“মাটির ঘর ঠিকানা”
মাটির একটি শূণ্য ঘরে হবে ঠিকানা আমার,
হৃদ স্পন্দনে যখন টিকটিক ধ্বনি নেই আর!
একাকিনী সেই ঘরে জেগে রইবো উদাসিনী,
তোমারই প্রতীক্ষার মালা জপ করে দিবাযামী!
শূণ্য ঘরের উঠোন জুড়ে বুনবো মাধবীলতা,
তুমি এলে বসিয়ে সেখানে হবে তুমুল গল্পকথা!
চার দেয়ালের মাঝে থাকবে না কোন আড়াল,
তোমার-আমার প্রেমলীলায় কাটবে বাকী কাল!
আমার শূণ্য ঘরে চাবি দিয়ে দেহঘড়ির অবসানে,
অন্তরাত্মার মিলনে জীবনখেয়া ভাসবে উজানে!
মাটির ঘরের সর্বব্যাপী বইবে স্নিগ্ধ সুবাতাস,
কান্না হাসির সকল খেলা তখন, শুধুই ইতিহাস!
সেই ঘরেতে রইবো দু’জন অপার্থিবতার টানে,
করবো মনের চাষ হেসেখেলে অসীমের আহ্বানে !
মাটির ঘরের শূণ্যতার মাঝে পূর্ণতারই গানে,
প্রাণের শরণ স্বর্গ সুধাময় অনন্ত অসীমেরই পানে! (“মাটির ঘর ঠিকানা”)
“তোমারই জন্যে (মাটির ঘর ঠিকানা)”
তোমারই জন্যে শুধু তুলে রাখলাম –
আমার এই হৃদয়ের বীণায় ঝংকৃত,
স্বর্গীয় অনুভুতির সুধাময় সুর, আর
প্রাণের স্পর্শ মাখা কাব্যের নির্ঝরিণী!
তোমারই অবগাহনে সেখানে –
হাসবে ধরিত্রী ভীষণ এক উন্মাতাল মোহে;
গাইবে সুধাকর, নাচবে দিবাকর,
সর্বত্র জুড়ে রইবে পুলকিত রঙের ছোঁয়া!
তোমারই জন্যে দেখো ফুটবে বকুল,
নীলের মায়ায় জড়িয়ে রইবে ভালোবাসা;
আকাশে বাতাসে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে,
অক্লান্ত ধারায় বয়ে যাবে ঝিরিঝিরি ছন্দ!
বেঁচে থাকার দুর্বিসহ যন্ত্রণার দাবানলেও –
তোমারই জন্যে সুবাতাসে ভাসবে চরাচর!
তোমারই প্রাণের ব্যাকুল ডাকে দিয়ে সাড়া,
তোমাতেই প্রাণ হয়ে আত্মহারা,
তুমি দেখো, সমস্ত চরাচর জুড়ে রইবে –
উল্লাস ধ্বনির উৎসবে মেতে থাকা চমক!
তোমারই রঙের সুধারসের মায়া কাননে,
আমি বুক ভরে নিবো জীবনের অমৃত ধারা;
আমারই প্রাণের মাঝে যে কথার ফুলঝুরি,
তোমাতেই সঁপে আমি মেটাবো তৃষ্ণার জ্বালা!
তুমি শুধু এসো একটিবারের জন্যও,
সময়ের ঘড়ির টিকটিক দ্যোতনাও না যদি হয়;
তোমারই আবির্ভাবের অন্তহীনতায় মেতে,
তোমারই জন্যে দেখো রংধনু-রাঙা হবেই সময়!

“বিরহ ব্যথা”
তোমারই জন্য আমি ছেড়েছিলাম সুখের সেই ঘর,
জীবন জুড়ে বুঝি বা তাই তুমিই নিয়ে এলে দুরন্ত ঝড়!
আজ আমি ভীষণ এলোমেলো অন্ধকার চারিদিক,
ঝড়ের দাপটে তছনছ এই জীবন, নেই কিছুই ঠিক!
আকাশ দাপিয়ে মেঘের ঘনঘটায় তুমুল আলোড়ন,
ছেড়ে গেলে আমায় একাকী পথে, হলো দুঃসহ জীবন!!
