“এই একেলা নিরালার আমাতে”
চোখ পড়ে যায় নিজের অজান্তেই, যদিও
তাকিয়ে দেখতে চাইনি কখনো।
তোমাদের উপেক্ষার অগ্নি দহনের যন্ত্রণাটুকু,
মাথার ভেতরে উঁই পোকার ধ্বংসযজ্ঞ যেন।
থাকতে পারিনি তোমাদের মতো করে আমি,
দিতে পারিনি এতোটুকু জীবন সুধা।
মনের তাড়নায় বেরিয়ে এসেছি সব ছেড়ে,
সবুজে পরিপূর্ণ তাতেও যদি হয় শুষ্ক বসুধা।
আজ আর চাইবার আমার নেই তো কিছুই,
তোমাদের জন্যে এতোটুকু মঙ্গলকামনা বিনে।
কক্ষপথে ঘুরে আসুক পৃথিবীসমেত সৌরবলয়,
আমি না হয় একটুখানি নিজেকে নিই চিনে।
ঘরের কোণে এই একেলা নিরালার আমাতে,
খুঁজে যদি পাই অপূর্ব সেই শান্তির দেখা;
কারো কি কোনো ক্ষতি তাতে আছে বলো?
রয়ে যাই এখানেই, খন্ডাবে কে ভাগ্যের লেখা।
তবুও ভালো আছি, এই তো পরম পাওয়া;
জীবন সংগ্রাম যতোই তাচ্ছিল্যভরে হানুক আঘাত!
আমার ছোট্ট প্রাণের সবটুকু জুড়েই কেবলই –
তোমাদের জন্যে প্রার্থনায়, তুলি দু’টি হাত।

এই একেলা নিরালার আমাতে, এই একেলা মদিরতায়!
ঘুমের ভীষণ নেশায় প্রায়শই জেগে উঠি আজকাল!!
ঘুমের এই বিড়ম্বনায়, কিছুই কি আসে-যায় আমার!
ঘুম পালিয়ে বেড়ায় আমাকে ছেড়ে – দূরে বহুদূরে!
ভাবখানা যেন দুর্ভাবনায় রইতে পারি না তাকে ছেড়ে।
তবুও তো বাকী রয়ে যায় পার্থিবতার কতশত কাজ!
মনের দর্পনে রেখে সুদীর্ঘ জীবনের অতি সূক্ষ্ম রাজ!
অদম্য মনোবলে ছুটে চলাই এখন প্রাণের তাগিদ!
প্রস্থানের পথে উপেক্ষিয়া প্রাণপাখির অযাচিত জিদ!
স্বপ্নবাজির নেশাকেও রেখে দিই খানিক দূরে ঠেলে,
স্বপ্ন-রঙে নাইতে যাবার দিন এসেছি পিছনে ফেলে!
রাত্রি শেষে ভোরের আলোর এই একেলা মদিরতায়,
খুঁজে নিই প্রাণের স্পন্দনটুকু – চা’য়ের পেয়ালায়!
পাখিদের কুহু কুজনের সাথে আমার কবিতার খাতা,
নদীর জলের মত উথলিয়ে রাখে সতেজ পদ্মপাতা।
ঘুমের নেশায় জেগে থাকি বা ঘুমিয়েই থাকি জেগে;
আক্ষেপ নেই, জনমের ঋণটুকু না যাই যেন রেখে।
এত ভালোবাসা, এত যে প্রাপ্তি – শুধিতে হবে সবই;
ঘুমের নেশায় তবেই ঘুমোবো, নীরব হবে যে কবি।
সেই ঘুম ভাঙবে না তো আর পৃথিবীর মায়াকাননে;
জনমের শোধ মিটিয়েই তবে যাবো মৃত্যুর আলিঙ্গনে।
এই নির্জনে একেলা আমি!
সৃষ্টি লগ্নে আমার তুমি,
আমার জন্ম লগ্নেও তুমি!
তুমি আছো সর্বদাই,
আমি নির্ভাবনায় পথ চলি তাই!
আমাকে নিয়ে আমার ভাবনা,
সবই যে তার তোমারই রচনা!
