“জন্মান্তরের বন্ধন”
তোমার সাথে আমার পথচলা শুরু –
এই তো, হাতে গোনা ক’দিন, তাই না?
অথচ, প্রাণের মাঝে জড়িয়ে আছো যেন,
জন্ম জন্মান্তরের বন্ধন দু’জনাতে!
হয়তো সেই কোন অচেনা সময়ের ক্ষণে,
ছুঁয়ে গিয়েছিলে তুমি আমাকে, কিংবা
হয়তো বা প্রাণেরই অগোচরে আমি,
আমারই স্পর্শ দিয়েছিলাম তোমাকে!
তারপর এক সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমা পেরিয়ে,
আবারও পথ চলায় পাশাপাশি –
সৌন্দর্যের প্রতীক তুমি আর এই আমি!
দেখো না, আজকাল তোমাকে ছাড়া –
কিছুই ভাবতে পারি না আমি!
সবকিছুর মাঝেই কেবলই তোমাকেই খুঁজি,
তোমাকেই পাই মনের গভীরে, আর
তোমারই সাথে পথ চলি অজানার পানে!
চলতে চলতে হয়তো কোন একদিন –
থেমে যাবো হঠাৎ করেই;
থেমে যাবে হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি,
শরীরের প্রতিটি কোষ হয়ে যাবে নিথর;
সেদিন আমি হবো প্রাণহীন শুধুই এক পাথর!
আমি জানি না, সময়ের বলয় ছেড়ে,
কোথায় কেমন হবে –
আমার গন্তব্যের নির্ধারিত ঠিকানার ঘর!
কিন্তু আমি এইটুকু জানি, আর
আমার বিশ্বাস এই মনে আর প্রাণে –
থেমে যাবার পর আবারও, আবারও
তোমার সাথে নিশ্চিত হবে দেখা;
আবারও আমি খুঁজবো তোমাকেই;
আবারও প্রাণের স্পর্শে প্রাণের মাঝে তুমি,
আমাকেই ছুঁয়ে র’বে অনন্তকালের আবর্তে!
তোমার মাঝেই যে আমি আমার –
হৃদয়ের ঘরে লালিত একজনাকে পেয়েছি!
তোমার মাঝেই আমি আবারও এগিয়ে চলার,
স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের সুধা পেয়েছি!
তোমাকে জড়িয়েই আবেশে হয়েছি অধীর!
তোমারই ছায়া হয়ে নিঃসংকোচে আমি,
জন্মান্তরের বন্ধনে জড়িয়ে –
দুর্বোধ্য জীবনে, পথের ক্লান্তি ভুলে আজ স্থির!
“আর কতদূর!”
দুর্বিসহ এই অন্তহীন জীবনের দুর্বোধ্য ভার,
বয়ে নিয়ে আমি যাবো বলো, কতদূর আর!
সময়ের ঘড়িতে, তুমিই বলো, আর কতদূর -,
আমায় ভেঙেচুরে তুমি করবে চুরচুর!
মাঝে মাঝেই দুর্বল প্রাণ হারিয়ে ফেলে দিশা!
ছুটে ফিরি এই অস্থির অদমনীয় প্রাণ নিয়ে,
এখানে সেখানে ওখানে সবখানে, আর
চলে যাই দূর অতি দূরে, দিগন্ত রেখার পাড়ে;
তারই মাঝে তুমিই, শুধু তুমিই এসে আবারও,
উন্মত্ত ঢেউয়ের থেকে তুলে আমাকেই ধরো!
আমি বুঝতে পারি ঠিক, তোমারই ভবখেলা,
তবুও মিছে যন্ত্রণায় তড়পাই শুধু সারাবেলা!
তোমারই রঙের ছোঁয়া আমি পেয়েছি প্রাণে,
সেই ছোঁয়াতেই হৃদয় ভরে উঠে গানে, ঘ্রাণে!
শুধু ক্ষণে ক্ষণেই কি যেন দুরাশার ঢেউ এসে,
আমাকেই ডুবায়, অসম্ভব যন্ত্রণার আবেশে!
“মনের ঘরে জন্মান্তরের বন্ধন”
মন বলেছে – আর ভেবো না,
এবার যাবেই ভিড়ে তীরে;
প্রাণের খেয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে,
তোমার সবুজ হৃদয়টিরে!
মনের সাথে বোঝাপড়ার তরী –
আমি ছেড়ে দিলাম তাই;
মন যে আমার চির সবুজ,
তার ক্লান্তি কোথাও নাই!
আকাশ নীলের অসীম মুগ্ধতায়
আবীর ছড়ায় মন,
সমুদ্রের সফেদ ফেনায় –
উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে যখন!
আমি মনের তালেই বেড়াই ঘুরে,
মহাশূন্যের প্রান্ত থেকে দিগন্ত;
মনের মাঝের তুমুল ঝড়ে,
কুড়িয়ে নিই মুক্তো মানিক অফুরন্ত!