হৃদয়ে অনল আর চোখে নিয়ে জল, আমি পথহারা,
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবও চরম রূপে নিতি করছে দিশেহারা!
সুখের ঘরের উঠোনে আমার নেই কোন যাতায়াত,
দুঃখ আমার জীবন সাথী, আমি অশ্রুসজল দিনরাত!
পথ চেয়ে থাকি শুধু, রাখি নিজেতেই ভুলিয়ে নিজেকে,
এই বুঝি ফিরে এলে তুমি, বুকে টেনে নিতে আমাকে!
প্রিয়ার মনের গহীন ঘরে, প্রেম পিয়াসী খোলা জানালায়,
দেয় না দেখা প্রিয় রাঙিয়ে দিতে ভোর, আলোর খেলায়!
ঝড়ের বাতাস থামে না তবুও, আমি ফেলি দীর্ঘশ্বাস,
অধীর হৃদয় পুড়িয়ে বয়ে যায় তোমারই প্রেম আভাস!
“নির্বাক আঁখি”
পৃথ্বীরাজের অনন্ত গহ্বরের ভীষণ টানে,
আমি লেপ্টে থাকি নির্বিকার!
আমার দেহের সমস্ত আয়োজন –
ধুলোমলিন জীর্ণ টুকরো কাগজের মতো,
পার্থিবতার শৃঙ্খল উপেক্ষা করে,
ধীরে ধীরে ধায় নতুন এক সময়ের তালে;
আর সজোরে মিশে যায়,
মৃত্তিকার উষ্ণ বুকের পাজরের ভালে!
জৈব বিবর্তনের ধারায় কিংবা
জলের বহমান ধারার পরিবর্তনের কারণে –
বিকশিত নিস্তব্ধ নিস্তেজ এক দেহ;
কিংবা প্রচন্ড দাবদাহে উদগীরণের কালে,
অথবা পাগল বাতাসের সাথে সৌর মিলনে,
প্রস্ফুটিত প্রকৃতির কোলে –
আমি নির্বাক আঁখি মেলে থাকা প্রদাহ!
অনন্ত আলোকের শিরদাঁড়া বেয়ে আমি,
ধেয়ে চলি অদমনীয় উচ্ছ্বাসের শরণে!
নীরব নিথর পড়ে থাকা দেহ নিয়ে অকাতরে,
যুঝে যাই তবুও সময়ের অশান্ত সমীরণে!
“ভাবনার জাল”
জীবনকে নিয়ে ভাবনার নেই কোনো শেষ!
ভাবনায় যেনো জীবনেরই প্রতিচ্ছবির রেশ!
আবার ভাবনার অতলে হারিয়ে গিয়েও নেই,
জীবনের দুর্বোধ্যতায় কমতি কিছুতেই!
যদিও জীবনের খেলা জীবন নিজেই খেলে,
জীবনের তোয়াক্কা নেই ভাবনারও তরে!
অপরিসীম ভাবনার উন্মাদনায় থেকেও,
জীবন চলমান তার চঞ্চলতায় প্রতি মুহুর্তে!
সময়ের তাড়নায় উদ্ভ্রান্ত প্রাণ মন আঁখি!
তবুও জীবন বয়ে চলে দিয়ে জীবনকে ফাঁকি!
জীবনের উন্মত্ত খেলাঘরে ভাবনার জালে –
নিয়ত জীবন চলে তার আপনার তালে!
তুমি আমি সে – জীবন দেখি ভাবনাতে জড়িয়ে,
তারই মাঝে জীবন থাকে স্বপ্নে বিভোর হয়ে!
হায় রে জীবন! কাটবে ক’বে এই ভাবনার জাল!
বয়ে বেড়াবো এই জীবন তরী আর কতো কাল!
“নির্মোহী”
আমার নিরাকার ভেলায় আমি চলি ভেসে,
দিগন্ত পেরিয়ে যাই অদমনীয় উল্লাসে!
পথের মায়ায় তাকাই না কখনো ফিরে,
শুধু তোমার চোখের মায়া খুঁজে খুঁজে আমি,
বন্ধন ছিন্ন করার তুমুল নেশায় ডুবে,
সমুদ্র স্নানে যাই, পৃথিবীর সমস্ত মায়া ছেড়ে!
You may read beautiful Bengali poems by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/