তোমার মাঝে আমার বাস,
ভুলে থাকি সব পাই না অবকাশ।
তুমি আমাকেই ভুলিয়ে রাখো,
তোমার রঙের ছোঁয়ায় আমায় আঁকো।
আমি তোমারেই ডাকি বারংবার,
হৃদ পিঞ্জরে বয়ে অটল পাহাড়।
তারই মাঝে তুমি সাড়া দাও ঠিক,
তাই তো আমি ছুটি না দিকবিদ্বিক।।
কতশত দুর্যোগ আর উত্তাল উর্মিমালা,
সবখানেই তোমার আশীষ নির্জলা।
আজ এই নির্জনে একেলা আমি,
তবুও পথের শেষে তোমাতেই থামি।
ক্লান্ত চরণ আর অস্থির আঁখি ছলছল,
তুমি আছো জানি, তুমিই মনোবল।
দেহঘড়ি নিয়ে মেতে আছি ভবে,
ছুটে যাবো ঠিক ডাক দেবে যবে।
তবুও কী ভীষণ স্বাভাবিক, স্বাচ্ছন্দ্য চলাফেরায়!
মহাসমুদ্র পাড়ি দিয়ে,
আজও –
মহাসমুদ্রের উত্তাল জলরাশিই
আমার আশ্রয়!
বুকের ভেতরে মাঝে মাঝেই
চিনচিন ব্যথা হয়!
আজকাল ব্যথাগুলোও কেমন যেন
মনে হয় মেকি কিংবা ভার্চুয়াল!
ক্ষণে ক্ষণেই
মস্তিষ্কের নিউরনেও যেন চলে
তুমুল তান্ডবের মৃদু তাল!
তবুও
আমি কী ভীষণ স্বাভাবিক আর
স্বাচ্ছন্দ্য চলাফেরায়!
জীবন নামের এই মহাচক্র যদিও
আমাকেও পোড়ায়!
তোমাকেও কি সে পোড়ায়???
বাঁচার আকাঙ্খার ঝিলিক।
পৃথিবীর অভয়ারণ্যে ঘুরে ফিরে দেখছি –
নয়নাভিরাম আছে যা কিছু;
সময়ের ধারাপাতে,
নিজেকে মানিয়েও নিয়েছি ঠিক।
মনের আয়নায় তবুও,
ঝিনুকের খোলসের ভেতরে
পরম নিরাপদে –
মুক্তো হয়ে বাঁচার আকাঙ্খার ঝিলিক।
স্বপ্নীল পৃথিবীতে স্বপ্নবাজ মনের স্বপ্ন,
কে তারে ক’বে পেরেছে রুধিতে!
যতোই রৌদ্রচ্ছায়ার তপ্ততায় মগ্নতা,
দোলনচাঁপার ঘ্রাণের স্পর্শকাতরতা র’বেই!
রিনিঝিনি বৃষ্টির ঐ ছন্দময় নৃত্যের তালে,
স্বপ্নের রঙে মন রঙ্ধনুর রঙ আঁকবে!
ফুরিয়ে যাবার বেলায় এসেও এই জীবন,
কখনো বা তাই, জীবনের কথাও ক’বেই!
ঝিনুকের বুকে জড়িয়ে অবশেষে একদিন,
জানি, মুক্তো হয়ে ফুরোবে জীবনের যতো ঋণ।
রহস্যময় জীবন আপনিই কথা বলে!
ভাবনার জালে জড়িয়ে ছিলো যা কিছু,
নীরব-নিশ্চুপ সবই আজ!
পৃথিবীর ও-ধারে ঝলমলে বিকেলের আলো,
এ-ধারে কেবলই অফুরন্ত অবকাশ!
বুঝি বা এমনটাই ছিলো নিয়তির লিখন –
আপনারে নিয়েই হবে সুখ বিলাসিতা;
মায়ার বাঁধন যতো আপনই যাবে ছিঁড়ে,
বারেবার তবু্ও মায়ারই বাঁধনে র’বে বাঁধা।
বিচিত্র জীবনের বৈচিত্র্যময় চরিত্রের মাঝে,
রহস্যময় জীবন আপনিই কথা বলে;
মানুষের কিই বা সাধ্য আছে করে ব্যত্যয়,
সময়ের নির্ধারিত পরিকল্পনা অবহেলে!
অতি ক্ষুদ্র প্রাণ দুর্নিবার আবেগে যায় ভেসে,
নির্জনতার ধ্বনি কখনো বা গর্জনে উথলায়!
সময়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে তবুও –
প্রাণের বৈভবে সদা প্রাণশক্তি, অফুরন্ত নেশায়।
You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/
