“আজও ঝর্ণাটি আবেগী ভীষণ!”
উঁচু সেই পাহাড়ের বুক চিড়ে –
সেই যে ঝর্ণাটি,
আজও সে আবেগী ভীষণ!
রাত নেই, দিন নেই,
নেই তার কোনো বেলা-অবেলার ক্লান্তি;
শীত, গ্রীষ্ম কিংবা ফাগুনেও তার –
নেই কোনো বাছ বিচার;
সে তার হৃদয় নিংড়ানো অশ্রুর লোনা জলে,
কান্নার ঢেউ তুলে চলেছে অবিরাম!
আর উঁচু সেই পাহাড়টি,
ঝর্ণার বুক ভরা অদম্য তৃষ্ণার,
অনন্তর জ্বালাকে –
তার বিশালতা দিয়ে করে আছে ধারণ!
ঝর্ণা কি জানে সেই কথা?
ঝর্ণা কি জানে,
তার সদা প্রবাহমান অশ্রুজলের কাছে,
সুবিশাল উঁচু পাহাড়টিও,
নিজেকে কতোটা ক্ষুদ্র ভাবে?
পাহাড় তো কেবলই এক ধারক!
আজন্ম বুকে ধারণ করেই তার পথের খেলা!
তাই, শুধু ধারণ করেই তার পরিতৃপ্তি!
শুধু ধারণ করেই পাহাড়ের মুক্তি!
ঝর্ণার আবেগের উষ্ণতায় পাহাড়ের ব্যাপ্তি!

শূণ্যতার বুকে জড়িয়ে স্বপ্ন স্নান!
শংখচিলের ডানায় উড়ে বেড়ায় স্বপ্ন আমার!
ঘুমের গভীরেও জেগে উঠে –
আমার উদ্বেলিত নিশাচর পরাণ!
নক্ষত্রখচিত আকাশের ঝিলিক –
খেলা করে দু’চোখে;
পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে যায়,
আমার অস্তিত্বের অবিনাশী শ্লোগান!
শূণ্য শূণ্য –
শুনতে পাই কেবলই শূণ্যতার আহ্বান!
অন্ধকারের তীব্রতায় খুঁজে ফিরি অন্তরীক্ষের মায়া!
স্বপ্নের উদ্যমতায় ডানা ঝাপটিয়ে চিল,
হাতড়ে বেড়ায় জ্যোৎস্নাময় প্রচ্ছায়া!
আধখানা চাঁদের মধ্যরাতে
ঝড়ো তান্ডবের আশংকাতে,
শূণ্যতার অবগাহনে রাত্রিভর –
চোখের পল্লবে স্বপ্নের কথা, শুধুই মায়া!
শূণ্য শূণ্য –
শূণ্যতার মাঝেই শুধু আমার আসা যাওয়া!
নিরংকুশ শূণ্যতার বুকে জড়িয়ে আমার স্বপ্ন স্নান!
ঝর্ণাটি আবেগী ভীষণ, নিয়ে এক রাশ ব্যাকুলতা!

মাঝে মাঝেই খুব বেশী অবাক হয়ে যাই!
সত্যিই, যেন বারেবার
অবাক হবো বলেই –
পৃথিবীর মায়াকাননে জন্মেছিলাম আমি,
কোনো এক বিশেষ ক্ষণের
চাঁদনী প্রহর ক্রান্তিলগ্নে!
আমি জানি, ঠিক আমারই মতো তুমিও,
তুমিও জীবনের
বিচিত্র আচরণের ভীড়ে,
অবাক হও নিরন্তর, আর নিজের মনেই –
হেসে উঠো ঝলমলিয়ে,
সে কথা বিধাতাই জানে!
বিস্ময়াভিভূত প্রাণ, সদা চঞ্চলতায় খেলে!
জীবন নামের গ্রহে
নিতি জীবনেরই কথা বলে!
তবুও জীবন, নিয়ে এক রাশ ব্যাকুলতা,
হাতড়ে বেড়ায় অজানার খোঁজে –
অথৈ জলের প্লাবনে!
অস্থিরতার ঢেউ!
অস্থিরতার ঢেউ এসে,
দিয়ে যায় দোলা,
অকারণেই কখনো বা হৃদয়ের অতলে!
নাম না জানা ক্লান্ত পথিক,
হারিয়ে তার দিশা –
ধুকপুক করে ডেকে উঠে,
সময়ের পরাভব ভুলে!
চেয়ে থাকে প্রাণ পাখি –
সুদূরের ঐ নীলে!

হয়তো বা জীবন খেলায় ক্লান্তির হাতছানি!
খুঁজে ফিরে বারেবারে যেন
কিসের অক্লান্ত নেশায়,
কান পেতে রয় বাতাসের তোড়ে,
শুনবার তরে সেই পদধ্বনি!
হারিয়ে নিজেকে কখনো বা –
দিগন্তের অস্পষ্ট মায়ায়,
যা কিছু ‘আমার’ ভাবি, সমস্তটাই যাই রেখে!
দিনশেষে রাত্রিতে এসে –
অপরিমিত বিশ্বাসেও,
বুঝতে অপারগ প্রাণ,
তাই তো অস্থির, আবেগে!
ছেড়ে যাবার কষ্টটুকুও নিয়ে যাই সাথে!

খুব সহজেই ছেড়ে যেতে আমি পারি!
খুব সহজেই পারি –
সকল বন্ধনের সুতো দিতে ছিড়ে!
মনের জানালা ধরে নীলাকাশ নীলে,
খুব সহজেই আমি পারি –
মেঘের ভেলায় ভেসে যেতে আকাশ পাড়ে!
মায়াতে জড়িয়ে থাকে না আমার মন!
শুধু মায়াভরা হৃদয়ের তন্ত্রে –
বাধা পড়ে যায়, প্রাণের বীণাটি অনুক্ষণ!
আর তাই তো,
ছেড়ে যাবার কষ্টটুকুও নিয়ে যাই সাথে!
যা ফেলে এলাম পথের ঐ ধারে,
স্পর্শটুকু ছাড়ে না আমায় নির্জন প্রাতে!
https://lucysjourney.com/she-the-power-within-every-womans-journey/
You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, Click the link https://kobita.banglakosh.com/

