“হায় প্রেম!”
– আমাকে দেখলেই তোমার খুব ভালো লাগে, তাই না?
~ মনের ভেতরে ‘এক ফাগুন রঙ’ দিয়ে যায় দোলা!
– তোমাকে আমি একবার ছুঁয়ে দিলেই ভুলে যাও পৃথিবীর মায়া, না?
~ সীমানা ছাড়িয়ে প্রাণপাখি আমার আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে গেয়ে উঠে, উলালালা!
– আমি যে ফিরেও দেখি না তোমার দিকে একটিবার!
~ কিছু এসে যায় না তাতে আমার, সারাক্ষণ ছুঁয়ে আছো যে আমার সমস্ত অস্তিত্ব!
– (হায় প্রেম!) তোমার দুঃখ কষ্টের এতোটুকু স্পর্শ নিতেও আসি না কখনো!
~ তা নিয়েও আমার কষ্ট নেই কোন মনে, তোমাকে দেখেই ধন্য!
– তোমার মাঝে আমি আর খুঁজতে যাই না প্রেম! বুঝো তো?
~ খুব বুঝি! তবুও তোমাকে দেখলেই আমার ভরে যায় মন! কি যেন আছে তোমার মাঝে!
– মেয়ে, তুমি কি সত্যিই বুঝো না কিছুই?
~ আমি যে তোমাকে ছাড়া কিছুই বুঝি না! সবকিছুতেই শুধু তোমাকেই খুঁজি, তোমাকেই পাই!

“তোমাকেই দেখি – হায় প্রেম!”
খেলাচ্ছলে তুমি কতো খেলাই না খেললে!
তুমি ভাবতে পারো, বুঝি বা পরাজিতার কথা!
কিন্তু না, আমি পরাজিতা নই মোটেও, শুধু
তোমার খেলা দেখি, আর দেখে দেখে ভাবি,
কতো খেলাই না তুমি খেলতে পারো!
সময়ের কাছে বড় বেশীই অসহায় মানুষগুলো;
তারা ভাবে – জয় করে নিয়েছে সকল কিছু,
যা কিছু আছে এই বিশ্বলয়ে আর সেই সবও,
যা কিছু আজও মানুষ ধরতে পারেনি, অথচ
সময়ের খেলায় জয় পরাজয়ের হিসাব নেই!
বরং মানুষ ঠিক ততোটুকুই পেতে পারে,
যতোটুকুর বাইরে যাবার তার ক্ষমতা নেই!
আমার মন সচরাচর তেমন কিছুতেই টলে না;
কিংবা ভাবনার মাঝে ক্ষণিক হারালেও,
তুমি ছাড়া আর তেমন কিছুই,
মনের গভীরে তুলে না আলোড়ন!
তবে মাঝে মাঝেই,
খুব ভীষণ একেলা সময়গুলোতে,
মনের মাঝে এক অন্যরকমের বোধের –
ঘটে আকস্মিক নির্লিপ্ত জাগরণ!
তখন অন্য কিছু দেখবার আগেই তোমাকে দেখি!
মনকে শুধাই, এই একেলা সময়ের অন্ধকারে,
আমার একটি তুমি, কেন নেই আমার পাশে?
উত্তরও তো আমার ঠিকই জানা,
তাই উত্তরের খোঁজে আর পুড়াই না নিজেকে;
শুধু দেখি, আর দেখি, তোমাকেই দেখি!!!
“পরিচর্যা চাই প্রাণের!”
খুব এলোমেলো যখন ভেতরটা!
স্থিরতা যখন নেই কোথাও!
কেবলই অস্থির, অধীর আর ফাঁকা!
ভীষণ এলোমেলো সবকিছু!
আর বিষন্নতায় নিতান্তই একা!
এমন সময়গুলোতেই –
একটু নিবিড় পরিচর্যা চাই প্রাণের!
পরিচর্যা চাই, আর কিছু নয়!
“অভিমান”
এতো বেশী ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে,
এখন আর তোমার স্পর্শ বিনে প্রাণ পাই না!
ফাঁকা ফাঁকা লাগে চারিদিকের কোলাহল,
ভেতরে কুঁড়ে কুঁড়ে খায় যেন ঘুণ পোকার দল!
এই একটুখানি স্পর্শ দিতে এতো কেন দ্বিধা?
