“ভাঙা আমার তরী”
আচ্ছা, জীবন মেলায় এমন হয় যদি –
তীর খুঁজে পায় আমার ভাঙা তরী!
আর আমি!!!
বিনা মেঘে বজ্রপাতের অশনিসংকেতে,
আকাশ ছেয়ে মুক্ত স্বাধীন ঈগল ডানায় উড়ি!
কিংবা হতে তো পারে এমনও –
তীর ভাঙা স্বপ্নগুলো, হলো এলোমেলো!
আর আমার মাঝেই বহমান,
ভীষণ রকমের নীড়ে ফেরার পাগল প্রাণ –
পাখির কুজন মেখে, ঘরের মায়ায় জড়ালো!
কি জানি কি হয়, কিংবা হতে পারে!
ভাঙা তরী কি তীরের খোঁজে ভরবে সম্ভারে!
ভাঙা যে আমার তরী!
উত্তাল সমুদ্রে তরী ডুবুক কিংবা ভেসেই চলুক,
কি এসে যায়, জানি যখন ভিড়বো ঠিকই তীরে!
জীবন যখন শূণ্য ভীষণ, একাকী অন্ধকারে –
ধুপ ছায়া হয়ে নীরবে পুড়ে নির্জনতার প্রহরে!
ভাবনায় প্রাণ তারই –
নিজেকে গড়ে, নিজেকে ভাঙে, নিজেরই অলক্ষ্যে,
অশান্ত দোলায়, শান্ত প্রয়াসের বিদগ্ধ চিত্ত ভরে!

ভাঙা আমার তরী! তবুও স্বপ্ন, আর স্বপ্ন!
স্বপ্ন দেখার মাঝেই জীবন করে খেলা,
স্বপ্ন ছাড়া জীবন তাই বালুচরে ভেলা!
চলুক তবে স্বপ্ন নিয়ে স্বপ্ন দেখার প্রাণ –
স্বপ্নের উড়ন্ত ডানায় গেয়ে স্বপ্নের গান!
কিন্তু এই তো স্বপ্ন ভেঙে গেলো আবারও,
কেমন করে তবে আমি স্বপ্ন দেখি বলো!
স্বপ্নের ভাবনাতেই ডুবে গেলো স্বপ্নতরী,
স্বপ্নআঁখি ছলছল করে তাই দুঃস্বপ্নে ভরি!
দুঃস্বপ্নের মাঝেও প্রাণ স্বপ্নে হয় বিভোর,
ছলে বলে ভুলিয়ে কৌশলে – হানে ঝড়!
জীবন তরী চলে ছুটে, স্বপ্ন আঁখি মেলে –
ক্ষণে ভাসে, ক্ষণে সে যে ডুবে অথৈ জলে!
স্বপ্ন বিনা যায় না বাঁচা, মরণেও চাই স্বপ্ন;
দুঃস্বপ্ন হলেও তারই মাঝে থাকুক মন মগ্ন!
রাত্রির মায়ায়, আর দিনের ছায়ায় অনুক্ষণ,
স্বপ্ন, স্বপ্ন আর স্বপ্ন দেখেই থাকুক প্রাণ মন!
অচেনা ডাক
অচেনা কেউ আমাকেও ডাক দিয়ে যায়;
আমি চমকি তাকাই ফিরে, দেখি না তারে!
মাঝে মাঝেই সেই দুর্বোধ্য ডাকের ইশারায় –
প্রাণপাখি উড়ে যায়, আবারো আসে ফিরে!
আমি আমার মাঝে থাকি না সেই মুহুর্তে,
ক্ষণিকের তরে তড়পায় যবে পার্থিব প্রাণ –
যেন পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে চায়,
পেয়েছে যেন সুদূরের শূণ্য উদ্যানের টান!
হয়তো খুব বেশী দূরে নয় আর ছেড়ে যেতে –
তোমাদের হাসি খেলা আর যতো প্রাণের বন্ধন;
হয়তো বা যে কোনো ক্ষণেই হারিয়ে নীলিমায়,
আমিও পাবো অতি প্রত্যাশিত সেই মহৎ মরণ!
মিশে যাবে এই শরীরের প্রতিটি কণা মাটিতে,
সুপ্ত বাসনার বশীভূত অন্ধকারের তীব্রতায়;
পৃথিবীর মায়া কাননে ফিরে আসবে না আর,
ভুলবে না আর ক্ষুদ্র প্রাণ, তোমাদের মায়ায়!
তোমারই স্পর্শপিয়াসী
আমার প্রাণের মাঝে নিরংকুশ আলো তোমারই,
ভাসিয়ে নিয়ে পৃথিবীর মায়াভরা এই জীবনতরী –
সুখী নই আমি, নই আমি দুখী কিংবা দুঃখবিলাসী,
আমি ছুটে চলি নির্বিকার, তোমারই স্পর্শ পিয়াসী!
পথের মায়ায় হারিয়ে, শুধু তোমাকেই খুঁজে ফিরি!
