“রঙের ছোঁয়া”
জীবনের রঙ আমি বুঝতে পারি না কিছুতেই –
যদিও রঙের খেলা চলমান অবিরাম!
জীবনের রোষানলে পুড়ছি সদাই, তাই
জড়িয়ে সে খেলায় শুধুই ক্লান্তিতে বহমান!
রঙের সমারোহে বিক্ষুব্ধ হৃদয়ের বীণা নিয়ে,
বারেবার আমি পুড়ি অথৈ নির্জনতায়;
একেলা সময়ের একেলা মুহুর্তগুলিতেও,
জীবনের রঙের খোঁজে প্রাণ, একেলাই ফুরায়!
কখনো উদ্দীপ্ত সূর্যালোকের উত্তপ্ত কিরণে,
কখনো আঁধারের গভীর কালো ছায়ায়,
জ্যোৎস্নালোকিত রাতের দীপ্ত আলোয় কখনো,
কখনো বা তৃষ্ণায় কাতর পৃথিবীর মায়ায় –
আমি খুঁজে ফিরি অসম্ভবের তাড়নায় মেতে,
খুঁজে ফিরি রঙের ছোঁয়া আপনাতে,
খুঁজে খুঁজে ক্লান্তিতে জড়ানো অস্থির প্রাণে,
আমি আমার মাঝে আমাকেই খুঁজে নাহি পাই!
জীবনের রঙের খেলায় উদাসীনতা কখনো প্রাণে,
কখনো চিত্তের শান্তি মিলে রঙেরই অন্বেষণে!
সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে কালোর ঘনঘটায় কভু,
রঙের খোঁজ মনে অহরহ, রঙের ছোঁয়া যাচি তবু!!!

“জীবনের গানে রঙের ছোঁয়া”
সন্ধ্যার মৃদু ছন্দে পাখিরা ফিরছে নীড়ে;
আকাশের নীল চুপিসারে নিমগ্ন,
তারার ঝলমলে আলোতে –
আলিঙ্গনে শুধু তোমাকেই খুঁজে নিবে বলে!
রাতের আঁধারে তারার ঝলক আঁখি নীরে;
ঘরে ফেরা মানুষের ক্লান্ত চরণের ছাপে –
আকাশ বাতাস মুখরিত,
যেন পাওয়া না-পাওয়ার প্রতিধ্বনি দুলে!
রাতের গভীরে ডেকে যায় রাতজাগা প্যাঁচা;
অন্ধকারের নিশছিদ্র তীব্রতা ভেদ করে,
নিয়ন বাতির আলো আঁধারে –
স্খলিত বসনা নারী কাঁপে শীতের প্রকোপে!
কুয়াশাচ্ছন্ন নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ করে নিশিভোর!
উঁকি দিয়ে যায় রক্তলাল সূর্যালোক!
ভোরের বাতাস সুবাসিত হয় –
মাতাল নেশায় বিভোর হাস্নাহেনার সৌরভে!
আবারও বেলা শেষে কুহুতানে প্রাণ উচাটন!
আবারও সন্ধ্যা নামে পৃথিবীতে!
সময়ের সাথী হারিয়ে যায় –
দুঃসময়ের বেপরোয়া নিষ্ঠুর নির্মম আঘাতে!
“অচিনঘরের মায়ায়”
যেতে যেতে চলে যাই আমি অচিনঘরের মায়ায়,
লুটিয়ে ধূলায় সূর্যালোক খুঁজি আপনারই মনের ছায়!
প্রাণহীন প্রাণ, আর নেশায় ব্যাকুল হৃদয়ে,
হানা দিয়ে যায় ফেলে আসা সময়, মৃদু শীতল বায়ে!
জানি না সেখানে কিসের নেশায় র’বো আমি ডুবে!
প্রাণ র’বে না প্রাণের খেলায় – কেমন করে কি হবে!
সেই অচিনঘরে অচেনা তুমি, র’বে কি আমার সাথে?
নাকি একেলা নীরবে নির্জনে আমি, মেলবো আঁখি প্রাতে?
মাটির ঘরের উঠোন জুড়ে, ফুটবে কি হাসনাহেনা?
জানালা ধরে দেখবো কি আমি, জ্যোৎস্না চিরচেনা?
উঠোন পেরিয়ে পাখিডাকা ভোরে, যাবো কি নদীর পাড়ে?
তুমি এসে কি বকুল মালা হাতে, শুধাবে কুশল আমারে?
অচিনঘরের মায়ার ঘোরে উজ্জীবিত-চঞ্চল প্রাণে মনে –
ক্ষনিকের তরে হারিয়ে চেতনা, মন চলে যায় নির্বাসনে!