এ যেন আমার কাছে আজ অর্থহীন এক ধাঁধা!
হয়তো তুমি বুঝতে পারোনি প্রাণের স্পর্শ কি,
ভাবো হয়তো তুমি, সবটাই দখলদারিত্বের ফাঁকি!
এতো ভালো তোমায় বাসবে কি আর কেউ?
তুমিই বলো, কতো ডাকি তোমায় সারা বেলা!
তুমি যে দেখেও দেখো না, শুনেও না শুনো!
প্রাণ আমার দহন জ্বালায় পুড়ে হলো কালো!
বেশ তো, থাকো তুমি তোমার তোমাকে নিয়ে,
আমিও আর ডাকবো না, বসবো না পাশে গিয়ে!
ভেতরের অস্থিরতার দাবানলে পুড়ে হবো ছাই,
তবু্ও তোমায় ডেকে, আর জ্বালাবো না বৃথাই!
“প্রতিজ্ঞাবাক্য”
‘তোমার সাথে আর হবে না দেখা আমার,
এই জনমের তরে’ –
চলো দু’জনেই করি প্রতিজ্ঞা আজ,
আজ ঠিক, ঠিক এই মুহুর্তে!
তুমি ডাকবে না আমায়, যদিও ডাকো কদাচিৎ,
আজকাল আর হয়তো প্রাণ পাও না;
আর আমিও, যদিও বারবার প্রাণ ছুঁয়ে যাই,
তবুও আমার দ্বিধা বেশুমার, শুধুই পালাই!
তোমার আছে সুবিশাল এক পৃথিবী, আর
আমার আছে সুবিশাল এক শূণ্যতা!
থাকি না হয় সেই প্রাপ্তি নিয়েই দু’জনেই,
হয়তো পরের জনমে মিলে যাবে পরিপূর্ণতা!
তোমার পৃথিবীর বুকে আমি ছায়া দিবো,
গনগনে প্রখর উত্তাপে যখন মাটি চৌচির হবে;
যখন ভীষণ অবহেলায় তোমার পৃথিবীতে,
অসম্ভব ভূকম্পনে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে,
লাভা উদগীরণ এসে গরম আঁচের তাপ দিবে!
আমার শূণ্যতায় তোমার, যদিও –
অফুরন্ত ভান্ডার থেকে আছে অনেক কিছু দেবার;
তবুও আর কিছু নয়, শুধু একটুখানি স্নেহ দিও,
সেই স্নেহটুকুই আমার শূণ্যতার বুকে –
রংধনুর সাত রঙে রাঙিয়ে নীলিমার মায়া হবে!
এভাবেই না হয় জড়িয়ে র’বো অনন্ত অবধি!
আমি ছায়া আর তুমি মায়া হয়ে বইবো নিরবধি!
“একটি মনে অসীমের পিয়াসা!”
যখন বুকের ভেতর একাকীত্বের নিস্প্রভ মন্বন্তর,
ভেঙে চুরে সব চুরমার করে দিতে উদ্যত অন্তর!
যখন উর্মিমালার রোষানলে সমুদ্রের বুকে কম্পন,
হিতাহিতজ্ঞান ভুলে যাই, থেমে যায় হৃদ স্পন্দন!
তবুও তো পথের সীমানা দিগন্ত প্রসারী পথ –
প্রাণের অনলে পুড়িয়ে নিজেরই মনোরথ!
তোমাদের তরে জড়িয়ে থাকুক শুধুই ভালোবাসা,
জীবনের খেলাঘরে একটি মনে অসীমের পিয়াসা!
হাসুক রৌদ্র, খেলুক জ্যোৎস্না, উথলিয়ে আঁখি নীর,
মানুষের ভীড়ে মানুষ গড়ুক ভালোবাসার নীড়!
অসম্ভবের আকাঙ্খা নিয়ে ভেসে চলি অনন্ত কালে,
জগতের অস্থিরতা মাঝে ডুবে থেকে নৃত্যের তালে!
স্তব্ধ সমীরণ ক্ষুব্ধ শূণ্যতায় ছটফটিয়ে পাখির ডানায় –
প্রাণের মাঝে তৃষিত ব্যাকুল এলোমেলো ভাবনায়!
You may read beautiful Bengali Poems by renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com