জীবন জ্বালায় অতিষ্ট চিত্তে, তুমিই দয়ার কান্ডারী!
ক্ষুদ্র আমার পদধূলিতে তুমি সিক্ত করে দাও মাটি,
জীবন খাতায় ভাবনার জালে আমি শান্ত পরিপাটি!
অনুভবে আমার তোমারই স্পর্শ – প্রতিটি স্পন্দনে!
তোমার রঙের ছোঁয়া শীতলতা দেয় আমারই মনে!
যন্ত্রণার কাতরানিতে যদিও উদ্বেগাকূল এই হৃদয়,
পরক্ষণে তোমারই স্পর্শে, বিলীন হয় সব পরাজয়!
দুঃখ আমাকে কখনো করতে পারে না গ্রাস, আর
দুঃখ বন্দরে আমার জাহাজ চলে যায়, কেটে পাশ!
সুখের উল্লাসেও মাতে না আমার এই নির্লিপ্ত অন্তর,
সুখের ঘরে সুখ দেখে আমি আনন্দে সদাই বিভোর!
তোমারই আলোকে পথ চলি – আমি উন্মত্তা অধীরা!
দুঃখ সুখের পরোয়া করি না, তোমাতেই শুধুই হারা!
তুমি যা দিবে, সেই তো আমার পরম মুক্তির বারতা,
সাজাও আমাকে তোমারই রঙ দিয়ে, তুচ্ছ পার্থিবতা!
স্বগতোক্তি
তোমার মাঝেই এই আমার প্রাণপাখি, তুমি জানো তো?
তোমার যন্ত্রণাগুলো খুব বুঝতে পারি, তা বোঝো তো?
অফুরন্ত রূপের আধার নিয়ে তুমি আছো, অনুক্ষণ!
অনন্ত তৃষ্ণার জ্বালায় পুড়ে পুড়ে আমি খাক, সারাক্ষণ!
রূপের আধার তুমি, যেন স্বর্গলোকের উজ্জ্বল নক্ষত্র!
তৃষ্ণায় তোমারই কাতর এই প্রাণ, তোমারেই যাচে সর্বত্র!
তোমাকে ঘিরে প্রাণ পাখির সকল আরাধনা, জানো তো?
তুমি যখন ভীষণ একা, প্রাণ পাখি তড়পায়, বোঝো তো?
জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলের মেঘলা আকাশ, তোমারই!
আমাকে তুমিই ভেঙেচুরে করবে পরিপূর্ণ, চাইবে যেমনই!
অসম্ভবের বেদনায় তোমাকেই খুঁজে ফিরে প্রাণ, নির্নিমেষ!
তুমি আছো বলে আমি আজও প্রেম পিয়াসী, আছি বেশ!
আমি তোমারই মাঝে নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন সাজাই, এই তো!
তোমারই রঙের ছোঁয়ায় তোমাতেই সঁপে যাই, সবই তো!
অচেনা ক্ষণের অজানা অস্থিরতায় তবুও কাঁদি, উদয়াস্ত!
তোমারই তরে তবুও লুটিয়ে দিয়ে যাবো, আমার যা সমস্ত!
স্বপ্নের প্রজ্জ্বলনে
আমি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির তপ্ত বুকে –
পেতে দিই আমার শীতল মন!
দুরাশার আধিকে হৃদয়ে নিয়ে ফিরি,
আমি অস্থির অধীর অচেতন!
তোমার বিদগ্ধ মনের পুড়ে খাক অবয়বে,
আমি অতি ক্ষুদ্র শিশির বিন্দু!
তোমাকেই মনে ধারণ করে অবলীলায়,
আমি পেরিয়ে যাই বিষাদ সিন্ধু!
ঊষার আলোতে রক্তিম নেশায় আমি,
আঁখি মেলে দিয়ে, যাই উড়ে;
গোধুলীতে বিভোর লালিমায় মাতাল,
অশ্রুর বন্যায় ভাসি, হৃদয় চিঁড়ে!
পরোয়া করি না অগ্নির প্রজ্জ্বলিত শিখা,
ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে করি তা নিস্তেজ;
সময়ের টিকটিক দ্যোতনা করি অগ্রাহ্য,
সময়কে মাড়িয়ে আপনায় সতেজ!
গনগনে উত্তপ্ত লাভার লেলিহান আগুনে,
ঝাপ দিতে কভু নই আমি সংকুচিত!
আমার প্রাণের স্মরণের জানালা ধরে যদি,
হুহু বাতাসের ধ্বনিতে না-ও ভরে চিত্ত!
রোদ্দুরে পুড়ে পুড়ে জ্বলন্ত অঙ্গার হই আমি,
বৃষ্টিস্নাত মনের গভীরে তবু ফাগুন;
তড়পাই দিন রাত্রি ভোর, যেন প্রাণের নেশা,
মনের গভীরে জালিয়ে রেখে আগুন!
https://lucysjourney.com/category/perception-truth/
You may read beautiful Bengali Poems of renowned Poets, click the link http://www.bangla-kobita.com