মন বলেছে, সেই ভরসায় আমি
যাই পেরিয়ে সকল কণ্টক গিরি প্রান্তর;
সেই ভরসায় আমি প্রাণের খেয়ায়,
ভেসে চলি ঢেউয়ের দোলায় নিরন্তর!
মন বলেছে – আর ভেবো না,
যদিও তোমার ভাঙা তরী;
সকল কিছুকে এড়িয়ে আমি তাই,
মনের মাঝেই মনের ঘর গড়ি!

“সুন্দরতম হে!”
সুন্দরে পরিপূর্ণ পৃথিবীর মায়াজাল,
সুন্দরের মাঝেই আমার জনম;
সুন্দরকে ঘিরেই আমি চলি অবিরত,
সুন্দর প্রিয় সকল মানুষের মন!
আসুক তুফান, ঘিরে থাক বজ্রপাত,
কিংবা শিলাবৃষ্টিতে পুড়ুক ফসল;
সুন্দর পৃথিবীর বুক জুড়ে স্বর্গীয় সুধা,
সুন্দরের মায়াভরা আঁখি ছলছল!
মনের গহীনে অনন্ত প্রহর রই জেগে,
কারে যেন খুঁজি নিশিভোরের ছায়;
দিগন্ত ব্যাপি ছুটে চলি অদম্য তৃষ্ণায়,
ব্যাকুল হৃদয়ে অচেনা মুখের মায়ায়!
তুমিই শুধু আছো আমার সমস্তটা জুড়ে,
আমার সকল অঞ্জলি তোমারই জন্য;
তুমিই সুন্দরতম; তাই অবনত এই মন –
তোমারই তরে নিজেকে সঁপে হয় ধন্য!
“শব্দহীন রোদন”
শুনতে কি পাও তুমি শব্দহীন রোদন?
তুমি শুনতে কি পাও এই প্রাণের ক্রন্দন?
নাহ, কিছুই পাও না তুমি শুনতে!
রয়েছো তুমি শুধু তোমাতেই মেতে, আর
তোমারই প্রাণ চাঞ্চল্যের স্রোতধারায়,
আমার এই প্রাণ বীণায় অন্তহীন সেধে!
ক্রন্দনরত এই মনে ঢেউ উথাল-পাথাল,
উথলিয়ে কেবলই খুঁজে ফিরে মৃদু তাল;
তোমারই আঁখি পানে তাকিয়ে রাত্রি দিন,
ফিরে কি পাবে মন রংধনুতে রঙিন সেদিন!
তুমি বুঝতে পারো না মনের সে বেদনা,
প্রাণের গহীনে গিয়ে একটিবারও দেখো না –
কি যে দুঃসহ যন্ত্রণার অনলে পুড়ে পুড়ে,
প্রাণ পাখি ডেকে যায় উদাসী মনের গভীরে!
কেঁদে কেঁদে ফিরে প্রাণ তৃষ্ণার জ্বালা বুকে,
একটিবারও এসে তুমি দাও না স্পর্শ মেখে!
হয়তো এভাবেই একদিন সবকিছু ফেলে,
চলে যাবো নিঃশব্দে – হৃদয়ের অশ্রুজলে!
জীবনের তরে র’বে না আর কোন ক্ষোভ –
অভিযোগহীন, তোমাতেই সঁপে যাবো সব!
পরের জনমের প্রাণের স্পর্শের অনুভবে,
হয়তো আবারও দেখা হবে দু’জনাতে!!!
“অকারণে”
কেন যে আমার সাথেই এমন করো,
আমি বুঝতে পারি না!
আমি এর কারণও খুঁজি না,
শুধু মাঝে মাঝেই খুব কষ্ট হয়!
ভেতরে ছটফট করে উঠে
অচেনা আবেশের শিহরণ, আর
নিজেকে ভুলাই দিয়ে সান্ত্বনা –
নিশ্চয়ই আমি বিশেষ কেউ হই!
আমার চাওয়া পাওয়ার সময়
ফুরিয়ে এসেছে আমি জানি!
বিষাদের ঘরে আজকাল
যাতায়াত আমাকে মানায় না!
কিন্তু কিছু চাইবার অপরাধ ব্যতিরেকেই
তোমার এ আচরণ,
সত্যিই, আমাকে অস্থিরতার
দুরন্ত অনলে পোড়ায় ভীষণ!
আমি সমুদ্রের অতলে লুটিয়ে
একাকী ফেলি অজস্র অশ্রুজল,
আমি দুরাশার মেঘের আধিতে লুকিয়ে
ছটফটাই অস্থিরতায়,
দুরন্তপনায় লণ্ডভণ্ড করে আমি
অদমনীয় ছুটে চলি দিকবিদিক,
আর বারবার আমি –
তোমারই পানে ছুটি অতি নির্লজ্জতায়!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, Click the link https://www.bangla-kobita.com/