সেই অচিনঘরই হবে ঠিকানা জানি – জীবন সায়াহ্নে,
যাবোই চলে কোনো একদিন, জীবনের ঘানি টেনে!
“প্রাণের স্পর্শ”
প্রাণের স্পর্শের লাগি তড়পায় এই মন;
বেশী কিছু নয়, শুধু চায় একটুখানি যতন!
হ্যাঁ, প্রাণের স্পর্শ কেবলই; অথচ
এই স্পর্শটুকু যেন এক সোনার হরিণ!
শরীরের স্পর্শ – সে তো নশ্বর এই জীবনে,
ক্ষনিকের সুখের উল্লাসে মাতে আনমনে!
কিন্তু প্রাণের স্পর্শের মাঝে যে পরম রূপ,
অবিনশ্বর রঙের ছোঁয়ায় আনে স্বর্গীয় সুখ!
মানবের জন্মের নিগূঢ় ইশারা যেন হানে,
কুঠারাঘাত বারেবারে অনন্তের আয়োজনে!
প্রাণের চাওয়াকে দমাতে, চলে সব খেলা;
জীবনের চাওয়া-পাওয়ায় হারায় সারাবেলা!
শরীরের স্পর্শ লাগি অবহেলে প্রাণের স্পর্শ,
জীবন কেটে যায় করে শুধুই প্রাণের সংঘর্ষ!
মিলে না চরাচরে উন্মাতাল যতনের সুধা,
তুমি আমি তাই তড়পাই নিয়ে প্রাণেতে ক্ষুধা!
“দ্বান্দ্বিকতায় জীবন”
দুরন্ত ঝড়ের বেগে আমি গুড়িয়ে দিবো সব,
যা কিছু অন্যায় আর মিথ্যের পরাভব!
নিউরনের কোষে কোষে মত্ত বিক্ষুব্ধ গর্জনে,
উড়িয়ে দিবো আমি, অনাসৃষ্টির যতো বৈভব!
জীবনের খেলাঘরে প্রাণ আজি বড় অসহায়,
শুধু অস্থিরতার অনলে পুড়ে যেদিকেই তাকায়!
ফিরে ফিরে আসে আর অশ্বের বেগে পালায়,
আকাশের নীল, কালো মেঘে মেঘে ছেয়ে যায়!
দুর্দান্ত লাথির প্রচন্ড চোটে উড়িয়ে ধ্বজা পিষে,
পৃথিবীর কোমল বুকে যা, উদ্যতমুষ্টি হয়ে মিশে;
আর হৃদয়ের প্রকোষ্ঠে উন্মত্ত উদগীরণের রোষে,
দুরাশার কালিমা রেখা দিবোই দিবো আমি মুছে!
নিয়তির ইশারা খন্ডানো নয় যে আমার মুঠিতে,
তা খন্ডাতেও আমি চাইতে পারি না কোনমতে!
জীবন সমুদ্রে আমি ভাসিয়ে নিয়ে চলি জীবনতরী,
আর শংখচিলের ডানায় উন্মাদনায় মুখর হয়ে উড়ি!
প্রাণের ক্ষোভ তবুও জীবনের দুর্বোধ্য এক নেশা,
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে ছাইভস্ম অন্তরে খেলে পাশা!
হেরে গিয়েও জিতে যাই, ক্ষণে আপনারেও ভুলাই,
সময়ের তালে অন্তরমাঝে শেষে তোমাকেই পাই!
“সম্পর্কের মায়াজাল”
সম্পর্কগুলো আজকাল কেমন যেন জলের মতোন,
তৃষ্ণা মিটিয়ে খুব সহজেই গড়িয়ে চলে যায় অজানায়!
কেমন যেন বিষাদের দহন রেখে যায় মনের ভেতরে,
পুড়িয়ে অবিরাম মনের অতল শুষ্ক হয়ে কাঁদে নিঃস্বতায়!
প্রাণের স্পর্শবিহীন সম্পর্ক নিয়ে জেগে উঠে ঘুমন্ত হৃদয়,
শরীর সর্বস্ব সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায় সম্পর্ক ধরে রাখার বন্ধন!
সময়ের খেলা সময় খেলে চলে অপরিসীম অদম্য নীরবতায়,
কথার মালায় জড়িয়ে কথার ফুলঝুরিতে রয় নির্বাক জীবন!
হৃদয়ে নিয়ে তুমুল আলোড়নের কম্পিত অস্থির ভাবনা,
সম্পর্কের মায়াজাল – সে তো জীবনের তরে জীবন লড়াই;
প্রাণ নিয়ে প্রাণ পাখি নিতিই করে অফুরন্ত ডাকাডাকি,
তবুও জীবনের মাঝে সম্পর্কের তরে প্রাণ তড়পায় বৃথাই!
You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/
