কিসের তাড়নায়!
কিসের তাড়নায় –
নুয়ে পড়েছে আজ প্রাণটি?
অতিকায় পর্বতের মতো,
ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলো যে প্রাণ –
আজ কিসের নেশায় ডুবে,
হয়েছে সে এলোমেলো!
কি সে অন্তর্জ্বালায় –
পুড়ছে অনন্তর অবিরাম!
সময়ের হাতে বন্দিত্বের কাছে,
ছেড়ে দিয়ে সব লেনাদেনা,
জীবনের দুর্বোধ্যতায় –
এমনই বুঝি বা পরিণাম!
সব খেলা থেমে যায় নিমেষেই,
ফুরিয়ে যায় সমস্ত আরাধনা;
জীবনের অন্তিমক্ষণে কখনো বা,
জীবন হারিয়ে ফেলে সব নাম!
কী ভীষণ অপারগ গর্বিত মানব জনম!
কী ভীষণ অসহায়ত্বের মাঝে দিনাতিপাত!
তারও চেয়ে বেশী অন্তর্জ্বালায় রাত্রিযাপন!
অপারগ কী ভীষণ গর্বিত মানব জনম!
অনিশ্চয়তা ঘেরা কী ভীষণ আপন ভুবন!
তার শৌর্য বীর্যের অভাব ছিলো না কোনো!
তার জীবন খাতার পাতায় পাতায় সফলতা!
ঘরে বাইরে তার কী ভীষণ দুর্দান্ত প্রতাপ!
চারিদিকে তার নামের দৌরত্বের প্রাবল্যতা!
ঝড়ো তান্ডবের পরে যেন শুষ্ক ঝরা পাতা!
বানভাসি জল সরে গিয়ে রিক্ত লোকালয়!
অতি উজ্জ্বল আলোকসজ্জা নিভে গিয়ে –
নিশছিদ্র অন্ধকার ঘিরে জীবনের পরাজয়!
কুণ্ঠিত শরীরে বেসামাল রহস্যের ছড়াছড়ি!
মস্তিষ্কের বুঝি বা জানা নেই পথের দিশা!
অবাক বিস্ময়ে শুধু তাকিয়ে থাকা অপলক,
জীবন ঘড়িতে যেন শুধু চির প্রস্থানের আশা!
কিসের তাড়নায় ঘুম আসছে দু’চোখে!
ঘুম আসছে দু’চোখে, কিন্তু আসছে না!
জীবন ডাকছে সামনে, কিন্তু চলছে না!
অতীতের মোহনায় স্মৃতির পায়তারা!
আজকের খেলাঘরে জীবন দিশেহারা!
মস্তিষ্ক সজাগ, অথচ শায়িত বুঝি বা!
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনে বিচ্ছুরিত আভা!
ঘুম আসছে না, সদা সতর্কিত দু’টি চোখ!
কিসের আগমনের ভয়ে সদা নির্মোক!
শরীর নিস্তেজ, তবুও সচল পদযুগল!
খাদ্যে রুচি নাই, তবু্ও ক্ষুধায় অবিচল!
জীবন থমকে আছে, অথচ তড়িৎ প্রবাহ!
যাবার তাড়না, তবুও প্রাণ ছাড়ে না দেহ!
সৃষ্টির বৈচিত্র্য মাঝে রূপের বিচিত্র আধার!
সময়ের হাত ধরে বয়ে চলে জীবনের ভার!
জীবন যেন নিমেষেই হারিয়ে ফেলে ধারা –
অনন্তের পথে ছুটে, ভেঙে পার্থিবতার কারা!
তাকিয়ে ছিলো অসুস্থ পিতার মুখপানে!

তাকিয়ে ছিলো সে অসুস্থ পিতার মুখপানে!
অপরিসীম কষ্টগুলো,
বিন্দু বিন্দু দানা হয়ে –
রিক্ততায় ভরে অন্তর অবর্ণনীয় অশ্রু বানে!
মুহুর্তের জালে মনেরই ভীড়ে তার, বারেবার –
উঁকি দিয়ে যায়,
অনিশ্চয়তার ফাঁদে,
চকিতেই হানে আঘাত বুঝি মৃত্যুদূতের কুঠার!
অথচ কী ভীষণ অন্যরকম জীবনের দুর্বোধ্যতা!
সময়ের ঘড়ির টিকটিক,
ঢিমেতালে বেজেছিলো,
সুস্থ দেহটিকে নেবে বলে, দিয়ে প্রগাঢ় নির্জনতা!
পৃথিবীর বুকে থেমে যায় সব স্পন্দন নিমেষেই!
বিশ্বলোক ছেড়ে দিয়ে,
পরলোকের যাত্রায় সে –
নৈবেদ্যের মালা গেথে সঁপে দেয় পূর্ণ নিজেকেই!
জানা নেই কারো, সময়ের ফের কিংবা বিধান!
কে কখন যাবে চলে,
পিছে র’বে পড়ে কে –
সময়েরই জানা, কখন জীবন খেলার অবসান!
দরোজার ওপাশে কে আছে দাঁড়িয়ে?
দরোজার ওপাশে কে আছে দাঁড়িয়ে?
কার অপেক্ষার প্রহরে –
সে এখনো ঘরের বাহিরে!
কিসের তাড়া নিয়ে প্রতীক্ষারত সে!
লুটিয়ে প্রাণে কি জাগাতে –
শুধুই অভিমান?
তার সাথে এই খেলাঘরের আলয়ে,
দেখা হয় কদাচিৎ,
ক্লান্তিকর অবসাদের ছায়াতলে;
সেই ক্ষণের বিষাদে অনন্তর,
ছেয়ে থাকে নত প্রাণ!
তার আনাগোনা দেখলেই মনে হয় –
প্রাণের আলোক নিভে গিয়ে,
হবে প্রাণেরই বিনাশ,
জীবন গুড়িয়ে হবে জীবনের অবসান!
সে যে দাঁড়িয়েই আছে ঠায়, যেন
সময়ের ইশারাতে,
তুচ্ছ করে সকল বাধা,
সে ভাঙবে বদ্ধ দুয়ার,
কেড়ে নিতে প্রাণপাখির স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণ!
পেরিয়ে যাবার ক্ষণ!
মনে হয় যেন,
কিসের জন্যে এতো কিছু?
এক জীবনের সবটুকু শেষ করে এসে,
এভাবেই যদি বেঁচে থাকতে হয়;
যদি আপনার মাঝে থেকেও –
তবে কিসের জন্যে,
কিসের জন্যে এই মায়াকাননে –
তোমার জন্যে আমার কিংবা
আমার জন্যে তোমার পৃথিবী রঙ বদলায়?
অভিব্যক্তিহীন একটি অবয়ব আজ তার!
একদিন সেখানেই ছিল জীবন অপার!
আজ মুখপানে তাকালেই,
এলোমেলো ভীষণ লাগে সব!
কিই বা সাধ্য আছে তোমার আমার –
জীবনের এই রূপের মাঝে,
জীবনের রঙ আবারও
ছড়িয়ে দেবার!
ভাবছি জীবন,
অথচ কী ভীষণ নির্জীব প্রাণ!
সময়েরই তালে এই জীবন চলমান!
তুমি আমি কিংবা সে,
প্রতিটি প্রাণের স্পন্দন –
আর কিছু তো নয়, শুধুই
সুরের সাথে সুর মিলিয়ে
পেরিয়ে যাবার ক্ষণ!
https://lucysjourney.com/category/inspiring-journeys/
You may read many beautiful Bengali poems written by renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

