“ভালোবাসার দহন”

“ভালোবাসার দহন”

তোমারই, শুধু তোমারই রঙের ছোঁয়া,

খেলে যায় উচাটন এই মনে;

তোমারই স্পর্শ লাগি পুড়ে মরি আমি,

ফাগুনের এই একেলা লগনে!

কেন তুমি শুনতে পাও না সে ভালোবাসার দহন?

দেখতে পাও না কেন পুড়ে খাক এই মন?

কিছু তো চাই না তোমার কাছে, শুধু

এতোটুকু প্রাণের স্পর্শ যদি আমি পাই,

জগতের সকল কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাই!

জানি, তোমার দহন তোমাকে পোড়ায় নিতি,

আমি তো তোমার ছায়া হয়েই গাই গীতি!

মায়ার বন্ধন আমি চাইতে পারি না, তাই

দুরাশার মেঘে ঢাকা আমার প্রাণের প্রীতি!

একটুখানি হৃদয়ের জানালা খুলে দেখো,

তুচ্ছ এ হৃদয়ে তোমার স্পর্শটুকু দিয়ে রেখো!

শংখচিলের ডানায় উড়ে যাবো একদিন,

নীলাকাশের বুকে তখন আমার প্রেম এঁকো!

আর পৃথিবীর মায়াজালে তুমি ভালো থেকো!

ভালোবাসার দহন
ভালোবাসার দহন

“অপার্থিব ভালোবাসা – ভালোবাসার দহন”

আমাকে তুমি পেয়েছো হৃদয়েতে তোমার!

নাহ, হারিয়ে আমি যাবো না কোথাও আর!

আমার হৃদয়ের অতল গহীনেও জেনো –

রঙিন আভা, শুধু তোমারই রঙের ছোঁয়ার!

তোমারই জন্যে সদাই ব্যাকুল এই প্রাণ,

না দেখে তোমায় পারে না রুধিতে অশ্রুধারা;

সময় অসময়ে ঝরঝর মুখর আঁখি দু’টি,

ছলছল করে সেথা তোমারই রূপের ইশারা!

হৃদয়ের একটি কোণে তুমি রেখে দিও আমায়,

তাতেই আমি চির ঋনি র’বো তোমার ‘পরে;

আসুক যতো যন্ত্রণা কিংবা ঝড়ের তান্ডবলীলা,

আর কিছুই কখনো চাইবো না এই খেলাঘরে!

সময়ের সাথে বোঝাপড়া করে ঠিকই দেখো,

নিজের মনেই নিজের সাথে করবো সমঝোতা;

পৃথিবীর আলো নিভে গেলেও একাকী আঁধারে –

জীবনের তরী বেয়ে যাবো, থামবো না অযথা!

ঊষার আলোতে নাই বা দেখা হলো প্রভাত, না হয় –

গোধূলীর রক্তিম আভায় লুটিয়ে, জাগবো নিশি রাত!

“সখা, দাও দেখা!”

তোমারও লাগিয়া সখা, আমি মনের মাঝে তুলি সুর,

তোমারই খোঁজে ছুটে বেড়াই আমি দূর থেকে বহুদূর!

সখা, তুমি কি আমায় ভাবো না একটি বারও?

আমারও লাগি তোমার মন কি পুড়ে হয় না কালো?

হৃদয়ের মাঝে আমি, সকল খেলার পশরা সাজিয়ে,

নিজেকে কেবলই সখা, তোমারই মাঝে হারাই গিয়ে!

তুমি কি তোমার হৃদয়ের বীণায় পাও না তারই সুর?

তুমি কি সখা, দেখতে পাওনা, এ হৃদয় বেদনা বিধুর?

সখা, আমি যে হারিয়েছি নিজেকে তোমারই মাঝে,

তোমার জন্য প্রেমসুধায়, হৃদয় নদীর কূল যায় ভেসে!

তোমারই রঙে সাজাই আমার হৃদয়ের গহীন ঘর,

তুমি বিনে সখা, সেই ঘরে নিতি বয়ে যায় তুমুল ঝড়!

ভালোবাসা বুঝি না আমি, বুঝি তোমাতেই আমার সুখ,

সখা, তোমারই প্রাণের স্পর্শ লাগি অশ্রুজলে ভরে চোখ!

তুমিই আমার প্রাণের দোসর, তোমাতেই আমার পূর্ণতা,

তুমি দাও না দেখা, তাই তো সখা, হৃদয় পুড়িয়ে শূণ্যতা!

সখা, তোমারই স্পর্শ লাগি পাগল আমার সমস্ত চেতনা,

তোমারই ভাবনায় বিভোর রাত্রিদিন, আর কিছুই বুঝি না!

