“এলোমেলো ভাবনার জালে”
সারাদিন কেটে গেলো এলোমেলো ভাবনার সাথে!
অগোছালো জীবনের সব কিছুই,
কেমন যেন নিজস্ব তালে তাল মিলিয়েই চলছে!
থেমে নেই কিছুই কোথাও যদিও,
শুধু বেসুরো তালে চলমান!
আর আমি সেখানে শুধুই ক্ষুদ্র এক প্রভাবক মাত্র –
আমার অস্তিত্বের পরিবর্তন নেই কোন!
প্রভাবকের অন্য গুণাবলী আদৌ ধারণ করি কিনা,
আমার জানা নেই মোটেও!
অসম্ভব রকমের এলোমেলো বিক্রিয়ার মাঝে,
আমার অংশগ্রহণ আছে বৈকি!
শুধুমাত্র অংশগ্রহণ নয়,
ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াতেও আমি আছি!
তাই বাস্তবতার নিরিখে নিজেকে প্রভাবক কিংবা
অনুঘটক ভাবতে পারাটা, নেহায়েত সময়ের ভাবনা!
এলোমেলো ভাবনায় জড়িয়ে আমার অস্তিত্ব তাই,
ভীষণ রকমের অগোছালো এক জীবন!
অথচ নির্বিকার, কিন্তু নির্বিবাদে তবু্ও তার উদগীরণ!
নিঃসংকোচে আমি পেরিয়ে যাই সমস্ত বন্ধন,
তবুও বন্ধনের মায়াজালে জড়িয়ে রয়েছি অনুক্ষণ!
“প্রশ্ন – এলোমেলো ভাবনার জালে”
এই যে তোমরা!
আমার বন্ধু, আমার প্রাণের স্বজন যারা!
তোমরা পারো কেমন করে বলো তো?
আমি যে এতোকিছু নিতে পারছি না!
জল তরঙ্গের এই জীবন খেলায়,
কেটে গেলো বেলা হেলায় ও ফেলায়!
জটিলতার জটিল সরলতার মাঝে,
সবকিছু কেমন যেন উলোট পালোট!
অথচ তোমরা!
দিব্যি পেরিয়ে যাচ্ছো মহামায়ার জাল!
জীবন তরীকে ভাসিয়ে নিতে,
তোমাদের জন্যেই দেখি –
ভাটার টানেও দুলে ছেঁড়া পাল!
কিন্তু আমি কিছুতেই যে আর পারছি না!
কেমন করে তোমরা পারো বলো তো!
আমার শক্তি সাহস উৎসাহ উদ্দীপনা – সব,
সবকিছুই আজ পার্থিবতার মায়া ছেড়ে,
সমাধি স্থলের নির্জনতার সুপ্ত গভীরে,
হারিয়েছে তার সমস্ত দিশা!
প্রাণের মাঝে নিতি তবু্ও,
বিরাজে আমার অফুরন্ত তৃষা!
সত্যি, আমি যে আর বয়ে নিতে পারছি না!
তোমরা কেমন করে পারছো বলো তো?

“প্রাপ্তিটুকু”
মাঝে মাঝেই অস্থিরতা খুব বেশী বেড়ে যায়,
পৃথিবীকে বলের মতো ছুঁড়ে দিতে মন চায়!
অশান্ত জীবনে বয়ে যায় ঝড়ের তান্ডব লীলা,
আশ্রয়ের খোঁজে দিশেহারা ছুটে মন পাগলা!
ব্যাকুল তৃষ্ণায় আকুলিভূত মনের সীমানায়,
তাকাই যেদিকে চারিদিকে শুধু আঁধার ঘনায়!
তারপর সময়ের তরীতে শান্ত হই ধীরে ধীরে,
ফিরে আসে মন তখন আবার নিজেরই ঘরে!
আমার সমস্ত নিয়ে আমি তোমারই মাঝে মিশে,
অসম্ভবের নেশায় ডুবে থাকি মাতালের বেশে!
তবুও মানুষরূপী জীবনের অনন্ত পারাবারে,
কষ্টের উন্মত্ততায় আমি তড়পাই হৃদয় চিঁড়ে!
আমার মনের যত অধীরতা আর অস্থির অনলে,
তোমাতেই আসি ফিরে ফিরে, ভেসে অশ্রুজলে!
এই তো প্রাপ্তি আমার এই দু’দিনের খেলাঘরে –
তোমারই রঙের ছোঁয়ায় পৃথিবীর বুকে ফিরি ঘুরে!
“খুঁজে ফিরে তোমাকেই”
ভীষণ অন্ধকারে আচ্ছন্ন যখন চারিধার,
মন প্রাণ মস্তিষ্ক খুঁজে ফিরে তোমাকেই –
ক্লান্ত অভিমানে চায় আঁকড়ে ধরিবার!
অথচ অন্ধকারের তীব্রতার দহনে পুড়ি;
তুমি যে মনেরই সুপ্ত গভীরে আছো,
ছটফটিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো সে কথা ভুলি!
আছো আমারই মাঝে করে আমাকেই ছায়া,
আমি হাতড়ে বেড়াই তবুও খুঁজে নাহি পাই,
আমারই অস্তিত্ব যেন কেবলই এক মায়া!
“ডেকো না আমায়!”
সাজিয়ে তুলো জীবন তোমরা
রূপ বর্ণ আর রঙে,
ভরে থাকুক সুবিস্তীর্ণ খেলাঘর –
অপরিসীম আনন্দ আর গানে!
আমার নেই খুব বেশী কিছু চাইবার
এই অগোছালো ধরাধামে,
শুধু পেরিয়ে যেতে চাই ছোট্ট জীবন –
এক তাঁরই প্রশংসা কীর্তনে!
“কঠিন পার্থিবতার এই মেলা”
হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি কমছে না কিছুতেই,
অনন্তকালের আবর্তে বুঝি বা তার পরিভ্রমণ!
নেপচুন আর প্লুটোর বলয় রেখায় যেন,
ধুকপুকানি করে নিয়েছে ছুটে চলার ভীষণ পণ!
কঠিন জীবনের পরতে পরতে সীমাহীন অস্থিরতা,
সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে শুধু ঝড়ো হাওয়ার তান্ডব;
আমি খুঁজে না পাই অকূল পাথারের মাঝে দিশা,
সময়ের অধীরতায় বারবার রইতে হয় নিশ্চুপ!
তাই যদি হয় চার দিনের এই জীবন পরিসরে,
জীবনের ভেলায় আমি ভাসবো কেবলই;
এভাবেই কি তবে আমার পথচলার উন্মাদনায়,
ধুকে ধুকে আমি নিজেকে দিয়ে যাবো বলি?
কঠিন কঠিন ভীষণ কঠিন পার্থিবতার এই মেলা,
ছেড়ে যেতে সব, তাই প্রাণ পাখি তড়পায়;
কঠিন সময়ের দুর্বোধ্য যাতাকলে পিষ্ট হয়ে মন,
হারিয়ে যেতে চায় শুধু অপার্থিবতার মায়ায়!
You may read beautiful Bengali poems written by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

