“জ্বলন্ত শিখা”
আচ্ছা বলো তো, নদী কেন বয়ে যায়?
সাগর উন্মুখ বলে কি নদী সাগরে লুটায়!
নদীরও কি নেই আকুলতা প্রাণে,
ছুটে কি যায় না তাই সাগরেরও টানে?
আমি নিশ্চুপ নীরব প্রতিক্রিয়া বিহীন,
নিরালায় এক কোণে পড়ে থাকি নির্বিকার!
সমস্ত লুটিয়ে দিয়ে যাই দ্বিধাহীন চিত্তে,
ভীষণ দহনেও আমি করি না চিৎকার!
নদীর কূল ছাপিয়ে তুমুল আলোড়নে,
বয়ে চলে নদী, বুকে নিয়ে উত্তাল আহ্বান;
অপেক্ষায় সাগর, গুনে চলে একান্ত প্রহর,
মনে তার দুর্নিবার উন্মত্ত স্রোতের কম্পন!
আমি চাই না নিভিয়ে দিতে উত্তপ্ত অনল,
জাগিয়ে রাখি তাই, প্রেমেরই জ্বলন্ত শিখা!
প্রতিক্রিয়া বিহীন আমার মনেরই গভীরে,
দহনের জ্বালায় পুড়ে খাক হই একা একা!
নদীর মোহনায় তোমাতেই সঁপে দিয়ে প্রাণ,
সাগরের বেলায় আমি সুরে সুরে বাঁধি হৃদয়;
আমারই প্রাণের মাঝে অফুরন্ত নেশা ঘোরে,
তোমারই রঙের ছোঁয়া পেতে প্রাণ মেতে রয়!

“বৈচিত্র্যে বেঁচে থাকা – জ্বলন্ত শিখা”
আমি যখন অর্থকষ্টে নিদারুণ অসহায়,
আমারই বন্ধু-স্বজন অর্থের পাহাড় সাজায়!
আনন্দের উচ্ছ্বলতা বয়ে নিয়ে যায় তারা –
কী ভীষণ বৈপরীত্যে চলে জীবন ধারা!
আমার সমস্ত মাঝে যখন নিয়তির পরিহাস,
তোমাদের খেলাঘরে বয়ে যায় নির্মল বাতাস!
আমার অস্তিত্ব জুড়ে ঝড়োমেঘের তান্ডব,
সময়ের ঘড়ি ধরে, তোমাদের জীবন সরব!
এ আমার নয় তো আক্ষেপ কিংবা দুরাশা,
তোমাদের জন্য রাখি বুক ভরা ভালোবাসা!
ঝড়ো বাতাসের দাপটমুক্ত থাকুক সকলে;
না হয় এই বাস্তবতায়, আমি বাঁচি অবহেলে!
এই তো জীবনের অমোঘ নিয়মের খেলা!
শঙ্খ চিলের ডানায় ভাসে মেঘের ভেলা!
তবুও জীবনের জন্য জীবনের আবির্ভাবে,
তুমি-আমি মিশে আছি পরস্পরের অনুভবে!
“প্রাণ পাখির আশা”
পরাণের পিঞ্জর মাঝে ছটফটায় প্রাণ পাখি,
উড়ে যাবার বাসনায় নিতি আপন-পিয়াসী!
পিঞ্জরের বন্ধ ঘরের দরোজা তো খুলে না!
প্রাণ পাখির উচাটন মন যে, আর মানে না!
আর কতো কাল, কতো যুগের আচ্ছন্নতায় –
প্রাণ পাখি তড়পাবে শুধুই প্রাণেরই মায়ায়!
আর কতো নিশি জেগে এই বন্ধ কারাগারে,
উড়ে যাবার ইচ্ছা ধুকে মরবে স্বপনও ঘোরে!
মেঘের ঘনঘটা নিয়তিকে করে যায় উপহাস,
প্রাণের অগোচরে প্রাণ ফেলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস!
জীবনের অন্তরায়, দুর্বিসহ শৃঙ্খলিত পিঞ্জর –
প্রাণ পাখির কুহু কুজনেও ভেঙে চলে খেলাঘর!
তবু্ও আশায় জেগে থাকে নিরাসক্ত বৈভবে,
হয়তো বা একদিন আকাশের নীলিমায় হারাবে!
