি পার্থিবতার উপহার?

তোমার স্পর্শ সে চায়!

তোমার মাঝে তার সমস্ত হারায়!

তোমাকে ভেবে তার স্বপ্ন সাজায়!

সেই তুমি কে?

তুমি কিসের আঙ্গিকে নিজের রঙ ছড়াও?

কিসের অধীরতায় তুমি নিজেকে পুড়াও? 

সেই তুমি কি কেবলই এক অবয়ব? 

কার? শরীরের নাকি আত্মার?

জীবন ঘিরে তুমি জীবনই শুধু দেখো!

সেই জীবনের পরতে পরতে 

অনিমেষ মুগ্ধতায় তুমি –

কিসের নেশায় পাগলপারা হয়ে,

জগৎ সাজাও আপনার!

আপনার জগৎ কোথায় তোমার?

আপনার বলে আছে কি কিছুই?

তোমার ভেতরে কিসের তোলপাড়? 

তোমার ভেতরে –

কোন সে আলোর উন্মিলিত সমাহার?

Existence!
Self-confidence

তবুও, প্রাণের নেশায় ভিজবো একেলাই!

বিদ্রোহী অনুভূতিগুলোকে কেন খোঁচা দাও?

কেন অযথাই এই প্রাণের আরশিতে, 

তোমার অপারগতার সংকেত দিয়ে যাও?

কেন ভুলে যাও, ভীষণ অভিমানী এই মন?

একবার ক্ষেপে গেলে হারাবে চেতন!

ক্ষেপা মন তখন, শুনবে না কোন কারণ!

প্রতারণার বীজ তুমি করছো কেন রোপন?

আশাতীত সাড়া দিয়ে যে তোমাতে সঁপেছে প্রাণ,

তুমি কিনা তার বিশ্বাসেই হানছো আঘাত,

ভুলে গিয়ে অসম্ভব সময়ের অফুরন্ত কলতান!

লাথি মেরে চরম আঘাতে দিতে পারি প্রতিদান!

কঠিন চপেটাঘাতে নীল করে দিতে পারি,

অবিশ্বাসের ছাউনিতে গড়া সমস্ত অসম্মান!

আমাকে করো না প্রজ্জ্বলিত অহেতুক উন্মাদনায়! 

জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দিতে জানি আমিও –

অবশিষ্ট কিছুই র’বে না, বিনা এক ফোটা অভিমান!

অজস্র ফাটল ধরে, চৌচির হয়ে যাবে ভুবন! 

আমি পরোয়া করি না সূর্যোদয়ের গানেও!

আকাশ যখন মেঘের ঘনঘটায় গর্জে বজ্রপাতে, 

শেকড় উপড়ে দিয়েও আমি সাজাতে পারি জীবন!

পথের শেষ নেই তো জানা!

জড়িয়ে রয়েছি ভীষণ দহনে,

জীবনের দুর্বোধ্য খেলায়!

মুহুর্তের পলে পলে তাই, 

প্রাণ পাখিটি বেঘোরে তড়পায়!

খুঁজে ফিরি সময়ের স্পর্শ, 

স্বস্তিটুকু যদি মিলে যায় প্রাণে;

ছেড়ে দিয়ে এই প্রাণের মেলা,

বিলীন হবো অনন্ত অসীমের টানে!

সময়ের স্পর্শেই বেঁচে আছি যদিও,

সময়ই রেখেছে কৃপা ভরে!

তবুও ছেড়ে যেতে পারছি কোথায়,

দুর্বোধ্যতার অনল ভেদ করে!

জীবন যেন এক ক্লান্ত পথিক,

নেই যার ঘরের ঠিকানা!

পথের ‘পরেই ঝড়ো তান্ডবে বিধ্বস্ত, 

পথের শেষ কোথায় নেই তো জানা!

https://lucysjourney.com/

You may ready beautiful Bengali Poems written by renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *