“সময়ের ধ্বনি”
মনের মাঝি বললো, চলো যাই –
ঘুরে আসি একটু ক্ষণ,
তোমার মন মাতানো মনের ভুবন!
চোখ বললো, আরে না –
মনের গহীনে নয় তো এখন,
চোখে চোখ রেখে হোক বন্ধন!
ঠোঁট বললো, তা কেন?
স্পর্শ দিয়ে আগে হও মগন,
স্পর্শেই তো ভরে সারা মন!
তুমি বললে, কি যে বলো না!
স্পর্শ দিয়েই তো আছি সারাক্ষণ,
তাই তো মধুর এই জীবন!
আর আমি, বসে বসে শুধু ভাবি,
কল্পনায় আঁকি তোমার রঙ –
সযতনে তোমাতেই সঁপে দিই স্বপন!!
জীবন বললো, থাক না এসব!
সময়ের ধ্বনির ঐ যে আলোড়ন,
থেমে যায় বুঝি বা হৃদ স্পন্দন! (“সময়ের ধ্বনি”)
“অযাচিত আকুলতা – সময়ের ধ্বনি”
আমার কিছু টাকার খুবই প্রয়োজন!
আজকাল খুব কষ্ট হচ্ছে চলতে, আর
দু’দিনের এই সংসার চালাতে!
সত্যি, খুব বেশী কষ্ট হচ্ছে আমার!
হবে কি কিছু টাকা তোমার কাছে,
সুদবিহীন, সুদমুক্ত ঋন?
খুব বেশী বড় অংক নয় কিন্তু,
নয় কোন বিলাসিতার জন্যও;
আপাতত শুধু এটুকুই –
পাওনাদারের টাকা শোধ করলেই,
খেয়ে-পরে জীবন চলে যাবে বেশ!
তারপর কিছু কম খেয়ে-পরে বাঁচিয়ে,
তোমার পাওনাও শীঘ্রই,
ফেরৎ দিয়ে দিবো নিশ্চিত!
পাওনাদারের সুদের টাকা দিয়েই,
আমি যে আজ সর্বস্বান্ত প্রায়!
দিবে কি তুমি কিছু টাকা আমায়?
হ্যাঁ, চাইছি তো ঠিকই!
কিন্তু কেনই বা তুমি দিবে আমাকে?
আমি তো কেউ নই তোমার?
আমার জন্য কেনই বা করবে তুমি,
বিলাসী জীবনের এতোটুকু বলিদান!
তোমার অঢেল টাকার আছে,
আরো অনেক বেশী প্রয়োজন তোমার!
তাছাড়া, সামাজিকতা তো দেখতে হবে!
যদিও কিছু দিলে –
কমবে না কিছুই তোমার!
তবুও আগে তো বাহাবা নিতে হবে,
পৃথিবীর স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বের খাতায়!
আর, সেই বাহাবার খাতিরে,
যেনতেন টাকার ব্যবচ্ছেদ কেন করবে!
পরিবারের রাজকীয় জীবন যাত্রা, আর
করবে অগণিত দান দক্ষিনা –
মিটাতে নিজের মনের খোরাক!
আমাকে কিছু দিয়ে কেনই বা তুমি,
উলু বনে মুক্তা ছড়িয়ে,
অধমের তরে করবে এতোটুকু সম্মান!
সময়ের ধারা বড় বেশী বেসামাল!
কেমন করে যে সময়ের তালে হারালাম!
আমি অধমের ডাকে সাড়া দিতেও,
ভীষণ লজ্জিত তুমি!
তাছাড়া ডাকতেও যে জানি না আমি!
অথচ উত্তম ‘আমি’ –
একটু বেশীই আপন তোমার!
জীবনের দুর্বোধ্য লড়াইয়ের মাঝেও,
উত্তমকে পাশে নিতে সদাই ব্যাকুল তুমি,
অধম আমার জন্যে নেই সময় তোমার!
“তোমারই নেশা”
তোমার ঠোঁটের কোণে চাপা হাসির ঝিলিক,
আমায় নিয়ে যায় দূর বহুদূর সমুদ্র মন্থনে!
আমার চোখের মনিতে তোমারই প্রতিচ্ছবি,
সুদূর আকাশের নীলে খেলে প্রহর গুনে!
তোমার চোখের ভাষা যেন একেকটি কবিতা,
আমি ডুব দিয়ে সেখানে দেখি বিশ্বলোক!
আমার পিয়াসী মনের দুরন্ত সুগভীর ছায়াতলে,
অগ্নি শিখার প্রজ্জ্বলনে পুড়ছে মনোলোক!
আচ্ছা, বলতে কি পারো তুমি একটিবার –
লুকিয়ে ছিলে কি তুমি যুগান্তরের ভেলায়?
সময়ের ঢেউয়ের দোলায় দুলেও কি তুমি –
আসতে পারোনি আমারই মনের উন্মাদনায়?
কতো যে খুঁজেছি তোমায়, তুমি জানোও না;
অথচ ছিলে তুমি এই মনের গভীরে আমার!
ছোট্ট জীবন কেটেছে কতো নিশি জেগে একা,
মালা গেঁথে নির্জনে, তবু তোমারই অপেক্ষার!
সময় আমাকে পারেনি রাখতে জড়িয়ে বন্ধনে,
সময়কে মাড়িয়ে নিতি আমি ছুটেছি তোমাতে!
সময়ের ঘড়ি চলেছে যতো দ্রুততায় ঝড়োবেগে,
তোমার নেশায় ডুবেছি ততোই উন্মত্তা আবেগে!

“স্বগতোক্তি”
নিজেকে আর সামলে রাখতে পারছি না!
অবশ্য কিই বা সাধ্য আমার সামলে রাখার!
ভীষণ এলোমেলো লাগছে জীবনধারা!
কিছুতেই গুছিয়ে উঠতে পারছি না!
অবশ্য আবারও সেই একই কথার ফুলঝুরি –
কিই বা সাধ্য আমার যে রাখবো সব পরিপাটি!
এতোটা অগোছালো জীবনের খেলাঘরে,
তিলে তিলে সঞ্চিত বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে,
সত্যিই, আমি আর পারছি না বইতে সে ভার!
কিন্তু আমি কি আসলেই বইছি কোন ভার?
নয় কি তার সবটাই শূণ্যতার মাঝে ঠাই?
সবটাই যে নিয়তির কারিগরের হাতে গড়া!
আমি সেখানে এক ক্ষুদ্র অনুঘটক মাত্র!
বেসামাল এই আমাকে –
অতি সুকৌশলে কে রাখে স্থির?
কার ইশারায় আমি নির্দ্বিধায় ভেসে বেড়াই –
উন্মত্তা অথৈ সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের দোলায়?
চরম অস্থিরতার দাবানলেও নীরবে নিঃশব্দে,
পার্থিবতার শৃঙ্খলে –
আমার বন্ধন, কে রাখে নিষ্কলুষ আর অমলিন!
তবু্ও ভাবনার খেয়ালে ছটফটিয়ে সারাবেলা,
অস্তিত্বের লড়াইয়ে আমি ক্লান্ত ভীষণ!
‘আমি পারছি না’ – আমার এই স্বগতোক্তিতে,
নেই কোন ঔদ্ধত্যের বারতা!
আমি শুধু জানি –
আমি পারছি না, কিছুতেই আর পারছি না!!!
“মিলন ক্ষণে”
ভোরের খুব কাছাকাছি এখন রাত!
আরেকটু পরেই দু’জনেই পৌছুবে –
ঊষার সেই মায়াবী লগনে!
অন্ধকার আকাশ সাজবে লালিমায়,
আলোর বিচ্ছুরণ হবে দিগন্তরেখায়,
ধীরে ধীরে জেগে উঠবে চরাচর!
দিনের আলোতে রাতের অনুপ্রবেশ,
আর আকাশ নীলে স্নিগ্ধ রৌদ্র ছায়া!
মিলনের সেই মহেন্দ্র ক্ষণের পশরা সাজাতে –
দিবাকরের কী ভীষণ অনুরাগে সিক্ততা,
আর জ্যোৎস্নার রাতভর জেগে থাকা!
ভোরের অপেক্ষার দ্বারে এখন রাত!
স্বর্গীয় উষ্ণতায় রাত-ভোরের মিলন ক্ষণ!
“স্বপ্নাচ্ছন্নতা”
দেখেছিলাম এক অতি দুর্লভ স্বপ্ন –
জড়িয়ে র’বো তোমায়,
অনন্ত প্রহরের দুর্দান্ত মায়ায়!
ভেবেছিলাম তোমারই আলিঙ্গনে,
কাটিয়ে দিবো অফুরন্ত প্রহর!
হ্যাঁ, জড়িয়েই তো আছি,
কেবল তোমাকেই দিবানিশি!
স্বপ্নের স্বপ্ন মাঝেও তোমাকেই,
শুধু তোমাকে নিয়েই আমি বাঁচি!
তবুও অন্তরের তৃষ্ণা মিটে না,
যেন স্বপ্নের উড়ন্ত ডানাও অচেনা!
অন্তর মাঝে অনুক্ষণ,
তোমারই তৃষ্ণার জ্বালায় পুড়ে মন!
তারপরও স্বপ্নের নেই কোনো শেষ!
স্বপ্নাচ্ছন্ন ইচ্ছেগুলো –
আকুলিবিকুলি করে অন্তরমাঝে, তাই
বারবার নিরালায় স্বপ্ন দেখে যাই!
অন্তরের ক্রন্দন শুনেও,
স্বপ্নের ইশারায় দুলে উঠে অন্তর;
যতোই হানুক আঘাত,
বাস্তবতার নিষ্ঠুর প্রতিঘাত –
স্বপ্ন আঁখি মেলে দিয়ে আবারও,
ঘুমের মাঝে জাগরণের বীজ বুনে –
আমি তোমাকে নিয়েই স্বপ্ন সাজাই!
এক তুমিই তো আছো –
আমার সমস্ত অনুভবের প্রকাশে, আর
জীবন ঘিরে থাকা অব্যক্ত নীলের মাঝে,
সবুজের বাহারী প্রশান্ত বিকাশে!
আছো তো তুমি?
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
you may read beautiful Bengali poem by renowned poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