উচাটন প্রাণের উন্মাতাল অনুভবের পিয়াসে –
প্রাণ পাখি জাগে নিশি, রঙের ছোঁয়ার আশে!
“স্বনিত চিত্ত”
শূণ্যতার মাঝে অবিরত, কি খুঁজে ফিরো তুমি?
সুনীল আকাশের আদিগন্ত নীলের ভেলায়,
ভাসিয়ে নিয়ে তোমার প্রাণের তরী –
কার খোঁজে তোমার মাতাল মনোভুমি!
কিসের আকুলতায় তোমার অশ্রুসিক্ত আঁখি?
হৃদয়ের অন্তবিহীন অধীরতা ঘিরে,
ছটফটিয়ে একাকী কিসের নেশা ঘোরে –
পার্থিবতার শৃঙ্খলে তোমার তড়পায় প্রাণ পাখি!
কেন তুমি আজও মায়ার বন্ধনে দিশেহারা?
জীবনের দুর্বোধ্যতার অনলের শিখা ধরে,
অসহনীয় ব্যথার শোক গাঁথার গভীরে –
অপেক্ষায় কার তুমি নিজেকে রেখেছো বাঁধনহারা!
জীবন পেলে না বলে কি জীবনকেই অবহেলা?
ধ্রুবতারা দেখো ঐ যে আজও উজ্জ্বল ঝলমল,
তোমারই আশায় জেগে আছে স্থির অবিচল –
আঁধার রাতের গভীরে তোমাতেই জড়িয়েছে খেলা!
রাত্রি অবসানে, ভোরের আলোয় উন্মত্ত চরাচর!
পৃথিবীর বুকে মাতোয়ারা জীবনের কথামালা!
শূণ্যতার আহ্বানে হাস্যোজ্জ্বল নক্ষত্র তারকারাজি!
জীবনের খেলাঘরে জীবন, তবুও কেন নিশাচর?
“ধ্রুবতারার নেশা”
ধ্রুবতারার নেশা ছাড়ে না আমায়!
মস্তিষ্কের কোষে কোষে,
আর অস্থির হৃদয়ের দুর্বিনীত ত্রাসে,
জড়িয়ে আছে সে যে একাগ্রতায়!
মহাকালের মহা প্রলয়ের আবর্তনে –
প্রাণের খেয়ায় চলি ভেসে;
ধ্রুবতারার নেশায় ডুবে থাকি নিত্যই,
প্রাণের পিঞ্জরে ছটফটিয়েও নির্জনে!
“বিক্ষুব্ধচিত্ত”
অনাদিকালের কোন এক দুর্দান্ত অনন্ত প্রহরে,
মেতেছিলাম প্রাণের সর্বস্ব নিয়ে তোমাতেই!
আজ এই অনাগত ভোরের ক্লান্ত মায়ায়,
হৃদয়ের কোণে অকস্মাৎ দেখি তুমি দাঁড়িয়ে!
আমার না বলা হৃদয়ের কথা যে তুমিই, আর
তোমার মাঝে সঁপেছি সবই, জীবনে জড়িয়ে!
ধ্রুবতারা তুমি, কখনো বা মিটিমিটি সন্ধ্যাতারা!
কখনো বা তুমি সুখ স্পর্শী ঝলমলে শুকতারা!
কতো যে ছুঁয়ে গেছি তোমায় নিদারুণ বাস্তবতায়!
কতো যে প্রলয়ের ঝড়ে আমি খুঁজেছি তোমায়!
কতোটা জড়িয়ে থাকলে পার্থিবতার শৃঙ্খলে,
কতোটা সময়ের ফাঁদে, আজ ভাবি না তোমাকে!
সময়ের নাগপাশে আজ হয়ে গেছি তুমিহীনা!
ধুলোমলিন আমি তাই, বুঝি বা জীবন খুঁজি না!
হৃদয়ের গহীন কুঠুরীতে আমার তুমি আছো মিশে;
জীবন খেলায় ক্ষুব্ধ প্রাণ তবুও, কি যেন কিসে!
ভাবনার খেয়ালে ভেসে চলি শুধু মাড়িয়ে অন্ধকার,
জীবন ফুরিয়ে হয়তো, তোমাতেই হারাবো আবার!
You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

মুগ্ধ ।
ওহ! ধন্যবাদ দেবার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। অনেক অনেক ধন্যবাদ।