“স্পর্শের কাঙাল”

আসো, আমার কাছে আসো!

একটু স্পর্শ নিবো, আর কিছু নয়!

আমাতে তোমার কিছু চাইনে জানি;

তবুও আমার জন্যে, এলে না হয়!

একটু স্পর্শ দিয়ে ফিরে যেও তুমি,

তোমারই আকাঙ্ক্ষিত খেলাঘরে;

ডাকবো না আমি আবারও,

আসতে হবে না তোমায়, পিছু ফিরে!

একটুখানি স্পর্শের মাঝে আমি,

প্রাণের তরে অকাতরে দিয়ে যাবো প্রাণ;

সারা জনমের প্রাণের সুধায় জড়িয়ে,

ঐ স্পর্শটুকু দিয়েই সুরে বাঁধবো গান!

একটিবারের জন্য আসবে কি কাছে?

আর কখনো আমি ডাকবো না তোমারে!

স্পর্শটুকুর জন্যে কাঙাল এই ভিখিরিনী,

স্পর্শটুকু নিয়ে, যাবে ভবলীলা ছেড়ে!

“বিষন্ন দিনে”

বিষন্ন দিনের আঁধারে তপ্ত মন খারাপ বাতাসে,

তোমাকে একটু বেশীই পাই অনুভবে!

হ্যাঁ, তোমাকেই শুধু তোমাকেই!

সারা অন্তর জুড়ে তোমার অবাধ বিচরণে,

আবেগে ভীষণ আপ্লুত থাকি আমি!

নিজের মাঝে ডুবে যাই খুব সহজেই, আর,

তাড়িয়ে বেড়ায় আমাকে ভাবনা তোমারই!

আমার সমস্ত অন্তর জুড়ে তুমি –

অসম্ভব এক নেশার মতো সদা জড়িয়ে;

আমি পারি না আর কিছুতেই দিতে প্রাণ বাড়িয়ে!

ভাবনার পুরোটাতেই তোমারই নেশা,

কুড়ে কুড়ে খায় আমাকেই, বাড়ায় তোমারই তৃষা!

আমি ভুলে যাই পৃথিবীর যতো গান,

শুধু তোমাতেই জুড়ে থাকা, জুড়ে থাকে এই প্রাণ!

আমি আচ্ছন্ন হয়ে থাকি তোমাতে –

ধ্যানে নিবিষ্ট মনে তোমারই রঙের ছোঁয়া পেতে!

বিষন্ন দিনের সকল বিষন্নতার মাঝে,

কেবল তোমারই সুর স্পন্দন শুনি;

মন খারাপের বাতাসের তোড়ে সজোরে ধ্বনিত –

তোমারই নামের সুমধুর প্রতিধ্বনি!

“ভাবনা জুড়ে তুমিই”

মন খুব চাইছে কিছু একটা লিখি,

কিছু একটা তোমার জন্য লিখি!

অথচ দেখো না –

তোমার ভাবনায় হয়তো কোথাও আমি নেই;

কিংবা হয়তো আছি,

অতি ক্ষুদ্র প্রাণ একটুখানি স্পর্শে তোমার!

কি জানি! তাই ভাবি কিংবা ভাবি না মোটেও –

তোমার ভাবনায় আমি থাকলাম,

কি নাই বা থাকলাম! যাকগে সে কথা!

তুমি আমার সারাটা ভাবনা জুড়ে আছো,

আমার কাছে সেটাই –

সবচেয়ে বেশী মূল্য রাখে!

আমার সমস্ত চেতনা জুড়ে আমি,

তোমাকেই খুঁজে পাই;

সেই একটি তুমিই তো আমার সাধনা!

আমার হৃদয়ের মাঝে যে তুমি অবলীলায় –

ঝড় তুলে সব চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়ে যাও,

সেই তুমিই তো আমার প্রাণের বন্ধন!

আমার অস্তিত্বের গভীরে,

প্রগাঢ় অনুভবে পাই আমি তোমাকেই!

ভালোবাসার অবলম্বন তুমি!

স্বপ্নের উড়ন্ত ডানায় ছুঁয়ে থাকা স্পর্শ তুমি!

নীলাভ মেঘের ভেলায়,

একগুচ্ছ শুভ্র মেঘ তুমি!

আমাকে তোমার প্রয়োজন নেই কোন,

আর তোমাকেও আমার ছিলো না কখনো!

তবুও সারা অস্তিত্ব জুড়ে যে তোমার অবস্থান,

সেই তুমি তো আমাতেই জুড়ে আছো!

তোমাকে অস্বীকার করি –

নেই সেই দুঃসাধ্য কখনোই আমার!

https://lucysjourney.com/category/inspiring-journeys/

You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *